সম্প্রতি ফেসবুকে
একটি প্রচারনা নিশ্চয় সকলের নজরে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে আসুন আমরা আগামী ৩০
নভেম্বর রাত ১১ টা ৫০ মিনিট থেকে আগামী কয়েকদিনের জন্য (সর্বোচ্চ ৯ দিন) মানে
ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ফেসবুক প্রফাইলের কভার ও প্রফাইল পিকচার
পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট দুইটি ছবি দিয়ে আমাদের একাত্বতা প্রকাশ করবো। সেই সাথে এটা করার মাধ্যমে আমরা তাদের স্মরন
করবো যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও মুক্তচিন্তার প্রচার ও প্রসারের জন্য রক্ত দিয়েছেন
এবং নিজের প্রান দিয়েছেন এক শ্রেনীর মানুষের হাতে। ছবি দুইটিতে খুব সামান্য কিছু
বিষয়ের মাধ্যমে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এখন পর্যন্ত আমি কোন
মুক্তমনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় বিশ্বাসী কাউকে দেখি নাই তারা এটার দ্বিমত করেছে
বা এই কাজটি করা যাবে না এমন কথা বলে যুক্তি দিয়েছে। আমার কাছেও আসলে মনে হয়েছে এইরকম
কোন বিষয় যেহেতু আমাদের বাংলাদেশ, ভারত সহ বিশ্বের সমস্ত বাংলাভাষী মুক্তমনাদের
মধ্যে এর আগে কখনই করা হয়নি তাই এটার সাথে থেকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।
যে কভার ফটো আর
প্রফাইল পিকচার এর কথা বলা হচ্ছে সেখানে আমি কোন উগ্রতা বা মেনে নেওয়া যাবে না বা
কাউকে অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে এমন কিছুই আমার নজরে আসেনি। কভার ফটোতে শুধু লেখা
আছে “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী”র লেখা “মিলিত মৃত্যু”র প্রথম দুইটি লাইন “বরং দ্বিমত
হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে” এই লাইন দুইটি পড়লে
আমার মনে হয় এতো সহজ করে এতো সংক্ষেপে মানুষের চিন্তার বন্ধ দরজায় আঘাত করার কথা
উপস্থাপন করা হয়েছে যা অন্য কোথাও আমি খুব কমই দেখেছি। আর তার নিচে লেখা আছে
“বিজয়ের মাসে তোমাদের স্মরনে”। তার নিচেই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে
হত্যার শিকার হওয়া বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও মুক্তচিন্তার চর্চায় যারা নিজেদের
প্রান দিয়েছিলেন তাদের ছবি। যেমন প্রথম থেকে (১)হুমায়ুন আজাদ, (২)আহমেদ রাজীব
হায়দার শোভন, (৩) অভিজিৎ রায়, (৪)ওয়াশিকুর রহমান বাবু, (৫)অনন্ত বিজয় দাস,
(৬)নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল), (৭)ফয়সাল আরেফিন দীপন, (৮)মাহাবুব রাব্বী
তনয়, ও (৯)জুলহাজ মান্নান। বাম পাশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনের ও
বিজয়ের একটি প্রতিকৃতি যা লাল রঙের বৃত্তের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এবং ঠিক সেই লাল
রঙের বৃত্তের উপরেই আছে বিশ্ব বিখ্যাত ভাস্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত একটি
ভাষ্কর্য “দ্যা থিংকার্স” এর প্রতিকৃতি যা মুক্তমনা বা ফ্রিথিংকার্সরা তাদের
প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে। এবং বাম পাশে কর্নারে দেখা যাচ্ছে কয়েকফোটা তাজা
রক্ত যার অনেক অর্থ দাড় করানো যায়।
আর প্রফাইল পিকচার
এর কথা যেটা বলা হচ্ছে শেখানেও বোঝা যাচ্ছে সেই কয়েকফোটা তাজা রক্তকেই মূল বিষয়
করা হয়েছে। তবে শুধুই রক্ত যে আছে শেখানে তা নয়। রক্তের নিচে দেখা যাচ্ছে
কুয়াশাচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশের মানচিত্র যার ঠিক উপরেই আছে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাত। আর
