মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ডাঃ মরিস বুকাইলি কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলেন ?


. মরিস বুকাইলি এর ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য এই লেখাটির প্রয়োজন পড়লো। একজন প্রশ্ন করেছিলো মরিস বুকাইলি কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলো। আসলে আ্লোচনা যখন একটু দীর্ঘ হয় তখন তো আর মন্তব্য করে উত্তর দেওয়া যায় না। তাই লিখেই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ইসলাম হচ্ছে একটি মতবাদ আর এই মতবাদ যারা মেনে চলে তারা মুসলিম জাতি। এখন কথা হচ্ছে যে অনেকেই একটি মতবাদ নিয়ে একমত বা দ্বিমত থাকতে পারে, সেটা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে কিন্তু এমন নয় যে সত্য নয় বা গোজামিল দিয়ে কোন ভুল তথ্যকে সত্য বলে প্রকাশ করতে চাইলে বা ভুল তথ্য দিয়ে কোন মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেই তা সবাই গ্রহন করে নিবে। যদি কোন সচেতন ব্যাক্তির সামনে এমন কিছু পড়ে তবে অবস্যয় সে দ্বিমত পোষন করবে কারন তার আদর্শগত মানুষিকতা তাকে এভাবেই পরিচালিত করে।


ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ভেতরে প্রায় দেখা যায় তাদের প্রধা্ন ঐশরিক গ্রন্থ পবিত্র কোরান এর সাথে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মিল খুজে থাকেন। তাদের ধারনা আজকের বিশ্বে বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার দেখা যায় তা এই গ্রন্থে অনেক আগেই উল্লেখ করা ছিলো। এসব আরো শক্তিশালী করার জন্য কিছু বিশিষ্ঠ ব্যাক্তিদেরকে জড়িয়ে কিছু ভুল এবং মিথ্যাচার প্রকাশ করতে থাকে, যেমন ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে প্রায় শোনা যায় এরকম কিছু যে, মাইকেল জ্যাকসনের ইসলাম ধর্ম গ্রহন বা নীল আর্মস্ট্রং চাদে গিয়ে চাদের সেই ফাটল দেখে পৃথিবীতে এসেই ইসলাম গ্রহন করলেন ইত্যাদি কথা। এরকমই একটি কথা অনেক আগে প্রচলিত ছিলো একজন ফরাসি চিকিৎসক যার নাম ড. মরিস বুকাইলি যিনি একজন ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারি ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাই ছিলেন যাকে মুসলামান ভাই এবং বোনেরা প্রায় এই বলে মিথ্যাচার করে থাকেন যে, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলো। কিন্তু সত্য কথা এই যে এমন কোন দলিল বা প্রমান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই যেখানে তিনি বলেছিলেন, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। যদি কারো কাছে এই বিষয়ে কোন প্রমান থেকে থাকে তাহলে আমাকে জানাতে পারেন।


ড. মরিস বুকাইলি জন্ম ১৯ জুলাই, ১৯২০ মৃত্যু ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ যিনি ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসাবিদ অনেকেই তাকে বিজ্ঞানী বলে মিথ্যাচার করে থাকেন আসলে তিনি পেশায় একজন সার্জন ডাক্তার ছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত তাঁর রচিত বাইবেল, কোরআন ও বিজ্ঞান (দ্যা বাইবেল, দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স) গ্রন্থটির কারণে তিনি বিখ্যাত। বইটি পৃথিবীর প্রায় সতেরোটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মরিস এবং মারি (জেমস) বুকাইলির পুত্র তিনি একজন ফরাসি চিকিৎসক ছিলেন। ডাক্তারী, মিশরতত্ত্ব এর ফরাসি সোসাইটির সদস্য, এবং পরবর্তিতে একজন লেখক। বুকাইলি ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত মেডিসিন চর্চা করেন এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির উপর একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন । ১৯৭৩ সালে, বুকাইলি সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের পরিবারের চিকিৎসক নিযুক্ত হন এবং একই সাথে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের পরিবারের সদস্যরা তার রোগী ছিল। তখন কিছুদিনের জন্য মরিস বুকাইলি ইসলামের একজন একনিষ্ঠ গবেষক হয়ে উঠেছিলেন, তবে তিনি কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই।

তার লেখা বইটির নাম ছিলো “দ্যা বাইবেল দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স” আজ থেকে ৪২ বছর আগে লেখা এই বই প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে ফ্রান্সে। বাংলাদেশে দুইজন এই বইটি অনুবাদ করেছিলেন ২০০৮ সালে। তাদের মধ্য একজন হচ্ছেন খন্দকার রোকনুজ্জামান। আসলে আমি বই এর রিভিউ করছি না তাই এই বই সম্পর্কে বেশি কিছু বলবো না। এই বইটি যখন প্রকাশ করা হয়েছিলো তখন ড. মরিস বুকাইলি সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। অনেকেই তখন বলেছিলেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাথে গোজামিল করে কিছু মিল দেখাবার চেষ্টা করেছেন বুকাইলি। এর সাথে অর্থ (ডলার) কেলেঙ্গারিও জড়িত ছিলো। তাকে এই নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করলে সে সেই সময় জবাব দিতে পারেন নাই। ডাঃ উইলিয়াম এফ ক্যাম্পবেল নামের একজন চিকিৎসকের একটি ই-মেইল থেকে জানা যায় কিছু তথ্য যার অনুবাদ এখানে আমি দিচ্ছি।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি লিখেছিলেন ডাঃ মরিস বুকাইলি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছিলো বা সেকি মুসলমান ছিলো ?” এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন। ইতিমধ্যেই আপনারা অনেকেই শুনে থাকবেন বুকাইলি এর বই দ্যা কোরান দ্যা বাইবেল এন্ড সায়েন্স সম্পর্কে। তিনি কোরানের নির্ভুলতা সম্পর্কে গবেষনা করেছেন। কিন্তু তিনি কখনই তার নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেন নাই তিনি গবেষনার সময় এবং গবেষনার পরেও একজন ক্যাথলিকই ছিলেন। এই গবেষনার কারনে অনেকেই ধারনা করেন তিনি সাময়িক ভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলেন। কিছু পয়েন্ট দিয়ে এই গবেষনায় তিনি চেষ্টা করেছেন যে, কোরান হল ঈশ্বরের শব্দ তা প্রমান করার। কিন্তু এই বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি, শুধু এটুকুই বলেছেন যে এখানে অনেক কিছুই আজকের আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মিলে যায় যেমন ভ্রুনতত্ব, সৃষ্টিতত্ব, মানব সৃষ্টি, মহাকাশ বিজ্ঞান ইত্যাদি সহ আরো অনেক কিছু। তিনি আরো বলেন আমি বুকাইলিকে ১৯৯৬ সালে soc.religion.islam এর মাধ্যমে প্রশ্ন/জিজ্ঞাসা করেছিলাম। এমন কোন প্রমান কি কারো কাছে আছে যেখানে দেখা যাবে মরিস বুকাইলি কোন ধর্মীয় উপাশনালয়ে গিয়েছেন যেমন মন্দির, মসজিদ বা এমন কোন যায়গায়। বা কেউ কি নিশ্চিত করে বলতে পারবে যে সে মুসলমান হয়ে উঠেছিলো এমন কিছু। কিন্তু আমি কোন মুসলামন এর পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের জবাব পাইনি। আমি ডাঃ উইলিয়াম এফ ক্যাম্পবেল আরেকটি বইয়ের "কোরান এন্ড বাইবেল ইন দ্য লাইট অব হিস্ট্রি অ্যান্ড সায়েন্স" বইয়ের লেখককে ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৬ সালে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার কাছে কি এই সম্পর্কে কোন তথ্য আছে ? সেই প্রশ্নের জবাবে নিচে তার প্রতিক্রিয়া দেওয়া হলো।
 
