শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

ইসলামিক ইনভিজেবল ম্যান বা জ্বীন জাতি।


ইসলাম ধর্মে একটি আনকমন ক্যারেক্টার আছে যার কথা চিন্তা করে মানুষ ভয় পায়। তার নাম হচ্ছে জ্বীন জাতি। এই জ্বীন জাতি মানুষকে দেখতে পারে, কিন্তু মানুষ এই জ্বীন জাতিকে দেখতে পারে না। এই ক্ষমতা তারা স্পেশালি আল্লাহর কাছে থেকে চেয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন কেউ এই জ্বীন জাতিকে অস্বীকার করলে সে কাফের হয়ে যাবে কোন মার্সি হবে না। মুসলমানেদের ধারনা এই জ্বীন জাতি আল্লাহ তালা মানুষ জাতি সৃষ্টি করার অনেক আগে সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল জ্বিন‌ (আরবি ভাষায়: الجنّইংরেজিAl-Djinnমুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৭২ নম্বর সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ২৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ২। সূরা আল জ্বিন মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় জ্বিন সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে।


আল্লাহ অনেক আদর যত্ন করে এই জ্বীন বানিয়েছিলেন। যেহেতু এরা ইনভিজেবল তাই এদের দেখা সম্ভব হয় নাই মানুষের পক্ষে। তবে নিউরো সায়েন্স বলে কিছু সিজোফ্রেনীয়া আক্রান্ত রোগী তাদের দেখেছেন বলে দাবী করে থাকেন। এরা নাকি দেখতে মানুষের মতোও হয় আবার ইচ্ছা করলে কুকুর, বিড়াল, বাঘ, ভাল্লুকও হতে পারে। এদের আবার নারী পুরুষ আছে। নারী জ্বীনদেরকে পরী বলা হয়। তারা নাকি দেখতে খুব সুন্দর হয়। এটাও মানুষের দ্বারা দেখা সম্ভব হয় নাই দেখেছেন কিছু সিজোফ্রেনীয়া আক্রান্ত রোগীরা তাদের কাছে শোনা কথা। যাই হোক জ্বীন নিয়ে আল্লাহ বলেছেন “নিশ্চই আমি জ্বীনদের কে মানুষের পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি।" তার মানে আল্লাহ যেহেতু বলেছেন সেহেতু কেউ দেখুক আর না দেখুক একে আপনাদের মানতে হবেই।


জ্বীন জাতি আল্লাহপাকের বেজায় আদরের জাতি খুব আদরের সহিত আল্লাহপাক জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। ওই যে কথায় আছে না, অতি আদরে নষ্ট হওয়া পুলাপাইন? জ্বীনগুলাও আল্লাহপাকের অতি আদরে নষ্ট হয়ে গেছে। আদরের ঠেলায় আল্লাহপাক জ্বীন জাতির কিছু আব্দার মেনে নিয়ে তাদের কিছু রুহানী ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন। যেমন:

১) মানুষ জ্বীন দেখবে না কিন্তু জ্বীন মানুষকে দেখতে পাবে।
২) তারা যেকোন সময়ে দুনিয়াতে আগমন ও প্রস্থান করতে পারবে কিন্তু স্থায়ীভাবে থাকতে পারবে না।
৩) এদের শরীর অতি সূক্ষ্ম হবে বিধায় এদের গতি অনেক বেশি হবে।
৪) এরা যে কোনো মানুষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে এবং প্রস্থান করতে পারবে।


এতো দেখি একেবারেই হলোম্যান ছবির মতো কাহিনী। পুরাই ইনভিজেবল ম্যান। বিভিন্ন হাদিসে বলা আছে এই জ্বীন জাতি আগুনের তৈরি তাদের খাদ্য নাকি হাড় ও অন্য কিছু। তাহলে এখানে ভাববার বিষয় হচ্ছে এদেরকে কি জাতীয় আগুন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যে বর্তমানে ভেন ফাইন্ডার নামের এক যন্ত্র আবিষ্কার করা হয়েছে যা দিয়ে মানুষের শরীরের অতি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির ভেন পর্যন্ত মানুষ চোখে দেখতে পারে, সেই যন্ত্র দিয়েও এদের দেখা সম্ভব হয় নাই। আবার যদি কোন রশ্মি বা আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি দিয়েও আল্লাহ এই জ্বীন জাতিকে বানিয়ে থাকতেন তাহলে সেটাও ফাইন্ড আউট করা সম্ভব হতো, কিন্তু তা হয়না। আবার এমন একটি ক্যামেরা আছে যাতে হিট সেন্সর ব্যবহার করে যেকোন প্রানীর শরীর এর অবস্থান শনাক্ত করে থাকে ও্য়াইল্ড লাইফ রিসার্চার আর ফটোগ্রাফারেরা, রাতের বেলাতে তাদের চোখে দেখার জন্য। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের কেউ এই জতীয় কোন প্রানী দেখেনি যার নাম জ্বীন। আপনারা অনেকেই ইনফ্রারেড রে বা আইএফকআর রশ্মির কথা শুনেছেন যা দিয়ে আমরা ব্লুটুথ এর আগের সময়ে এক মোবাইল দিয়ে আরেক মোবাইলে ডাটা ট্রান্সফার করতাম যদি এই জ্বীন জাতি সেই ইনফ্রারেড দিয়েও তৈরি হতো তাহলেও মানুষের পক্ষে অন্তত চোখের দেখা দেখা সম্ভব হতো কিন্তু না। তাহলে কেমন আগুন দিয়ে জ্বীন জাতি তৈরি করা হয়েছে যে কোন কিছুতেই তা ধরা পড়ে না। আসুন একটু খুজে দেখি।


