শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা ইস্যুর নতুন সম্ভবনা।


রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কমবেশি এতো পরিমানে লেখালেখি হয়েছে যে এই বিষয়ে এখন অনেকেই শুনতে আগ্রহী না। তার পরেও সম্প্রতি কিছু নতুন খবর পাওয়ার কারনে আবার লেখার প্রয়োজন মনে করলাম এই ইস্যুটি নিয়ে। তাই আগেই ঘাবড়িয়ে যাবেন না। রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে এটা হবে আমার ১০ম লেখা। কিছু নতুন তথ্যর উপর ভিত্তি করে পাঠক মহোদয় কে অনুরোধ করবো আমার প্রশ্ন গুলির উত্তর দেবার জন্য।
সম্প্রতি আমরা অনেকেই জানতে পেরেছি বিশ্ব নেত্রী-বৃন্দরা এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি বিখ্যাত বিখ্যাত মিডিয়া গুলিও এই ব্যাপারে খুব লেখালেখি শুরু করেছে। চাইলে টাইমস ম্যাগাজিনের  একটি খবর পড়ে দেখতে পারেন সবাই। রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগের একটি ছবি টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ হয়েছে যা আসছে অক্টোবর মাসের ২ তারিখে প্রকাশ পাবে নিচে দেখুন। ছবিটি দেখে আমারও খুবই খারাপ লেগেছে। অন্তত এটা ফেক ছবি বা রেফারেন্স বিহীন কোন ছবি না। আরেকটি সংবাদ পড়ে ভালো লেগেছে যেটা নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার লিখেছি, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যারা এতোদিন ফেসবুকে ভুয়া কিছু ছবি ছড়িয়ে দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাবার চেষ্টা করছিলো সেই সমস্ত ফেসবুক একাউন্ট গুলি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিচ্ছে শুনে। এখন আসুন মূল কথায়।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ঢাকাতে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিলো। যেখানে এই রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি আর এই সমস্যা থেকে বের হবার ব্যাপারে কিছু আলোচনা করা হয়। সেখানে কয়েকজন বক্তা বাংলাদেশেকে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ গুলির সাথে এক হয়ে মায়ানমার আক্রমনের কথা বলেছেন। আমি চিন্তা করছি কতটা মাথামোটা জাতি না হলে এই জাতীয় মনোভাব কেউ ব্যক্ত করতে পারে। আর ফেসবুক সহ অনলাইন মাধ্যম গুলিতে যে সক্রিয় গ্রুপ আছে তাদের কথা বাদই দিলাম যারা প্রতিনিয়ত সাধারন মানুষকে উস্কানি দিয়ে আসছে এধরনের কর্মকান্ডে। আগেই বলেছি এই এই রোহিঙ্গা ইস্যু কোন কালেই ধর্মীয় কোন ইস্যু ছিলোনা। এর সাথে কোন ধর্মের কোন সম্পর্ক অতীতে ছিলো না। একটি মহল একে মুসলিম রোহিঙ্গা মুসলিম রোহিঙ্গা বলে বলে ইসলাম ধর্মাবল্মীদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করছেন। কারন ধর্ম গুলি সবসময় একটি চরম সেনসেটিভ ইস্যু যা ব্যবহার করতে পারলে একটি জাতি বা একটি সম্পুর্ন গোষ্ঠির সাপোর্ট পাওয়া যাবে। রোহিঙ্গা ইস্যু বা বর্তমান বাংলাদেশ মায়ানমার এর যে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি তা সম্পুর্ন মায়ানমারের একটি অভ্যান্তরিন সমস্যা। এখানে বাংলাদেশের কোন সমস্যায় ছিলো না। অসহায় ও নির্যাতিত যে রোহিঙ্গারা আজ মায়ানমার থেকে পালিয়ে আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদেরকে আশ্রয় দিলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তাও কিন্তু না। এখন কথা হচ্ছে এই জাতীয় সেমিনার গুলিতে বুদ্ধীজীবি আর চিন্তাবিদেরা যদি এমন কথা বলতে পারে তবে দেশের সরকারকে নিয়েও চিন্তা হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই না। আর সাধারন জনগনেরও জানা উচিত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি আইনে যদি বাংলাদেশ তার নিজের পায়ের তলার মাটি অনিরাপদ করে ফেলে তাহলে কি হবে। এই ছোট্ট অখন্ড বাংলার ভূমিটি কিন্তু অনেক রক্তের বিনিময়ে পাওয়া । রোহিঙ্গা ইস্যুতে কারো সাথে তাল দিতে গিয়ে নিজেদের পায়ের তলার মাটি যেনো হারানোর মতো পরিস্থিতি না হয় খেয়াল রাখবেন।
আমরা সবাই জানতে পেরেছি চীন মায়ানমারকে অনেক আগে থেকেই বিভিন্নভাবে তাদের সাহায্য সহোযোগিতা করে আসছে। এই চীন যে মায়ানমারে তাদের বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করেছে সেটা কিন্তু চীনের মায়ানমারকে সাপোর্ট করার একমাত্র কারন নাও হতে পারে একটু ভেবে দেখবেন। আমি যদি বলি আসল কারনটি আরো বড় কিছু তাহলে সবার আগে আমার বাংলাদেশের সাম্রজ্যবাদীদের বিপক্ষে কথা বলা ভাই বন্ধুদের চোখে আমি সবার আগে খারাপ হয়ে যাবো। অনেক আগে থেকেই দক্ষিন এশিয়ার দেশ গুলিতে একটি কোল্ড ওয়ার বা ঠান্ডা যুদ্ধ চলে আসছে। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ গুলিকে নিয়ন্ত্রন করার একটা আপ্রান চেষ্টা বলা চলে। তাই তো বর্তমান আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প কে দেখা যায় দক্ষিন কোরিয়ার পারমানবিক বোমা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্তব্য করতে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি অনেক বড় ব্যাপার, যা খুব সহজে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ আর বিএনপি সমর্থক আর এইসব দলের নেতা কর্মী বা মন্ত্রী মিনিষ্টারদের মাথায় নাও আসতে পারে।
এখন আমি যদি বলি গত ২৪ আগস্ট মায়ানমার এর রাখাইন রাজ্যে যে সেনা ক্যাম্প আর পুলিশ চৌকি গুলিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নামের যে ধর্মীয় জঙ্গীগোষ্ঠী আক্রমন করেছিলো এবং মায়ানমার এর সেনা সদস্য ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছিলো যার কারনে সাধারন অসহায় রোহিঙ্গা জাতিদের উপরে মায়ানমার সরকার নির্যাতন শুরু করে দিলো আর তাদেরকে বিতাড়িত করে দেশ ছাড়া করার উদ্যোগ নিলো এসবই ছিলো এই জঙ্গীগোষ্ঠী (আরসা) এর উদ্দ্যেশ্যমূলক কর্মকান্ড তাহলে কি কিছু বুঝতে পারবেন। একটু ভেবে দেখুন বিষয়টি কি হতে পারে। পৃথিবীর ক্ষমতাধর দেশগুলি ও ধর্মীও মোড়ল দেশ গুলির একাংশ চাচ্ছে যে আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এ আর এন ও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এর মতো জঙ্গীদলগুলি ধর্মীও জিহাদের নাম করে মায়ানমারের এই অংশটুকু রাখাইন রাজ্যটাকে তাদের দখলে নিয়ে নিতে। এখন আপনিই বলুন আপনি কি চাইবেন আপনার বাংলাদেশের কোন একটি অংশ কেউ রোহিঙ্গাদের মতো সশস্ত্র লড়াই বা আন্দোলন করে তাদের জন্য আলাদা রাজ্য তৈরি করুক। উত্তর হবে একজন বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে না। তাহলে এটাও ভেবে দেখুন মায়ানমারের মিত্র দেশ চীন আবার চীনের মিত্র দেশ রাশিয়া এবং তার গ্রুপের অন্যান্য শক্তিশালী দেশ গুলি এই বিষয়ে কেউ কি চাইবে যে, যেখানে তাদের স্বার্থ আছে সেই যায়গাটি অস্থিতিশীল থাকুক। নিশ্চয় চাইবে না বরং এটা করতে চাইবে মায়ানমারের মতো একটি যায়গায় চীন, রাশিয়া, আমেরিকার একটি মজবুত ঘাটি থাকুক।
এবার একটু ভেবে দেখতে হবে আমাদের, বৌদ্ধদের সন্ত্রাসী বলে আমরা কি রোহিঙ্গাদের মুসলিম বলছি কিনা আসলে রোহিঙ্গারা যে সবই মুসলিম তা কিন্তু না। । আর রোহিঙ্গা সমস্যাকে ইসলাম ধর্মের সাথে মিলিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের সাথে কোন সংঘাত বাধিয়ে ফেলছি কিনা। এখন বিশ্বের বড় বড় সংবাদ মাধ্যম গুলোও ধুমছে সেই একই কাজটি করে যাচ্ছে। এতে কিন্তু পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে এই ঠান্ডা লড়াইটা মূলত আমেরিকার সাথে বাকী দুই দেশের। আর ঠিক রোহিঙ্গা ইস্যু সৃষ্টির এই মূহুর্তে রোহিঙ্গা মুসলামানদের নিপীড়িত হওয়া প্রমান করা খুবই জরুরী বলে মনে করছেন বিশ্বনেতাদের একংশ বিশেষ করে ধর্মীও মোড়ল দেশগুলি। এই সুযোগটি নিচ্ছে আইএস, আল-কায়েদা, বোকো হারাম, তালেবান জিহাদী দলগুলো। তারা চাচ্ছে মায়ানমারের অভ্যান্তরে থাকা আরসা এবং এআরএনও জিহাদী দলগুলোর নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে মায়ানমার এর রাখাইন রাজ্য দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে। এতে পার্শবর্তি দেশ বাংলাদেশকে কিভাবে সাথে পাওয়া যাবে তা তারা ভালো করেই জানে।
বাংলাদেশের মাছ খেকো বাংগালী এসব আন্তর্জাতিক রাজনীতি না বুঝলেও সেই দূর দেশ তুরর্ষ্ক ঠিকই বুঝেছে যে মায়ানমারের বন্দর আসলে অনেক দূরে। যার কারনে কিছুদিন আগে এরদোগানের স্ত্রী অসহায় রোহিঙ্গাদের দেখে আবেগে যে কান্না কেদেছিলো তা বাড়ী গিয়েই ভূলে গিয়েছে। যার কারনে তুরষ্কের যুদ্ধ জাহাজ গুলো মায়ানমার এর তীর খুজে পাচ্ছে না এবং মাঝ সুমুদ্রেই ঘুরপাক খাচ্ছে। যেসব বাংগালী ভায়েরা আজ সৌদিআরবের মায়ানমার আক্রমনের রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছেন তারা একটু ভেবে দেখবেন বিষয়গুলি। আপনাদের এখনই উচিত প্যান ইসলামিজম এবং ফান্ডামেন্টালিস্ট ইসলামিক বুদ্ধিজীবিদের চিনে নেওয়া। আর কারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেবল শরণার্থী শিবিরের দুর্দশাগ্রস্থ শিশু নারীদের ছবি দেখিয়ে যাচ্ছে এবং মুক্তমনা লেখক ব্লগারেরা কি বলতে চাচ্ছে। আশা করি মাছে ভাতে বাংগালী তাদের আসল বিপদটি দেখতে পাবে তবে না দেখতে পাওয়াটায় বেশি প্রত্যাশিত বলে মনে করি কারন আমরা বাংলাদেশি। মনে রাখবেন মুক্তমনারা হচ্ছে জন্ম থেকেই প্রগতিশীল। আর প্রগতিশীলতার অর্থই হচ্ছে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আর তাইতো সবসময় ধর্মীয় বা জাতিগত জাতীয়বাদীরা আগে থাকে প্রগতির বিপরীতে। আর এটাও জেনে রাখুন বাংলাদেশের ভবিষৎ এখন তাদের হাতেই।