ডাঃ বুকাইলি তার জীবনের কিছু সময়ের জন্য সৌদিআরবের বাদশাহ, রাজা ফয়সালের পারিবারিক চিকিৎসক হন। এই সময় তিনি তাঁর বই "দ্যা বাইবেল, দ্যা কুরআন ও বিজ্ঞান" লিখেছিলেন, যা ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। আমি মনে করি তিনি ক্যাথলিক গির্জার প্রতি তার একপ্রকারের রাগ থেকে এই বই লিখেছিলেন,  এবং তারপর তিনি আবিষ্কার করেন যে তিনি অনেক টাকা জোগাড় করতে পারেন এই বই লেখার মাধ্যমে। তবে, তার লেখা বই এর সকল বিশ্লেষন আপনাদের পর্যালোচনা করে দেখার অনুরোধ করবো। ১৯৭৭ সালে আমার সুপরিচিত একজন পুরুষের সাথে তিউনিশিয়াতে দেখা হয়েছিলো যে আমাকে প্রথম এই বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো, যাকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম ডাঃ মরিস বুকাইলি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলো ? তিনি আমাকে তখন জানিয়েছিলেন ১৯৭৬ সালে ডাঃ মরিস বুকাইলি তিউনিশিয়াতে আসেন একটি কনফারেন্স এ অংশগ্রহন করার জন্য। তার বক্তৃতা শেষে আমি যখন তাকে প্রশ্ন করেছিলাম আপনি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন ? এই প্রশ্নের জবাবে ডাঃ মরিস বুকাইলি উত্তর দেন “না”।

আমার মনে হয় না এই বিষয়ে আর আলোচনা করার প্রয়োজন আছে। আসলে ডাঃ মরিস বুকাইলি সে সময় বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হবার কারনে তার নামের সকল মিথ্যাচার নিয়ে লেখা ও দলিল, তথ্য প্রমান সবই অনলাইন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে অর্থ ব্যয় করে। তবে এই লেখাটি এখনও পাওয়া যায় অনেক যায়গায়। বাংলাতে ডাঃ মরিস বুকাইলি সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য না থাকায় অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়। আমার মনে হয় এই লেখাটি আগামীতে ডাঃ মরিস বুকাইলি প্রসঙে কাজে দিবে। এখানে আমি ডাঃ উইলিয়াম এফ ক্যাম্পবেলের সেই ই-মেইল এর লিংক দিয়ে দিলাম আপনারা যাচাই করে দেখতে পারেন। এখানে দেখুন

ডাঃ মরিস বুকাইলির বইটির বাংলা অনুবাদ পড়ার পরের অনুভূতি এবং সার্বিক পর্যালোচনার পরে কিছু মন্তব্য না করলে আমার কাছে এই আলোচনা অসুম্পুর্ন মনে হবে। এই বইটি পড়ে আমার লেখক আরিফ আজাদের কথা খুব মনে পড়েছিলো। আমার মনে হয়েছে আমাদের বাংলাদেশের সেই ইসলামিক মাইন্ডের লেখক, যে লিখেছিলো “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” নামের বই যার নাম লেখক আরিফ আজাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তার কথা। কারন পাঠক একটু ভেবে দেখবেন বা দুইটা বই পাশাপাশি রেখে একটি কম্পেয়ার করে দেখবেন যে, ডাঃ মরিস বুকাইলের লেখা বইটির মটিভ নিয়েই কিন্তু “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” বইটা লেখা হয়েছে বলে আমার ধারনা। এটা বিশ্লেষন করে দেখার কাজটি আমি আপনাদের দিতে চাইছি। অবশ্য অনলাইনে ও সোস্যাল মিডিয়াতে “কপি আজাদ” বলে একটি কথা প্রচলিত আছে বর্তমানে। এটা এমন যে কেউ কিছু কপি করে লিখলেই সেখানে বলা হয় “কপি আজাদ”র মতো কাজ। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি পাবলিশার্স বেশ কিছু বই প্রকাশ করছে, বিশেষ করে ডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্যের কয়েকটি বই এই প্রকাশনী প্রকাশ করেছে যার নাম “গার্ডিয়ান পাবলিশার্স” আর এই “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” বইটিও সেই গার্ডিয়ান পাবলিশার্স প্রকাশ করেছিলো। ডাঃ মরিস বুকাইলির “দ্যা বাইবেল, দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স” বইটি পড়ে আমার আরেকজনের কথাও মনে হয়েছে তাকে আপনার যারা সোস্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করেন তারা কিছুটা চিনতে পারেন যথাসম্ভব তিনি ছদ্মনাম ব্যাবহার করেন আমার জানা নাই তবে তার বইটি এখন অনলাইনে এভেইলেবল আছে নাম “ইসলামের অজানা অধ্যায় পর্ব-১ ও পর্ব-২” নরসুন্দর মানুষ ও ধর্মকারী নিবেদিত ও লেখক গোলাপ মাহমুদ এর লেখা এই বই এর ২য় পর্বে একটি উধারন দেওয়া আছে যেটা আমার খুব ভালো লেগেছে তাই এখানে আমি সেই উদাহরনটি তুলে ধরলাম মিলিয়ে দেখুন।

“জল পড়ে পাতা নড়ে” বলে তিনি একটি উধাহরন দিয়েছেন এই বইটির প্রথম অধ্যায়ে। ব্যাপারটা এমন ছিলো যে “জল পড়ে পাতা নড়ে” শব্দটিকে বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে। যেমন, তিনি করেছেন “জল পড়ে পাতা নড়ে” প্রথমে “জল” যার আরেকনাম পানি। এখানে “জল” অর্থ জলের উপাদান হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন বোঝানো হয়েছে। “বিগ ব্যাং (Big Bang)” এর পরে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ছিলো সৃষ্টির আদি এটম (Atom)। মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর আদি উপকরন হলো এটম। পরবর্তীতে সৃষ্ট অন্যান্য সকল এটম সৃষ্টি হয়েছে এই হাইড্রোজেন থেকে। আর অক্সিজেন আমাদের বেচে থাকার এক অত্যাবশাকীয় উপাদান। এবার দেখুন “পড়ে”, এখানে “পড়ে” অর্থে Gravitational force বোঝানো হয়েছে, যা না হলে গ্রহ-নক্ষত্র-গ্যালাক্সি কোন কিছুই সৃষ্টি হতো না। গ্রহ সৃষ্টি না হলে কোন জীবের সৃষ্টি হত না, আমরাও সৃষ্টি হতাম না। আবিষ্কারের আগে বিজ্ঞানের এই ইঙ্গিতটি লেখক কিভাবে জেনেছেন ? সত্যি এটি এক মহাআশ্চর্য। এরপর দেখুন “পাতা” এখানে “পাতা” অর্থে সালোক সংশ্লেষন (Photosynthesis) বোঝানো হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন হয় অক্সিজেন। অক্সিজেনের অভাব হলে আমরা কি বাচতে পারতাম ? “জল পড়ে পাতা নড়ে”-এর এক একটি শব্দ বিজ্ঞানের এক একটি অভুতপূর্ব আবিষ্কারের ইঙ্গিত। কী আশ্চর্য? এরপর দেখুন “নড়ে” এই “নড়ে” এর মধ্যে আছে বিজ্ঞানের দুইটি বিসাল ইঙ্গিত। এখানে নড়ের এক অর্থ হলো বায়ু, বায়ু ছাড়া কি কোন কিছু নড়ে ? নড়ে না। এখানে নড়ে হলো বায়ু অর্থাৎ বায়ুমন্ডল, অর্থাৎ “স্পেস” আর নড়ে এর আরেক অর্থ হলো বল (Force) যেখানে বায়ু নেই সেখানে কোন কিছু নড়াতে গেলে লাগে বল। এই বল ছাড়া সব কিছু অচল।   

