সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ফেসবুকের কভার ও প্রফাইল পিকচার পরিবর্তন প্রসঙ্গে।


সম্প্রতি ফেসবুকে একটি প্রচারনা নিশ্চয় সকলের নজরে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে আসুন আমরা আগামী ৩০ নভেম্বর রাত ১১ টা ৫০ মিনিট থেকে আগামী কয়েকদিনের জন্য (সর্বোচ্চ ৯ দিন) মানে ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ফেসবুক প্রফাইলের কভার ও প্রফাইল পিকচার পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট দুইটি ছবি দিয়ে আমাদের একাত্বতা প্রকাশ করবো সেই সাথে এটা করার মাধ্যমে আমরা তাদের স্মরন করবো যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও মুক্তচিন্তার প্রচার ও প্রসারের জন্য রক্ত দিয়েছেন এবং নিজের প্রান দিয়েছেন এক শ্রেনীর মানুষের হাতে। ছবি দুইটিতে খুব সামান্য কিছু বিষয়ের মাধ্যমে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এখন পর্যন্ত আমি কোন মুক্তমনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় বিশ্বাসী কাউকে দেখি নাই তারা এটার দ্বিমত করেছে বা এই কাজটি করা যাবে না এমন কথা বলে যুক্তি দিয়েছে। আমার কাছেও আসলে মনে হয়েছে এইরকম কোন বিষয় যেহেতু আমাদের বাংলাদেশ, ভারত সহ বিশ্বের সমস্ত বাংলাভাষী মুক্তমনাদের মধ্যে এর আগে কখনই করা হয়নি তাই এটার সাথে থেকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।
   
যে কভার ফটো আর প্রফাইল পিকচার এর কথা বলা হচ্ছে সেখানে আমি কোন উগ্রতা বা মেনে নেওয়া যাবে না বা কাউকে অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে এমন কিছুই আমার নজরে আসেনি। কভার ফটোতে শুধু লেখা আছে “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী”র লেখা “মিলিত মৃত্যু”র প্রথম দুইটি লাইন “বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে” এই লাইন দুইটি পড়লে আমার মনে হয় এতো সহজ করে এতো সংক্ষেপে মানুষের চিন্তার বন্ধ দরজায় আঘাত করার কথা উপস্থাপন করা হয়েছে যা অন্য কোথাও আমি খুব কমই দেখেছি। আর তার নিচে লেখা আছে “বিজয়ের মাসে তোমাদের স্মরনে”। তার নিচেই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হত্যার শিকার হওয়া বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও মুক্তচিন্তার চর্চায় যারা নিজেদের প্রান দিয়েছিলেন তাদের ছবি। যেমন প্রথম থেকে (১)হুমায়ুন আজাদ, (২)আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন, (৩) অভিজিৎ রায়, (৪)ওয়াশিকুর রহমান বাবু, (৫)অনন্ত বিজয় দাস, (৬)নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল), (৭)ফয়সাল আরেফিন দীপন, (৮)মাহাবুব রাব্বী তনয়, ও (৯)জুলহাজ মান্নান। বাম পাশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনের ও বিজয়ের একটি প্রতিকৃতি যা লাল রঙের বৃত্তের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এবং ঠিক সেই লাল রঙের বৃত্তের উপরেই আছে বিশ্ব বিখ্যাত ভাস্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত একটি ভাষ্কর্য “দ্যা থিংকার্স” এর প্রতিকৃতি যা মুক্তমনা বা ফ্রিথিংকার্সরা তাদের প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে। এবং বাম পাশে কর্নারে দেখা যাচ্ছে কয়েকফোটা তাজা রক্ত যার অনেক অর্থ দাড় করানো যায়।

আর প্রফাইল পিকচার এর কথা যেটা বলা হচ্ছে শেখানেও বোঝা যাচ্ছে সেই কয়েকফোটা তাজা রক্তকেই মূল বিষয় করা হয়েছে। তবে শুধুই রক্ত যে আছে শেখানে তা নয়। রক্তের নিচে দেখা যাচ্ছে কুয়াশাচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশের মানচিত্র যার ঠিক উপরেই আছে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাত। আর সেই হাতে ধরা আছে একটি কলম আর এই বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে আছে সাদা রঙের কুয়াশা টাইপের কিছু দিয়ে যা মূলত আমাদের এই হাত ও বাংলাদেশের মানচিত্রটি ঠিক মতো দেখতে দিচ্ছে না এমন কিছু বোঝানো হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে এই কুয়াশার মতো কোন একটি শক্তি আমাদের দেশের জ্ঞান বুদ্ধি আর মুক্তভাবে চিন্তা করার পথকে বাধাগ্রস্থ করছে। যাই হোক, সব মিলিয়ে আমার কাছে এই ছোট্ট একটি ছবির মধ্যে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। আর সেই সাথে মনে হয়েছে এখানে এমন কিছুই নেই যা আমাদের সোস্যাল মিডিয়ার বা ফেসবুক প্রফাইলের কভার ফটো আর প্রফাইল পিকচার করে মাত্র ৯ টা দিন আমরা রাখতে পারবো না। আমার মতে এটা অবশ্যয় করা দরকার। বিশেষ করে আমি তাদের অনুরোধ করবো যারা সিনিয়র লেখক আছেন এবং বাংলাভাষী মুক্তমনাদের মধ্যে পরিচিত মুখআমি চাই তারাও এটা করে আমাদের সবাইকে একত্রে থাকার জন্য উৎসাহ দিবেন।

আমার কাছে মনে হয়েছে এতোদিন সবাই যার যার মতো করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে লিখে, কেউ অডিও ভয়েস দিয়ে এবং অনেকেই ভিডিও ব্লগিং এর মাধ্যমে তাদের মনের কথা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে এরকম কোন উদ্যোগ নিতে দেখিনি যাতে করে প্রকাশ পাবে এই মুক্তমনাদের মধ্যেও যে একতা আছে সেই বিষয়টি। বাংলাদেশ ভারত সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই বাংলাভাষী মুক্তমনারা আছেন যারা সমাজের গোড়ামী আর কুসংস্কার এর বিপক্ষে নানা ভাবে কথা বলে থাকেন। তবে অনেকেই আছে যারা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাস করেও নানা কারনে চুপচাপ থাকেন। তাদের জন্য এটা হবে সহমত প্রকাশ করার একটি বড় মাধ্যম। এমনও হতে পারে, এবার যদি এই ৯ দিনের জন্য সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মুক্তমনারা এই বিষয়টিকে পালন করে সবার কাছে পৌছে দিতে পারে তাহলে আগামীতে প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসের প্রথম ৯ দিন এটা নিয়মিত ভাবে পালন করা হবে। তবে সেটা নির্ভর করছে সবাই কি পরিমান সাপোর্ট করে এই বিষয়টি তা দেখার উপরে। আর একটি বিষয় হচ্ছে এটি কিন্তু কোন ব্যানারে করা হচ্ছে না। কোন সংগঠন বা কোন অর্গানাইজেশন এর সাথে জড়িত না। আমার জানামতে এর নেই কোন স্পন্সর। অর্থাৎ এটা সম্পুর্ণ একটি প্রানের আয়োজন বলা চলে যা প্রকৃত স্বার্থহীন একটি কাজ হবে বলে মনে করি।

