সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবদন্তি ক্ষুদিরামের জন্মদিন আজ।


ক্ষুদিরাম বসু ডিসেম্বর ১৮৮৯ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত মেদিনীপুর জেলা শহরের কাছাকাছি কেশপুর থানার অন্তর্গত মোহবনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ত্রৈলকানাথ বসু ছিলেন নাড়াজোল প্রদেশের শহরে আয় এজেন্ট। তার মা লক্ষীপ্রিয় দেবী। তিন কন্যার পর তিনি তার মায়ের চতুর্থ সন্তান। তার দুই পুত্র আগেই মৃত্যুবরণ করেন। অপর পূত্রের মৃত্যুর আশঙ্কায় তিনি তখনকার সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তার পুত্রকে তার বড় বোনের কাছে তিন মুঠি খুদের (শস্যের খুদ) বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। খুদের বিনিময়ে ক্রয়কৃত শিশুটির নাম পরবর্তীকালে ক্ষুদিরাম রাখা হয়। ক্ষুদিরাম বসু পরবর্তিতে তার বড় বোনের কাছেই বড় হন। ক্ষুদিরাম বসু (৩রা ডিসেম্বর ১৮৮৯ ১১ আগস্ট ১৯০৮) ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরুর দিকের সর্বকনিষ্ঠ এক বিপ্লবী। ফাঁসি মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৮ মাস ৮ দিন।

ক্ষুদিরাম বসু তার প্রাপ্তবয়সে পৌঁছানোর অনেক আগেই একজন ডানপিটে, বাউণ্ডুলে, রোমাঞ্চপ্রিয় হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। ১৯০২-০৩ খ্রিস্টাব্দ কালে যখন বিপ্লবী নেতা শ্রী অরবিন্দ এবং সিস্টার-নিবেদিতা মেদিনীপুর ভ্রমণ করে জনসম্মুখে বক্তব্য রাখেন এবং বিপ্লবী দলগুলোর সাথে গোপন পরিকল্পনা করেন, তখন তরুণ ছাত্র ক্ষুদিরাম বিপ্লবে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুদিরাম তার বোন অপরূপার স্বামী অম্রিতার সাথে তমলুক শহর থেকে মেদিনীপুরে চলে আসেন। ক্ষুদিরাম বসু তমলুকের হ্যামিল্টন স্কুল এবং মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষালাভ করেন। মেদিনীপুরে তাঁর বিপ্লবী জীবনের অভিষেক। তিনি বিপ্লবীদের একটি নবগঠিত আখড়ায় যোগ দেন। ১৯০২ সালে জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু এবং রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে মেদিনীপুরে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিল। সেই সংগঠনের নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন হেমচন্দ্র দাসের সহকারী। এটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্রিটিশবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত হতো। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষুদিরাম তার গুণাবলীর জন্য সবার চোখে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। ক্ষুদিরাম সত্যেন্দ্রনাথের সাহায্যে বিপ্লবী দলভুক্ত হয়ে এখানে আশ্রয় পান। ক্ষুদিরাম তাঁরই নির্দেশে "সোনার বাংলা" শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করে গ্রেপ্তার হন। ১৯০৬ সালে কাঁসাই নদীর বন্যার সময়ে রণপার সাহায্যে ত্রাণকাজ চালান।

ক্ষুদিরাম বসু তার শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বোস এর নিকট হতে এবং শ্রীমদভগবদগীতা পড়ে ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি বিপ্লবী রাজনৈতিক দল যুগান্তরে যোগ দেন। ১৬ বছর বয়সে ক্ষুদিরাম পুলিশ স্টেশনের কাছে বোমা পুঁতে রাখেন এবং ইংরেজ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেন। একের পর এক বোমা হামলার দায়ে ৩ বছর পর তাকে আটক করা হয়। ৩০ এপ্রিল ১৯০৮-এ মুজাফফরপুর, বিহারে রাত সাড়ে আটটায় ইওরোপিয়ান ক্লাবের সামনে বোমা ছুড়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ক্ষুদিরামের বিচার শুরু হয় ২১ মে ১৯০৮ তারিখে যা আলিপুর বোমা মামলা নামে পরিচিত হয়। বিচারক ছিলেন জনৈক বৃটিশ মি. কর্নডফ এবং দুইজন ভারতীয়, লাথুনিপ্রসাদ ও জানকিপ্রসাদ। রায় শোনার পরে ক্ষুদিরামের মুখে হাসি দেখা যায়। তার বয়স খুব কম ছিল। বিচারক কর্নডফ তাকে প্রশ্ন করেন, তাকে যে ফাসিতে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে কিনা?  ক্ষুদিরাম আবার মুচকে হাসলে বিচারক আবার প্রশ্নটি করেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ভোর ছয় টায়। ফাসির মঞ্চ ওঠার সময়ে তিনি হাসিখুশি ছিলেন। ক্ষুদিরামকে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম কবিতা লিখেছিলেন এবং অনেক গানও তখন রচিত হয়েছিল। যেমন, একবার বিদায় দে মা। তার মৃত্যুর পর বৃটিশদের খুন করার জন্য তরুণরা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।

ক্ষুদিরাম বসু সম্পর্কে হেমচন্দ্র কানুনগো লিখেছেন যে ক্ষুদিরামের সহজ প্রবৃত্তি ছিলো প্রাণনাশের সম্ভাবনাকে তুচ্ছ করে দুঃসাধ্য কাজ করবার।তাঁর স্বভাবে নেশার মতো অত্যন্ত প্রবল ছিলো সৎসাহস। আর তাঁর ছিলো অন্যায় অত্যাচারের তীব্র অনুভূতি। সেই অনুভূতির পরিণতি বক্তৃতায় ছিলো না বৃথা আস্ফালনেও ছিলো না; অসহ্য দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, এমনকি মৃত্যুকে বরণ করে, প্রতিকার অসম্ভব জেনেও শুধু সেই অনুভূতির জ্বালা নিবারণের জন্য, নিজ হাতে অন্যায়ের প্রতিবিধানের উদ্দেশ্যে প্রতিবিধানের চেষ্টা করবার ঐকান্তিক প্রবৃত্তি ও সৎসাহস ক্ষুদিরাম চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া। ছবিঃ কলুর বলদ।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ০৩/১২/২০১৭

ফেসবুকের কভার ফটো পরিবর্তন করে বলির পাঠা কেন হবেন ?