----------- মৃত কালপুরুষ

                 ২৪/১০/২০১৭

সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

রামেসিস দ্বিতীয় বা কথিত ফেরাউন এর পরিচয়।


বাংলা ফেরাউন ও আরবি ফৌরান আসলে কোন একক ব্যাক্তি বা একজন মানুষের নাম নয়। বর্তমান মিশরে প্রাচীনকালে সকল ফারাও রাজবংশের রাজাদের এই নামেই ডাকা হতো এবং একেকজন ফারাও বা ফেরাউনদের এর একেকটি নাম ছিলো। যেমন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বর্তমান মুসলমান, ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান গ্রন্থের উল্লেখিত ফেরাউন যার আসল নাম (ইংরেজি) রামেসিস দ্বিতীয় বা রামেসিস ২ যার জন্ম খ্রিস্টপুর্ব ১২৭৯ মৃত্যু খ্রিস্টপুর্ব ১২১৩ সাল। বর্তমানে ইজিপ্ট বা মিশর নামে পরিচিত দেশের প্রাচীন অধিবাসী বা মিশরীয়দের কাছে “ইউর্মার ত্রেস্তেপেনের” নামে পরিচিত ছিলো যার বাংলা অর্থ “সঠিক ভারসাম্য রক্ষার শক্তিশালী রক্ষক” এছাড়াও তিনি ওজামন্ডিয়াস এবং গ্রেট রামেসিস নামেও অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন। বর্তমান মিশরের প্রাচীন মিশরীয় রাজবংশের মধ্যে ১৯ তম রাজবংশের তৃতীয় ফারাও রাজা ছিলেন তিনি। খ্রিস্টপুর্ব ১২৯২ সাল থেকে খ্রিস্টপুর্ব ১১৮৬ সর্বোমোট ১০৬ বছর এই ১৯তম রাজবংশ তাদের রাজত্বকালে সমস্ত মিশরের নিম্ন রাজ্য শাসন করেছিলো। এই রাজবংশের ভেতরে একজন অন্যতম রাজা ছিলেন এই রামেসিস ২। রামেসিস কাদেশের যুদ্ধে হিট্টয়দের সাথে জয়লাভ করে মিশরকে রক্ষা করেছিলেন সেসময়। এখানে কাদেশ প্রাচীন মিশরের একটি শহর আর হিট্টিয় একটি জাতি। পুর্বের অনেক মিশরীয় রাজারা যাদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মিশরের উচ্চ রাজ্যের বেশ কিছু স্থানের দখল হারিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধটিই ছিলো পৃথিবীর প্রথম যুদ্ধ যেখানে শান্তি চুক্তি হয়েছিলো এবং যুদ্ধ ড্র হবার মতো কারনে তা সেখানেই স্থগিত করা হয়েছিলো। সেটা ছিলো খ্রিস্টপুর্ব ১২৫৮ সালের কথা। এই সেই ব্যক্তি যিনি বর্তমান খ্রিস্টান ধর্ম ও ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের কাছে এক নামে পরিচিত “ফেরাউন”।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি সেটা দেখুন একবার। পৃথিবীর কোথাও এই বিষয়ে কোন ঐতিহাসিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই যে তিনিই ইহুদী ধর্মের সেই ফেরাউন বা তার মৃত্যুর ১ হাজার ৮২৩ বছর পরে তৈরি হওয়া বা প্রচার হওয়া ধর্ম ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরানে উল্লখিত ফেরাউন আসলে তিনিই ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিম জাতি এক মনে বিশ্বাস করে থাকেন যে, এই “ইউর্মার ত্রেস্তেপেনের” সেই ফেরাউন যার কথা কোরান ও তাওরাত শরিফ এ লেখা আছে কিন্তু তার নাম কোথাও উল্লেখ করা নেই। বর্তমান যুগে প্রাচীন মিশরীয়দের লেখা চিত্রলিপি বা হায়ারগ্লাফিক্স পাঠউদ্ধার করে এসবই আজ মানুষ জানতে পেরেছে এবং খুব পরিষ্কার ভাবেই তা জানা গিয়েছেএই ফেরাউন বা ফারাও রাজা রামেসিস দ্বিতীয় যার নাম “ইউর্মার ত্রেস্তেপেনের” তার মৃত দেহ কোনদিন পচবে না বা নষ্ট হবে না এমন কথা এসব ধর্ম গ্রন্থ গুলিতে বলা আছে কিন্তু এই রাজার থেকে আরো ২ হাজার বছর পুরাতন মৃত দেহ এখন পর্যন্ত মিশর সহ পৃথিবীর আরো অনেক দেশ থেকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে যা এই মিথ বা ভুলধারনা ভেঙ্গে দেবার জন্য যথেষ্ট। শুধু তাই নয় মুসলমানরা এটাও বিশ্বাস করে থাকেন যে এই মৃত দেহটি ৬২ ফুট লম্বা কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তা মাত্র ৬ ফুটের কাছাকাছি একটি স্বাভাবিক মানুষের মৃত দেহের মতো।


 আসুন সেই কথিত ফেরাউনদের একজন সেই রামেসিস ২ সম্পর্কে আরোকিছু জানার চেষ্টা করি। রামেসিস ২ এর জীবিত অবস্থায় তার প্রায় ২০০ এর উপরে স্ত্রী এবং উপ-স্ত্রী ছিলো। তার সন্তান ছিলো ১১২ জন যার মধ্যে ছেলে সন্তান ছিলো ৯৬ জন আর কন্যা সন্তান ছিলো ১৬ জন। এই রাজা রামেসিস ২ তার নিজের প্রচার এতো পরিমানে করেছিলো সেসময়ের প্রাচীন মিশরে যে, মিশরের নিম্ন রাজ্যের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তের এমন কোন শিলালিপি বা বড় পাথর বা খন্ড ছিলো না যেখানে তার উল্লেখ পাওয়া যাবে না। এই রাজা রামেসিস ২ এর মৃত্যুর পরে তার রাজ্যের প্রজারা প্রচন্ড ভয়ের ভেতরে ছিলেন। তাদের ধারনা ছিলো রামেসিস ২ এর মৃত্যুর ফলে এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এমন ভয়। তাঁর রাজত্বের সময় তাঁর সমস্ত প্রজারা তাকে দেবতাদের একজন বলেই ভাবতেন।

রাজা রামেসিস ২ এর প্রাথমিক জীবন যাপন সম্পর্কে এপর্যন্ত যা কিছু জানা সম্ভব হয়েছে তা চুড়ান্ত বলেই গ্রহন করা হয়। রামেসিস ২ ছিলেন সেটি আই (Seti I)  এবং রানী “তুয়ায়” (Tuya) এর পুত্র। যে তার পিতার সাথে ১৪ বছর বয়স থেকেই বর্তমান লিবিয়া ও প্যালেস্টাইনের বিভিন্ন সামরিক অভিযানের সাথে ছিলেন। পরবর্তিতে রামেসিস ২ এর বয়স যখন ২২ বছর হয় তখন সে তার ছেলে খাইময়েসেট ও আমুনুরওয়ারেমফের সাথে বর্তমান মিশরের  নুবিয়াতে নিজের প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সেই সময়েই রামেসিস ২ কে তার পিতা সেটি আই এর সহ-শাসক হিসেবে গ্রহন করা হয়। রামেসিস ২ তার পিতা সেটি আই এর অধীনে থেকে প্রাচীন মিশরের আভারিসে নামক স্থানে একটি প্রাসাদ ও একটি বিশাল বিশ্রামাগার বানানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছিলো। খ্রিস্টপুর্বাব্দ ১৩৪৪ থেকে ১৩২২ সাল পর্যন্ত হিট্টিয় রাজা Suppiluliuma 1  (উচ্চারন জানা নেই) বর্তমান মিশরের প্রাচীন মিশর, বর্তমান সিরিয়া এবং কনানে সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান তার অধীনে ছিলো যা রামেসিস ২ ও তার পিতা সেটি আই দখল করেছিলো। এরপর রামেসিস ২ এর পিতা সেটি আই এর মৃত্যুর পরে রামেসিস ২ সিংহাসনে বসেন এবং রাজ্যভার হাতে নেন। তখন আরেক হিট্টি রাজা “মুওয়াতি দ্বিতীয়”  এর কাছ থেকে একযোগে মিশরীয় সীমান্ত পুনরুদ্ধার করেন রামেসিস ২। এসময় এই রাজা বর্তমান মিশর, সিরিয়া ও কোনানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলেন।