এবার আসুন যেই কভার ফটো নিয়ে আজকের আলোচনা সেই কভার ফটোতে যে বিষয়গুলা আছে তা একটু সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি। প্রথমেই ফ্রান্সের বিখ্যাত ভাষ্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত শিল্প “দ্যা থিংকার্স” নামের ভাষ্কর্যটি নিয়ে কিছু জানি। এটি একটি ব্রোঞ্জ ভাষ্কর্য যা একটি পাথরের উপরে অবস্থিত। এই ভাষ্কর্যটিতে দেখা যায় একটি পাথরের উপরে শক্ত দেহের একজন নগ্ন পুরুষ তার চিবুকটি ডান হাতের উপরে রেখে খুব গভীরভাবে চিন্তা করছেন। এই ভাষ্কর্যটি অধিকাংশ সময়েই দর্শনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। এটার নাম “দ্যা থিংকার্স” হবার কারনে এটি মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসীদের প্রতিক হিসেবেও সব যায়গায় ব্যাবহার করা হয়। মূল ভাষ্কর্যটি ফ্রান্সের প্যারিসে একটি জাদুঘরে বর্তমানে সংরক্ষিত আছে তবে এই ভাষ্কর্যের ২৮ টি কপি সমস্ত পৃথিবীতে আছে বর্তমানে। যার মধ্যে সব থেকে বড়টির উচ্চতা ১৮৬ সেন্টিমিটার বা ৭৩ ইঞ্চি। এবার আসুন এখানে যাদের ছবি দেওয়া আছে তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি।

এখানে দেখা যাচ্ছে ৯ জন মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী ও মুক্তমনা সমাজে পরিচিত মুখের প্রতিকৃতি বা ছবি। যেমন প্রথমে আছেন “হুমায়ুন আজাদ” জন্ম ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ - মৃত্যু ১১ আগস্ট ২০০৪ যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, গবেষকভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর সাহিত্যিক এবং রাজনীতিক ভাষ্যকার। তিনি বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্মমৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, নিরাবরণ যৌনতানারীবাদ, রাজনৈতিক এবং নির্মম সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য ১৯৮০'র দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং লেখার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণের কারণে ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হত্যা প্রচেষ্টার শিকার হন। তার পরে আছেন ‘আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন” ওরফে থাবা বাবা। আহমেদ রাজীব হায়দার এর  মৃত্যু হয় ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সালে। যিনি  বাংলাদেশের একজন নাস্তিক ব্লগার ছিলেন। পেশায় স্থপতি হায়দারের ব্লগের লেখাগুলি ২০১৩ শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানপন্থীদের দ্বারা সংগঠিত গণহত্যার বিচারের দাবী জানায়। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত পরিচয়ধারী একদল দুর্বৃত্ত হায়দারকে হত্যা করেন। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর অঞ্চলে নিজস্ব বাসস্থান থেকে বের হওয়ার সময় আহমেদ রাজীব হায়দারকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়। তাঁর দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়, যে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়রা তাঁর দেহ শনাক্ত করতে অক্ষম হন। পরের দিন তাঁর মরদেহ শাহবাগ স্কোয়ারে লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর পরের ছবিটা সকলের পরিচিত মুখ “অভিজিৎ রায়” এর। জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ - মৃত্যু ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী-মার্কিন প্রকৌশলী, লেখক ও ব্লগার। তিনি বাংলাদেশের মুক্ত চিন্তার আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে সরকারের সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারক ছিলেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও তার স্ব-প্রতিষ্ঠিত সাইট মুক্তমনায় লেখালেখির জন্য অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা কে আহত করে। ২০১৫ সালে অভিজিৎ একুশে বইমেলা চলাকালীন বাংলাদেশে আসেন  ২৬শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা একটি রিকশায় করে একুশে বইমেলা থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাড়ে আটটা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নিকটে অপরিচিত দুস্কৃতিকারীদের আক্রমনের শিকার হয়ে মৃত্যবরন করেন। এরপরে আছেন “ওয়াশিকুর রহমান বাবু” এই সেই বাবু যে অভিজিৎ রায়ের হত্যার পরে তার ফেসবুকের কভার ফটোতে লেখেন “আই এম অভিজিৎ” ও “ওয়ার্ডস কেন নট বি কিলড” ২৭ বছর বয়সী এই যুবক বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তবে সব চেয়ে এক্টিভ ছিলেন ফেসবুকে। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ ঢাকার তেজগাঁওয়ে নিজের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারনে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ওয়াশিকুর

তারপরের ছবিটি “অনন্ত বিজয় দাস” এর লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায় এবং ব্লগার বাবু হত্যার ১ মাসের মাথায় সিলেটে অনন্ত বিজয় দাস নামে আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যিনি নিজেও মুক্তমনা ব্লগে লিখতেন এবং গণজাগরণ মঞ্চে যুক্ত ছিলেন। তার লেখা বেশ কিছু বই আছে বর্তমানে। তারপরে আছেন “নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল)” এর ছবি যাকে আগস্ট ২০১৫ তে খিলগাঁও এর পূর্ব গোড়ানের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিলয় গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তিনি নিলয় নীলনামে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। তার ফেসবুক প্রফাইলও ছিল ওই একই নামে তার পরের ছবিটি জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক “ফয়সাল আরেফিন দীপন” এর। তাকেও ২০১৫ সালের অক্টোবরে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ভেতরে ফেলে রেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। সে মুক্তমনা লেখকদের বই প্রকাশ করতো।

এবং সর্বশেষে আছেন “মাহাবুব রাব্বী তনয় ও জুলহাস মান্নান”২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একটি 'বিপ্লবী' কাজ করে ফেলেন বাংলাদেশের কিছু তরুন যাদের মধ্যে তারা দুইজন ছিলো অন্যতমতারা এই কুসংস্কারাছন্ন দেশটিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি পত্রিকা প্রকাশ করে বসেন যেটির উদ্দেশ্য সমকামীদের পক্ষে কথা বলা। বাংলা ভাষার এই পত্রিকাটির নাম ছিলো “রূপবান” এর আগে বাংলাদেশের সমকামীরা কখনো এমনভাবে প্রকাশ্য হয়নি নিজেদের অধিকারের কথা তাদেরকে কখনো বলতেও শোনা যায়নি। এই রূপবানের সম্পাদকীয় বোর্ডের একজন সদস্য ছিলেন “জুলহাজ মান্নান” এবং তার বন্ধু “মাহাবুব রাব্বী তনয়”২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে তারা কলাবাগানে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে নিহত

আপাতত এগুলিই ছিলো এই কভার ফটোর সাথে সম্পৃক্ত সকলের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পালা। আমার মনে হয়েছে আমাদের দেশে বর্তমানে আগের থেকেও বেশি এবং হঠাৎ করে মুক্ত চিন্তার অনেক প্রসার ঘটেছে যা আমরা অনেকেই প্রত্যাক্ষ করছি। অনেকেই আজ আওয়াজ তুলছেন যারা এইভাবে মৃত্যুবরণ করেছে তাদের পক্ষে। অনেকেই মনে করছে বিখ্যাত লেখক, লেখিকা সহ আজ যারা এই দেশ ছেড়ে অন্য দেশে অবস্থান করছেন তাদের জন্য কথা বলার সময় এসেছে। আর তাই আর লুকিয়ে লুকিয়ে নয় সবাই চাইছে যে কোন ভাবেই জ্ঞান-বিজ্ঞান আর মুক্তচিন্তার প্রচার আর প্রসার করে নিজেদের মধ্যে এর চর্চার পরিধি বাড়াতে। আর তারই একটু ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মনে হয়েছে এই উদ্দ্যোগকে আমার কাছে। আর যে কারনেই আমি অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এটির পক্ষে কথা বলতে চাই এবং সাথে থাকতে চাই।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৯/১১/২০১৭
    