আমরা সবাই কমবেশি জানি বাংলাদেশ, ভারত সহ সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মুক্তমনাদের প্রানের টানে একটি আয়োজন করা হয়েছে। আজ থেকে আমরা সকল মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী মুক্তমনারা তাদের ফেসবুক প্রফাইল পিকচার ও কভার ফটো একই রেখে ৯ দিনের জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার প্রচার ও প্রসারের কথা বলে একশ্রেনীর মানুষের হাতে নিজেদের প্রান দিয়েছেন, বাংলাদেশের বিজয়ের এই মাসে তাদেরকে স্মরন করে এই ছবি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই আয়োজনে সবাই অংশগ্রহন করছে। এখানে বাংলাভাষী সকল মুক্তমনাদের অংশগ্রহন থাকলেও গুটি কয়েক মুক্তমনার দ্বিমত দেখা যাচ্ছে। আর এই দ্বিমতের কারনেই অনেকেই সেই গুটিকয়েক মুক্তমনাকে একটি আলাদা দলের বা সংগঠনের বলে একেবারেই মুক্তচিন্তা বা মুক্তবুদ্ধির চর্চা থেকে আলাদা করে দিচ্ছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা সম্পর্কে কিছু বলা দরকার।

আমি এখানে বাংলাভাষী সকল মুক্তমনা ও মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসীদের প্রতি আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা রেখে এটুকুই বলতে চাই, আসলে এমনিতেই আমাদের নামে অনেক দুর্নাম আছে। একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেশের সমাজে মুক্তমনাদের কোন চোখে দেখা হয় তা নিশ্চয় সবাই অবগত। এরপরেও যদি আমাদের ভেতর থেকে আমরা নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে তাদের দ্বিমত পোষন করার কারনে “মুক্তমনা” না বলে “বদ্ধমনা” বলে আলাদা করতে থাকি তাহলে সেটাকে কিভাবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা বলা যায় ? হ্যাঁ, আমি মানছি, অনেকেই তাদের ইচ্ছা থাকা শর্তেও নির্দিষ্ট কোন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার কারনে বাংলাভাষী মুক্তমনাদের প্রানের এই মিলন মেলায় অংশগ্রহন করতে পারছে না বা ইচ্ছা থাকা শর্তেও তারা তাদের প্র-পিক আর কভার ফটো পরিবর্তন করছে না এটার কারণ এই জাতীয় সংগঠনের সকলেই একই চিন্তা চেতনায় বাধা হয়ে থাকেএখানেই কিন্তু মূল সমস্যা। অনেকেই মুক্তভাবে চিন্তা না করে তার সংগঠনের বাধাধরা নিয়মের ভেতরে থেকে বদ্ধ একটি চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই আমরা যদি সে সমস্ত মুক্তমনাদের আলাদা করে ফে্লি তাহলে তাদের সাথে আমাদের অন্যায় করা হবে। এর কারণ তারা হয়তো মুক্তভাবে বা বদ্ধভাবে চিন্তা করার আসল সংজ্ঞাটাই এখনও জানে না।

আসলে আমাদের একটি বিষয় সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, তা হচ্ছে মুক্তমনারা কিন্তু সবাইকে দ্বিমত পোষন করতেই বলে। যেমন দেখুন, যেই কভার ফটো পরিবর্তনের কথা নিয়ে এই আলোচনা সেই কভার ফটোতে কিন্তু “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর” কবিতা “মিলিত মৃত্যু” এর প্রথম যে দুই লাইন এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তার ভেতরেই আছে “বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়” এই লাইনটি। তারমানে আমরা সবাইকে দ্বিমত হতেই বলি। আমরা “সংশয়” বলে একটি শব্দের সাথেও সবাই পরিচিত আছি নিশ্চয়। এই সংশয় বিষয়টি হচ্ছে সকল জ্ঞানের উৎস বলা যায়। কারন দেখুন, যুগে যুগে মানুষ যদি সংশয় প্রকাশ না করে সেই একই মতবাদ আর একই চিন্তা মোতাবেক চলতো তাহলে কিন্তু আজকের এই সভ্যতার উন্নয়ন আমরা দেখতাম না। তাই আমাদের সব ক্ষেত্রেই দ্বিমত হতে হবে আর সব কিছুতেই সংশয় প্রকাশ করতে হবে যদি আমরা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী হয়ে থাকি। তবে, এই সংশয় বা দ্বিমত পোষন করার আগে আমাদের জানতে হবে ভালো, মন্দ ও নৈতিকতা বা অনৈতিকতার পার্থক্য।

ভালো এবং খারাপ এর মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের। আর সেই জ্ঞান অর্জনের খোলা পথকেই আমরা মুকচিন্তার চর্চা বলে থাকি। আমরা যদি মুক্তভাবে চিন্তা করতে নাই পারি তাহলে আমাদের জ্ঞানের পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একজন মুক্তমনা তার পার্সে কার ছবি রাখবে আর কার ছবি রাখবে না এটা বলার অধিকার কারো থাকার কথা না এটাই হচ্ছে মুক্তচিন্তাকে উৎসাহ দেওয়া। খেয়াল রাখতে হবে কোথাও আমি মুক্তভাবে আমার মত প্রকাশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছি কিনাআবার একদিকে স্রোত বইছে দেখে সেই দিকেই আমাকে বয়ে চলতে হবে এমনও কিন্তু না। এই জন্যই থাকতে হবে ভুল এবং সঠিক পদ্ধতি চিহ্নিত করার ক্ষমতা। আমি যদি সার্বিক পরিস্থিতি নিরাপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করে দেখি একটি যায়গায় ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সঠিক বিষয়টি এড়িয়ে যাবার কথা বলা হচ্ছে এবং সেটা করার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে তাহলে আমাদের বুঝতে হবে সেখানে কোন উদ্দেশ্য আছে। আমার উদ্দেশ্য যদি মুক্তচিন্তার চর্চাকে প্রাসারিত করাই হবে তাহলে আমি এমন মতবাদের সাথে থাকবো যেখানে আমার চিন্তা থাকবে মুক্ত।