এই রাজা রামেসিস ২ এর রাজত্বের শেষ শতাব্দীতে এসে কিছুটা বিতির্কিত হয়ে উঠেন তার রাজ্যেরই কিছু পন্ডিত ও মন্দিরের পুরোহিত দ্বারা। অনেকেই বিভিন্ন কারনে দাবী করেছিলেন যে রামেসিস ২ একজন প্রপাগান্ডিস্ট তার তেমন কোন শক্তি নেই যে তাকে দেবতা মনে করতে হবে। কিন্তু তার রাজত্বকালের নিদর্ষন ও অতীত রেকর্ড, মন্দির, স্মৃতিসৌধের লিখিত ও ভৌত প্রমান আমাদের এটা দেখায় তার রাজত্ব ছিলো একটি স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ রাজ্যের পক্ষে যুক্তিযুক্ত। তিনি মিশরের কয়েকজন শাসকদের মধ্যে একজন ছিলেন এবং দীর্ঘকালীন শাসন করার জন্য যোগ্য ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় উৎসব পালন করতেন যা ফেরাউন বা রামেসিস ২ কে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তার মৃত্যুর পরেও আরো ৩০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছিলোতিনি দেশের সীমানা সুরক্ষিত করেছিলেন, তার সম্পদ বৃদ্ধি করেছিলেন এবং তার ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি করেছিলেনযদিও তিনি বিভিন্ন শিলালিপি ও স্মৃতিসৌধে তাঁর কৃতকর্মের প্রশংসা করছিলেন, তার পরেও তিনি মিশরবাসীর গর্বিত হওয়ার উপযুক্ত একজন রাজা ছিলেন।

রামেসিস ২ বা রামেসিস দ্যা গ্রেট এর মমিকৃত মৃত দেহটি ১৮১৮ সালে আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে উদ্ধার করা হয় যা বর্তমানে ইজিপ্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষন করা আছে। তার মমিকৃত মৃত দেহটি দেখে বোঝা যায় তিনি ছিলেন খুবই শক্তিশালী এবং সুদর্ষন একজন সুপুরুষ। আজ থেকে ৩ হাজার ২৩০ বছর আগে তার বাস্তব চেহারা কেমন ছিলো তাও থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে তৈরি করে দেখানো হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে। অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যাবহার করে তার মৃত দেহ থেকে আরো অনেক অজানা তথ্য আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে যেমন তার ছিলো একটি শক্ত চোয়াল, পাতলা নাক এবং পরু ঠোট। জীবিত অবস্থায় তার প্রকৃত উচ্চতা ছিলো ৬ ফুট +- ১ ইঞ্চি। জীবিত অবস্থায় তিনি দাতের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অধিকাংশ পরিক্ষা করেই দেখা যায় তিনি বার্ধক্য বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যবরন করেন। তিনি পরবর্তীকালে মিশরীয়দের 'মহান পূর্বপুরুষ' হিসাবে পরিচিত ছিলেন এবং অনেক ফারাও রাজা তাঁকে তাঁর নিজের নামে যুক্ত করে সম্মান দিয়েছিলেনতাদের কিছু, যেমন (Ramessess III) রামেসিস তৃতীয় যাকে অনেক ফারাওদের চেয়েও ভাল শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হয় তবে তাদের কেউই প্রাচীন মিশরীয়দের মন ও অন্তরে রামিসেস দ্য গ্রেটের এর মতো মহৎ কৃতিত্ব এবং মহিমা দেখিয়ে রামেসিস দ্বিতীয়কে অতিক্রম করতে পারেনি। রামেসিস ২ এর জীবনী সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়েছে যার ১০% আমি তুলে ধরতে পারিনি লেখা সংক্ষেপ করার কারনে। এই লেখাটি Joshua J. Mark এর মিশর বিষয়ক গবেষনা থেকে রুপান্তর করে লিখেছি, তিনি  নিউ ইয়র্ক এর ম্যারিস্ট কলেজ এর দর্শন এর প্রফেসর।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৩/১০/২০১৭
x

রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ইসলাম ধর্মের ফেরাউন গল্পের সত্যতা কতটুকু ?



ফেরাউন এর লাশ বা ফেরাউন নাম নিয়ে ইসলাম ধর্মে একটি গল্প আছে যা ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরান এর সাথে মিলে যায় বলে দাবী করা হয়। পুর্বে অনেকেই অনেক ভাবেই এর নানান তথ্য প্রমান দিয়েছে যে, আসলে ফেরাউন বলতে ইসলাম ধর্ম কাকে বোঝাচ্ছে আর সেই গল্প সত্য কি মিথ্যা। কিন্তু তারপরেও যারা মনে করে এসব তথ্য প্রমান সবই ভূল তাদের জন্য এক গুচ্ছ আফসোস ছাড়া আর কি থাকতে পারে বলুন। কারন বর্তমান যুগ হচ্ছে টেকনোলজির যুগ, হাতে হাতে আছে ইন্টারনেট, পাশাপাশি হাজার হাজার ডুকুমেন্টারি ফিল্ম আছে ইউটিউবে, টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে প্রতিনিয়ত দেখানো হচ্ছে মমি ও প্রাচীন মিশর সম্পর্কিত নানান ডুকুমেন্টারি যেখানে খুব পরিষ্কার করে বলা হচ্ছে সব কিছু। পবিত্র কোরানে উল্লেখিত ফেরাউন এর ঘটনার সাথে মিলিয়ে রামেসিস ২ নামের এক রাজা যাকে আরবি ফৌরান বলা হয় তার মৃত দেহ নিয়ে মুসলমানেরা নানান মিথ্যাচার ছড়িয়ে লেখালেখি করে যা একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প। এই জন্য বানোয়াট যে সেই সব গল্পের কোন তথ্য সুত্র নাই। আমি সংক্ষেপে একটু আলোচনা করবো এতে করে অনেক কিছুই বাদ পড়বে কারন ফেরাউন এর আসল পরিচয় দিতে গেলে কিছু বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন আছে যা অল্প কথায় এখানে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে আগেই বলে রাখি, প্রায় ৮০% মুসলিম জাতি মনে প্রানে বিশ্বাস করে যে কোরানে বর্নিত ফেরাউন হচ্ছে এই রামেসিস ২ যার মৃত দেহ বর্তমানে ইজিপ্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। এখানে একটু বলি, বিশ্বাস জিনিষটি আসলে অন্য জিনিষ যাকে যুক্তিবাদী সমাজ ভাইরাসের সাথে তূলনা করে থাকেন। আর সেই বিশ্বাস মানে না কোন যুক্তি দেখে না কোন প্রমান আর তাই বিশ্বাসের বেলায় খাটেনা কোন যুক্তি প্রমান। সকল প্রমানই অর্থহীন হয়ে পড়ে এই বিশ্বাস এর কাছে।