 



          


শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

মিশরের মসজিদে জঙ্গি হামলা ও সুফীবাদ।


মিশরের একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াইশতাধিক মানুষ৷ মিশরের নর্থ সিনাই প্রদেশের আরিশ শহরের পশ্চিমের আল রাওদাহ মসজিদে গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উপর এ হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ চারটি গাড়িতে চড়ে প্রায় ৪০ জন জঙ্গি এসে প্রথমে বোমা ছোড়ে, পরে চালানো হয় গুলি৷ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এমইএনএ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৩৫ জন৷ আহত হয়েছে অন্তত ১২৫ জন৷ তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে৷ এ ঘটনায় মিশরে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে৷ এসব হামলার সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইএস জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে৷ ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকেই মিশরের পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে৷ ২০১৫ সালে শেখানে এই জঙ্গিরা রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী প্লেনে হামলা চালিয়ে ২২৪ জনকে হত্যা করে। এছাড়াও আইএস এই অঞ্চলে নানান সময় তাদের হামলার মাধ্যমে সাধারন মানুষ হত্যা করে তাদের উপস্থিতির জানান দেয়।


এবার একটু মূল ঘটনা জানার চেষ্টা করি। এখানে অনেকের অনেক প্রকারের কথা থাকতে পারে। বিশেষ করে মডারেট মুসলমান যারা বর্তমান যুগের বিজ্ঞানের সাথে ইসলাম ধর্মের মিল খুজে বিভিন্নভাবে তা ব্যাখ্যা করে থাকে। এধরনের মুসলিম জঙ্গিদের হামলা ও মানুষ হত্যাকে তারা সব সময় বলে আসে যারা এসব করে তারা আসলে প্রকৃত মুসলমান না বা তারা সঠিক ইসলাম জানে না। তারা বিভিন্নভাবে এই ইসলামের কোরানের আয়াত ও হাদীস গুলিকে মানবিক করে ব্যাখ্যা করেও খুব একটা লাভবান হচ্ছে না। কারণ এই সমস্ত হাদীস আর কোরানের আয়াতে খুব স্পষ্ট করেই মানুষ হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা আছে। যারা বলছে যে, এই হামলা যারা করে বা মানুষ হত্যা করে যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তারা আসলে প্রকৃত ইসলাম জানে না বা তারা ভুল ইসলাম জানে বা তারা মুসলমানই না। তাদের আমি বলবো আসলে আপনার জানা বোঝাতে কিছুটা ভুল আছে। কারণ দেখুন বর্তমান যুগের প্রায় প্রতিটি মানুষ জানে, সে প্রকৃত ইসলাম ধর্মের অনুসারি হোক আর ইসলাম ধর্মের বাইরের কেউ হোক “যদি কেউ ইসলাম খুব ভালো ভাবে জেনে বুঝে পড়ে ও মানে, তাহলে হয় সে জঙ্গি হবে নয়তো সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে আসবে। তার মানে এটা দাড়াচ্ছে যারা বলছে এসব হামলা আর হত্যা যারা করে তারা প্রকৃত মুসলিম না তারা আসলে এর মাঝামাঝি আছে, অর্থাৎ তারা ভালো করে ইসলাম সম্পর্কে জানেই না।


এবার আসুন গতকাল মিশরে যে হামলা করে এই ২৩৫ জন মানুষকে হত্যা করা হলো তার কারণ জানার চেষ্টা করি। মিশরের উত্তর প্রদেশের সিনাই এর আরিশ শহরের আল-রাওদাহ নামের যে মসজিদটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে শেখানে আসলে মুসলিম সুফীবাদীরা নামাজ পড়তে আসতো। সেই মসজিদটি ছিলো মূলত সুফীবাদীদের মসজিদ। আর যদিও এই হামলা কারা করেছে তা এখনও কোন জঙ্গি সংগঠন শিকার করেনি তারপরেও মিশরের ইন্টিলিজেন্স জানিয়েছে এই হামলা মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ছাড়া আর কেউ করেনি। কারন শেখানে তারা ছাড়া আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেই যারা এধরনের নজিরবিহীন হামলা করে একসাথে এতো মানুষ মারবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই সুফীবাদীদের সাথে সকল প্রকার ইসলামী জিহাদি গোষ্ঠির দ্বন্দ। কারন সুফীরা ঠিক মুসলমান হলেও ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই তারা মানে না এবং জিহাদও সমর্থন করে না। তাই এই হামলার কারন জানতে হলে আগে কিছুটা সুফীদের সম্পর্কে জানতে হবে।


আসলে সূফিবাদকে অনেকেই একটি দর্শন বলে থাকে। ইসলামী বইগুলোতে বলা হয়, হযরত মুহাম্মদ ছিলেন সর্বপ্রথম সূফী। কিন্তু এটা আসলে সুফীরা কখনই মানে না। তার জীবনে ও আচরণে সূফী ভাবের প্রাধান্যই ছিলোনা। তাই তাঁকেই সূফীদের আদিগুরু হিসাবে চিহ্নিত করার প্রবণতা খুব একটা লক্ষ্য করা যায়না। যে ব্যক্তির সারা জীবন একের পর এক যুদ্ধাভিযানে অংশ নিয়েছেন ও বহু বিবাহ করে পার করেছেন, এমনকি যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর মুহূর্তেও এমন একজন বালিকার বিছানায় ছিলেন, যে তার থেকে বয়সে ৪৫ বছরের ছোট, তাকে সংসারত্যাগী, নির্লোভ, পবিত্রাত্মা সূফীর আখ্যা দেওয়া নিতান্তই হাস্যকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয় বলে সুফীবাদীরা মনে করেন। তাছাড়া হজরত মোহাম্মদ সূফীদের আদি গুরু হলে ইসলাম আর সূফীবাদ সমার্থক রূপে গণ্য হত যা হয়নি। তাই এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন কেন এই মুসলিম জিহাদিদের সাথে এই মুসলিম সুফীবাদীদের দ্বন্দ। 


সুফীরা যেহেতু মুসলমান আর তারাও ইসলাম ধর্ম পালন করে তাহলে তাদের উৎপত্তি কিভাবে হলো? তাহলে প্রশ্ন ওঠে, প্রথম সূফী কে বা কারা? আসলেই এই সুফীদের উপরে কেন একই ধর্মের অনুসারিরা হামলা করবে, তাও আবার মসজিদে ঢুকে, আসলেই একটি চিন্তার বিষয়। এই জন্য আমাদের একটু ইতিহাস জানতে হবে। আসলে মুহাম্মদের মদিনা জয়ের পরবর্তী সময়ে মদিনায় একদল মানুষকে মদিনার মসজিদ ই লবভি-র বারান্দায় দেখা যেত, যাঁরা আধ্যাত্মিকতাকে নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করতে চাইতেন, চাইতেন আরবী সমাজ জীবনে আধ্যাত্মিকতার প্রসার। এঁরা মসজিদের বারান্দা ছেড়ে তেমন যেতেন না এবং প্রয়োজন ছাড়া অন্যের সাথে তেমন একটা কথাও বলতেন না। সম্ভবত এঁরাই ইতিহাসের প্রথম সূফী দল। তারপর এঁদের হাত ধরেই প্রচারিত হতে থাকে ইসলামী আধ্যাত্মিকতা। তবে তখনো একটি বিশেষ মতবাদ হিসাবে সূফীবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মোহম্মদের মৃত্যুর অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে হাসান বসরী নামে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় প্রথম ইসলামী পঞ্চস্তম্ভকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে। এবং তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকেই তাঁকে ও তাঁর অনুগামীদের লক্ষ্য করে সূফী শব্দটি ব্যবহৃত হতে থাকে মানুষদের মধ্যে। এরপর একের পর এক মহান সূফীর আবির্ভাব ঘটতে থাকে। সুফীবাদের যতই প্রচার ও প্রসার হয়, ততই তার সঙ্গে মিশে যেতে থাকে নতুন নতুন জায়গার সংস্কৃতি। ফলে এদের মধ্যেও বিভিন্ন উপসম্প্রদায় তৈরি হয়। তবে প্রথম যারা এই সুফীবাদের চর্চা করতো তারা খুব বেশিদিন ছিলোনা।