আমার মূল উদ্দ্যেশ্য এটা বলা যে, মুক্তমনাদের ভেতরে নির্দিষ্ট বা গুটি কয়েক মুক্তমনাকে আলাদা করে দলাদলি বা কাঁদা ছোড়াছুড়ি করা ঠিক হবে না। এটা না করে আমরা তাদের এটা বোঝাবার চেষ্টা করি যে আসলে মুক্তচিন্তা কাকে বলে সেটা একটু ভেবে দেখবেন। আপনি যে প্রথাবিরোধী আন্দোলনের সাথে আছেন সেই আন্দোলনের মূলে কি আছে মুক্তচিন্তা কিন্তু আবেগ দ্বারা পরিচালিত কোন বিষয় নয় যে আমি কারো কথা না রাখলে সে মন খারাপ করবে বা অখুশি হবে বলে কথা রাখতে হবে। মুক্তচিন্তা হচ্ছে বিবেক দিয়ে করার জিনিষ যেখানে আবেগের কোন স্থান নেই। তাই আবেগ নয় বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে শিখুন। সবাইকে একত্রে নিয়ে ভাবতে শিখুন। কেউ ভুল ব্যাখ্যা দিলে তাকে সঠিকটা ধরিয়ে দিন। নিশ্চুপ থেকে বা মন রক্ষার্থে না কে হ্যাঁ বলার চেষ্টা পরিহার করুন। ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারী অভিজিৎ রায় হত্যা হবার পরে ব্লগার “ওয়াশিকুর রহমান বাবু” তার ফেসবুক কভারে লিখেছিলো “ওয়ার্ড কেন নট বি কিলড” আর সে কারনেই ৩৪ দিনের মাথায় তাকেও হত্যা করা হয়েছিলো। আজ সেই “ওয়াশিকুর রহমান বাবুর”র স্মরনে না হয় নিজের মন থেকেই একটু শ্রদ্ধা জানান আপনাকে কভার ফটো পরিবর্তন করতে বলছি না। আর যদি করেও থাকেন তাহলে আপনাকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে এটা ভাবার কোন কারন নেই। এটা ভেবে করুন যাতে আর কোন “ওয়াশিকুর রহমান বাবু” বলির পাঠা না হয় এটা ভেবে।

ছবিঃ ইস্টিশন।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ৩০/১১/২০১৭    

   

ফেসবুকের কভার ও প্রফাইল পিকচার পরিবর্তন প্রসঙ্গে।


সম্প্রতি ফেসবুকে একটি প্রচারনা নিশ্চয় সকলের নজরে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে আসুন আমরা আগামী ৩০ নভেম্বর রাত ১১ টা ৫০ মিনিট থেকে আগামী কয়েকদিনের জন্য (সর্বোচ্চ ৯ দিন) মানে ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ফেসবুক প্রফাইলের কভার ও প্রফাইল পিকচার পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট দুইটি ছবি দিয়ে আমাদের একাত্বতা প্রকাশ করবো সেই সাথে এটা করার মাধ্যমে আমরা তাদের স্মরন করবো যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও মুক্তচিন্তার প্রচার ও প্রসারের জন্য রক্ত দিয়েছেন এবং নিজের প্রান দিয়েছেন এক শ্রেনীর মানুষের হাতে। ছবি দুইটিতে খুব সামান্য কিছু বিষয়ের মাধ্যমে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এখন পর্যন্ত আমি কোন মুক্তমনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় বিশ্বাসী কাউকে দেখি নাই তারা এটার দ্বিমত করেছে বা এই কাজটি করা যাবে না এমন কথা বলে যুক্তি দিয়েছে। আমার কাছেও আসলে মনে হয়েছে এইরকম কোন বিষয় যেহেতু আমাদের বাংলাদেশ, ভারত সহ বিশ্বের সমস্ত বাংলাভাষী মুক্তমনাদের মধ্যে এর আগে কখনই করা হয়নি তাই এটার সাথে থেকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।
   
যে কভার ফটো আর প্রফাইল পিকচার এর কথা বলা হচ্ছে সেখানে আমি কোন উগ্রতা বা মেনে নেওয়া যাবে না বা কাউকে অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে এমন কিছুই আমার নজরে আসেনি। কভার ফটোতে শুধু লেখা আছে “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী”র লেখা “মিলিত মৃত্যু”র প্রথম দুইটি লাইন “বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে” এই লাইন দুইটি পড়লে আমার মনে হয় এতো সহজ করে এতো সংক্ষেপে মানুষের চিন্তার বন্ধ দরজায় আঘাত করার কথা উপস্থাপন করা হয়েছে যা অন্য কোথাও আমি খুব কমই দেখেছি। আর তার নিচে লেখা আছে “বিজয়ের মাসে তোমাদের স্মরনে”। তার নিচেই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হত্যার শিকার হওয়া বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও মুক্তচিন্তার চর্চায় যারা নিজেদের প্রান দিয়েছিলেন তাদের ছবি। যেমন প্রথম থেকে (১)হুমায়ুন আজাদ, (২)আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন, (৩) অভিজিৎ রায়, (৪)ওয়াশিকুর রহমান বাবু, (৫)অনন্ত বিজয় দাস, (৬)নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল), (৭)ফয়সাল আরেফিন দীপন, (৮)মাহাবুব রাব্বী তনয়, ও (৯)জুলহাজ মান্নান। বাম পাশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনের ও বিজয়ের একটি প্রতিকৃতি যা লাল রঙের বৃত্তের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এবং ঠিক সেই লাল রঙের বৃত্তের উপরেই আছে বিশ্ব বিখ্যাত ভাস্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত একটি ভাষ্কর্য “দ্যা থিংকার্স” এর প্রতিকৃতি যা মুক্তমনা বা ফ্রিথিংকার্সরা তাদের প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে। এবং বাম পাশে কর্নারে দেখা যাচ্ছে কয়েকফোটা তাজা রক্ত যার অনেক অর্থ দাড় করানো যায়।

আর প্রফাইল পিকচার এর কথা যেটা বলা হচ্ছে শেখানেও বোঝা যাচ্ছে সেই কয়েকফোটা তাজা রক্তকেই মূল বিষয় করা হয়েছে। তবে শুধুই রক্ত যে আছে শেখানে তা নয়। রক্তের নিচে দেখা যাচ্ছে কুয়াশাচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশের মানচিত্র যার ঠিক উপরেই আছে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাত। আর সেই হাতে ধরা আছে একটি কলম আর এই বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে আছে সাদা রঙের কুয়াশা টাইপের কিছু দিয়ে যা মূলত আমাদের এই হাত ও বাংলাদেশের মানচিত্রটি ঠিক মতো দেখতে দিচ্ছে না এমন কিছু বোঝানো হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে এই কুয়াশার মতো কোন একটি শক্তি আমাদের দেশের জ্ঞান বুদ্ধি আর মুক্তভাবে চিন্তা করার পথকে বাধাগ্রস্থ করছে। যাই হোক, সব মিলিয়ে আমার কাছে এই ছোট্ট একটি ছবির মধ্যে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। আর সেই সাথে মনে হয়েছে এখানে এমন কিছুই নেই যা আমাদের সোস্যাল মিডিয়ার বা ফেসবুক প্রফাইলের কভার ফটো আর প্রফাইল পিকচার করে মাত্র ৯ টা দিন আমরা রাখতে পারবো না। আমার মতে এটা অবশ্যয় করা দরকার। বিশেষ করে আমি তাদের অনুরোধ করবো যারা সিনিয়র লেখক আছেন এবং বাংলাভাষী মুক্তমনাদের মধ্যে পরিচিত মুখআমি চাই তারাও এটা করে আমাদের সবাইকে একত্রে থাকার জন্য উৎসাহ দিবেন।