মিশরীয় সভ্যতা ছিলো এক অসীম জ্ঞানের রাজ্য যা আজও বিজ্ঞানী ও জ্ঞানীদের জ্ঞানের খোরাক যোগায়। সেখানে নানা আবিষ্কার এর মধ্যে রাজবংশ ও উচ্চবিত্ত নাগরিকদের মৃত দেহ সংরক্ষন করে রাখতে আবিষ্কার করা হয় একটি পদ্ধতি। তাই তারা আবিষ্কার করেছিলো মৃত দেহ মমি করে সংরক্ষন করার পদ্ধতি। একটা সময় তারা সফল হয়েছিলো মানুষের মৃত দেহ একটি পদ্ধতিতে সংরক্ষন করে রেখে দিলে তা হাজার হাজার বছরেও কোন প্রকার নষ্ট হবে না যেই পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছিলো মমি। এই মমি করে মৃত দেহ রেখে দেওয়ার ঘটনা আবার তখনকার সময়ে মিশরের আশেপাশের অনেক অঞ্চলের মানুষই জানতো। লোহিত সাগরের দক্ষিন পার্শে মক্কা শহরে যখন ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হচ্ছে তখন এই নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত ছিলো। এমনকি ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের মূল গ্রন্থ ও তাওরাত এ এই ফেরাউন ও মূসা নবীর কাহিনী কিছুটা উল্লেখ আছে। গবেষকেরা ধারনা করে থাকেন এই সব ঘটনা ও গল্প থেকে কোরানে এই ফেরাউন এর মমি সম্পর্কিত ধারনা এসেছে। পাশাপাশি মিশরীয় এক নারীর সন্ধানও পাওয়া যায় ইসলাম ধর্মে যার কাছ থেকেও এই ফেরাউন এর ধারনা কোরানে আসতে পারে বলে মনে করা হয়। কারন যখন কোরান এর আবিভার্ব দেখা গেলো সেটা হচ্ছে ইসলামের প্রচারক মুহাম্মদ এর জন্মের ৪০ বছর পরে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তখন আসলে বর্তমান ইজিপ্ট বা মিশরের নাম কখনই মিশর ছিলো না।


ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদ এর মক্কা বিজয়ের খবর বিশ্ববাসী জানতেনই না। তাই তিনি আশেপাশের অনেক রাজ্যে তখন ইসলাম ধর্মের দাওয়াত দিয়ে চিঠি লেখেন বলে কথিত আছে। আর সেই চিঠি যাদেরকে দেওয়া হয়েছিলো তাদের অনেকেই তা সংরক্ষন করে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা উদ্ধারও করা হয়েছে। যেই চিঠিতে উল্লেখও পাওয়া যায় এই মিশরের নাম ছিলো (Qibt) তাছাড়াও নবী মুহাম্মদ এর অনেক স্ত্রীদের মধ্যে একজন স্ত্রীর নাম ছিলো “মারিয়া আল কিবতিয়া” (Maria al-Qibtiyya) (উইকিপিডিয়া দেখুন) অর্থ মারিয়া দ্যা ইজিপশিয়ান বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ নবীর স্ত্রী হবার পরও উনার এই নাম কোন পরিবর্তন হয়নি। এইখানে al-Qibtiyya দ্বারা উনার জাতীয়তা বোঝানো হচ্ছে। সুতরাং একটা ব্যাপার জানা গেল যে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়কালে আরবরা নীল নদের দেশটিকে Qibt নামে চিনত এবং তাদের অধিবাসীদের কে al-Qibtiyya বলা হত। আর এই নারীর কাছ থেকে ফেরাউন এর গল্প ও ইহুদীদের তাওরাত গ্রন্থ থেকে বাছাই করে ফেরাউনের একটি গল্প লেখা হয়েছে। আরো কিছু প্রমান দেখুন সেই চিঠিতে যে চিঠি নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর দাওয়াত বলা হয়ে থাকে।

নবীর চিঠি দেখুন https://en.wikipedia.org/wiki/Muhammad's_letters_to_the_Heads-of-State এই লিংক এ।

আসলে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে নবীর জন্ম থেকে ৬৩২ খৃস্টাদ নবীর মৃত্যু পর্যন্ত সময়ের কোন ইতিহাস পরিষ্কার না যেখান থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব। কারন ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের সাথে সাথে তার আগের সকল ইতিহাস এই ইসলাম ধর্ম গ্রহনকারীরা ধ্বংস করেছিলেন যাতে পরবর্তীতে তা বিতর্কিত না হতে পারে। এমনকি এই নবীজীর সময়ে লেখা যে খেজুর পাতা, হাড় আর চামড়ায় কোরান এর আয়াত লিখে রাখার কথা বলা আছে তারও কোন নমুনা আজ পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায় নাই যেখানে নবীর ব্যবহার করা পাগড়ী, লাঠি, ছুরি, চাকু, তলোয়ার সহ তার দাত ও চুলের সন্ধানও পাওয়া যায় অনেক যায়গায়।

এবার দেখুন পবিত্র কোরান এই ফেরাউন সম্পর্কে কি বলেছেন যা নিয়ে তারা যুক্তিবাদীদের সাথে তর্কে জড়াতে থাকেন অর্থহীন সেই বিশ্বাসের কাছে।

وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْوًا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَآلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَفَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَة-

(অর্থ), আর আমি বনী ইসরাইলদেরকে সমুদ্র পার করে দিলাম। অতঃপর ফেরাউন ও তার দলবল বাড়াবাড়ি ও শত্রুতাবশতঃ তাদের পিছু নিল। অতঃপর যখন সে ডুবতে শুরু করল সে বলল: বনী ইসরাইলগণ যে সত্ত্বার উপর ঈমান এনেছে আমিও সেই সত্ত্বার উপর ঈমান আনলাম যিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, আর আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলাম। এখন(এমন কথা বলছ)! এর আগে তুমি আমার নাফরমানী করেছ এবং তুমি ছিলে ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টি কারীদের অন্তর্ভুক্ত। আজ আমি তোমার দেহকে উদ্ধার করব(বাঁচিয়ে দেব) যেন তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্যে নিদর্শন হয়ে থাক। (সুরা ইউনুস: ৯০-৯২ আয়াত)।
x

কিন্তু এই গল্প যে সময়ের বলে দাবী করা হয় সে সময় ইসলাম বলে কোন ধর্মের নামও কেউ শুনে নাই। এখানে খেয়াল করুন ফেরাউনের কোন নাম কুরআনে উল্লেখ নেই। কুরআনের ২৭টি সুরায় ৭৪ বার ফেরাউনশব্দটি উল্লেখ করা হলেও কোথাও মুসার পিছু নেয়া ঠিক কোন ফেরাউন পানিতে ডুবে মরেছিল তা কুরআন বলতে পারেনি। কুরআন লেখকেরা তথা মক্কার লোকজন মিশরের বিখ্যাত রাজা রামেসিসের সম্পর্কে নানা রকম গল্প ও কিংবদন্তির কথা জানত। আসলে তাদের তখন এই ধারনা ছিলো না যে ফেরাউন কোন একজন ব্যাক্তির নাম না এটা আসলে তখনকার সময়ে মিশরীয় রাজবংশের সকল রাজাদেরই ফেরাউন বা ইংরেজি রামেসিস বলা হত যা পরবর্তিতে মিশরীয় চিত্রলিপি হায়ারগ্লিফিক্স পড়ে পাঠউদ্ধার করা হয়। অপর পক্ষে ইসলাম ধর্মের প্রচারকদের এমন কোন নমুনাই আমরা আজ খুজে পায় না। এমনকি কোরান নাজিল হবার পরেও কোন ইতিহাস আমাদের কাছে পরিষ্কার না।