ইসলামের নবী মুহাম্মদ এর মৃতুর পরে তিনশো বছর এই প্রথম ধাপের সুফীরা ইসলামের কোন কিছুই মানেনি যেমন ইসলামের পাচটি মূল ভিত্তি তাদের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলো না। এখনও নেই তবে এই প্রথম ধাপের মধ্যে বর্তমান সুফীদের পার্থক্য হচ্ছে, আনুমানিক ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সুফীরা রেগুলার মুসলিম মানে (নবী মুহাম্মদের ইসলাম) যারা ফলো করতো তাদের সাথে মিলে মিশেই বিভিন্ন যুদ্ধ করেছিলো। পরবর্তিতে যখন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভারতের কিছু কিছু এলাকা নিয়ে সুলেমানি সাম্রাজের সৃষ্টি হলো ১১৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তখন তার এই জিহাদ ও যুদ্ধ ত্যাগ করলো। মিশরে যাদের উপরে গতকাল হামলা করা হয়েছে তারও ছিলো সেই সম্প্রদায়ের সুফী। যারা নবী মুহাম্মদকে মানতো না, একজন আল্লাহকে ভয় করতো না বরং তারা বহু আল্লাহতে বিশ্বাস করতো। তারা জিহাদ সমর্থন করতো না, তারা নবী মুহাম্মদের ইসলামে যে গান বাজনা করার রেওয়াজ নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো সেটাও মানতো না বরং তারা গান বাজনা করেই আল্লাহকে ডাকতো। তারা এটাও বিশ্বাস করতো আল্লাহকে ভয় পাবার কিছুই নেই তাকে ভালোবাসতে হবে। কারণ তারা জান্নাত আর জাহান্নামেও বিশ্বাস করে না।


এধরনের নানা কারনে আসলে ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়েও তারা সেই ইসলাম ধর্মের জিহাদি আর জঙ্গি গোষ্ঠির হামলার শিকার হয়। তারা মুহাম্মদের ইসলাম অনুসরন করে না বা তার আল্লাহকে সর্বশক্তিমান মনে করে না। তাই তাদের ভেতরে এই জিহাদ আর মানুষ হত্যা প্রবনতা নেই। বর্তমানে শেখানে অর্থাৎ মিশরীয় সুফীদের মধ্যে বিবর্তনবাদের চর্চা ঢুকে পড়াতে তারা আরো বেশি করে এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে মুহাম্মদ অনুসারি ধর্মান্ধদের বিপক্ষে কথা বলছিলো যার কারনেই এই হামলা হয়েছে। এই বিষয়ে আরো ভালো করে জানতে চাইলে আপনাকে আগে সুফীবাদ ও মুহাম্মদের প্রচারিত ইসলাম সম্পর্কে বিস্তর জানতে হবে। আমি লেখা সংক্ষিপ্ত করার কারনে সুফীবাদ সম্পর্কে আর বেশি কিছু বললাম না এখানে। তবে আমি আবারও বলবো যারা বলে থাকে, এই জাতীয় হামলা যারা করে তারা ভালো করে জাকির নায়েকের লেকচার শোনে নাই বা আসল ইসলাম পালন করে না বা তারা হয়তো ভুল লোকের হাতে পড়ে ইসলাম শিখেছে, এই জাতীয় কথা যারা বলছে তারাই আসলে ইসলাম সম্পর্কে ভালো করে জানে না। কারন যদি কোরান পড়ে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আপনি জিহাদ সমর্থন না করেন তাহলে আপনি নবী রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) এর দেখানো ইসলাম ফলো করছেন না।


---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৫/১১/২০১৭      


বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

শিশুরা প্রকৃতিগতভাবে মুসলমান তাই ইসলাম একটি প্রাকৃতিক ধর্ম তা প্রমানিত।


যখন বিশ্বাসী মানুষের আর যুক্তি দিয়ে কথা বলার যায়গা থাকে তখন আমরা জানি সে অযুক্তি/কুযুক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে থাকে। আর যাদের জ্ঞানের লেভেল তার প্র্তিপক্ষের সাথে মিলে না তখন সে বিভিন্ন ধরনের গালাগালি করে। আর যারা গালাগালি করে তাদের ১০০% হয়ে থাকে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারি মুমিন বান্দা। কিন্তু একজন যুক্তিবাদী বা মুক্তচিন্তার চর্চাকারীকে কখনও দেখবেন না গালাগাল করছে। আমার চোখে পড়েনি। আর যাদের কথা বলছিলাম যারা আর যুক্তি দিতে না পারে তারা একসময় নানা ভাবে আগা মাথাহীন কথা বলে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং পরিশেষে বলে আপনি সবই মিথ্যা কথা বলেছেন। কিন্তু যখন প্রমান চেয়ে বলা হয় কোথাই মিথ্যা বলা হয়েছে আপনি আমাকে একটু দেখিয়ে দিন, তখন সে নানা অযুহাত তৈরি করে সেই মিথ্যাগুলি ধরিয়ে না দিয়ে এড়িয়ে যায়। এখন কেউ যদি বলে আপনি মিথ্যা কথা বলেছেন আর তখন যে মিথ্যা কথা বলেছে সে যদি জিজ্ঞাসা করে কোথাই মিথ্যা বলেছি সেটা আমাকে একটু ধরিয়ে দিন তখন প্রতিপক্ষের কি করা উচিত ? অবশ্যয় যেখানে মিথ্যা বলা হয়েছে সেটা ধরিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু সেটা না করে যারা বলে এসব চালাকি ছাড়ুন তাদের কি বলবেন ?

আচ্ছা যাক সেই কথা বাদ রাখলাম, এখানে একটি প্রশ্ন তৈরি হবার কারনে এই আলোচনাটা। প্রশ্নটা হচ্ছে একজন দাবি করেছে “শিশুরা নাকি প্রকৃতিগতভাবে মুসলমান, যাতে প্রমান হয় ইসলাম একটি প্রাকৃতিক ধর্ম”। এই কথার মানে কি ? আমি এর জবাব কিভাবে দেবো ? তার মানে তিনি বলতে চাচ্ছেন খ্রিস্টান, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্যাথলিক, জৈন সহ যত প্রকারের অর্থাৎ এপর্যন্ত সন্ধান পাওয়া ৫২০০ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ৪০০০ টা ধর্মের অনুসারি যত পরিবার এই পৃথিবীতে আছে এবং সেসব পরিবারে যত সন্তান জন্ম নেয় তারা সবাই মুসলমান থাকে। যাদের পরবর্তীতে মুসলমান থেকে ট্রান্সফার করে এই সব ধর্মের অনুসারি করা হয় বা ইসলামের ভাষায় কাফের, মুরতাদ, মুনাফেক, মুশরিক এগুলো বানানো হয় এবং যাদের সেই ইসলাম ধর্মেই হত্যা করা মানে বেহেশতের টিকিট কনফার্ম করা বলা হয়ে থাকে। আর একটা কথা এখানে কিভাবে প্রমানিত হচ্ছে ইসলাম একটি প্রকৃতিক ধর্ম ?