সেই হাতে ধরা আছে একটি কলম আর এই বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে আছে সাদা রঙের কুয়াশা টাইপের
কিছু দিয়ে যা মূলত আমাদের এই হাত ও বাংলাদেশের মানচিত্রটি ঠিক মতো দেখতে দিচ্ছে না
এমন কিছু বোঝানো হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে এই কুয়াশার মতো কোন একটি শক্তি আমাদের দেশের
জ্ঞান বুদ্ধি আর মুক্তভাবে চিন্তা করার পথকে বাধাগ্রস্থ করছে। যাই হোক, সব মিলিয়ে
আমার কাছে এই ছোট্ট একটি ছবির মধ্যে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।
আর সেই সাথে মনে হয়েছে এখানে এমন কিছুই নেই যা আমাদের সোস্যাল মিডিয়ার বা ফেসবুক
প্রফাইলের কভার ফটো আর প্রফাইল পিকচার করে মাত্র ৯ টা দিন আমরা রাখতে পারবো না।
আমার মতে এটা অবশ্যয় করা দরকার। বিশেষ করে আমি তাদের অনুরোধ করবো যারা সিনিয়র লেখক
আছেন এবং বাংলাভাষী মুক্তমনাদের মধ্যে পরিচিত মুখ। আমি চাই তারাও এটা করে আমাদের সবাইকে একত্রে থাকার জন্য
উৎসাহ দিবেন।
আমার কাছে মনে হয়েছে
এতোদিন সবাই যার যার মতো করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে লিখে, কেউ অডিও ভয়েস দিয়ে এবং
অনেকেই ভিডিও ব্লগিং এর মাধ্যমে তাদের মনের কথা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।
তবে এরকম কোন উদ্যোগ নিতে দেখিনি যাতে করে প্রকাশ পাবে এই মুক্তমনাদের মধ্যেও যে
একতা আছে সেই বিষয়টি। বাংলাদেশ ভারত সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই বাংলাভাষী
মুক্তমনারা আছেন যারা সমাজের গোড়ামী আর কুসংস্কার এর বিপক্ষে নানা ভাবে কথা বলে
থাকেন। তবে অনেকেই আছে যারা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাস করেও নানা কারনে চুপচাপ থাকেন।
তাদের জন্য এটা হবে সহমত প্রকাশ করার একটি বড় মাধ্যম। এমনও হতে পারে, এবার যদি এই
৯ দিনের জন্য সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মুক্তমনারা এই বিষয়টিকে পালন করে সবার কাছে
পৌছে দিতে পারে তাহলে আগামীতে প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসের প্রথম ৯ দিন এটা নিয়মিত
ভাবে পালন করা হবে। তবে সেটা নির্ভর করছে সবাই কি পরিমান সাপোর্ট করে এই বিষয়টি তা
দেখার উপরে। আর একটি বিষয় হচ্ছে এটি কিন্তু কোন ব্যানারে করা হচ্ছে না। কোন সংগঠন
বা কোন অর্গানাইজেশন এর সাথে জড়িত না। আমার জানামতে এর নেই কোন স্পন্সর। অর্থাৎ
এটা সম্পুর্ণ একটি প্রানের আয়োজন বলা চলে যা প্রকৃত স্বার্থহীন একটি কাজ হবে বলে
মনে করি।
এবার আসুন যেই কভার
ফটো নিয়ে আজকের আলোচনা সেই কভার ফটোতে যে বিষয়গুলা আছে তা একটু সংক্ষেপে জানার
চেষ্টা করি। প্রথমেই ফ্রান্সের বিখ্যাত ভাষ্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত শিল্প
“দ্যা থিংকার্স” নামের ভাষ্কর্যটি নিয়ে কিছু জানি। এটি একটি ব্রোঞ্জ ভাষ্কর্য যা
একটি পাথরের উপরে অবস্থিত। এই ভাষ্কর্যটিতে দেখা যায় একটি পাথরের উপরে শক্ত দেহের
একজন নগ্ন পুরুষ তার চিবুকটি ডান হাতের উপরে রেখে খুব গভীরভাবে চিন্তা করছেন। এই
ভাষ্কর্যটি অধিকাংশ সময়েই দর্শনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করা
হয়। এটার নাম “দ্যা থিংকার্স” হবার কারনে এটি মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসীদের প্রতিক
হিসেবেও সব যায়গায় ব্যাবহার করা হয়। মূল ভাষ্কর্যটি ফ্রান্সের প্যারিসে একটি
জাদুঘরে বর্তমানে সংরক্ষিত আছে তবে এই ভাষ্কর্যের ২৮ টি কপি সমস্ত পৃথিবীতে আছে
বর্তমানে। যার মধ্যে সব থেকে বড়টির উচ্চতা ১৮৬ সেন্টিমিটার বা ৭৩ ইঞ্চি। এবার আসুন