কুরআনে ফেরাউনের লাশ সংগ্রহ করে রাখার কথা অভিনব কোন বিষয় নয়। তখনকার আরবরাও জানত মিশরের পিড়ামিডে ফেরাউনদের লাশ সংগ্রহিত করে রাখা হয়। কিন্তু হায়ারোগ্লিফিক্স ভাষা অতি সাম্প্রতিককালে পাঠোদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত কোন ফেরাউনের নামই জানা যায়নি। কিন্তু বর্তমানে তা পানির মতো পরিষ্কার। ইহুদীরাও সেই ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদের সময় তাদের কথিত নবী মুসার শত্রু ফেরাউনের নাম বলতে পারেনি। তারা শুধু এটাই জানত যে সেই ফেরাউনের লাশ মিশরে এখনো রক্ষিত আছে। সেই লাশ পঁচেনি গলেনি এতটুকুই। মমিকৃত লাশ যে পঁচে না সেটা মিশরের বাইরের লোকও জানত। বর্তমানে তা বিভিন্ন দেশের শিশুরাও জানে। সেই একই কথা কুরআনের সুরা ইউনুসে বলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় যে মিথটা ছিল যে মিশরে রক্ষিত ফেরাউনের লাশটি ৬২ ফুট লম্বা যেটা এখন আর কোন মুসলমানকে বলতে শোনা যায় না। অনেক শিক্ষিত মুসলমানরা এটাই এখনো বিশ্বাস করে। কিন্তু মিশরের জাদুঘরে রাখা মমিটি মাত্র ৬ ফুটের কাছাকাছি। এই মমিটি ১৮১৮ সালে মিশরের পিড়ামিডের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। মোটেই পানির নিচ থেকে নয়। মমির গায়ে লেখা তথ্য থেকে জানা যায় রাজবংশই তাদের মৃত রাজাকে অন্যসব রাজাদের মতই তখনকার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে মমি করে রাখে। মমিটি কখনই সাগর থেকে উঠানো হয়নি। এটা যারা বলে থাকে তারা হয় মিথ্যা বলে বা তারা আসলেই জানেই না আসল ঘটনা। এখানে দেখুন রামেসিস ২ সম্পর্কে জানতে https://www.ancient.eu/Ramesses_II/ লিংক।


এখন কথা হচ্ছে এই রামেসিস বা ফেরাউনের সম্পর্কে তো আমরা অনেক কিছুই জানতে পারি। তার নাম ঠিকানা বাড়ি ঘরের খোজ খরর কোন কিছুই আমাদের অজানা নাই আজকে। তার নামে মিশরীয় সরকার পাসপোর্টও বানিয়েছেন যখন গবেষনার জন্য সেই মৃত দেহ ফ্রান্স এ নিয়ে আসা হয়েছিলো। পক্ষান্তরে কিন্তু এই ফেরাউন যার পেছনে লেগেছিলো বলা হয় সেই ব্যাক্তি মানে “মূসা নবীর” কোন খোজ খবর নাম ঠিকানা কিছুই নাই আজকের ইতিহাসে। তাই বর্তমানে গবেষকেরা ধারনা করেন এই নামের কোন ব্যক্তিই আসলে কোন কালে ছিলো না। ফেরাউন বা রামেসিস ২ এর পরিচয় নিয়ে আমি অনুবাদ করছি তার ইতিহাস এপর্যন্ত যতটুকু জানা যায়। তাই পরে আরেকটা লেখা দেবো যেখানে রামেসিস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২২/১০/২০১৭


     


শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ধর্ম এবং রাজনৈতিক সিস্টেমের হাতে বাংলাদেশ।


রাজনৈতিক কোন আলোচনা আমার কাছে একেবারেই ভালো লাগে না। কারন আধাশের বাংলাদেশে একমূঠো হাসিনা আর এক চিমটি খালেদা দিয়ে কিছু ইসলামিক মোল্লার মাধ্যমে নাড়াচাড়া করে খাবার স্যালাইন বানানো আমার পছন্দ না। তার থেকে ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান আর ইতিহাস ও যেসব আলোচনায় কিছু জানা সম্ভব সেই সব আলোচনা আমাকে বেশি টানে। গত কয়েকদিন আমাদের দেশে বহুল আলোচিত একটি বিষয় ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুখবর বয়ে আনা পেপ্যাল সার্ভিস বাংলাদেশে চালু করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে যা সবাই জানেন নিশ্চয়। অবশেষে দেখেছেনও গত ১৯শে অক্টোবর পেপ্যাল এর নামে ঝুম নামের আরেকটি সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়েছে। আমি সেটা নিয়ে ১৯ তারিখের আগেই আলোচনা করেছিলাম তাই আর আজকে তা করবো না। আর এখনও যারা আসল বিষয়টি বুঝতে পারেন নাই তারা আমার আগের লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি ক্লিয়ার হতে পারবেন।

আমাদের দেশে একটি কথার খুব প্রচলন আছে দেখবেন। সেটা হচ্ছে “সংখ্যালঘূ” নামের একটি শব্দ এর সাথে অবশ্য ধর্ম শব্দটিও জড়িত। সংখ্যায় যারা কম থাকে তাদের আমরা সংখ্যালঘু বলে থাকি। সম্প্রতি আমাদের দেশে প্রধান বিচারপতি সিনহা সাহেবকে নিয়ে টানাটানি কারো জানতে বাকি থাকার কথা নয়। তিনি আসলে সংখ্যালঘুদের ভেতরে পড়েন, কেন পড়েন সেটা আপনাকে খুজে দেখতে হবে। তার কাছ থেকে অনেকেই কিন্তু আশা করেছিলো সংখ্যালঘুদের ভেতরে যে ভয় আর ভীরুতা কাজ করে তেমন কিছু। কিন্তু সিনহা সাহেব তার উল্টা করেছেন যেমনটি করা উচিত নয়। এই ব্যাক্তি একজন মনিপুরি জাতি এবং ধর্মে হিন্দু। আর তাই বর্তমান সরকারের এটা ভেবে ভুল হবার কথা নয় যে এই বিচারপতি তাদেরই জয়ধ্বনি দিবেন আর মুখে মুখে ধর্ম নিরাপেক্ষতার গান গাইবেন। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের মুখের কথায় কিন্তু তাই প্রমানিত হয়েছে। সেই সাথে সুবিধাবাদী হিন্দু নেতারাও দেখিয়েছেন কিভাবে রাজনৈতিক ফাইদা লুটে নিতে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। এই বিচারপতি সিনহা বিচার বিভাগের কাছে করা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে গিয়ে সরকারের ইশারা বুঝেও না বুঝের ভান করে ইতিহাসের এক বড় রায় দিয়ে দিয়েছেন যার কারনে তাকে রহস্যজনকভাবে ও তুমূল আলোচনার মধ্য দিয়ে এই দেশ ত্যাগ করা লেগেছে। আর তার পরেই যেটা হবার সেটাই হচ্ছে। দেশ ত্যাগ করার মাত্র ১ ঘন্টা পরেই তার নামে আনা হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ সহ আরো অনেক নৈতিক আর অনৈতিক অভিযোগ। আর তার বিচার বিভাগই খোদ “সুপ্রিম কোর্ট” তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে বিভিন্ন গনমাধ্যমকে বিবৃতি দিয়েছেন যা ছিলো আমাদের প্রত্যাশিত ব্যাপার।