ইসলাম ধর্মের বয়স হচ্ছে মাত্র ১৪৫০ বছর সর্বোচ্চো আর এপর্যন্ত পৃথিবীতে সন্ধান পাওয়া মানুষের ফসিল বা অন্যান্য চিহ্ন আমরা পায়, প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার বছর আগের। বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব মতে যেমন, বাইবেল এর ওল্ড টেস্টামেনের প্রথম অধ্যায় জেনেসিস মতে পৃথিবীর প্রথম মানব মানে রেডিমেট আইটেম “এডাম” এর এই পৃথিবীতে পদার্পন ৪০০৪ খ্রস্টপুর্বাব্দে বা মতান্তরে ৪০২৬ খ্রিস্টপুর্বাব্দে ২২ বছরের পার্থক্য আছে। যার মানে হচ্ছে বর্তমানের ২০১৭ সালের হিসাবে দাড়াচ্ছে ২০১৭+৪০০৪=৬০২১ বছর মাত্র। আর ইসলাম ধর্ম এমন একটি ধর্ম যার কোন কথায় কোথাও পরিষ্কার আর সহজ করে কিছুই মানে একেবারেই কিছুই বলা হয়নাই। সব কিছুই ঘোলাটে করে রাখা হয়েছে সেই ধর্মের অনুসারীদের কাছে। এপর্যন্ত তাদের ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরীফ যাকে তারা এক ও অদ্বিতীয় বলে থাকে তার সর্বোমোট ৫ টি ভার্সনের সন্ধান আমরা পায় যার আয়াতের সংখ্যা ৬ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার ৬০০ টি পর্যন্ত আছে। প্রমান দেখুন এখানে এই সব আয়াতের কোনটাতে পরিপুর্ন তথ্য দেওয়া নাই। একটা বলতে গেলে আরেকটা মানে তার আগেরটা আর পরেরটা কি বলছে সেটাও নাকি দেখতে হবে এমন দাবী তাদের। বিশ্লেষকদের দাবী বাইবেল এবং কোরানের মধ্যে অনেক মিল আছে সেটা কত % তা আমার জানা নেই। আর সেই কারনে অনেকেই বলে থাকে এটা বাইবেল থেকে কপি করা। আর বাইবেলে যে এডাম আর ইভ এই পৃথিবীর প্রথম মানব মানবী ঠিক তেমনি কোরানের আদম আর হাওয়া এই পৃথিবীর প্রথম মানব আর মানবী কিন্তু তাদের আগমনের সঠিক তথ্য এই কোরানে নাই। তবে সার্বিক বিশ্লেষনে সেটাও ৬ থেকে ৭ হাজার বছরের বেশি না। তাহলে এখন আবার আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে এর আগে যেসব মানুষ এই পৃথিবীতে জন্ম নিতো তারা কারা ছিলো ? নাকি তখন কোন প্রকৃতি ছিলো না ?

আরো অনেক প্রশ্ন আছে যেমন ধরুন ইসলাম ধর্ম মতে প্রতিটি মানুষের কাধে দুজন করে ফেরশতা থাকে বলে প্রচলিত আছে। এবং তারা নাকি সেই মানুষটির সারা জীবনের পাপ পূর্ণের হিসাব নিকাশ করে। এখন কথা হচ্ছে একটি শিশুর জন্মের কত বছর পর থেকে তার পাপ পুর্ণের হিসাব রাখা হচ্ছে ? আর যারা খ্রিস্টান, ইহুদী বা হিন্দু ধর্মের পরিবার গুলিতে জন্ম নিচ্ছে তাদের জন্য কি ব্যাবস্থা থাকছে ? যদি তারা প্রাকৃতিক ভাবেই ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়ে থাকে তাহলে কেন তাদের কাধে এই ফেরেশতারা থাকবে না ? আর জন্মের পরে একটি শিশু যদি জানতেই না পারে সে আসলে ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়ে মুসলমান পরিবার বাদে অন্য কোন ধর্মের কোন একটি পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছে তাহলে এখানে তার কাফের, মুরতাদ, মুনাফেক আর মুশরিক হবার সাথে সম্পর্ক কি ?

এবার একটু ইসলামে নারী সম্মানের কথা দিয়ে শেষ করি। যে ব্যাক্তি দাবি করেছিলো শিশুরা মুসলামান তার আরেকটি দাবী ইসলাম ধর্মে প্রধান নবী “মুহাম্মদ (সাঃ) আসার পরে নারীদের এতো সন্মান দিয়েছেন যে, কোন পরিবারে কন্যা সন্তান না থাকাটায় ছিলো লজ্জা জনক” তাহলে ইসলামে নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান নামের এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন আগে। --এটা লিংক --  আর তার এমন দাবী করার কারন তার ধারনা ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার আগে নাকি নারীদের মূল্যায়ন করা হত না কন্যা সন্তানদের হত্যা করা হতো। তাহলে ইসলাম এর পুর্বে আরবের প্যাগান ধর্মাবল্মীদের মধ্যে প্রধান তিনটি দেবতাই ছিলো নারী যাদের নাম হচ্ছে লাত, উজ্জা আর মানাত এরা ছিলো প্যাগানদের প্রধান দেবতা হুবালের তিন কন্যা এবং সব চেয়ে শক্তিশালি তিনজন আরবের দেবতা। তাদের যদি আরবের বাসিন্দারা দেবতার আসনে বসিয়ে পূজা করতে পারতো এমনকি নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ নিজে তাদের পূজা করতো তাহলে তারা কিভাবে সেই নারীদের অসম্মান করতো ? আর ইসলাম শুরু হবার আরো ২৫০০ বছর আগে মানে আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে খ্রিস্টপুর্বাব্দ ২০০০ সালের দিকে প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় যার ব্যাবিলনের শুন্যদ্যান আমাদের সকলের পরিচিত ছিলো সেই যায়গায় নারী শাসক কিভাবে রাজ্য শাসন করেছিলো যার নাম ছিলো “রানী সেমিরিস” (সাম্মু রামত) ? আজ থেকে ৩৫০০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি হবার ২ হাজার বছর আগে অর্থাৎ খ্রিস্টপুর্বাদ ১৫০০ সালে প্রাচীন মিশরের ১২ তম ফারাও আমেনহোটেপ এর মৃত্যুর পরে তার প্রধান স্ত্রী “রানী লসট্রিস” কিভাবে মিশর শাসন করেছিলো ? এবং মিশরের শেষ নারী “ক্লিওপেট্রা” কিভাবে তখন তার রাজ্য পরিচালনা করেছিলো যদি নারীদের সন্মান নাই থাকবে ?

