ইসলাম
ধর্মে একটি আনকমন ক্যারেক্টার আছে যার কথা চিন্তা করে মানুষ ভয় পায়। তার নাম হচ্ছে
জ্বীন জাতি। এই জ্বীন জাতি মানুষকে দেখতে পারে, কিন্তু মানুষ এই জ্বীন জাতিকে
দেখতে পারে না। এই ক্ষমতা তারা স্পেশালি আল্লাহর কাছে থেকে চেয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ
বলেছেন কেউ এই জ্বীন জাতিকে অস্বীকার করলে সে কাফের হয়ে যাবে কোন মার্সি হবে না।
মুসলমানেদের ধারনা এই জ্বীন জাতি আল্লাহ তালা মানুষ জাতি সৃষ্টি করার অনেক আগে
সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল জ্বিন (আরবি ভাষায়: الجنّ; ইংরেজি: Al-Djinn) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৭২ নম্বর সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ২৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ২। সূরা আল জ্বিন মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় জ্বিন সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে।
আল্লাহ
অনেক আদর যত্ন করে এই জ্বীন বানিয়েছিলেন। যেহেতু এরা ইনভিজেবল তাই এদের দেখা সম্ভব
হয় নাই মানুষের পক্ষে। তবে নিউরো সায়েন্স বলে কিছু সিজোফ্রেনীয়া আক্রান্ত রোগী
তাদের দেখেছেন বলে দাবী করে থাকেন। এরা নাকি দেখতে মানুষের মতোও হয় আবার ইচ্ছা
করলে কুকুর, বিড়াল, বাঘ, ভাল্লুকও হতে পারে। এদের আবার নারী পুরুষ আছে। নারী
জ্বীনদেরকে পরী বলা হয়। তারা নাকি দেখতে খুব সুন্দর হয়। এটাও মানুষের দ্বারা দেখা
সম্ভব হয় নাই দেখেছেন কিছু সিজোফ্রেনীয়া আক্রান্ত রোগীরা তাদের কাছে শোনা কথা। যাই
হোক জ্বীন নিয়ে আল্লাহ বলেছেন “নিশ্চই
আমি জ্বীনদের কে মানুষের পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি।" তার মানে আল্লাহ যেহেতু
বলেছেন সেহেতু কেউ দেখুক আর না দেখুক একে আপনাদের মানতে হবেই।
জ্বীন
জাতি আল্লাহপাকের বেজায় আদরের জাতি খুব আদরের সহিত আল্লাহপাক জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি
করেছেন। ওই যে কথায় আছে না, অতি আদরে নষ্ট
হওয়া পুলাপাইন? জ্বীনগুলাও আল্লাহপাকের অতি আদরে নষ্ট হয়ে
গেছে। আদরের ঠেলায় আল্লাহপাক জ্বীন জাতির কিছু আব্দার মেনে নিয়ে তাদের কিছু
রুহানী ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন। যেমন:
১) মানুষ জ্বীন দেখবে না কিন্তু
জ্বীন মানুষকে দেখতে পাবে।
২) তারা যেকোন সময়ে দুনিয়াতে
আগমন ও প্রস্থান করতে পারবে কিন্তু স্থায়ীভাবে থাকতে পারবে না।
৩) এদের শরীর অতি সূক্ষ্ম হবে
বিধায় এদের গতি অনেক বেশি হবে।
৪) এরা যে কোনো মানুষের ভেতরে
প্রবেশ করতে পারবে এবং প্রস্থান করতে পারবে।
এতো দেখি একেবারেই হলোম্যান ছবির
মতো কাহিনী। পুরাই ইনভিজেবল ম্যান। বিভিন্ন হাদিসে বলা আছে এই জ্বীন জাতি আগুনের
তৈরি তাদের খাদ্য নাকি হাড় ও অন্য কিছু। তাহলে এখানে ভাববার বিষয় হচ্ছে এদেরকে কি
জাতীয় আগুন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যে বর্তমানে ভেন ফাইন্ডার নামের এক যন্ত্র
আবিষ্কার করা হয়েছে যা দিয়ে মানুষের শরীরের অতি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির ভেন
পর্যন্ত মানুষ চোখে দেখতে পারে, সেই যন্ত্র দিয়েও এদের দেখা সম্ভব হয় নাই। আবার
যদি কোন রশ্মি বা আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি দিয়েও আল্লাহ এই জ্বীন জাতিকে বানিয়ে
থাকতেন তাহলে সেটাও ফাইন্ড আউট করা সম্ভব হতো, কিন্তু তা হয়না। আবার এমন একটি ক্যামেরা
আছে যাতে হিট সেন্সর ব্যবহার করে যেকোন প্রানীর শরীর এর অবস্থান শনাক্ত করে থাকে
ও্য়াইল্ড লাইফ রিসার্চার আর ফটোগ্রাফারেরা, রাতের বেলাতে তাদের চোখে দেখার জন্য।
কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের কেউ এই জতীয় কোন প্রানী দেখেনি যার নাম জ্বীন। আপনারা
অনেকেই ইনফ্রারেড রে বা আইএফকআর রশ্মির কথা শুনেছেন যা দিয়ে আমরা ব্লুটুথ এর আগের
সময়ে এক মোবাইল দিয়ে আরেক মোবাইলে ডাটা ট্রান্সফার করতাম যদি এই জ্বীন জাতি সেই