দেখুন এখানে আরেকটু সংক্ষিপ্ত আলোচনার দরকার আছে মনে হয়। কথায় আছে পরের জন্য গর্ত খুড়লে একদিন সেই গর্তে নিজেকেই পড়তে হতে পারে সেটা কি অনেকে ভেবে দেখেছেন। এই বিচার বিভাগের উপরে এক প্রকার হস্তক্ষেপ হলো এটা কি গর্ত খোড়া থেকে কোন অংশে কম বলা চলে। আমার মনে হয় আমাদের একটু ভেবে দেখতে হবে সেই সেনা শাসনের বা তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা যার মামলা লড়ার জন্য কোন দলীয় বা আওয়ামী লীগের উকিলকে খুজেই পাওয়া যায়নি মাঠে। তখন সবাই আশা করেছিলো যে সঠিক বিচার হোক। এই বিচার বিভাগই কিন্তু তখন সেই সেনা শাসনের কঠিন সময়ে এই বাংলাদেশের জনগনের জন্য বিচার পাবার অধিকারকে বাচিয়ে রেখেছিলো। আজকের নতুন নতুন আওয়ামী নেতাদের মনে হয় জানার কথা না সেদিন শেষ আশ্রয় স্থল হিসেবে এটাই ছিলো একমাত্র ন্যায্য বিচার পাবার আশার যায়গা। আর তাই আমি একটু মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছি বর্তমান সরকার দলীয় নেতাদের ভেবে দেখা উচিত দিন যে এরকমই চিরদিন থাকবে তা কিন্তু নয়। আজকে আমরা বিচার বিভাগের যে চেহারা দেখতে পারলাম তাতে আগামীতে যদি আবার এমন কোন নজির সৃষ্টি হয় তাহলে কিভাবে আজকের এই ক্ষমতাধর নেতা নেত্রীরা এই বিচার বিভাগের উপরে আস্থা রাখবেন। প্রধান বিচারপতি সিনহা সহ বিচার বিভাগের উপরে হস্তক্ষেপ করে সরকার কি প্রমান করলো বা আমাদেরকে কোন রাস্তা দেখালো একটু ভেবে দেখতে হবে কিন্তু। আমার মনে হয় এরপর যখন ক্ষমতার পালাবদল হবে তখন সবার আগে এখানে বাতাস লাগবে।

এই যে একটি সম্পুর্ন সিস্টেমে রাজনীতিকরন দেখা গেলো এসব কিভাবে আসছে আর কেন হচ্ছে তা কি আমরা কখনও একটু ক্রিটিক্যালি ভেবে দেখছি ? আমরা দেশের সাধারন জনগন পড়ে আছি ধর্ম আর অধর্ম নিয়ে। ধর্মীয় রাজনীতি আর মোল্লা রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে যেতে পারে বা নিচ্ছে সেটাও কি আমরা ভেবে দেখছি। এসব বলতে গেলে হয়ে যাবে ভারী ভারী কথা নিয়ে আলোচনা কেন করছেন আপনি যা নিয়ে ছিলেন তাই নিয়ে থাকুন না এরকম কথা শুনতে হতে পারে। কিন্তু সচেতন নাগরিক হিসেবে তো এগুলা আলোচনা করা দরকার মনে করি। কিছু দিন আগে লক্ষিপুরের ঘটনা দেখলাম ধর্মীয় অজুহাত দেখিয়ে পাকিস্তান আর আফগানিস্তান এর মতো দোকান পাট বন্ধ করে রাখা হচ্ছে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে। আর তা করছেন সেখানকার স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি। আমরা সাধারন জনগন সামনের জিনিষ গুলাই দেখি মনে হয় বা আমাদের চোখে মনে হয় অন্য কিছু ধরা পড়ে না বা চোখ মনে হয় ধর্মীয় ফিল্টার লাগানো আছে যেসব ক্ষতিকারক দিক গুলা আমাদের জানা উচিত তা আমরা এই ধর্মীয় ফিল্টারের কারনে দেখতে পারছি না। একটা মাত্র পদ্মা সেতু আর কিছু উড়াল সেতু আর পেপ্যাল এর নাম করে ঝুম সার্ভিস আমাদের এই বাঙ্গালী জাতিকে উজ্জ্বল ভবিষৎ দিবে এমন কোন কথা নাই।

ধর্মীয় রাজনীতি আর মোল্লা রাজনীতি যতদিন এই সিস্টেমে মিশে থাকবে ততদিন আমাদের দেশ উন্নত হতে পারবে না। যদি কেই বলে তাহলে এতো কিছু উন্নয়ন হচ্ছে কিভাবে। তাহলে আমি বলবো আপনার চোখ থেকে ধর্মীয় চশমাটা একটু খুলে রেখে তারপর তাকিয়ে দেখুন ভালো ভাবে আসলে কি হতে চলেছে। ৭০ এর দশকে আফগানিস্তানের অবস্থাও ঠিক এভাবেই এগিয়েছিলো খোজ নিয়ে দেখুন। বর্তমান সরকারের সময়ে যে সৌদিপ্রীতি আর মৌলবাদীদের প্রভাব বিস্তার দেখা গেলো তা কি আগামী দিনে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে বর্তমান সরকার। আজকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়ালো। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় ধর্ম আর ধর্মীয় মৌলবাদিদের দাপট এসবই আমাদের দেখাচ্ছে সরকারের আন্তর্জাতিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ততা আগামীদিনের বাংলাদেশের একটা ছবি যেন স্পষ্ট দেখা যায়। এই দায় কি বর্তমান সরকার এড়াতে পারবে ইতিহাস থেকে ? আমার মনে হয় না এদেশের সিস্টেমে যে বড় ধরণের গন্ডগোল বাধানো হলো তার দায় বর্তমান নেতা নেত্রীরা আগামীতে নিবে।

---------- মৃত কালপুরুষ           
               ২১/১০/২০১৭
            





বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

যৌনতা নিয়ে লেখায় কি নারীবাদী আন্দোলন ?


নারীবাদ একটি বৃহৎ আন্দোলন যা সদূর প্রসারীও বটে। নারী পুরুষের সমান অধিকার বাস্তবায়ন যার মূল লক্ষ্য। আমাদের সমাজে নারীরা কিছু পুরুষতান্ত্রিক ধর্ম ব্যবস্থা দ্বারা সেই বহুকাল ধরেই অবহেলিত হয়ে আসছে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন এসব ধর্ম নারীদের চীরজীবন ছোট করে এসেছে। শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো থেকে দূরে রাখতে চেয়েছে নারীদের। তাদেরকে করেছে যুগ যুগ ধরে গৃহ বন্দী। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের ভেতরে কয়েকজন সেই সামাজিক প্রথার বিরোধিতা করে নারীদের মুক্ত করতে চেয়েছেন। আর যারা এই নারী মুক্তি সংগ্রামের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে সমাজের প্রথাবিরোধী কাজে আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন তাদের আমরা নারীবাদী বলে থাকি। নারীরাই পারে এই ধর্মান্ধ সমাজে আঘাতের পর আঘাত করে তার পরিবর্তন করতে।

তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে অনেকেই আবার এই নারীবাদ আন্দোলন বলতে মনে হয় শুধু যৌনতাই বুঝছেন। কারন দেশের একটি লজ্জাজনক সমস্যা হচ্ছে ধর্ষণ। শুধু বাংলাদেশেই ধর্ষন হয় তা কিন্তু নই, বরং এশিয়া সহ সেই সূদুর পশ্চিমা দেশগুলোতেও এই ধটনা ঘটে থাকে। তবে কম এবং বেশি হয়ে থাকবে। এখানে এই জাতীয় ঘটনা ঘটার পেছনে আমরা আমাদের দেশের ধর্মব্যবস্থাকে বেশি দোষারোপ করে থাকি। কারন এই জাতীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্ম গুলা আমাদের সমাজের যৌন শিক্ষা গুলাকে সব সময় আড়াল করে রাখতে চাই বিভিন্ন ধর্মের দোহায় দিয়ে। নারীদের বোরাকা নামক বস্তা বন্দী করে হিজাব আর সিদুর দিয়ে তাদের আলাদা করতে চায়। প্রকৃত যৌন শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো থেকে নারীদের বন্দী করা হয়। এসব ধর্ম শিশুকাল থেকেই আমাদের দেশের সমাজে বেড়েওঠা একটা পুরুষের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেয় নারী মানেই যৌন বস্তু। আর এসব কারনেই ধর্ষনের মতো ঘটানা বেশি ঘটে সেই সমস্ত দেশের সমাজে।