----------- মৃত কালপুরুষ
             ২২/০৯/২০১৭


বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল মাসুদের ফেক ফেসবুক একাউন্ট।



একজন মুক্তমনা আর একজন ধার্মিক ব্যক্তির মধ্যে বড় একটি পার্থক্য হচ্ছে, যদি কোন ধার্মিক ভুল এবং মিথ্যা কথা তার ধর্মের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ করতে থাকে তবে আর দশজন ধার্মিক তার কথাকে যাচাই বাছাই না করেই না দেখেই বাহবা দিতে শুরু করে। মনে করে সেই একমাত্র সঠিক আর বাকি যা কিছু আছে সবই মিথ্যা। কিন্তু একজন মুক্তমনা লেখক যদি ভুল কোন তথ্য ব্যবহার করে কিছু লিখে থাকে, তবে অন্যান্য মুক্তমনারা তার লেখা খুব দক্ষতার সাথে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে তার ভুল ধরিয়ে দেয় বা সেই বিষয়ে আলোচনা করে। ধার্মিকদের মধ্যে ৮০% থাকে একেবারেই অজ্ঞ মূর্খ প্রকৃতি্র।যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে যে জ্ঞান আছে সেই বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। যারা ফেসবুক নামক প্লাটফর্মটিকে ব্যবহার ঠিকই করে কিন্তু “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” এই কথাটুকু লিখতে গিয়ে ৬ যায়গায় বাংলা ভাষাটিকে ধর্ষণ করে। মানে বানানের ভুল করে আরকি।