এখানে যাদের ছবি দেওয়া আছে তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি।
এখানে দেখা যাচ্ছে ৯
জন মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী ও মুক্তমনা সমাজে পরিচিত মুখের প্রতিকৃতি বা ছবি। যেমন
প্রথমে আছেন “হুমায়ুন আজাদ” জন্ম ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭
- মৃত্যু ১১ আগস্ট ২০০৪ যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর
সাহিত্যিক এবং রাজনীতিক ভাষ্যকার। তিনি বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরোধী এবং
বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্ম, মৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, নিরাবরণ যৌনতা, নারীবাদ, রাজনৈতিক এবং নির্মম সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য
১৯৮০'র দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ
করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং লেখার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণের
কারণে ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হত্যা প্রচেষ্টার শিকার
হন। তার পরে আছেন ‘আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন” ওরফে থাবা বাবা। আহমেদ রাজীব হায়দার
এর মৃত্যু হয় ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সালে। যিনি বাংলাদেশের একজন নাস্তিক ব্লগার ছিলেন। পেশায় স্থপতি
হায়দারের ব্লগের লেখাগুলি ২০১৩ শাহবাগ
আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। এই
আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা
যুদ্ধে পাকিস্তানপন্থীদের দ্বারা সংগঠিত গণহত্যার
বিচারের দাবী জানায়। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত পরিচয়ধারী
একদল দুর্বৃত্ত হায়দারকে হত্যা করেন। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর অঞ্চলে নিজস্ব বাসস্থান থেকে বের হওয়ার সময়
আহমেদ রাজীব হায়দারকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়। তাঁর
দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়, যে তাঁর
পরিবার ও আত্মীয়রা তাঁর দেহ শনাক্ত করতে অক্ষম হন। পরের
দিন তাঁর মরদেহ শাহবাগ স্কোয়ারে লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদস্থলে নিয়ে যাওয়া
হয়।
এর পরের ছবিটা সকলের
পরিচিত মুখ “অভিজিৎ রায়” এর। জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ - মৃত্যু ২৬ ফেব্রুয়ারি
২০১৫ তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী-মার্কিন প্রকৌশলী, লেখক ও ব্লগার। তিনি
বাংলাদেশের মুক্ত চিন্তার আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে সরকারের
সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারক
ছিলেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও তার স্ব-প্রতিষ্ঠিত সাইট মুক্তমনায় লেখালেখির
জন্য অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে বইমেলা থেকে বের
হওয়ার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা কে আহত করে। ২০১৫ সালে অভিজিৎ একুশে বইমেলা চলাকালীন বাংলাদেশে আসেন। ২৬শে
ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা একটি রিকশায়
করে একুশে বইমেলা থেকে
বাড়ি ফেরার সময় সাড়ে আটটা নাগাদ ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নিকটে
অপরিচিত দুস্কৃতিকারীদের আক্রমনের শিকার হয়ে মৃত্যবরন করেন। এরপরে আছেন “ওয়াশিকুর
রহমান বাবু” এই সেই বাবু যে অভিজিৎ রায়ের হত্যার পরে তার ফেসবুকের কভার ফটোতে