জ্বীন বা ইংরেজী Djinn এই জ্বীন জাতি হচ্ছে ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরআনে বর্ণিত একটি জীব বা সৃষ্টি। ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব এর পূর্বেও এই কথিত ক্যারেক্টার প্রাক ইসলামী যুগেও জ্বীন জাতি সংক্রান্ত বিশ্বাস অন্যান্য আরব এবং এর কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যমান ছিল। আরবি জ্বীন শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কোন কিছু যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী বা অনেক দূরবর্তী। কুরআনে জ্বীন ও ইনসান (মানুষ) এই দুই জাতির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। বৈজ্ঞানিকেরা এখনও জ্বীনের অস্তিত্বের প্রমাণ আবিষ্কারে সক্ষম হন নি। তবে বিভিন্ন মুসলমান সমাজে কিছু কিছু মানুষ কর্তৃক জ্বীন বশীভূত করা বা জ্বীনের সঙ্গে আলাপচারিতা বা যোগাযোগের বিষয়টি প্রচলিত আছে যাদেরকে নিউরো সায়েন্স বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সিজোফ্রেনীয়া আক্রান্ত মানুষ।


ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের অন্তত কয়েক হাজার বছর পূর্বেও প্রাচীন আরবে জ্বীনের কিংবা সেরূপ কোন চরিত্রের আরাধনা প্রচলিত ছিল বলে নৃতত্ত্ববিদেরা প্রমাণ পেয়েছেন। পালমাইরার নিকট বেথ ফাসি'এল থেকে প্রাপ্ত আরামিক লিপিতে "জিনায়ে" কে "ভাল এবং ফলপ্রসূ ঈশ্বর" হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছে। এই ব্যাপারে তর্ক আছে যে, "জিনায়ে" শব্দটির থেকে আরবি জ্বীন শব্দের উৎপত্তি। কোরান এবং ইসলাম ও প্রাক-ইসলাম যুগের সাহিত্যে অনেক সংখ্যকবার জ্বীনের উল্লেখ ইঙ্গিত দেয় যে জ্বীনের অস্তিত্বে বিশ্বাস প্রাক-ইসলামিক বেদুইন ধর্মে বেশ প্রভাবশালী ছিল। যাইহোক, জ্বীন শব্দটি যে আরামিক থেকে আগত তা খৃষ্টানরা প্যাগান ঈশ্বরদের ডেমন আখ্যা দেয়ার মাধ্যমে সে ব্যাপারে প্রমান পাওয়া গিয়েছে। যা পরবর্তীতে আরবীয় লোকগাঁথায় প্রাক-ইসলামিক যুগে প্রবেশ করে। জুলিয়াস ওয়েলহসেন পর্যবেক্ষণ করেন যে এই ধরণের আত্মারা জনশূন্য, অন্ধকার ও নোংরা পরিবেশে বিরাজ করে যেখানে সচরাচর এদের ভয় পাওয়া হয়। প্রচলিত মতে, মানুষকে এদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলতে হয় যদিও এদের বাস্তব অস্তিত্ব প্রশ্নস্বাপেক্ষ বা একেবারেই গল্প। 