এই জাতীয় কিছু ধার্মিক বান্দাদের এখন ফেসবুক প্লাটফর্মে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা অনেকেই কথার আগামাথা না বুঝেই লেখকের উপরে তাদের গালাগালির তালিকা নিয়ে দলে দলে ঝাপিয়ে পড়ছে এবং তাদের ঈমানী ধর্ম পালন করছে। কিছুক্ষন আগে Abdullah Al Masud এর নাম দিয়ে বানানো একটি আইডি থেকে আমার কাছে একটি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসে। আইডিটা দেখি "আবদুল্লাহ আল মাসুদ" এর নাম, তার ফেসবুক প্রফাইলে যে ছবি ব্যবহার করা আছে সেই ছবি এসব দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আইডিটি তৈরি করা কয়েছে মাত্র ১ ঘন্টা আগে। এর মধ্যে আমাকে Bonggoj Bihonggo সতর্ক করে দিয়ে জানালো Abdullah Al Masud এর আইডি ফেক করা হয়েছে এবং তা থেকে সবাইকে রিকুয়েস্ট পাঠানো হচ্ছে। আমি সাথে সাথে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এর কাছে ম্যাসেজ করে জানতে চাই ঘটনা কি। সে আমাকে তার পোস্ট দেখতে বলে। নিচে প্রথম কমেন্টে তার পোস্ট এর লিঙ্ক। তার পরেই আমি বুঝতে পারলাম এটা কোন না কোন ধার্মিকের কাজ। আবদুল্লাহ আল মাসুদের কোন কথার জবাব না দিতে পেরে এখন তার নামে ফেক একাউন্ট খুলে এই জাতীয় মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে। নিচের ছবিটি যার প্রমান।



তাহলে ভেবে দেখুন সত্য পথ অবলম্বন করে কারা কথা বলে আর মিথ্যার আশ্রয় কারা নেয়। এই ঘটনা থেকে কি প্রমাণিত হচ্ছে একটু ভেবে দেখবেন। কিছু কাঠমোল্লা টাইপের আইটেম আছে ফেসবুকে। যাদের মাথা সাধারন মানুষের থেকে একটু মোটা বলা চলে। যারা যুক্তি বা তর্ক করে মুক্তমনাদের ভুল ধরতে পারে না তারা প্রথমে গালাগাল আর খারাপ ভাষার ব্যবহার করে তাদের প্রাথমিক পরিচয় দিয়ে থাকে । পরবর্তিতে এই ধরনের হাস্যকর কিছু কাজ করে নির্বুদ্ধিতার ষোলকলা প্রমান করে। আমার লেখার উদ্দেশ্য সেই সব ধার্মিক ভায়েদের কাউকেই ব্যক্তিগত আঘাত করা নয়। তাদেরকে এটাই বোঝানো যে, এগুলো সঠিক পন্থা নয়। আপনার জ্ঞান মানুষের মাঝে প্রচার করার ইচ্ছা থাকলে। আপনি যদি ভূল না হয়ে সঠিক হয়ে থাকেন তবে আসল পরিচয় নিয়ে সামনে আসুন আর আপনার কি মনোভাব আছে তা ব্যাক্ত করুন। যদি সাধারন মানুষ সহ সকলের কাছে তা গ্রহন যোগ্য হয়, তবে অবশ্যয় আপনাকে আপনার প্রাপ্য সম্মান করা হবে।



অবশেষে বলা যায় এই লেখাটির কারনে অনেকেই আমার উপরে খুব রেগে যাবেন। যারা রেগে যাবেন তাদের জন্য এই মূহুর্তে আমার করূণা ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। আমি জানি তারাই হচ্ছেন আগামীর ধর্মীয় পথ প্রদর্শক এবং বিজ্ঞানী ও ধর্মীয় লেখক আর ফেসবুকার। এর মধ্যেই যারা এই কাজ করেছেন তারা হইতো আবদুল্লাহ আল মাসুদ এর আইডির নকল বানানোর কারনে অনেকের কাছে প্রশংসার পাত্রও হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ বলা শুরু করেছে এরাই হচ্ছে আগামীর আল্লামা সাইদী বা অন্য কেউ। আমি মনে করি এই সমস্যা তাদের না। এটা তারা পেয়েছে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যাবস্থা থেকে। এখানে কমপ্লিটলি দায়ী তাদের ধর্মীও শিক্ষা ব্যাবস্থা। সেই ব্যার্থতা নিতে হবে আমাদের সকলেরই। হয়তো আমার দেশের ধর্মব্যাবস্থা দ্বারা পরিচালিত সমাজব্যাবস্থা তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেনি। এখন যারা আমাকে গালি দিবেন বা আমার কল্লা নিয়ে চিন্তা করবেন তাদের উপরে আমি আমার প্রশ্ন ছুড়ে দিলেম। আপনারাই বিবেচনা করে দেখবেন আপনারা কোন পথ অবলম্বন করছেন।

----------- মৃত কালপুরুষ
২২/০৯/২০১৭  

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সমাজব্যবস্থা ও ধর্মব্যবস্থা ( ধর্মের উৎপত্তি )


সভ্যতার যুগে পা রেখেই মানব জাতি সৃষ্টিশীল হয়ে উঠেছিলো। সভ্যতা গড়তে যেমন মানুষ যুগে যুগে বিজ্ঞান এর ব্যবহার করে এসেছেন, ঠিক তেমনই যুগে যুগে তৈরি করেছেন নানা ধর্ম। তাই মানব সভ্যতা গঠনে যেমন বিজ্ঞানের অবদান আছে তেমনি ধর্মেরও অবদান ছিলো। কিন্তু বর্তমান যুগের এই মারো কাটো টাইপের ধর্মের না। এখন ধর্ম ব্যবস্থা এমন রুপ নিয়েছে, যে ধর্ম বিশ্বাসী মানুষ তার ধর্ম সম্পর্কে পুরাপুরি জ্ঞান রাখুক আর না রাখুক সে এটুকু জানে তার ধর্মই প্রধান ধর্ম, আর এটাকে রক্ষা করতে হবে যে কোন মূল্যে। সে হোক কারো মাথা কেটে, বা এর থেকেও বড় অন্যায়পথ অবলম্বন করে। এটা আসলেই মানুষের প্রকৃত ধর্ম হওয়া উচিৎ না। মানুষ সভ্যতার শুরুতে যে ধর্ম মানব কল্যাণের জন্য বানিয়েছিলো তার কিছু কিছু ধর্মে মানব হত্যা বা অন্য ধর্মের মানুষ হত্যার কথা উল্লেখ থাকলেও মানুষ এখন মানবতাকেই সব ধর্মের উর্ধে রাখতে চাই।