আমার কাছে মনে হয়েছে এতোদিন সবাই যার যার মতো করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে লিখে, কেউ অডিও ভয়েস দিয়ে এবং অনেকেই ভিডিও ব্লগিং এর মাধ্যমে তাদের মনের কথা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে এরকম কোন উদ্যোগ নিতে দেখিনি যাতে করে প্রকাশ পাবে এই মুক্তমনাদের মধ্যেও যে একতা আছে সেই বিষয়টি। বাংলাদেশ ভারত সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই বাংলাভাষী মুক্তমনারা আছেন যারা সমাজের গোড়ামী আর কুসংস্কার এর বিপক্ষে নানা ভাবে কথা বলে থাকেন। তবে অনেকেই আছে যারা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাস করেও নানা কারনে চুপচাপ থাকেন। তাদের জন্য এটা হবে সহমত প্রকাশ করার একটি বড় মাধ্যম। এমনও হতে পারে, এবার যদি এই ৯ দিনের জন্য সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মুক্তমনারা এই বিষয়টিকে পালন করে সবার কাছে পৌছে দিতে পারে তাহলে আগামীতে প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসের প্রথম ৯ দিন এটা নিয়মিত ভাবে পালন করা হবে। তবে সেটা নির্ভর করছে সবাই কি পরিমান সাপোর্ট করে এই বিষয়টি তা দেখার উপরে। আর একটি বিষয় হচ্ছে এটি কিন্তু কোন ব্যানারে করা হচ্ছে না। কোন সংগঠন বা কোন অর্গানাইজেশন এর সাথে জড়িত না। আমার জানামতে এর নেই কোন স্পন্সর। অর্থাৎ এটা সম্পুর্ণ একটি প্রানের আয়োজন বলা চলে যা প্রকৃত স্বার্থহীন একটি কাজ হবে বলে মনে করি।

এবার আসুন যেই কভার ফটো নিয়ে আজকের আলোচনা সেই কভার ফটোতে যে বিষয়গুলা আছে তা একটু সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি। প্রথমেই ফ্রান্সের বিখ্যাত ভাষ্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত শিল্প “দ্যা থিংকার্স” নামের ভাষ্কর্যটি নিয়ে কিছু জানি। এটি একটি ব্রোঞ্জ ভাষ্কর্য যা একটি পাথরের উপরে অবস্থিত। এই ভাষ্কর্যটিতে দেখা যায় একটি পাথরের উপরে শক্ত দেহের একজন নগ্ন পুরুষ তার চিবুকটি ডান হাতের উপরে রেখে খুব গভীরভাবে চিন্তা করছেন। এই ভাষ্কর্যটি অধিকাংশ সময়েই দর্শনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। এটার নাম “দ্যা থিংকার্স” হবার কারনে এটি মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসীদের প্রতিক হিসেবেও সব যায়গায় ব্যাবহার করা হয়। মূল ভাষ্কর্যটি ফ্রান্সের প্যারিসে একটি জাদুঘরে বর্তমানে সংরক্ষিত আছে তবে এই ভাষ্কর্যের ২৮ টি কপি সমস্ত পৃথিবীতে আছে বর্তমানে। যার মধ্যে সব থেকে বড়টির উচ্চতা ১৮৬ সেন্টিমিটার বা ৭৩ ইঞ্চি। এবার আসুন এখানে যাদের ছবি দেওয়া আছে তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি।

এখানে দেখা যাচ্ছে ৯ জন মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী ও মুক্তমনা সমাজে পরিচিত মুখের প্রতিকৃতি বা ছবি। যেমন প্রথমে আছেন “হুমায়ুন আজাদ” জন্ম ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ - মৃত্যু ১১ আগস্ট ২০০৪ যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, গবেষকভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর সাহিত্যিক এবং রাজনীতিক ভাষ্যকার। তিনি বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্মমৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, নিরাবরণ যৌনতানারীবাদ, রাজনৈতিক এবং নির্মম সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য ১৯৮০'র দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং লেখার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণের কারণে ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হত্যা প্রচেষ্টার শিকার হন। তার পরে আছেন ‘আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন” ওরফে থাবা বাবা। আহমেদ রাজীব হায়দার এর  মৃত্যু হয় ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সালে। যিনি  বাংলাদেশের একজন নাস্তিক ব্লগার ছিলেন। পেশায় স্থপতি হায়দারের ব্লগের লেখাগুলি ২০১৩ শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানপন্থীদের দ্বারা সংগঠিত গণহত্যার বিচারের দাবী জানায়। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত পরিচয়ধারী একদল দুর্বৃত্ত হায়দারকে হত্যা করেন। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর অঞ্চলে নিজস্ব বাসস্থান থেকে বের হওয়ার সময় আহমেদ রাজীব হায়দারকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়। তাঁর দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়, যে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়রা তাঁর দেহ শনাক্ত করতে অক্ষম হন। পরের দিন তাঁর মরদেহ শাহবাগ স্কোয়ারে লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর পরের ছবিটা সকলের পরিচিত মুখ “অভিজিৎ রায়” এর। জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ - মৃত্যু ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী-মার্কিন প্রকৌশলী, লেখক ও ব্লগার। তিনি বাংলাদেশের মুক্ত চিন্তার আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে সরকারের সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারক ছিলেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও তার স্ব-প্রতিষ্ঠিত সাইট মুক্তমনায় লেখালেখির জন্য অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা কে আহত করে। ২০১৫ সালে অভিজিৎ একুশে বইমেলা চলাকালীন বাংলাদেশে আসেন  ২৬শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা একটি রিকশায় করে একুশে বইমেলা থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাড়ে আটটা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নিকটে অপরিচিত দুস্কৃতিকারীদের আক্রমনের শিকার হয়ে মৃত্যবরন করেন। এরপরে আছেন “ওয়াশিকুর রহমান বাবু” এই সেই বাবু যে অভিজিৎ রায়ের হত্যার পরে তার ফেসবুকের কভার ফটোতে লেখেন “আই এম অভিজিৎ” ও “ওয়ার্ডস কেন নট বি কিলড” ২৭ বছর বয়সী এই যুবক বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তবে সব চেয়ে এক্টিভ ছিলেন ফেসবুকে। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ ঢাকার তেজগাঁওয়ে নিজের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারনে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ওয়াশিকুর