এছাড়াও আরো জানা যায় মিশরীয় সভ্যতাই এই জাতীয় এক অশ্বরীরির কথা যা তদের বেশ কিছু ধর্মের মধ্যে উল্লেখ আছে। তাদেরকেও আমরা জ্বীন বলতে পারি। পারস্য ও রোমানিয়ান সভ্যতাতে এই জাতিয় জ্বীন এর কথা আছে ধরনা করা হয় পারস্য ও মিশরীয় সভ্যতা থেকে আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগে এই জ্ব্বীন আইডিয়া প্রাক ইসলামিক যুগের প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ঢুকে যায়। এই প্যাগানরা যখন মক্কা শহরের কাবা ঘরে মূর্তি পূজা করতেন তখন তাদের ধারনা ছিলো হাজার হাজার জ্বীন নাকি এই কাবা ঘরের ভেতরে এসে প্রাথনা করে মানুষের সাথে। পরবর্তীতে যখন মুহাম্মদ সাঃ ইসলাম নামে নতুন ধর্ম প্রচার শুরু করলেন এবং সব প্যাগানদের হত্যা করে কাবা ঘরের মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেন তখন তার দরকার ছিলো এধরনের এক অদৃশ্য জাতির কথা তার ধর্মে উল্লেখ করা। তাই সে এই জ্বীন নামের জাতিটিকেও এই ইসলাম ধর্মের সাথে যোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাক ইসলাম যুগের পুর্বেও মানে হাজার হাজার বছর আগে থেকে এদের চাক্ষুস কোন রেকর্ড পাওয়া যায়না। সেখানে ইসলাম ধর্মের বয়স তো খুবই কম তবে জ্বীনের আগমন ইসলাম ধর্মে এভাবেই হয়েছে সেটা ইতিহাস থেকে পাওয়া যায়।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ০৬/১০/২০১৭     




বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৭

মিশরীয় সভ্যতা ও ইসলাম ধর্ম।


মুসলিম জাতির দাবি তারা পৃথিবীতে বিজ্ঞানের দিক দিয়ে সব চেয়ে এগিয়ে থাকা এবং জ্ঞান গর্ভ এক জাতি। কারন তাদের ধারনা তাদের প্রধান ঐশরিক কিতাব বলে প্রচলিত পবিত্র গ্রন্থ কোরান হচ্ছে সকল বিজ্ঞান জ্ঞানে পরিপুর্ন এমন এক কিতাব যেখানে বিগত ১৪০০ বছর ধরে বিজ্ঞান যত আবিষ্কার করেছে তা এবং আগামীতেও যত আবিষ্কার হবে তার সকল কথা সেখানে লেখা আছে বলে মুসলিম জাতির ধারনা। অর্থাৎ কোরান হচ্ছে সকল বিজ্ঞানের মূল। কিন্তু ইতিহাস দেখলে আমরা পাই অন্য আরেক নমুনা। এই ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার হাজার হাজার বছর আগে মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যা আবিষ্কার করে গিয়েছে তার কোন কিছুই মুসলিম বা আরব সভ্যতার মানুষের দ্বারা এই ১৪০০ বছরে করে দেখানো সম্ভব হয় নাই। শুধু তাই না মিশরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক একটা স্থপনা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের কাছে আশর্যের বিষয় হয়ে আছে। ইতিহাসবিদেরা যখন মিশরীয় সভ্যতার দিকে তাকান তখন তাদের চোখে থাকে রোমাঞ্চ, কৌতুহল, আর এডভেঞ্চার। তাদের দাবী এমন যে, পার্শবর্তী আরব্য সভ্যতা কোন আবিষ্কার তো দূর বরং যদি দাবি করা হয় মিশরীয় সভ্যতা থেকে তাদের গনিত বিদ্যা, জোতির্বিদ্যা, ও লেখার কৌশল কপি করে তারা বিজ্ঞানী হয়েছে তাহলে মুসলিম জাতির জবাব দেবার যায়গা থাকে না। দেখুন ইতিহাস কি বলে।