মানব সভ্যতা শুরুর দিকে মানব জাতির জ্ঞান যেমন সব বিষয়ে পরিপূর্ণ ছিলো না। তেমনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও তারা ছিলো অজ্ঞ। বর্তমানে আমরাও ভবিষ্যৎ এর ব্যাপারে অজ্ঞভাবেই ভবিষৎ বানী দিয়ে থাকি। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে অনেক আস্তে আস্তে মানব সভ্যতার জন্ম হয়েছে। যেমন মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য যে ভাষার ব্যবহার করে থাকে সেই ভাষা জ্ঞান ও ভাষা তৈরি হতে কয়েকশো বছর লেগে গিয়েছে। তবে সেটা শিকার যুগ এবং কৃষি যুগ এই দুই যুগের মাঝেই ঘটেছিলো। তারও অনেক অনেক পরে মানুষ দলীয়ভাবে বসবাস করতে শুরু করে। কারন আরেক গোত্র দারা আক্রমনের ভয় ছিলো তখন। যে দল যত শক্তিশালী ছিলো সেই দলের সাথে বসবাস করা ছিলো তত নিরাপদ। এভাবে কয়েকশো বছর পার করে দেবার পর যখন ধীরে ধীরে দলের মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলো আর তখন মানুষ বুঝতে পারলো যে, কি কি বিষয় তাদের জন্য মঙ্গল আর কি কি অমঙ্গল তা বাছাই করা শিখতে হবে। বর্তমান সমাজে আমরা যাকে ট্যাবু বলে থাকি। এমন কিছু বিষয় বাদ দিয়ে বিভিন্ন গোত্র তৈরি করলো কিছু নিয়ম। আর যখন মানব সভ্যতার মধ্যে এসব নিয়ম মানতে দেখা গেলো তখনই মানুষ আবিষ্কার করলো এই সমাজের। কিন্তু সমাজ বাবস্থার সকল বাধা ধরা নিয়ম দিয়ে যখন এই সমস্ত সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে উঠছিলো, তখন মানুষ কিছু ঐশ্বরিক শক্তির কথা চিন্তা করা শুরু করলো।



এই হলো ধর্ম শুরুর পালা। সমাজ গঠন করে যখন মানুষ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছিলো তখন কিছু দার্শনিক, চিন্তাবিদ এই ঐশ্বরিক ভয় ভীতি দেখিয়ে মানুষকে বশে রাখতে চাইছিলো। যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রকারের ধর্ম নাম পায়। এই ধর্ম গুলিতে এক জন বা একাধিক জনের প্রধানতা রাখা হতো আর তাদেরকে বলা হত ইশ্বর, দেবতা, স্রষ্টা, ভগবান, আল্লাহ, খোদা ইত্যাদি। এরা কিন্তু সব মানুষেরই সৃষ্টি। তাদের কিছু দূত বা এজেন্ট তৈরি করা হতো মানুষের ভেতরে যারা মুলত এই সৃষ্টি কর্তা ও স্রষ্টাদের কথা মানুষের কাছে প্রকাশ করতো। এই গুলিই হচ্ছে মুলত সমাজ শাসন করার জন্য তৈরি করা নিয়ম ছিলো। যা যুগে যুগে মানুষ মেনে আসছে। ধর্ম সম্পর্কে এপর্যন্ত বিভিন্ন জন যা বলেছেন তা হচ্ছে

জেমস জি. ফ্রেজার বলেন,‘ধর্ম মানুষের চেয়ে উন্নত ধরণের একটি শক্তির বিধান, যে শক্তি মানব জীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্লেষণ করে।’
টেলার বলেছেন,‘ ধর্ম হচ্ছে প্রেতাত্মায় বিশ্বাস।’
নাস্তিক কার্ল মার্কস বলেন,‘ধর্ম হল আফিম এর মতো।’
ডঃ অভিজিৎ রায় বলছেন,‘ধর্ম একটি ভাইরাস।’
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,”ধর্ম এমন একটি ভাব, যাহা পশুকে মনুষ্যত্বে ও মানুষকে দেবত্বে উন্নীত করে। ”
মোট কথা হল ধর্ম হল স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস। অন্যভাবে বলা যায় ধর্ম হল স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক। পৃথিবীতে ধর্মের কি ভাবে শুরু কিংবা উৎপত্তি হয়েছিল তার ব্যাখ্যা ও ইতিহাস বিস্তর। তবে ৩ থেকে ৫ লক্ষ বছর আগে মধ্য প্রস্তরযুগে ধর্মীয় আচার আচরনের সাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যায়। কিন্তু মানুষ যখন মাত্র ৫০০০ বছর আগে লিখার প্রচলন শুরু করে কেবল তখনই ধর্ম লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। ৫০০০ বছর পূর্বে ধর্ম সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ভাবে কোন জায়গায় তেমন কিছু বলা হয় নাই বলে আমি যতদূর জানি। আবার কালের আবর্তে অনেক ধর্মের উৎপত্তি,উস্থান,পতন এবং হারিয়েও গেছে।
তবে ধর্মের উৎপত্তি হিসেবে কয়েকটি তত্ত্ব আছে। যেমন-
১। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মতবাদ
২।মানবীয় বিচার-বুদ্ধি ভিত্তিক মতবাদ
৩।মনস্তাত্ত্বিক মতবাদ
৪।নৃ-তাত্তিক মতবাদ
সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মতবাদব মানুষকে বিশ্বাস করতে বলে যে- পৃথিবী সৃষ্টির আদিকাল থেকেই একজন ঈশ্বর আছেন এবং তিনিই ধর্মের প্রবক্তা। আর বর্তমান যুগে পৃথিবীর পিছিয়ে পড়া জাতিদের ভেতরে এই ধর্ম মেনে চলার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। আর তাদের পিছিয়ে পড়ার মূল কারন হিসেবে এই ধর্মকেই দ্বায়ী করা হয়। প্রথম শ্রেনীর বা ফার্স্টক্লাস যত কান্ট্রি আজ পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেসব দেশ অনেক আগেই এই সমস্ত ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। অবশ্য এর জন্য সেই স্ব স্ব জাতি এবং গোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত জ্ঞান অনুসন্ধান করা লেগেছে। আমি বিভিন্ন দার্শনিক ও বিবর্তনবাদীদের লেখা পড়ে এটা বুঝতে পেরেছি যে সভ্যতার সমাজ গঠনে তৈরি হওয়া ধর্ম গুলিই আবার বর্তমানে মানব উন্নয়ন এর চরম বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে। এখানে অভিজিৎ রায়ের কথা টেনে বলতে হচ্ছে এই ধর্মগুলি মানুষের না মানব সমাজের ভাইরাস হিসেবে কাজ করছে। আর এই ভাইরাস দারা আক্রান্ত জাতি কোন দিন কুসংস্কার থেকে বের হতে পারে না।