তারপরের ছবিটি “অনন্ত বিজয় দাস” এর লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায় এবং ব্লগার বাবু হত্যার ১ মাসের মাথায় সিলেটে অনন্ত বিজয় দাস নামে আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যিনি নিজেও মুক্তমনা ব্লগে লিখতেন এবং গণজাগরণ মঞ্চে যুক্ত ছিলেন। তার লেখা বেশ কিছু বই আছে বর্তমানে। তারপরে আছেন “নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল)” এর ছবি যাকে আগস্ট ২০১৫ তে খিলগাঁও এর পূর্ব গোড়ানের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিলয় গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তিনি নিলয় নীলনামে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। তার ফেসবুক প্রফাইলও ছিল ওই একই নামে তার পরের ছবিটি জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক “ফয়সাল আরেফিন দীপন” এর। তাকেও ২০১৫ সালের অক্টোবরে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ভেতরে ফেলে রেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। সে মুক্তমনা লেখকদের বই প্রকাশ করতো।

এবং সর্বশেষে আছেন “মাহাবুব রাব্বী তনয় ও জুলহাস মান্নান”২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একটি 'বিপ্লবী' কাজ করে ফেলেন বাংলাদেশের কিছু তরুন যাদের মধ্যে তারা দুইজন ছিলো অন্যতমতারা এই কুসংস্কারাছন্ন দেশটিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি পত্রিকা প্রকাশ করে বসেন যেটির উদ্দেশ্য সমকামীদের পক্ষে কথা বলা। বাংলা ভাষার এই পত্রিকাটির নাম ছিলো “রূপবান” এর আগে বাংলাদেশের সমকামীরা কখনো এমনভাবে প্রকাশ্য হয়নি নিজেদের অধিকারের কথা তাদেরকে কখনো বলতেও শোনা যায়নি। এই রূপবানের সম্পাদকীয় বোর্ডের একজন সদস্য ছিলেন “জুলহাজ মান্নান” এবং তার বন্ধু “মাহাবুব রাব্বী তনয়”২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে তারা কলাবাগানে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে নিহত

আপাতত এগুলিই ছিলো এই কভার ফটোর সাথে সম্পৃক্ত সকলের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পালা। আমার মনে হয়েছে আমাদের দেশে বর্তমানে আগের থেকেও বেশি এবং হঠাৎ করে মুক্ত চিন্তার অনেক প্রসার ঘটেছে যা আমরা অনেকেই প্রত্যাক্ষ করছি। অনেকেই আজ আওয়াজ তুলছেন যারা এইভাবে মৃত্যুবরণ করেছে তাদের পক্ষে। অনেকেই মনে করছে বিখ্যাত লেখক, লেখিকা সহ আজ যারা এই দেশ ছেড়ে অন্য দেশে অবস্থান করছেন তাদের জন্য কথা বলার সময় এসেছে। আর তাই আর লুকিয়ে লুকিয়ে নয় সবাই চাইছে যে কোন ভাবেই জ্ঞান-বিজ্ঞান আর মুক্তচিন্তার প্রচার আর প্রসার করে নিজেদের মধ্যে এর চর্চার পরিধি বাড়াতে। আর তারই একটু ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মনে হয়েছে এই উদ্দ্যোগকে আমার কাছে। আর যে কারনেই আমি অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এটির পক্ষে কথা বলতে চাই এবং সাথে থাকতে চাই।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৯/১১/২০১৭
    
 



          


শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

মিশরের মসজিদে জঙ্গি হামলা ও সুফীবাদ।


মিশরের একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াইশতাধিক মানুষ৷ মিশরের নর্থ সিনাই প্রদেশের আরিশ শহরের পশ্চিমের আল রাওদাহ মসজিদে গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উপর এ হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ চারটি গাড়িতে চড়ে প্রায় ৪০ জন জঙ্গি এসে প্রথমে বোমা ছোড়ে, পরে চালানো হয় গুলি৷ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এমইএনএ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৩৫ জন৷ আহত হয়েছে অন্তত ১২৫ জন৷ তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে৷ এ ঘটনায় মিশরে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে৷ এসব হামলার সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইএস জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে৷ ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকেই মিশরের পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে৷ ২০১৫ সালে শেখানে এই জঙ্গিরা রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী প্লেনে হামলা চালিয়ে ২২৪ জনকে হত্যা করে। এছাড়াও আইএস এই অঞ্চলে নানান সময় তাদের হামলার মাধ্যমে সাধারন মানুষ হত্যা করে তাদের উপস্থিতির জানান দেয়।


এবার একটু মূল ঘটনা জানার চেষ্টা করি। এখানে অনেকের অনেক প্রকারের কথা থাকতে পারে। বিশেষ করে মডারেট মুসলমান যারা বর্তমান যুগের বিজ্ঞানের সাথে ইসলাম ধর্মের মিল খুজে বিভিন্নভাবে তা ব্যাখ্যা করে থাকে। এধরনের মুসলিম জঙ্গিদের হামলা ও মানুষ হত্যাকে তারা সব সময় বলে আসে যারা এসব করে তারা আসলে প্রকৃত মুসলমান না বা তারা সঠিক ইসলাম জানে না। তারা বিভিন্নভাবে এই ইসলামের কোরানের আয়াত ও হাদীস গুলিকে মানবিক করে ব্যাখ্যা করেও খুব একটা লাভবান হচ্ছে না। কারণ এই সমস্ত হাদীস আর কোরানের আয়াতে খুব স্পষ্ট করেই মানুষ হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা আছে। যারা বলছে যে, এই হামলা যারা করে বা মানুষ হত্যা করে যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তারা আসলে প্রকৃত ইসলাম জানে না বা তারা ভুল ইসলাম জানে বা তারা মুসলমানই না। তাদের আমি বলবো আসলে আপনার জানা বোঝাতে কিছুটা ভুল আছে। কারণ দেখুন বর্তমান যুগের প্রায় প্রতিটি মানুষ জানে, সে প্রকৃত ইসলাম ধর্মের অনুসারি হোক আর ইসলাম ধর্মের বাইরের কেউ হোক “যদি কেউ ইসলাম খুব ভালো ভাবে জেনে বুঝে পড়ে ও মানে, তাহলে হয় সে জঙ্গি হবে নয়তো সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে আসবে। তার মানে এটা দাড়াচ্ছে যারা বলছে এসব হামলা আর হত্যা যারা করে তারা প্রকৃত মুসলিম না তারা আসলে এর মাঝামাঝি আছে, অর্থাৎ তারা ভালো করে ইসলাম সম্পর্কে জানেই না।