লেখা সংক্ষিপ্ত করার কারনে আরো অনেক উদাহরন এখানে তুলছি না। তবে যেটুকু না বললে নারীদের ছোট করা হবে সেটা হচ্ছে আমাদের মনে রাখতে হবে আজ থেকে ২০ হাজার বছর আগের বরফ যুগের শেষে রেনেসা যুগে যখন আমাদের এই পৃথিবীর বর্তমান সাহারা মরুভূমির যায়গাটি থেকে হোমোস্যাপিয়েন্স এর দল আস্তে আস্তে শিকার থেকে বেরিয়ে কৃষি নির্ভর হবার জন্য উর্বর জমির সন্ধানে শেখান থেকে সরে আসতে থাকলো তখন কিন্তু তার নেত্রিত্বে ছিলো এই নারী। রেনেসা যুগে নারীদের হাত থেকে পুরুষরা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। কৃষি নির্ভর যুগে একমাত্র নারীই ছিলো সকল ক্ষমতার প্রধান। পুরুষরা ছিলো নারীদের তত্বাবধানে। যুগে যুগে যত ধর্ম তৈরি হয়েছে তার সব গুলিতেই নারীদের অবস্থান প্রায় দেবতার আসনে ছিলো বিশেষ করে মিশরীয় সভ্যতায়। শুধু মাত্র ইসলাম ধর্মে নারীদের করা হয়েছে একটি পন্যের সাথে তুলনা। তাদের দাসী বানানো, তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার মুল্যায়ন না করা থেকে শুরু করে তাদেরকে ইসলামিক দৃষ্টিতে একটি খারাপ চরিত্র “শয়তান” নামেও ডাকা হয়েছে। তাই এটা কোন ভাবেই সঠিক কথা হতে পারে না যে, ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান বা মর্যাদা আর ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) নারীর ক্ষমাতায়নে বিশ্বাস করতো।

          
---------- মৃত কালপুরুষ
               ২২/১১/২০১৭  



সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

মুসলমান, ইহুদী বা সৌদি, ইসরাইল সম্পর্ক কি মানবতার জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে ?


সম্প্রতি একটি আলোচনা চোখে পড়াতে মনে করলাম সৌদি আরব তথা মুসলমানদের মোড়ল দেশ আর ইসরাইল তথা ইহুদীদের অবৈধ দেশের সাথে যে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে তা নিয়ে একটু আলোচনা করবো। আলোচনার মূল বিষয়টা ছিলো “সৌদি আরব আর ইসরাইলের মধ্যে যে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক হচ্ছে তা মানবতার জন্য বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসবে”। আসলে এটা কোন ধর্মীয় আলোচনা ছিলো না তাই এখানে মুসলমান আর ইহুদী বিষয়টি পরে আসবে তবে আগে আসবে জিওপলিটিক্স এর বিষয়টি। আসলে সৌদি আরব আর ইসরাইল সম্পর্ক মানবতার জন্য বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসবে এই দাবী কোন ধার্মীক মুসলমানদের বা ইহুদীদের না, বরং এমন দাবী আমি করতে দেখলাম মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী মানুষের মধ্যেই। তাই আমার কিছু ধারনা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম এ্কটু মিলিয়ে দেখবেন আসলে ব্যাপারটি কি হতে পারে। কারন আমার কাছে মনে হচ্ছে সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সাথে তাদের বন্ধুত্ব প্রকাশ্যে নিয়ে আসে তাহলে মানবতার বিপর্যয় নয় বরং মানবতার জন্য কল্যানকর হবে বলে আমার ধারনা।

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় শ্রেনীর দেশ গুলোর মুসলমান সমাজ আসলে তার জন্মের পর থেকেই শুনে আসে ইহুদীরা মুসলমানের দুশমন আর তারা সারাটি জীবন মুসলমানেদের নির্যাতন করে। আস্তে আস্তে সে যখন বড় হতে থেকে তার ভেতরে ইহুদীদের প্রতি তৈরি হয় পাহাড় সমান ক্ষোভ আর ঘৃনা, কারণ এই দেশের একজন মুসলমান তার পুর্ণজীবনে যতবার ইহুদী নাসারার ষড়যন্ত্রের কথা শুনে থাকে ততবার সৌদি আরবের মুসলমানদের নামও শোনে না। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই মুসলমানদের যদি আপনি জিজ্ঞাসা করেন আচ্ছা আপনি কি আপনার জীবনে কোন ইহুদী জাতির মানুষকে দেখেছেন ? বা বাংলাদেশের কোথায় এই ইহুদী জাতি বসবাস করে বলতে পারবেন ? তখন সে আপনার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারবে না। এই ইহুদী জাতির প্রতি মুসলমানদের এতো রাগ ক্ষোভ আর ঘৃনার জন্মদাতা হচ্ছে সেই কোরানের কিছু আয়াত যা আমি আর এখানে তুলে ধরছি না। তবে এটুকু বলছি মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ মানব নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে কিন্তু মক্কা থেকে কোন ইহুদীরা বিতাড়িত করেননি যদি কোন প্রমান থাকে তাহলে দেখাতে পারেন। আসলে তাকে সেসময় মক্কা থেকে তাড়িয়েছিলো তারই বংশের লোক যাদের আমরা কুরাইশ বলে জানি। ইহুদীদের আস্তে আস্তে বর্তমান মক্কা থেকে কিন্তু পরর্বর্তিতে বিতাড়িত করা হয়েছিলো কিন্তু তাদের রক্ত শেখানে থেকে গিয়েছিলো। ধরুন আজকের সৌদি রাজপরিবারের মধ্যে সেই ইহুদীদের রক্ত আছে কিন্তু বাংলার মুসলমান জাতি জানেই না সে কথা।

যেই সৌদি আরবকে মুসলমানরা ইসলাম ধর্মের বাপ, মা মনে করে ও সমস্ত পৃথিবীর মধ্যে মুসলিমদের মোড়ল বলা হয়ে থাকে তাদের কিন্তু ইহুদী প্রীতির এই একটিই বড় কারন। ইতিহাস দেখলে জানা যায় যে মুসলমানরা মা্নুষকে শেখায় ইহুদীরা খারাপ আর এরা ইসলামের শত্রু সেই ইহুদীদের কিন্তু কোন কালেই মুসলমানদের ফাদার কান্ট্রি সৌদি আরব শত্রু মনে করেনি। তারা প্রকাশ্যে এসব না বললেও তার কিছু প্রামান দেখুন, আল সৌদ রাজবংশের ইতিহাস আর বর্তমান অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাস পড়লে দেখবেন এই আল সৌদ রাজবংশের অনেক সহযোগিতা ছিলো এই ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পেছনে। তাদের সম্মতি না থাকলে আজকে এই ইসরাইল তৈরি হতে পারতো না। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে অনেক ঐতিহাসিক এর ধারনা এই আল সৌদ রাজবংশটি অতীতে ছিলো জাতিতে ইহুদী। তাইতো ইহুদী আর ইসরায়েলের উপরে তাদের নাড়ী আর রক্তের টান এখনও রয়ে গিয়েছে। আর তাইতো আজকে আমরা এই সৌদি আরবকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে দেখি ইসরাইলকে। তার একটি প্রমান হচ্ছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই দেখবেন সৌদি আরবের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাহলে এই বাংলার মুসলমানদের কেন এই ইহুদীদের প্রতি ঘৃনা তৈরি করানো হচ্ছে ? এর আসল কারন হচ্ছে তারা আসলে জিওপলিটিক্স নিয়ে মাথা ঘামাই না। তাইতো আগামীতে দেখা যাবে ওদিকে আম দুধ ঠিকই মিশে যাচ্ছে আর এই মডারেট মুসলমান আটি হয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর একে অপরকে জোড়ায় জোড়ায় আল্লাহু আকবার বলে কাটছে।