মিশরীয় সভ্যতার ফারাও রাজত্ব শুরু হয়েছিলো আনুমানিক আজ থেকে প্রায় ৫৫০০ বছর আগে অর্থাৎ খৃষ্টপুর্বাব্দ ৩৫০০ সালের দিকে। সে সময়ে মিশরে অনেক নতুন নতুন আবিষ্কার হয়েছিলো পাশাপাশি ধর্মীয় কুসংস্কারও ছিলো। এ পর্যন্ত মিশরে কয়েকশত দেব দেবীর আগমন ঘটেছিল তখনকার মন্দিরের পুরোহিতদের হাত ধরে। একসময় মিশরে ফারাও মামোস রাজাদের রাজত্ব শেষ হয়। শুরু হয় রামেসিস যাদেরকেও এই ফারাওদের বংশধর বলা হতো কিন্তু আসলে তারা মূল ফারাও ছিলো না। এই রামেসিস এর দ্বিতীয় ফারাও রাজা বা ইংরেজি রামেসিস ২ বলে যে রাজা ছিলো তাকে মুসলিম জাতি তাদের ধর্মীয় জ্ঞানের সাথে মিশিয়ে ফেলেছেন। এই ফারাও রাজা দ্বিতীয় রামেসিসকে মুসলমানেরা চেনে ফেরাউন নামে। আরবী ফৌরান, মিশরিয়া ফারাও আর ইংরেজিতে যা রামেসিস। মমি বিজ্ঞান ছিলো মিশরীয় সভ্যতার একটি সামান্য আবিষ্কার। তারা ধারনা করতো মানুষ মৃত্যুর পরে আবার নতুন করে আরেকটি জীবন পায় যেখানে গিয়ে সে আবার তার নতুন জীবন শুরু করে। ভবিষৎ এ কোনোদিন সে আবার পৃথিবীতে ফিরেও আসতে পারে তাই তার মৃত দেহ তারা মমি করতে শুরু করে। ধারনা করা হয় সেসময় মিশরে বিভিন্ন প্রানীর মাংশ আচার করে দীর্ঘদিন রেখে খাবার প্রচলন চালু ছিলো আর সেই ধারনা থেকে তারা মানুষের মৃত দেহকে মমি করার বিজ্ঞান আবিষ্কার করে। আশ্চর্যের ব্যাপারে হচ্ছে আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মমিতে ব্যবহার করা তাদের মূল উপাদান কি ছিলো তা আবিষ্কার করতে পারেনি। এরকম নানা রহস্য দিয়ে পরিপুর্ন আছে মিশরীয় সভ্যতা।


যখন আরব্য সভ্যতাতে প্যাগান ও আদীবাসী ধর্মাবলম্বীদের আরবের কুরাইশ বংস নামের এক আরব্য বেদুঈন জাতির হামলা শুরু হলো তখন থেকে সেখানে নতুন একটি ধর্ম শুরু হতে থাকলো যার নাম ইসলাম। অবশ্য কুরাইশ বংশের সকল পুর্বপুরুষেরা এই প্যাগান ধর্ম মেনে আসতো। মূলত প্রথমদিকে ইসলাম কোন ধর্ম ছিলো না। সকল প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করার পর আরবের মক্কায় একটি রাজনৌতিক দল গঠন করা হয়। এটা ছিলো একটি রাজনৈতিক সাংস্কৃতি যা পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মের প্রধান প্রচারক ও প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) যে ছিলো সেই কুরাইশ বংশের একজন তার হাত ধরে ইসলাম ধর্ম নামে প্রচারিত হতে থাকে। এই নবী মুহাম্মদ (সাঃ) সেই বিজ্ঞানে ভরা ইসলাম ধর্মের প্রধান ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান নিয়ে আসেন। আর ঠিক সেই সময় মিশরে রাজত্ব করছিলো হেরাক্লিয়াস নামের এক রাজা। ততদিনে মিশর জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে ধর্ম নামের কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসার সুত্রপাতও ঘটেছিলো যা পরে আবার ধর্মান্ধতাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলো তবে সেটা অন্য গল্প। এই সময় মিশরীয় সেই রাজা হেরাক্লিয়াস দক্ষিন আরবের সাথে বাণিজ্য স্থাপন করেছিলেন।


কিন্তু হেরাক্লিয়াস এর রাজ্যের সাথে আরবের ব্যবসা একসময় কাল হয়ে দড়িয়েছিলো সেসময়ের মিশরীয়দের জন্য। কারন আরব্য জাতির এই দলটি ছিল যুদ্ধ, মারামারি, আর ডাকাতি করাতে শ্রেষ্ট এক জাতি। তাদেরকে মিশরীরা উৎপাতকারী জাতি বলেই চিনতো। আরবের উত্তর পুর্বের সাম্রাজ্য আর দক্ষিন আরবের মধ্যে যখন এই যুদ্ধ আর হানাহানি লেগেই থাকতো তখন এক বালকের জন্ম হলো বর্তমান মক্কা নগরীতে যার নাম ছিলো মুহাম্মদ। এই বালককে পেয়ে সেখানকার মানুষেরা পেলো এক শক্তিশালী নেতৃত্ব। যে সময়টিকে বর্তমানে ইতিহাসবীদেরা একটি ধর্মীয় পুনর্জন্মের সমকাল বলে থাকে। তখন যদি আবার এই জাতীয় ধর্মের পুনর্জন্ম না হতো তবে আজ মানুষ এই কুসংস্কার থেকে মুক্ত থাকতে পারতো। এই বালক মুহাম্মদ পরবর্তীতে তার বয়স ৪০ হবার পর থেকে এই ইসলাম নামের নতুন ধর্মটি প্রচার করা শুরু করে। তখন আরবে খ্রিষ্টান, ইহুদী, প্যাগান ধর্মের প্রচলন ছিলো। তবে আরবের মানুষের ধরনা ছিলো এই সব ধর্ম অন্য দেশ বা বাইরে থেকে আরবে এসেছিলো তাই সেখানে একটি নতুন ঈশ্বর এর প্রয়োজন পড়লো।