এবার আসুন গতকাল মিশরে যে হামলা করে এই ২৩৫ জন মানুষকে হত্যা করা হলো তার কারণ জানার চেষ্টা করি। মিশরের উত্তর প্রদেশের সিনাই এর আরিশ শহরের আল-রাওদাহ নামের যে মসজিদটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে শেখানে আসলে মুসলিম সুফীবাদীরা নামাজ পড়তে আসতো। সেই মসজিদটি ছিলো মূলত সুফীবাদীদের মসজিদ। আর যদিও এই হামলা কারা করেছে তা এখনও কোন জঙ্গি সংগঠন শিকার করেনি তারপরেও মিশরের ইন্টিলিজেন্স জানিয়েছে এই হামলা মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ছাড়া আর কেউ করেনি। কারন শেখানে তারা ছাড়া আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেই যারা এধরনের নজিরবিহীন হামলা করে একসাথে এতো মানুষ মারবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই সুফীবাদীদের সাথে সকল প্রকার ইসলামী জিহাদি গোষ্ঠির দ্বন্দ। কারন সুফীরা ঠিক মুসলমান হলেও ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই তারা মানে না এবং জিহাদও সমর্থন করে না। তাই এই হামলার কারন জানতে হলে আগে কিছুটা সুফীদের সম্পর্কে জানতে হবে।


আসলে সূফিবাদকে অনেকেই একটি দর্শন বলে থাকে। ইসলামী বইগুলোতে বলা হয়, হযরত মুহাম্মদ ছিলেন সর্বপ্রথম সূফী। কিন্তু এটা আসলে সুফীরা কখনই মানে না। তার জীবনে ও আচরণে সূফী ভাবের প্রাধান্যই ছিলোনা। তাই তাঁকেই সূফীদের আদিগুরু হিসাবে চিহ্নিত করার প্রবণতা খুব একটা লক্ষ্য করা যায়না। যে ব্যক্তির সারা জীবন একের পর এক যুদ্ধাভিযানে অংশ নিয়েছেন ও বহু বিবাহ করে পার করেছেন, এমনকি যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর মুহূর্তেও এমন একজন বালিকার বিছানায় ছিলেন, যে তার থেকে বয়সে ৪৫ বছরের ছোট, তাকে সংসারত্যাগী, নির্লোভ, পবিত্রাত্মা সূফীর আখ্যা দেওয়া নিতান্তই হাস্যকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয় বলে সুফীবাদীরা মনে করেন। তাছাড়া হজরত মোহাম্মদ সূফীদের আদি গুরু হলে ইসলাম আর সূফীবাদ সমার্থক রূপে গণ্য হত যা হয়নি। তাই এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন কেন এই মুসলিম জিহাদিদের সাথে এই মুসলিম সুফীবাদীদের দ্বন্দ। 


সুফীরা যেহেতু মুসলমান আর তারাও ইসলাম ধর্ম পালন করে তাহলে তাদের উৎপত্তি কিভাবে হলো? তাহলে প্রশ্ন ওঠে, প্রথম সূফী কে বা কারা? আসলেই এই সুফীদের উপরে কেন একই ধর্মের অনুসারিরা হামলা করবে, তাও আবার মসজিদে ঢুকে, আসলেই একটি চিন্তার বিষয়। এই জন্য আমাদের একটু ইতিহাস জানতে হবে। আসলে মুহাম্মদের মদিনা জয়ের পরবর্তী সময়ে মদিনায় একদল মানুষকে মদিনার মসজিদ ই লবভি-র বারান্দায় দেখা যেত, যাঁরা আধ্যাত্মিকতাকে নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করতে চাইতেন, চাইতেন আরবী সমাজ জীবনে আধ্যাত্মিকতার প্রসার। এঁরা মসজিদের বারান্দা ছেড়ে তেমন যেতেন না এবং প্রয়োজন ছাড়া অন্যের সাথে তেমন একটা কথাও বলতেন না। সম্ভবত এঁরাই ইতিহাসের প্রথম সূফী দল। তারপর এঁদের হাত ধরেই প্রচারিত হতে থাকে ইসলামী আধ্যাত্মিকতা। তবে তখনো একটি বিশেষ মতবাদ হিসাবে সূফীবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মোহম্মদের মৃত্যুর অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে হাসান বসরী নামে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় প্রথম ইসলামী পঞ্চস্তম্ভকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে। এবং তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকেই তাঁকে ও তাঁর অনুগামীদের লক্ষ্য করে সূফী শব্দটি ব্যবহৃত হতে থাকে মানুষদের মধ্যে। এরপর একের পর এক মহান সূফীর আবির্ভাব ঘটতে থাকে। সুফীবাদের যতই প্রচার ও প্রসার হয়, ততই তার সঙ্গে মিশে যেতে থাকে নতুন নতুন জায়গার সংস্কৃতি। ফলে এদের মধ্যেও বিভিন্ন উপসম্প্রদায় তৈরি হয়। তবে প্রথম যারা এই সুফীবাদের চর্চা করতো তারা খুব বেশিদিন ছিলোনা।


ইসলামের নবী মুহাম্মদ এর মৃতুর পরে তিনশো বছর এই প্রথম ধাপের সুফীরা ইসলামের কোন কিছুই মানেনি যেমন ইসলামের পাচটি মূল ভিত্তি তাদের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলো না। এখনও নেই তবে এই প্রথম ধাপের মধ্যে বর্তমান সুফীদের পার্থক্য হচ্ছে, আনুমানিক ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সুফীরা রেগুলার মুসলিম মানে (নবী মুহাম্মদের ইসলাম) যারা ফলো করতো তাদের সাথে মিলে মিশেই বিভিন্ন যুদ্ধ করেছিলো। পরবর্তিতে যখন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভারতের কিছু কিছু এলাকা নিয়ে সুলেমানি সাম্রাজের সৃষ্টি হলো ১১৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তখন তার এই জিহাদ ও যুদ্ধ ত্যাগ করলো। মিশরে যাদের উপরে গতকাল হামলা করা হয়েছে তারও ছিলো সেই সম্প্রদায়ের সুফী। যারা নবী মুহাম্মদকে মানতো না, একজন আল্লাহকে ভয় করতো না বরং তারা বহু আল্লাহতে বিশ্বাস করতো। তারা জিহাদ সমর্থন করতো না, তারা নবী মুহাম্মদের ইসলামে যে গান বাজনা করার রেওয়াজ নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো সেটাও মানতো না বরং তারা গান বাজনা করেই আল্লাহকে ডাকতো। তারা এটাও বিশ্বাস করতো আল্লাহকে ভয় পাবার কিছুই নেই তাকে ভালোবাসতে হবে। কারণ তারা জান্নাত আর জাহান্নামেও বিশ্বাস করে না।