লেখেন “আই এম অভিজিৎ” ও “ওয়ার্ডস কেন নট বি কিলড” ২৭ বছর বয়সী এই যুবক বিভিন্ন
অনলাইন মাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তবে সব চেয়ে এক্টিভ ছিলেন ফেসবুকে। ২০১৫ সালের ৩০
মার্চ ঢাকার তেজগাঁওয়ে নিজের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধর্মীয় গোঁড়ামির
বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারনে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ওয়াশিকুর।
তারপরের ছবিটি
“অনন্ত বিজয় দাস” এর। লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায়
এবং ব্লগার বাবু হত্যার ১ মাসের মাথায় সিলেটে অনন্ত বিজয় দাস নামে আরেক ব্লগারকে
কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যিনি নিজেও মুক্তমনা ব্লগে লিখতেন এবং গণজাগরণ
মঞ্চে যুক্ত ছিলেন। তার লেখা বেশ কিছু বই আছে বর্তমানে। তারপরে আছেন “নীলাদ্রি
চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল)” এর ছবি যাকে আগস্ট ২০১৫ তে খিলগাঁও এর পূর্ব গোড়ানের
একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও
গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিলয় গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ
করতেন। তিনি ‘নিলয় নীল’ নামে
বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। তার ফেসবুক প্রফাইলও ছিল ওই একই নামে। তার পরের ছবিটি জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক “ফয়সাল
আরেফিন দীপন” এর। তাকেও ২০১৫ সালের অক্টোবরে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে
কুপিয়ে ভেতরে ফেলে রেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। সে মুক্তমনা লেখকদের বই
প্রকাশ করতো।
এবং সর্বশেষে আছেন “মাহাবুব
রাব্বী তনয় ও জুলহাস মান্নান”। ২০১৪
সালের জানুয়ারি মাসে একটি 'বিপ্লবী' কাজ করে ফেলেন বাংলাদেশের কিছু তরুন যাদের মধ্যে
তারা দুইজন ছিলো অন্যতম। তারা এই কুসংস্কারাছন্ন
দেশটিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি পত্রিকা প্রকাশ করে বসেন যেটির উদ্দেশ্য
সমকামীদের পক্ষে কথা বলা। বাংলা ভাষার এই পত্রিকাটির নাম ছিলো “রূপবান”। এর আগে
বাংলাদেশের সমকামীরা কখনো এমনভাবে প্রকাশ্য হয়নি। নিজেদের অধিকারের কথা তাদেরকে কখনো বলতেও শোনা
যায়নি। এই রূপবানের সম্পাদকীয় বোর্ডের একজন সদস্য ছিলেন “জুলহাজ মান্নান” এবং
তার বন্ধু “মাহাবুব রাব্বী তনয়”। ২০১৬ সালের
এপ্রিল মাসে তারা কলাবাগানে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে নিহত।
আপাতত এগুলিই ছিলো
এই কভার ফটোর সাথে সম্পৃক্ত সকলের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পালা। আমার মনে হয়েছে আমাদের
দেশে বর্তমানে আগের থেকেও বেশি এবং হঠাৎ করে মুক্ত চিন্তার অনেক প্রসার ঘটেছে যা
আমরা অনেকেই প্রত্যাক্ষ করছি। অনেকেই আজ আওয়াজ তুলছেন যারা এইভাবে মৃত্যুবরণ করেছে
তাদের পক্ষে। অনেকেই মনে করছে বিখ্যাত লেখক, লেখিকা সহ আজ যারা এই দেশ ছেড়ে অন্য
দেশে অবস্থান করছেন তাদের জন্য কথা বলার সময় এসেছে। আর তাই আর লুকিয়ে লুকিয়ে নয়
সবাই চাইছে যে কোন ভাবেই জ্ঞান-বিজ্ঞান আর মুক্তচিন্তার প্রচার আর প্রসার করে
নিজেদের মধ্যে এর চর্চার পরিধি বাড়াতে। আর তারই একটু ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মনে হয়েছে
এই উদ্দ্যোগকে আমার কাছে। আর যে কারনেই আমি অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এটির পক্ষে
কথা বলতে চাই এবং সাথে থাকতে চাই।
---------- মৃত
কালপুরুষ
২৯/১১/২০১৭