এর আগে ইহুদীবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনাইমিন নেতানিয়াহু ২০১৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া এক ভাষনে বলেছিলেন, পরমানু অস্ত্র-সজ্জিত ইরানের বিপদ এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য হুমকির উদ্ভব আমাদের অনেক আরব প্রতিবেশীকে শেষ পর্যন্ত এটা বলতে বাধ্য করেছে যে, ইসরাইল তাদের শত্রু নয়। ফলে ঐতিহাসিক অনেক শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে নতুন সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও আশা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলের অনেক নেতাই ইরানের পরমানু স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন আর সেই হামলার সহযোগিতা ও সৌদির আকাশ ব্যাবহার করে হামলা করার অনুমুতি বেশ কয়েকবার দিয়েছেন সৌদি আরব যে খবর বহুবার প্রকাশিত হয়েছে। আরেকটি বিষয় মাথায় রাখলেই চলবে সৌদি আরবে কিন্তু শুক্রবারের জুম্মার নামাজের খুতবায় সকল মসজিদেই আইন করে নিষেধ করা আছে কেউ জানি ইহুদীদের বিরুদ্ধে কোন কথা না বলে। তাহলে বাংলার মোল্লারা কেন মসজিদে মসজিদে ইহুদী বিদ্বেষ ছড়ায় যেখানে তারা কোনদিন একটি ইহুদীকে চোখে পর্যন্ত দেখেনি। আসলে এসবই হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা আর জিওপলিটিক্স সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকেই এসেছে।

আপাতত মনে হয় আর কিছুই বলা লাগবে না ইহুদী ইসরাইলকে কারা সহোযোগিতা করছে। ইউএস ইন্টেলিজেন্স এর এক রিপোর্টে দেখানো হয় গত কয়েক বছরে বিপুল অংকের অর্থ সাহায্য হয়েছে ইসরাইলে সৌদি আরব থেকে। বর্তমান সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বদলে দিতে চায় সৌদি আরবের ইতিহাস। সৌদি আরবের বাইরে খুব কম মুসলমানই তার নাম জানেন বলে আমার ধারনা। মাত্র ৩১ বছর বয়ষ্ক এই যুবরাজ সত্যিই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যোগ্য। তিনি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। সে নারী অধিকার বাস্তবায়ন করেছেন সৌদিতে। আগামীতে সৌদি আরবকে আরো উন্নত ও একটি পর্যটক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হাতে নিয়েছে ভিশন ২০৩০ নামক বিশাল পরিকল্পনা। আগামীতে ধর্মীয় কুসংস্কার মুক্ত করতে চায় সে সৌদি আরব থেকে। যেসব মুসলমান দেশ ও মুসলিমরা আসলে জিওপলিটিক্স নিয়ে মাথা ঘামাই আর ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করতে চায় তারা আসলে সৌদি যুবরাজের এই উদ্দ্যোগকে ভালো চোখে দেখছে না। এই সৌদি যুবরাজের পিতা বর্তমান সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ কিন্তু সেই আল সৌদ বংশের উত্তরাধিকারী যারা অতীতে ছিলো ইহুদী জাতি। তাই তাদের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক ছিলো, আছে এবং থাকবে ও আগামীতে আরো প্রকাশ্যে তারা ইসরাইলকে সাহায্য সহোযোগিতা করবে।

যদি সৌদি আরব এই ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে চাই তাহলে অবশ্যয় তাদের সেই ষড়যন্ত্রকারী ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব করতেই হবে। কারন ইহুদীরা পৃথিবীর মধ্যে একটি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান জাতি হিসেবেই পরিচিত অপর পক্ষে মুসলমানের পরিচিতি আছে সন্ত্রাস আর জঙ্গী গোষ্ঠি হিসেবে। ইহুদীরা জ্ঞান বিজ্ঞানে নানান শাখায় অবদান রেখে বিশ্বের ৭০% নোবেল পুরষ্কার হাতে রেখেছে। সেই হিসাব করলে দেখা যাবে মুসলমানরা জিরো। আর ইহুদীরা তাদের জীবনের মুল্যবান সকল আবিষ্কারই করে মানুষের কল্যানে আর মানবতার স্বার্থে। তারা কখনই নিজেদের একার স্বার্থে কোন কিছু করে না। তাই যদি সৌদি আরব ইসরাইল এর সাথে তাদের সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে মানবতার বিপর্যয়ের থেকে মানবতার জন্য কল্যানকরই বেশি হবার কথা। আমার কাছে ইহুদী ইসরাইল আর মুসলিম সৌদি আরবের পুরাতন সম্পর্কের আরো কিছু প্রমান আছে কিন্তু তা মূল বিষয় থেকে আলাদা তাই এখানে আলোচনা করবো না। তা বাদেও সৌদি আরবের ইয়েমেন দখল এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিন্তু ইসরাইলের বিমান ইয়েমেন বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে সেটাও একটু পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। যারা ইহুদী নাসারার ষড়যন্ত্র, ইহুদী নাসারার ষড়যন্ত্র বলে লাফালাফি করেন তারা একটু ভেবে দেখবেন কার জন্য করেন।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২১/১১/২০১৭    

রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

সৃষ্টিকর্তাকে আবারও বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে মানুষের অমরত্বের পথে যাত্রা সফল।


এর আগেও ধর্মের দোহায় আর সৃষ্টিকর্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে রাশিয়ার এক নিউরো সায়েন্টিস্ট আমাদেরকে মানুষের অমরত্বের গল্প বাস্তবে সম্ভব বলে তার গল্প শুনিয়েছেন। অর্থাৎ ধর্মান্ধদের বহুল প্রচলিত কথা “জন্ম মৃত্যু সবই নাকি কারো হাতে” এই কথাটি সত্যি সত্যি ভুল প্রমানিত হতে যাচ্ছে। মানব জন্মের পদ্ধতি অনেক আগেই মানুষ তার দখলে নিয়েছেন। কিন্তু মৃত্যু এখনও তাদের দখলে ছিলো না। “দিমিত্রি ইটস্কভ” এর গবেষনাটি একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষনা হবার কারনে আমরা ২০৪৫ সালের আগে তার এই প্রজেক্টের সফলতা দেখতে পারবো না। তবে সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম সফল হেড ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন করে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা আমাদের আবার প্রমান করে দেখাল যে আসলে মানুষের মৃত্যু আমরা থামিয়ে দিতে সক্ষম। হেড ট্রান্সপ্লান্টেশনের ব্যাপারটি এই বছরের শেষে কোথাও করা হবে বলে আমাদের জানিয়েছিলেন ইতালির তুরিনো অ্যাডভান্সড নিউরোমডুলেশন গ্রুপের বিখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো। কিন্তু তা কোথাই অথবা কবে করা হবে তা আমাদের তখন নিশ্চিত করে কিছুই বলেননি।


এই সফল গবেষনা ও মানুষের মস্তিষ্ক ট্র্যান্সপ্ল্যানটেশন আমাদের অনেক আশার খবর দিচ্ছে। বিশেষ করে মহাকাশ যাত্রা ও মহাকাশ গবেষনার ক্ষেত্রে। কারন মহাকাশের যাত্রা ও এর দুরত্ব মানুষের একটি জীবনে সফল করা সম্ভব নয়। তাই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করে একজন মানুষের পক্ষে এই দুরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তাছাড়াও “দিমিত্রি ইটস্কভ” এর প্রজেক্ট অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক মেশিন এর ক্ষেত্রেও এটা এক বিরাট অবদান রাখতে চলেছে। পদার্থবিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী যেমন এক জীবনে কোন মানুষের দ্বারা মহাবিশ্বের এই আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রা প্রায় অসম্ভব ঠিক তেমনি ধর্মীয় কুসংস্কার এই ধরনের গবেষনার জন্য ক্ষতিকর। কারণ কোন ধর্মই আসলে জ্ঞান এবং বিজ্ঞানের চর্চা মুক্তভাবে করতে দিতে চাইনা।