এধরনের নানা কারনে আসলে ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়েও তারা সেই ইসলাম ধর্মের জিহাদি আর জঙ্গি গোষ্ঠির হামলার শিকার হয়। তারা মুহাম্মদের ইসলাম অনুসরন করে না বা তার আল্লাহকে সর্বশক্তিমান মনে করে না। তাই তাদের ভেতরে এই জিহাদ আর মানুষ হত্যা প্রবনতা নেই। বর্তমানে শেখানে অর্থাৎ মিশরীয় সুফীদের মধ্যে বিবর্তনবাদের চর্চা ঢুকে পড়াতে তারা আরো বেশি করে এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে মুহাম্মদ অনুসারি ধর্মান্ধদের বিপক্ষে কথা বলছিলো যার কারনেই এই হামলা হয়েছে। এই বিষয়ে আরো ভালো করে জানতে চাইলে আপনাকে আগে সুফীবাদ ও মুহাম্মদের প্রচারিত ইসলাম সম্পর্কে বিস্তর জানতে হবে। আমি লেখা সংক্ষিপ্ত করার কারনে সুফীবাদ সম্পর্কে আর বেশি কিছু বললাম না এখানে। তবে আমি আবারও বলবো যারা বলে থাকে, এই জাতীয় হামলা যারা করে তারা ভালো করে জাকির নায়েকের লেকচার শোনে নাই বা আসল ইসলাম পালন করে না বা তারা হয়তো ভুল লোকের হাতে পড়ে ইসলাম শিখেছে, এই জাতীয় কথা যারা বলছে তারাই আসলে ইসলাম সম্পর্কে ভালো করে জানে না। কারন যদি কোরান পড়ে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আপনি জিহাদ সমর্থন না করেন তাহলে আপনি নবী রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) এর দেখানো ইসলাম ফলো করছেন না।


---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৫/১১/২০১৭      


বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

শিশুরা প্রকৃতিগতভাবে মুসলমান তাই ইসলাম একটি প্রাকৃতিক ধর্ম তা প্রমানিত।


যখন বিশ্বাসী মানুষের আর যুক্তি দিয়ে কথা বলার যায়গা থাকে তখন আমরা জানি সে অযুক্তি/কুযুক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে থাকে। আর যাদের জ্ঞানের লেভেল তার প্র্তিপক্ষের সাথে মিলে না তখন সে বিভিন্ন ধরনের গালাগালি করে। আর যারা গালাগালি করে তাদের ১০০% হয়ে থাকে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারি মুমিন বান্দা। কিন্তু একজন যুক্তিবাদী বা মুক্তচিন্তার চর্চাকারীকে কখনও দেখবেন না গালাগাল করছে। আমার চোখে পড়েনি। আর যাদের কথা বলছিলাম যারা আর যুক্তি দিতে না পারে তারা একসময় নানা ভাবে আগা মাথাহীন কথা বলে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং পরিশেষে বলে আপনি সবই মিথ্যা কথা বলেছেন। কিন্তু যখন প্রমান চেয়ে বলা হয় কোথাই মিথ্যা বলা হয়েছে আপনি আমাকে একটু দেখিয়ে দিন, তখন সে নানা অযুহাত তৈরি করে সেই মিথ্যাগুলি ধরিয়ে না দিয়ে এড়িয়ে যায়। এখন কেউ যদি বলে আপনি মিথ্যা কথা বলেছেন আর তখন যে মিথ্যা কথা বলেছে সে যদি জিজ্ঞাসা করে কোথাই মিথ্যা বলেছি সেটা আমাকে একটু ধরিয়ে দিন তখন প্রতিপক্ষের কি করা উচিত ? অবশ্যয় যেখানে মিথ্যা বলা হয়েছে সেটা ধরিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু সেটা না করে যারা বলে এসব চালাকি ছাড়ুন তাদের কি বলবেন ?

আচ্ছা যাক সেই কথা বাদ রাখলাম, এখানে একটি প্রশ্ন তৈরি হবার কারনে এই আলোচনাটা। প্রশ্নটা হচ্ছে একজন দাবি করেছে “শিশুরা নাকি প্রকৃতিগতভাবে মুসলমান, যাতে প্রমান হয় ইসলাম একটি প্রাকৃতিক ধর্ম”। এই কথার মানে কি ? আমি এর জবাব কিভাবে দেবো ? তার মানে তিনি বলতে চাচ্ছেন খ্রিস্টান, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্যাথলিক, জৈন সহ যত প্রকারের অর্থাৎ এপর্যন্ত সন্ধান পাওয়া ৫২০০ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ৪০০০ টা ধর্মের অনুসারি যত পরিবার এই পৃথিবীতে আছে এবং সেসব পরিবারে যত সন্তান জন্ম নেয় তারা সবাই মুসলমান থাকে। যাদের পরবর্তীতে মুসলমান থেকে ট্রান্সফার করে এই সব ধর্মের অনুসারি করা হয় বা ইসলামের ভাষায় কাফের, মুরতাদ, মুনাফেক, মুশরিক এগুলো বানানো হয় এবং যাদের সেই ইসলাম ধর্মেই হত্যা করা মানে বেহেশতের টিকিট কনফার্ম করা বলা হয়ে থাকে। আর একটা কথা এখানে কিভাবে প্রমানিত হচ্ছে ইসলাম একটি প্রকৃতিক ধর্ম ?

ইসলাম ধর্মের বয়স হচ্ছে মাত্র ১৪৫০ বছর সর্বোচ্চো আর এপর্যন্ত পৃথিবীতে সন্ধান পাওয়া মানুষের ফসিল বা অন্যান্য চিহ্ন আমরা পায়, প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার বছর আগের। বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব মতে যেমন, বাইবেল এর ওল্ড টেস্টামেনের প্রথম অধ্যায় জেনেসিস মতে পৃথিবীর প্রথম মানব মানে রেডিমেট আইটেম “এডাম” এর এই পৃথিবীতে পদার্পন ৪০০৪ খ্রস্টপুর্বাব্দে বা মতান্তরে ৪০২৬ খ্রিস্টপুর্বাব্দে ২২ বছরের পার্থক্য আছে। যার মানে হচ্ছে বর্তমানের ২০১৭ সালের হিসাবে দাড়াচ্ছে ২০১৭+৪০০৪=৬০২১ বছর মাত্র। আর ইসলাম ধর্ম এমন একটি ধর্ম যার কোন কথায় কোথাও পরিষ্কার আর সহজ করে কিছুই মানে একেবারেই কিছুই বলা হয়নাই। সব কিছুই ঘোলাটে করে রাখা হয়েছে সেই ধর্মের অনুসারীদের কাছে। এপর্যন্ত তাদের ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরীফ যাকে তারা এক ও অদ্বিতীয় বলে থাকে তার সর্বোমোট ৫ টি ভার্সনের সন্ধান আমরা পায় যার আয়াতের সংখ্যা ৬ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার ৬০০ টি পর্যন্ত আছে। প্রমান দেখুন এখানে এই সব আয়াতের কোনটাতে পরিপুর্ন তথ্য দেওয়া নাই। একটা বলতে গেলে আরেকটা মানে তার আগেরটা আর পরেরটা কি বলছে সেটাও নাকি দেখতে হবে এমন দাবী তাদের। বিশ্লেষকদের দাবী বাইবেল এবং কোরানের মধ্যে অনেক মিল আছে সেটা কত % তা আমার জানা নেই। আর সেই কারনে অনেকেই বলে থাকে এটা বাইবেল থেকে কপি করা। আর বাইবেলে যে এডাম আর ইভ এই পৃথিবীর প্রথম মানব মানবী ঠিক তেমনি কোরানের আদম আর হাওয়া এই পৃথিবীর প্রথম মানব আর মানবী কিন্তু তাদের আগমনের সঠিক তথ্য এই কোরানে নাই। তবে সার্বিক বিশ্লেষনে সেটাও ৬ থেকে ৭ হাজার বছরের বেশি না। তাহলে এখন আবার আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে এর আগে যেসব মানুষ এই পৃথিবীতে জন্ম নিতো তারা কারা ছিলো ? নাকি তখন কোন প্রকৃতি ছিলো না ?