নারীবাদীরা এই সব নিয়ে অবশ্যয় লেখবে। আমি মনে করি তাদের অবশ্যয় এটা বলার অধিকার আছে “সকল পরুষই মস্তিষ্কে ধর্ষক” হয়তো আমরা পুরুষেরা নারীদের সেই অবস্থানে গিয়ে তা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারিনা। তবে এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, এমন কোন পুরুষ যেমন নেই যে জীবনে একটিবারের জন্যও কোন নারীর দিকে কামাতুর দৃষ্টিতে তাকায় নাই ঠিক তেমনি এমন কোন নারীও কিন্তু নাই যে জীবনে একটি বারের জন্য কোন পুরুষের দিকে কামাতুর দৃষ্টিতে তাকায় নাই সেক্ষেত্রে সমান সমান। বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়া গুলার প্রধান আলোচনার বিষয় হয়েছে এটা। বিতর্ক আলোচনা সমালোচনা সবই হচ্ছে কমেন্টস এর থ্রেট শুধু দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতরই হয়ে যাচ্ছে তারপরেও মনে হয় এর সমাধান আসছে না। অবশেষে ফলাফল হচ্ছে নারীবাদীরা তাদের সমমনা পুরুষদের আলাদা চোখে দেখছে বা অনেকেই হয়তো কাউকে না কাউকে ব্লক করছে তার সোশ্যাল মিডিয়ার আইডি থেকে। আমি এটাকে বলছি নিজেদের মধ্যেই একটা কোল্ড ওয়ার বা ঠান্ডা যুদ্ধ। আসলে একটা কথা নারীদের মনে রাখা উচিত বলে মনে করি, একজন মুক্তমনা মানুষ (নারী,পুরুষ) সব সময় লিঙ্গ নিরাপেক্ষভাবেই চিন্তা করে মনে রাখবেন। আর যারা লিঙ্গ নিরাপেক্ষ থেকে আমাদের সাথে এই প্রথাবিরোধী আন্দোলনে কাজ করে যাচ্ছেন তারা সবাই মুক্তমনা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই জাতীয় ক্ষুদ্র স্বার্থে এসেই নারীবাদ আর আজ্ঞেয়বাদী, অনীশ্বরবাদী, নাস্তিক্যবাদ ও সংশয়বাদীদের আলাদা করে দেখা হচ্ছে। ঠিক আস্তিক নাস্তিক এর মতো। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন সকলেরই উদ্দেশ্য কিন্তু এক।

আর সকল মুক্তমনাদের (নারী,পুরুষ) উদ্দেশ্যে বলা, আমরা যদি নিজেদের মুক্তমনা বলেই দাবী করি তাহলে আমাদের এই ধর্মান্ধদের মতো অনুভূতি থাকাকে কি বলবেন আপনারা। এতোদিন একসাথে থাকতে পারলেন একজন আরেকজনের প্রতিটি কথাকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রথাবিরোধী আন্দোলনকে আরো জোরদার করলেন কিন্তু এই কথায় এসেই নিজেকে আস্তিকের মতো অনুভূতি আছে প্রমান করে দিলেন। এতে করে অনেকেই দেখলো সেই হেফাজতি তেতুল হুজুরের ছাত্রদের মতো আচরন করছেন কিছু মুক্তমনা মানুষ। আর সেই সাথে সেই শ্রেনী, যারা মুক্তমনাদের সারাজীবন হত্যাই করতে চায় তারা হাতে তালি বাজিয়ে নিলো। মনে মনে তারা বললো যে দেখ আমাদের ধর্মানুভুতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলার জ্বালা কত। এখন সকল পুরুষ ধর্ষক বলাতে যারা নিজেদের দিকে এই কথা টেনে নিচ্ছেন তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনি যদি ধর্ষক নাই হবেন তাহলে নিজের দিকে কেন এই কথা টেনে নারীবাদীদের কটাক্ষ করে কথা বলবেন। নারীবাদীরা যে কাজ করছে আমাদের সমাজে তারা যেভাবে আঘাত করছে তাতে আমাদের উচিত হবে তাদের সাধুবাদ জানানো। এই একটা যায়গায় এসে যদি আমরা সেই তেতুল হজুরের মতো আচরন করি তাহলে আমরা আর মুক্তমনা থাকি কিভাবে।

নারীবাদীদের অনেকের ভেতরেই এই নিয়ে দ্বন্দ কারো নজর এড়াতে পারেনি মনে হয়। নারীবাদীরা বলেন কোন ধর্ম বিশ্বাস করলে বা আস্তিকতা মেনে চললে তাকে নারীবাদী বা মানবতাবাদী কোনটাই বলা যাবে না। আসলে এটা সঠিক হবার কথা। তবে ধর্ম বিশ্বাস না করে যদি কোন কল্পিত ঈশ্বর বিশ্বাস করে কেউ, তাকে আস্তিক বলা যাবে এবং সেই ব্যাক্তি নারীবাদী বা মানবতাবাদী দুইটাই হতে পারবে। কথাটা খুব জটিল মনে হচ্ছে তাই না। আর অন্য নারীবাদীরা বলছেন কোন ধর্মে বিশ্বাস করেও তারা নিজকে নারীবাদী বলে দাবী করেন কিন্তু তারা ধর্মের কোন প্রথা মানেন না তবে যেকোন একজন ঈশ্বর আছেন এটা বিশ্বাস করেন। সত্য কথা বলতে কি পুরুষ তান্ত্রিক হাতে গোনা কয়েকজন নাস্তিকের সন্ধান পেয়ে সকল নারীবাদীরা এই ধর্ম আর অধর্মের মধ্যে বা নাস্তিক্যবাদ আর আস্থিক্যবাদ এর মধ্যে পার্থক্য ও ভেদাভেদ খুজাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন যেটা আগামীতে এই নারী মুক্তি আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করবে বলে মনে করি। তার থেকে একটা জিনিষ আমাদের মনে রাখা উচিত যে মুক্তমনা মানেই কিন্তু লিঙ্গ নিরাপেক্ষ হতে হবে আর তারাই প্রকৃত নাস্তিক্যবাদের পক্ষে থাকবে। তাহলে নাস্তিকতার নাম করে কেউ যদি পরুষতান্ত্রিক মনোভাব পোষন করে তাহলে তাকে আমরা কখনই মুক্তমনা বলতে পারিনা আর যখনই সে মুক্তমনা হতে পারবে না তখন সে নাস্তিক হোক আর আস্তিক তাতে কিছুই যায় আসে না। তার যদি এওমন অনুভূতি থেকেই থাকে তাকে আমরা আস্তিকদের সাথে পার্থক্য আছে এই কথাও বলতে পারছি না।

এতো কথা বলার কারন হচ্ছে শুধু একটি কথায় বলার চেষ্টা করা আসলেই কাঠালের আমসপ্ত কি জিনিষ সেটা আপনারাই ভেবে দেখুন। আর যৌনতাই যে নারীবাদী নারীদের একমাত্র লেখার টপিক্স তা কিন্তু না সেটাও মনে রাখবেন। যেই বিষয়কে মূল আলচ্য ব্যাপার বানিয়ে আজ সমমনাদের আলাদা করা হচ্ছে তা থেকে আমাদের সকলের বিরত থাকা উচিত। নারীবাদী বা নারী মুক্তির এই বৃহৎ আন্দোলনের সাথে লিপিস্টিকবাদী, ওড়নাবাদী, হিজাববাদী বা সিদুরবাদীদের মিলিয়ে না ফেলার অনুরোধ রইলো। আর অনুভূতিওলা কথিত মুক্তমনাদের নাস্তিক্যবাদের সাথেও না মিলিয়ে ফেলার অনুরোধ রইলো। সাথে যারা প্রায় বলেন থাকেন যারা অবশ্য সিনিয়র ব্লগার বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকেন তারও কিটিবাদী, সিপিবাদী বা সিপি গ্যাং, কিটি গ্যাং এই জাতীয় কথা না বলার অনুরোধ রইলো। প্রথাবিরোধি আন্দোলনে অংশগ্রহন করতে হলে আমাদের দরকার একসাথেই এগিয়ে যাওয়া সেটা কি সম্ভব ?

---------- মৃত কালপুরুষ
              ১৮/১০/২০১৭