আসলে এই ধর্ম আর সমাজ বিষয়টি কোন সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিষয় নই। তাই যতই বলা যাবে ততই কথা বাড়বে। ভাবছি একটি ধারাবাহিক লেখা শুরু করবো। তবে সেক্ষেত্রে আমার পাঠকদের মতামত জানার প্রয়োজন আছে। এই লেখাটিতে আমি কোন তথ্যসূত্র দিচ্ছি না। কারন দার্শনিক ও যুক্তিবাদী দের কিছু বানী যোগ করা ছাড়া এই বিষয়টি আমার নিজস্ব মনোভাব।
------------ মৃত কালপুরুষ
                  ২৫/০৮/২০১৭

কনফুসিয়াস ধর্ম বিশ্বাসীদের ভাবনা ও মানব আগমন।


এই চীনাদের ধারনা ছিলো তাদের প্রথম মানব আজ থেকে ১০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলো। যেখানে ইসলাম, ইহুদী আর খ্রিষ্টান ধর্ম সম্পর্কে এবং তার আদম সম্পর্কে বলতে গেলে নির্দিষ্ট কোন সময়কাল পাওয়া যায় না। তবে আদমের একই ঘটনা একই বিষয় বাইবেলে যেভাবে লেখা আছে তা আবার মুসলিম জাতি মানতে চায় না। ইসলামে আদম সম্পর্কে শুধু এটুকু পাওয়া যায় যে, আদম থেকে মোহাম্মদ ৯০ প্রজন্ম ছিলো এর মধ্যে ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রাসুল দুনিয়াতে এসেছিলো মতান্তরে ২ লক্ষ ২৪ হাজার। আবার অনেকের মতে সেই যুগে প্রতি বছর আনুমানিক ২৬ জন করে নবী রাসূল দুনীয়াতে এসেছেন। সেই হিসেব করে যদি বলা যায় যে, আদমের পৃথিবীতে পদার্পণ খ্রিষ্টান, ইহুদি ও পারস্য ধর্ম পাশাপাশি ইসলাম ধর্ম মতে খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০৪ বা মতান্তর এ ৪০২৬ তাহলে আমার ফেসবুক ওয়ালটিকে অনেকেই কাঠাল পাতা ভাবতে থাকে। যার প্রমান আমার দুইদিন আগের একটি মমি বিষয়ক লেখাতেই দেখুন। এখানে আমার একটি প্রশ্ন কেন আমরা সবাই এটা জানতে চেষ্টা করি না, কেন এই মানব আগমন নিয়ে এতো লুকোচুরি করা হয়েছে। আগেই আমার জ্ঞান এর সীমা যাচাই বাছাই করতে সবাই উঠেপড়ে লাগে। যাক সে কথা আমি নাকি একটি ধর্ম নিয়েই শুধু লেখি তাই তাদের উদ্দেশ্য আজ একটি আনকমন ধর্ম নিয়ে লিখবো। যেখানে বলা আছে মানব আগমনের কথা ইসলাম থেকেও যা ৯ লক্ষ ৯০ বা ৯৪ হাজার বছর আগে।
চীনের একটি নৈতিক ও দার্শনিক বিশ্বাস ও ব্যবস্থা যা বিখ্যাত চৈনিক সাধু কনফুসিয়াসের শিক্ষার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ কনফুসিয়াস হলেন কনফুসীয় ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। এটি মূলত নৈতিকতা, সমাজ, রাজনীতি, দর্শন এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও চিন্তাধারাসমূহের সম্মিলনে সৃষ্ট একটি জটিল ব্যবস্থা যা একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতি ও ইতিহাসে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। অনেকের মতে এটি পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। কারণ এই দেশগুলোতে এখন কনফুসীয় আদর্শের বাস্তবায়নের উপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে। কনফুসিয় মতবাদ একটি নৈতিক বিশ্বাস এবং দর্শন। এটাকে ধর্ম বলা হবে কিনা এই নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতভেদ আছে। অনেক শিক্ষাবিদ কনফুসিয় মতবাদকে ধর্ম নয় বরং দর্শন হিসেবে মেনে নিয়েছেন।কনফুসিয় ধর্মের মূলকথা হচ্ছে মানবতাবাদ।



প্রাচীন চীনে প্রচলিত বেশ কিছু ধর্মের মধ্যে কনফুসিয়াস ধর্ম ছিলো একটি প্রধান ধর্ম। বহু বছর আগে যখন এই অঞ্চলের মানুষেরা বসতি স্থাপন করতে শুরু করলো তখন চৈনিক সাধু কনফুসিয়াস এর দারা এই ধর্মের সৃষ্টি হয়েছিলো। বর্তমানে অনেক দার্শনিক এই ধর্মকে দর্শন বলে মেনে চলেন। তারা একে ধর্ম বলেন না। তবে পৃথিবীর প্রচলিত ধর্ম গুলির ভেতরে এই চৈনিক দের কনফুসিয়াস ধর্মে কুসংস্কার কিছুটা কম দেখা যায়। যার কারনেই অনেকে একে ধর্ম না বলে দর্শন বলে থাকেন।
প্রচলিত কয়েকটি ধর্মের মতো তারাও বিশ্বাস করে না যে, আজ থেকে ৭০ হাজার বছর আগে কিছু হোমো স্যাপিয়েন্স এর ছোট ছোট দল ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে ঢুকে পড়ে। যাদের নিয়ান্ডারথাল বলা হয়ে থাকে। এটা না বিশ্বাস করার কারনে তারা ভাবতে থাকে এখানেই তারা জন্ম গ্রহন করেছে এবং এর বাইরে তাদের কোন সম্পর্ক নেয়। কারন চীনের এমন কোন ধর্ম গ্রন্থ নেই যেখানে তার উল্লেখ আছে। হিন্দু, ইসলাম, খৃষ্টান ও ইহুদি ধর্মের মতো তারা মানব সৃষ্টি,পৃথিবী সৃষ্টি ও জগত সৃষ্টি সম্পর্কে যে ধর্ম গ্রন্থ গুলি তাদের ভেতরে প্রচলিত সেগুলিই মেনে চলে।
প্রাচীন চীনাদের বিশ্বাস যে, তারা শুরু থেকেই চীনে ছিলো মানে সেখানকার আদিম অধিবাসী। তারা যে অন্য কোন দেশ বা অঞ্চল থেকে হাজার হাজার বছর আগে সেখানে গিয়ে বসতি স্থাপন করে তার উল্লেখ তাদের কোন ধর্মীয় কিতাব বা ঐশ্বরিক কিতাবে নেই। তাদের ধারনা মুসলিম, খ্রিষ্টান, পারস্য ও ইহুদী জাতির মতো আদম টাইপের একজন তাদের মধ্যেও ছিলো। চীন দেশের ঈশ্বর প্রথম যে মানুষটিকে সৃষ্টি করেছিলেন তার নাম ছিলো "পাং-কু"। তাদের ধারনা পাং-কু এর সৃষ্টি বা উৎপত্তির দশ লক্ষ বছর পরে চীনে দশটি রাজবংশ রাজত্ব করেছিলো। প্রথমে রাজত্ব করেছিলো দেবতাগন, তারপর দ্বিতীয় রাজত্ব করেছিলো তার উপদেবতাগন, আর তৃতীয় রাজত্ব করেছেন নর বা মানুষগন, চতুর্থ রাজত্ব করেন জুচান গন, পঞ্চম রাজত্ব করেন সুইজন বা অগ্ন্যুৎপাদক গনের রাজত্ব ইত্যাদি।