আজ থেকে তিনদিন আগে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেন। তখন তিনি জানান খুব শীঘ্রই আমরা হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করতে যাচ্ছি এবং তার ফলাফল আপনাদের জানানো হবে। তারই ধারাবাহিকতাই গতকাল চীনে একটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে তিনি, অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো ও প্রফেসর জিয়াওপিং বিশ্বের প্রথম হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করতে সক্ষম হয়েছে। চীনের হারবিন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার জিয়াওপিং রেন ১৮ ঘণ্টা যাবত প্রায় ১৫০ জন সহযোগী ডাক্তার এবং নার্সের সহযোগে এই অপারেশনটি সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, আমরা সফল ভাবেই একজন মানুষের মাথা আরেকজন মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে প্রথমবারের এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনের প্রধান কুশলী ও দিকনির্দেশক হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইতালির তুরিনো অ্যাডভান্সড নিউরোমডুলেশন গ্রুপের বিখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো ও আরো অনেকে।


বিশ্বের উন্নত সকল দেশ বা পশ্চিমা দেশ গুলি রেখে চীনের মতো একটি দেশে এই ট্রান্সপ্লান্টেশন কেন করা হলো সেই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো বলেন আসলে বর্তমান মার্কিন সরকার ধর্মান্ধতার পক্ষে কথা বলে। আর তাই সেখানে এখন ধর্মীও মৌলবাদী ও জঙ্গীদের ভীতি কাজ করছে এধরনের গবেষনার ক্ষেত্রে। তারা কোনভাবেই এই হেড ট্রান্সপ্লান্টেশন সফল হতে দিবে না। আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সেসব দেশের জনগন জানিয়েছিলো এই কাজটি “ঈশ্বরের বিপক্ষে” তাই এটা করা ঠিক হবে না। তাই তারা ইউরোপকেও এই গবেষনার বাইরে রাখেন। আর অপরদিকে চীন সরকার এই বিষয়ে অনেক পরিষ্কারভাবে আমাদের সাহায্য করতে চেয়েছেন। আর চীনে অর্গানিক ডোনারও অনেক পাওয়া গিয়েছিলো তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই গবেষনা আমরা চীনেই করবো।


এই অপারেশন সম্পর্কে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো জানান, একজন প্যারালাইসড বা পঙ্গু মানুষের অর্থাৎ অচল দেহ সম্বলিত একটি মানুষের মস্তিষ্ক ও একজন ব্রেন ডেড বা অক্ষম মস্তিষ্কের মানুষের দেহ ব্যাবহার করে এই ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন করা হয়েছে। কম্পিউটার সিম্যুলেশন ও জটিল প্রোগ্রাম ব্যাবহার করে আগে থেকেই কিভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে সে সম্পর্কে সকলেরই ধারনা ছিলো। তারা মানুষের শরীরের মাথা ও মস্তিষ্ক আলাদা করার জন্য প্রথমে সুক্ষ্ম কিছু ডায়মন্ড স্কালপ্যেল ব্যাবহার করে তা আলাদা করেছিলো। আলাদা করার পরে অত্যান্ত সতর্কতার সাথে তারা শিরা, উপশিরা, ধমনী, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী ও স্পাইনাল কর্ড সংযুক্ত করে। সঠিকভাবে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে বলে কম্পিউটার স্যিমুলেশন অপারেশন সাকসেস বলে জানিয়েছে। অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো আরো জানিয়েছেন, এই অপারেশনের মুল সফলতা আসলে নির্ভর করেছে স্পাইনাল কর্ডের সঠিক সংযুক্তির উপরে যা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।


ডাক্তার “জিয়াওপিং রেন” এর আগে একটি বানরের দেহে মানুষের মস্তিষ্ক স্থাপন করে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তার মতে সেই অপারেশনে ভিন্ন প্রকৃতির দুইটি জীব হওয়ার কারনে মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের সঠিক সংযুক্তির অভাবে অপারেশনের মাত্র ২০ ঘন্টা পরেই সেই বানর মানব হাইব্রিডটি মারা গিয়েছিলো। তারপর তিনি সফলভাবে একটি সুস্থ ইদুরের মাথা আরেকটি ইদুরের দেহে ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট করেন এবং এখনও সেটি সুস্থ ভাবেই বেচে আছে। তিনি আরো বলেন আসলে এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট মানব ইতিহাসে কোন নতুন ঘটনা না। এর আগে আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর পুর্বে দুইটি বানরের ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করা হয়েছিলো এবং সেই হাইব্রিড বানরটি প্রায় ৮ দিন বেচে ছিলো যা পরবর্তিতে জীবানু সংক্রমনের কারনে মারা যায়। তখন চিকিৎসা বিজ্ঞান এতো উন্নত ছিলোনা যা বর্তমানে হয়েছে। আজ মানুষ অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারছে। এই গবেষনায় প্রথমে রাশিয়ার এক ৩০ বছর বয়ষ্ক নাগরিক যার নাম ভ্যালারে স্পিরিদিনভের এর মস্তিষ্ক অন্য একটি সুস্থ দেহে প্রতিস্থাপনের কথা থাকলেও পরবর্তিতে তিনি মত পাল্টান। এই চিকিৎসাতে মৃত্যু ঝুকি থাকার কারনে তিনি বলেন আমি পক্ষাঘাত গ্রস্থ অবস্থাতেই মারা যেতে চাই তাই আর সেখানে এই গবেষনা করা সম্ভব হয়নি।  


ডাক্তার জিয়াওপিং মানুষকে এমন এক আশা দেখাচ্ছেন যাতে মানুষ অমরত্বের খুব কাছাকাছি আছে। তিনি ইদুরের মধ্যে যে ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করেছেন তাতে খুবই আশাবাদী এটাও তেমন একটি সফল অপারেশন হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে ইতিমধ্যেই এই হেড ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে ট্রাম্পবাদীদের মধ্যে। কারণ অপারেশন করার পর ভুক্তভুগি মস্তিষ্কের এখনও জ্ঞান ফেরেনি, যদিও তার দেহের সমস্ত প্রক্রিয়া এখনও স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল আছে। তবে জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত এখনও বলা যাচ্ছে না তা কতটা সফল। একই সাথে ডাক্তার জিয়াওপিং আরো একটি আশা দেখাচ্ছে সেই মানুষদের যারা সারা জীবন পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে গ্লানি নিয়ে মৃত্যবরন করেন। তিনি যে এখানেই থেমে থাকবেন তাও নই। তিনি জানান আগামীতে স্টেম সেল ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনের কথাও তার মাথায় আছে। কারণ যেসমস্ত মানুষের মস্তিষ্কে জটিলতা আছে বা যাদের মস্তিষ্কের নিউরো সেল গুলো ড্যামেজ অবস্থায় আছে তাদের জন্য এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন কোন কাজে আসবে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যদি স্টেম সেল ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনে আরো অগ্রসর হতে পারে তাহলে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস এর মতো মটর নিউরন ডিজিস এ আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয় ধর্মীও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানব জাতি এই বিষয়টিকে কে কিভাবে নিচ্ছেন।

সুত্রঃ The Telegraph, The Guardian.

---------- মৃত কালপুরুষ

                ১৯/১১/২০১৭