ইনফ্রারেড দিয়েও তৈরি হতো তাহলেও মানুষের পক্ষে অন্তত চোখের দেখা দেখা সম্ভব হতো কিন্তু
না। তাহলে কেমন আগুন দিয়ে জ্বীন জাতি তৈরি করা হয়েছে যে কোন কিছুতেই তা ধরা পড়ে
না। আসুন একটু খুজে দেখি।
জ্বীন বা ইংরেজী Djinn এই জ্বীন জাতি হচ্ছে ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরআনে বর্ণিত একটি জীব বা সৃষ্টি। ইসলাম ধর্মের
আবির্ভাব এর পূর্বেও এই কথিত ক্যারেক্টার প্রাক ইসলামী যুগেও জ্বীন জাতি সংক্রান্ত
বিশ্বাস অন্যান্য আরব এবং এর কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যমান ছিল। আরবি জ্বীন শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কোন কিছু যা
গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী বা অনেক দূরবর্তী। কুরআনে
জ্বীন ও ইনসান (মানুষ) এই দুই জাতির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। বৈজ্ঞানিকেরা এখনও
জ্বীনের অস্তিত্বের প্রমাণ আবিষ্কারে সক্ষম হন নি। তবে বিভিন্ন মুসলমান সমাজে কিছু
কিছু মানুষ কর্তৃক জ্বীন বশীভূত করা বা জ্বীনের সঙ্গে আলাপচারিতা বা যোগাযোগের
বিষয়টি প্রচলিত আছে যাদেরকে নিউরো সায়েন্স বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়
সিজোফ্রেনীয়া আক্রান্ত মানুষ।
ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের অন্তত কয়েক হাজার
বছর পূর্বেও প্রাচীন আরবে জ্বীনের কিংবা সেরূপ কোন চরিত্রের আরাধনা প্রচলিত ছিল
বলে নৃতত্ত্ববিদেরা প্রমাণ পেয়েছেন। পালমাইরার নিকট বেথ ফাসি'এল থেকে প্রাপ্ত আরামিক লিপিতে
"জিনায়ে" কে "ভাল এবং ফলপ্রসূ ঈশ্বর" হিসেবে সম্মান জানানো
হয়েছে। এই ব্যাপারে তর্ক
আছে যে, "জিনায়ে"
শব্দটির থেকে আরবি জ্বীন শব্দের উৎপত্তি। কোরান এবং ইসলাম ও প্রাক-ইসলাম
যুগের সাহিত্যে অনেক সংখ্যকবার জ্বীনের উল্লেখ ইঙ্গিত দেয় যে জ্বীনের অস্তিত্বে
বিশ্বাস প্রাক-ইসলামিক বেদুইন ধর্মে বেশ প্রভাবশালী ছিল। যাইহোক, জ্বীন শব্দটি যে আরামিক থেকে আগত তা খৃষ্টানরা প্যাগান ঈশ্বরদের
ডেমন আখ্যা দেয়ার মাধ্যমে সে ব্যাপারে প্রমান পাওয়া গিয়েছে। যা পরবর্তীতে
আরবীয় লোকগাঁথায় প্রাক-ইসলামিক যুগে প্রবেশ করে। জুলিয়াস ওয়েলহসেন পর্যবেক্ষণ করেন যে এই ধরণের আত্মারা
জনশূন্য, অন্ধকার ও নোংরা
পরিবেশে বিরাজ করে যেখানে সচরাচর এদের ভয় পাওয়া হয়। প্রচলিত মতে, মানুষকে এদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলতে হয় যদিও এদের
বাস্তব অস্তিত্ব প্রশ্নস্বাপেক্ষ বা একেবারেই গল্প।
এছাড়াও আরো জানা যায় মিশরীয়
সভ্যতাই এই জাতীয় এক অশ্বরীরির কথা যা তদের বেশ কিছু ধর্মের মধ্যে উল্লেখ আছে।
তাদেরকেও আমরা জ্বীন বলতে পারি। পারস্য ও রোমানিয়ান সভ্যতাতে এই জাতিয় জ্বীন এর
কথা আছে ধরনা করা হয় পারস্য ও মিশরীয় সভ্যতা থেকে আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগে এই
জ্ব্বীন আইডিয়া প্রাক ইসলামিক যুগের প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ঢুকে যায়। এই
প্যাগানরা যখন মক্কা শহরের কাবা ঘরে মূর্তি পূজা করতেন তখন তাদের ধারনা ছিলো হাজার
হাজার জ্বীন নাকি এই কাবা ঘরের ভেতরে এসে প্রাথনা করে মানুষের সাথে। পরবর্তীতে যখন
মুহাম্মদ সাঃ ইসলাম নামে নতুন ধর্ম প্রচার শুরু করলেন এবং সব প্যাগানদের হত্যা করে
কাবা ঘরের মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেন তখন তার দরকার ছিলো এধরনের এক অদৃশ্য জাতির কথা
তার ধর্মে উল্লেখ করা। তাই সে এই জ্বীন নামের জাতিটিকেও এই ইসলাম ধর্মের সাথে যোগ
করে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাক ইসলাম যুগের পুর্বেও মানে হাজার হাজার বছর আগে থেকে
এদের চাক্ষুস কোন রেকর্ড পাওয়া যায়না। সেখানে ইসলাম ধর্মের বয়স তো খুবই কম তবে
জ্বীনের আগমন ইসলাম ধর্মে এভাবেই হয়েছে সেটা ইতিহাস থেকে পাওয়া যায়।
---------- মৃত কালপুরুষ
০৬/১০/২০১৭
