ইতিহাসে পাওয়া যায় চীনের প্রথম রাজার নাম ছিলো "ফু-হিয়া" এবং তার রাজত্বকাল ছিলো ( পাশ্চাত্য মতে ) ২৮৩২ - ২৩৩৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ এর মধ্যে। তবে মত ভেদে কোন ভিন্নতা না পাওয়া যাওয়ায় এটাই এখনও চীনের সৃষ্টি প্রকরনের প্রাচীন বিবরন।
দক্ষিন আফ্রিকার লেখক " উইলবার স্মিথ" এর লেখা মিশরীয় অনবদ্য কাহিনী "রিভার গড" যা আজ থেকে ৩৫০০ বছর আগে মিশরীয় এক ক্রিতদাশের লিখে যাওয়া ব্যক্তিগত ডায়েরী টাইপের কিছু প্যাপিরাস এর খন্ড থেকে উদ্ধারিত। এই রিভার গডেও তিনি চাইনিজ এক হিক্স জাতির কথা উল্লেখ করেছেন যা ওই ক্রিতদাশের লেখা ছিল। সেখানেও চৈনিকদের অসাধারণ কিছু জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায় যা তখনকার মিশরীয়দের জন্য ছিলো আশীর্বাদ। পাশাপাশি ইসলামের কোথাও লেখা আছে "জ্ঞান আহরনের জন্য সদুর চীন দেশে যাও" এমন কথা। তার মানে বোঝা যায় যে ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাদের সাথে অনেক অনেক বছর আগে থেকেই এই জাতির সাথে পরিচয় ছিলো।
সুত্রঃ মানব মনের আজাদি, রিভার গড, দা রিলিজিয়ন, সেনজিং ব্লগ পোষ্ট, উইকিপিডিয়া ইত্যাদি।

-------- মৃত কালপুরুষ
          ২৩/০৮/২০১৭

ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞানমতে সৃষ্টিতত্ত্ব ও মানুষের চিন্তার বন্ধ দরজা।



মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টির ৪ টি প্রধান মত হচ্ছে আদিমমত, ধর্মমত, দার্শনিকমত আর বৈজ্ঞানিকমত। এদানিং যেকোন একটি ধর্মের উদাহরণ দিয়ে লেখতে গেলে অনেকেরই আঘাত লাগছে। এদের মধ্যে অনেকেই মন্তব্য করার যায়গায় না লিখে আমাকে ইনবকক্স করছেন এবং প্রশ্নের তালিকা পাঠাচ্ছেন। যায় হোক আমি বরাবরই সবাইকে বলি যাদের অনুভূতি একটু নরম টাইপের যারা সামান্য লেখা দেখেই আঘাত পেয়ে থাকেন তাদের বলবো দূরে থাকতে। কয়েকদিন আগে কিছু পোলাপাইন এর ধর্মীয় বিশ্বাস এর শিক্ষা দেখে এই লেখাটি লেখার কথা ভাবলাম। আমি বিভিন্ন দার্শনিক ও ইতিহাসবীদদের লেখা পড়ে কিছু তথ্য পেয়েছি আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীটা সৃষ্টি সম্পর্কিত। আর সেই তথ্য গুলি ব্যবহার করেই এই লেখাটা লেখার চেষ্টা করেছি। যা একটু ভেঙ্গে বলতে গেলে আমাকে কয়েকটি ধর্মের গল্প বলতেই হচ্ছে। মুলত বিজ্ঞান আমাদের পৃথিবী সৃষ্টির কি কি কারনের কথা বলেছেন আর প্রচলিত ধর্ম গুলি আমাদের এ বিষয়ে কি শিক্ষা দিচ্ছে তার কয়েকটি উদাহরণই এই লেখার মুল বিষয়। লেখার উদ্দেশ্য ও উৎসর্গ করছি আবার সেই জ্ঞানি ও শিক্ষিত যুবক সমাজকেই যারা একটি বিশ্বাস এর পা ধরে কান্নাকাটি করছে। আমার লেখার পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি থাকতে পারে আমি অবশ্যয় সকলের কাছেই তার মতামত আশা করি।
খৃস্টান বা ইহুদি ধর্ম মতে।
প্রথমেই খ্রিস্টান ধর্মের কথা বলা যাক। কারন কিছুদিন আগে ইসলাম ধর্মের একবিষয়ে বাইবেলের থেকে নেওয়া কিছু কথা এক ছোট ভাইকে জানালে তার প্রথম যুক্তি সে দেয় এভাবে, ভাই কি বাইবেল নিয়ে পিএইচডি করেছেন নাকি। তাকে আমি বলি কোন ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ক্রিটিকালি এনালাইসিস করতে গেলে পিএইচডি করা লাগে না। এই ধর্মটির প্রধান ঐশ্বরিক কিতাব ছোট ছোট অনেক গুলি মিলে তৈরি এবং যার নাম হচ্ছে পবিত্র বাইবেল। এই বাইবেলের আবার দুইটি পার্ট আছে একটি কে বলা হয় আদী বাইবেল এরেকটিকে বলা হয় শুধু বাইবেল। এরমধ্যে আবার বাইবেলের দুইটি অংশ আছে প্রথম অংশ এবং শেষ অংশ। এই প্রথম অংশ যারা মেনে থাকে তাদেরকে আমরা ইহুদী বলে থাকি। আর দ্বিতীয় অংশ যারা মেনে থাকে তাদেরকে আমরা খ্রিস্টান বলে থাকি। তবে বাইবেলের প্রথম অংশে যে আদীপুস্তক এর জেনেসিস বলে একটি অধ্যায় আছে তাকে ইহুদী আর খ্রিষ্টান দুই সম্প্রদায়ের মানুষই মেনে থাকে। আর এই আদী পুস্তক জেনেসিস এ যেভাবে পৃথিবী সৃষ্টির কথা উল্লেখ আছে তা সংক্ষেপে জানালাম।
আদীপুস্তক ১:১ "আদীতে ঈশ্বর সবার আগে আকাশ মন্ডল ও পৃথিবী তৈরি করিলেন। যেহেতু পৃথিবী থেকে আকাশ সবার আগে দেখা যায় তাই মনে হয় আগেকার মানুষ এমনটি ভেবেছেন। অনেকের মতে আকাশ পানির তৈরি। কারন পানির কোন রং নেই আর সুর্য রশ্মির সাতটি রঙ এর মধ্যে একটি নীল রং আছে বায়ুমণ্ডল এ আটকা পড়ায় তা নীল রঙ হয়ে দেখা যায়। আর সেই নীল যখন সুমদ্রের পানিতে পড়ে প্রতিফলিত হয় তখন মনে হয় পানির রঙ নীল। আর তাই আদী মানবরা ধারনা করেছিলেন যে আকাশ পানির তৈরি। এর পর আদীপুস্তক জেনেসিস ১:২ - "পৃথিবী ঘোর ও শুন্য ছিলো এবং অন্ধকার জলধির উপর ছিলো। এখন এখানে কথা আছে। আগের ১:১ তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু আকাশ আর পৃথিবী তৈরির কথায় বলা আছে। যে জলধির উপরে পৃথিবী রাখা আছে সেটা তৈরির কথা কোথাও বলা নেই। তবে অনেকেই ধারনা করে থাকেন মাটির নিচ থেকে আমরা যে পানি পেয়ে থাকি সেই ধারনা থেকেই তারা এমনটি লিখেছিলেন মনে হয়। ১:৩-৫ এখানে ঈশ্বর বলেছেন "দীপ্ত হোক" আর তাই দ্বীপ্ত হয়ে গেলো এবং ঈশ্বর দীপ্ত উত্তম দেখিলেন আর পৃথক করিয়া দিলেন, আলোকে দিবস আর অন্ধকারকে রাত্রি বানাইলেন। এবং প্রথম সন্ধ্যায় প্রথম দিবস শুরু হইলো। এখানে কিন্তু এখনও সুর্যের সৃষ্টি হয়নি শুধু ঈশ্বরের কথা মতো দিন আর রাত তৈরি হয়ে গেলো। আদী ১:৬-৮ পরে ঈশ্বর কহিলেন জলের মধ্যে বিতান (শুন্য) হোক আর জলকে পৃথক করুক। পরে ঈশ্বর বিতানের নাম আকাশ মন্ডল রাখলেন। আদী ১:৯-১০ পরে ঈশ্বর কহিলেন, আকাশমণ্ডল এর নীচস্থ সমস্ত জল একস্থানে সংগ্রহীত হোক, তাতে সেরকম হলো। আর তার নাম দিলেন সুমদ্র। আর সন্ধ্যা হয়ে যাওয়াতে ২য় দিন হয়ে গেল। আদী ১:১১-১৩ পরে ঈশ্বর কহিলেন, ভুমি, তৃন, বীজোৎপাদক ঔষধি ও সবজী স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী ফলের বৃক্ষ ভুমির উপরে উৎপন্ন হোক। তাই হলো এবং সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার ফলে তৃতীয় দিন হলো। এই খানে কথা আছে, আমি জানি এতো কথা বলতে গেলে লেখা হয়ে যাবে অনেক বড় তখন পড়তে পড়তে আপনার ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন তাই চেষ্টা করছি যতটুকু সংক্ষেপ করা যায়। এখানে ২য় দিন পর্যন্ত ঈশ্বর গাছ-পালা তৈরি করলেন কিন্তু সুর্য ছাড়াই। তাহলে কার্বনডাই - অক্সাইড বাদে গাছ গাছালি জন্ম নিলো কিভাবে। আদিপুস্তক জেনেসিস এর ১:১৪-১৯, ১:২০-২৪, ১:২৫-২৭, এই সমস্ত অধ্যায় দিয়ে ঈশ্বর মুখের কথায় সপ্তম দিন নাগাদ এই সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করলেন এবং তার কাজ বন্ধ করলে। উপরের ছয়দিনে ঈশ্বর সৃষ্টি করলেন একটি চন্দ্র, একটি সুর্য, একটি পৃথিবী, ও ৬ হাজার নক্ষত্র ( ছয় হাজারের বেশি নক্ষত্র খালি চোখে দেখা যায় না) এবং যাবতীয় জীবের এক জোড়া করে জীব মাত্র। বাইবেলের মতে জগত বা আদম সৃষ্টি হয়েছিলো ৪০০৪ খ্রিস্টপূর্ব আজ থেকে ৬০২১ বছর আগে মাত্র।
বৌদ্ধ ধর্ম মতে।