আরো অনেক প্রশ্ন আছে যেমন ধরুন ইসলাম ধর্ম মতে প্রতিটি মানুষের কাধে দুজন করে ফেরশতা থাকে বলে প্রচলিত আছে। এবং তারা নাকি সেই মানুষটির সারা জীবনের পাপ পূর্ণের হিসাব নিকাশ করে। এখন কথা হচ্ছে একটি শিশুর জন্মের কত বছর পর থেকে তার পাপ পুর্ণের হিসাব রাখা হচ্ছে ? আর যারা খ্রিস্টান, ইহুদী বা হিন্দু ধর্মের পরিবার গুলিতে জন্ম নিচ্ছে তাদের জন্য কি ব্যাবস্থা থাকছে ? যদি তারা প্রাকৃতিক ভাবেই ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়ে থাকে তাহলে কেন তাদের কাধে এই ফেরেশতারা থাকবে না ? আর জন্মের পরে একটি শিশু যদি জানতেই না পারে সে আসলে ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়ে মুসলমান পরিবার বাদে অন্য কোন ধর্মের কোন একটি পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছে তাহলে এখানে তার কাফের, মুরতাদ, মুনাফেক আর মুশরিক হবার সাথে সম্পর্ক কি ?

এবার একটু ইসলামে নারী সম্মানের কথা দিয়ে শেষ করি। যে ব্যাক্তি দাবি করেছিলো শিশুরা মুসলামান তার আরেকটি দাবী ইসলাম ধর্মে প্রধান নবী “মুহাম্মদ (সাঃ) আসার পরে নারীদের এতো সন্মান দিয়েছেন যে, কোন পরিবারে কন্যা সন্তান না থাকাটায় ছিলো লজ্জা জনক” তাহলে ইসলামে নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান নামের এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন আগে। --এটা লিংক --  আর তার এমন দাবী করার কারন তার ধারনা ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার আগে নাকি নারীদের মূল্যায়ন করা হত না কন্যা সন্তানদের হত্যা করা হতো। তাহলে ইসলাম এর পুর্বে আরবের প্যাগান ধর্মাবল্মীদের মধ্যে প্রধান তিনটি দেবতাই ছিলো নারী যাদের নাম হচ্ছে লাত, উজ্জা আর মানাত এরা ছিলো প্যাগানদের প্রধান দেবতা হুবালের তিন কন্যা এবং সব চেয়ে শক্তিশালি তিনজন আরবের দেবতা। তাদের যদি আরবের বাসিন্দারা দেবতার আসনে বসিয়ে পূজা করতে পারতো এমনকি নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ নিজে তাদের পূজা করতো তাহলে তারা কিভাবে সেই নারীদের অসম্মান করতো ? আর ইসলাম শুরু হবার আরো ২৫০০ বছর আগে মানে আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে খ্রিস্টপুর্বাব্দ ২০০০ সালের দিকে প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় যার ব্যাবিলনের শুন্যদ্যান আমাদের সকলের পরিচিত ছিলো সেই যায়গায় নারী শাসক কিভাবে রাজ্য শাসন করেছিলো যার নাম ছিলো “রানী সেমিরিস” (সাম্মু রামত) ? আজ থেকে ৩৫০০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি হবার ২ হাজার বছর আগে অর্থাৎ খ্রিস্টপুর্বাদ ১৫০০ সালে প্রাচীন মিশরের ১২ তম ফারাও আমেনহোটেপ এর মৃত্যুর পরে তার প্রধান স্ত্রী “রানী লসট্রিস” কিভাবে মিশর শাসন করেছিলো ? এবং মিশরের শেষ নারী “ক্লিওপেট্রা” কিভাবে তখন তার রাজ্য পরিচালনা করেছিলো যদি নারীদের সন্মান নাই থাকবে ?

লেখা সংক্ষিপ্ত করার কারনে আরো অনেক উদাহরন এখানে তুলছি না। তবে যেটুকু না বললে নারীদের ছোট করা হবে সেটা হচ্ছে আমাদের মনে রাখতে হবে আজ থেকে ২০ হাজার বছর আগের বরফ যুগের শেষে রেনেসা যুগে যখন আমাদের এই পৃথিবীর বর্তমান সাহারা মরুভূমির যায়গাটি থেকে হোমোস্যাপিয়েন্স এর দল আস্তে আস্তে শিকার থেকে বেরিয়ে কৃষি নির্ভর হবার জন্য উর্বর জমির সন্ধানে শেখান থেকে সরে আসতে থাকলো তখন কিন্তু তার নেত্রিত্বে ছিলো এই নারী। রেনেসা যুগে নারীদের হাত থেকে পুরুষরা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। কৃষি নির্ভর যুগে একমাত্র নারীই ছিলো সকল ক্ষমতার প্রধান। পুরুষরা ছিলো নারীদের তত্বাবধানে। যুগে যুগে যত ধর্ম তৈরি হয়েছে তার সব গুলিতেই নারীদের অবস্থান প্রায় দেবতার আসনে ছিলো বিশেষ করে মিশরীয় সভ্যতায়। শুধু মাত্র ইসলাম ধর্মে নারীদের করা হয়েছে একটি পন্যের সাথে তুলনা। তাদের দাসী বানানো, তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার মুল্যায়ন না করা থেকে শুরু করে তাদেরকে ইসলামিক দৃষ্টিতে একটি খারাপ চরিত্র “শয়তান” নামেও ডাকা হয়েছে। তাই এটা কোন ভাবেই সঠিক কথা হতে পারে না যে, ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান বা মর্যাদা আর ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) নারীর ক্ষমাতায়নে বিশ্বাস করতো।

          
---------- মৃত কালপুরুষ
               ২২/১১/২০১৭