এই জাতীয় যত ধর্ম আছে সেই ধর্মেই আমি দেখলাম কেউ এতো কিছু তৈরির দাবি করে না। তারা সহজ ভাবেই বলেছেন যে, এই পৃথিবী কোন দিন কেউ সৃষ্টি করে নি। পৃথিবীরর সৃষ্টিকর্তা কেউ নেই। এই পৃথিবী যেমন দেখছেন তেমন ছিলো আর তেমনই থাকবে। শুধু কর্মানুসারে প্রানীসমূহ এই জগত সংসারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খুব ভালো কথা আমার এদের মনোভাব পছন্দ হয়েছে।
ইসলাম ধর্ম মতে।
মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মতে, যে কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ কর্তৃক এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে এবং তা একটি নির্দিষ্ট সময়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। এই যে পৃথিবী সৃষ্টি সেই সম্পর্কে পবিত্র কোরআন এ বিক্ষিপ্ত ভাবে অল্পকিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যেমন, সূরা সেজদা ( ১:৪), তিনি আল্লাহ, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলীয় এবং এর ভেতরে যা কিছু আছে তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছে। সূরা সেজদা ( আয়াত ৭) তিনিই মাটি দিয়ে মানুষ তৈরি শুরু করেছেন। সূরা সাফফাত (৬) নক্ষত্র তৈরি, সূরা হামিম ( ৯/১০/১২) আকাশ, পাহাড়, এই সব কিছুই দুই দিনে সৃষ্টির কথা বলা আছে। সূরা কাফ ( ৩৮) এখানেও নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলীয় সব কিছু ৬ দিনে সৃষ্টি করার কথা বলা আছে। মুসলমানদিগের ধর্ম গ্রন্থ মতে সৃষ্টি করা প্রানীদের ৪ টি স্তর আছে। যেমন - ফেরেশতা, জ্বীন, মানুষ ও শয়তান। এদের সকলকেই আল্লাহ সৃষ্টি করেছে এবং তার কিছু সংখিপ্ত বর্ণনাও পাওয়া যায়। লেখার দীর্ঘতার কারনে তা এখানে উল্লেখ করছি না। তবে তার সব সৃষ্টি পদ্ধতি বা ঘটনা একেবারেই খ্রিস্টান ধর্মের মতের সাথে মিলে যায় যেমন শুধু মানুষ সৃষ্টির কথা ঠিক এরকম যে,
মানুষের আদিপুরুষ হচ্ছে আদম। আদমকে সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহ ফেরেশতাদের মতামত চাই কিন্তু ফেরেশতারা কেউ তাকে এ বিষয়ে মত দেয় না। কিন্তু তারপরেও আল্লাহ ইস্রাফিল নামক ফেরেশতা কে পৃথিবী তে পাঠান মাটি আনার জন্য। কিন্তু মাটি এই আদম তৈরি করার কথা শুনে সেটা দিতে নারাজ হয়। মাটি তার মাটি না দেওয়ার কারন হিসাবে বলেন যে, এই আদম আল্লাহর অবাধ্য হবে তাই আমি মাটি দেবো না। এর পরে আরো দুইজন ফেরেশতাকে আল্লাহ মাটি আনতে পাঠান কিন্তু কেউ সাকসেস হয় না। পরে আজ্রাইল নামক ফেরেশতা জোর পুর্বক কিছু মাটি যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য এর সৌদিআরব এর মক্কা নামক শহর থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এবং এই পৃথিবী সৃষ্টির ষষ্ঠ দিনের বিকাল বেলা আল্লাহ মানুষের শরীর তৈরি ও তাতে ফু দিয়ে প্রান দিয়ে দেন। এভাবেই মানুষ এর সৃষ্টি হয় বলে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে থাকেন। পবিত্র কোরআন প্রসিদ্ধ অনুবাদক ডক্টর সেল বিভিন্ন অনুসন্ধান এর পরে বলেছেন, স্বর্গগত অভিব্যক্তিতে মোহাম্মদ ( সাঃ) ইহুদীদিগের মতেরই অনুসরণ করেছেন বলে মনে হয়। এদিকে ইহুদীগন আবার পারসিকদিগের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন। যেমন, জ্বীন সম্মন্ধে তিনি বলেছিলেন "ইহুদীদের মধ্যে শেদিম ( Shedim.) নামক এক দৌত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। জ্বীনগন তাদেরই রুপান্তর। তবে আজ পর্যন্ত কেউ এদের দেখা পায় নাই।
পৃথিবীতে বহুল প্রচলিত ধর্মগুলির মধ্যে হিন্দু ধর্মের অবস্থান আছে। এই ধর্মের পৃথিবী আর জগত সৃষ্টির ঘটনা আবার একটু জটিল ও প্যাঁচওয়ালা। একেবারেই রুপকথা দিয়ে বানানো মতো কিছু যা এখানে আমি উল্ল্যেখ করছি না লেখার দীর্ঘতার কারনে। তা বাদেও এই পৃথিবীতে এ পর্যন্ত ৩০০০ ধর্মের আবির্ভাব ঘটেছে মতান্তরে ৫২০০ ধর্ম আর এই সব ধর্মের বিভিন্ন ধরনের মতামত পাওয়া যায় এই পৃথিবী তৈরিতে। আমি এখানে কিছু দার্শনিক এর নাম বলছি যারা এপর্যন্ত তাদের মতামত জানিয়েছেন।
দার্শনিক মতে।



মানুষের মনে সেই আদিকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে কে কিভাবে এই জগত সৃষ্টি করেছিলো। যুগে যুগে যেমন প্রশ্ন তৈরি হলো তেমনি তার উত্তর পাওয়া গেলো বিভিন্ন ধর্ম মতে ও দার্শনিকদের মতে। বিজ্ঞান বাদে শুধু দার্শনিকদের একটি দল এমন মনোভাব ব্যক্ত করলেন যে, মানুষের চেয়ে বহুগুন শক্তিশালী এক জীব সৃষ্টি করেছেন এসব। এবং তা রক্ষা এবং প্রতিপালনের দায়িত্ব তিনিই পালন করেন। কারো কারো মতে সৃষ্টিকর্তা একজন আবার কারো কারো মতে সৃষ্টিকর্তা অনেকজন। যাই হোক তাদের নাম রাখা হলো, ঈশ্বর, দেবতা, ভগবান, আল্লাহ ইত্যাদি। কিছু দিন পার হতে না হতেই আবার মানুষের সন্ধানী মনে প্রশ্ন তৈরি হলো কিভাবে ? তখনকার সময়ে অনেক দার্শনিককে ধর্মের দোহাই আর ভয় ভীতি দেখিয়ে আটকিয়ে রাখা সম্ভব হইনি তাই তাদেরকে হত্যা করেছেন যারা এই জাতীয় ধর্মের দোহাই দিয়ে লাভবান হতেন এবং সমাজে বেচে থাকতেন। তাদের মধ্যে কিছু দার্শনিক হচ্ছে থেলিস, আনাক্সিমান্দর, পিথাগোরাস, জেনোফেন্স, হিরাক্লিটাস, এন্টিডোক্লোস, আনাক্সিগোরাস, ডেমোক্রিটাস, লিউকিপ্পাস, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, লেবনীজ সহ আরো অনেকে। এদের মধ্যে আবার অনেকেই ছিলেন ধর্মিও মতামতের পক্ষে। কিন্তু তাদের কেউ ঐশ্বরিক দূত বা নবীদের মতো সীকৃত নয়।
বিজ্ঞান বা বিবর্তন মতে।
বিজ্ঞান ও বিবর্তন মতে প্রতিটি বিষয়ের ভাগ এবং উপবিভাগ করা হয়েছে এবং যা এখন পর্যন্ত চলমান আছে যেমন সৌরবিজ্ঞানীদের মতে এখন পর্যন্ত মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষ যা কিছু জানতে পেরেছে তা কিছুই না এটার ৯৯.৯% এখনও মানুষের অজানা আছে। তবে বিজ্ঞানের বা বিবর্তনের তথ্য দিয়ে তৈরি এই সৃষ্টির রহস্য কোন ধর্মীয় কিতাবের মতো একটি বই দিয়েই তার সমাধান করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার জন্য বিজ্ঞানের প্রয়োজন পড়েছে হাজার হাজার গবেষণা গ্রন্থ লেখার এবং তা এখনও অব্যাহত আছে। কিছু ধর্ম বিশ্বাসী সদ্য চোখফোটা বিজ্ঞানের স্টুডেন্টদের দাবী তারা ৯ বছর বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে এই বিশ্বাসে উপনীত হয়েছে যে, ধর্মীয় কিতাব বা তাদের মতে ঐশ্বরিক কিতাবে যা লেখা আছে এই ৯ বছরের বিজ্ঞান শিক্ষা তাদেরকে একই জিনিস শিখিয়েছে। আমি এই লেখার মধ্যমে তাদের চিন্তার দরজা আরেকটু খুলে দিতে চেয়েছি জানিনা কতটুকু পেরেছি। আমি আর এ বিষয়ের আলোচনাই যাচ্ছি না পরবর্তীতে বিবর্তন নিয়ে একটি লেখা লেখবো।

------------- মৃত কালপুরুষ
                  ২২/০৮/২০১৭