এসবই তখন ঘটছিলো মিশর থেকে লোহিত সাগরের ওপারে আরব উপজাতির পবিত্র নগরী মক্কায় সময়টা ছিলো ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। মুহাম্মদ তখন যে ধর্ম প্রচার করা শুরু করেছিলেন তার আরেক নাম ছিলো আল্লাহর প্রতি সমর্পন। যারা তার কথা মতো তাদেরকে সমর্পন করেছিলো তাদের বলা হত মুসলমান। এই মুসলমানদের নিয়ে মুহাম্মদ একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে সমর্থ হয়েছিলো। কিন্তু প্রথম দিকে তার এই বানী বা ইসলামিক সাংস্কৃতি কেউ মানতে চাইছিলো না। একটা সময় ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ (সাঃ) তার কিছু অনুগত সমর্থক সহ মক্কা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। মক্কা থেকে ৩৫০ মাইল উত্তরে মদিনা নামক একটি নগরীতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে থেকে মুহাম্মদ (সাঃ) ধীরে ধীরে আরো কিছু অনুসারী তৈরি করেন। তাদের তিনি বলতে থাকেন এমন অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার কথা যিনি সাথে থাকলে তাদের যুদ্ধে হারাবার কেই নেই আর যদি যুদ্ধে গিয়ে মৃত্যুও হয় তাতেও কোন সমস্যা নেই। এতে আছে নিশ্চিত জান্নাত বা বেহেশত নামক এক অন্য পৃথিবীর বাসস্থান। এই কথা শুনে শুনে পুর্বের ধর্ম পরিবর্তন করে অনেকেই মুহাম্মদ এর অনুসারী হন। ফাইনালি ৮ বছর পর তার সেই দলবল নিয়ে আবার মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। মুহাম্মদ (সাঃ)এবং সেই বছরে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা দখল করে নেন। তখন বাইরের বিশ্বের খুব কম মানুষই জেনেছিলো মুহাম্মদ এর মক্কা বিজয়ের কথা। তাই প্রথমদিকে মিশরের রাজা হেরাক্লিয়াস এর পক্ষেও তা জানা সম্ভব হয়নি। আর তার পরপরই মুহাম্মদ (সাঃ) এই মুসলিম নামের যোদ্ধা দলটি আশেপাশে বেশ কিছু রাজ্য দখল করে নিতে সক্ষম হয়।


মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর সময় ৬৩২ খৃস্টাব্দে আরবের প্রায় সমগ্র জাতি এই ইসলাম নামক মুসলিম দলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়। মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর তার সঙ্গী হযরত আবু বকর তার উত্তরাধিকারী পান এবং পরবর্তিতে তার মৃত্যুর পরে আরেকজন সঙ্গী হযরত ওমর (রাঃ) তার উত্তরাধিকারী পান। ততদিনে মিশরের রাজা হেরাক্লিয়াস সিরিয়া সহ আর বেশ কিছু পারশ্য রাজ্য এমনকি মেসোপটেমীয়ার কিছু রাজ্য দখল করে ক্লান্ত হয়ে সীদ্ধান্ত নেন সে আর কোন যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। তার সাথে সিরিয়ার মনোফাইসাইট জনগন যুদ্ধের ব্যাপারে বিতৃষ্ণ ছিলো। আর তারা নতুন এই আরব্য শক্তি সম্পর্কে তেমন কিছু জানতো না তবে তারা নিশ্চিত ছিলো এই আরব্য বর্বর শক্তিটি কনস্টান্টিনোপলের ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ পছন্দ করতো না কারন তারা এই ইসলামকেই ধর্ম বলে মানতো। এসবের মধ্যেই ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দের ২০ আগষ্ট বর্তমান জর্ডানের যে নদীটি লোহিত সাগরে গিয়ে মিশেছে সেই ইয়ারমুক নদীর পাড়ে একটি যুদ্ধ হয়। এখানেও এই জাত জিহাদি মুসলিমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলো কারন তাদের কোন মৃত্যু ভয় ছিলোনা। সর্গে বা বেহেশতে যাবার আশায় তারা প্রানপন যুদ্ধ করে।


পরবর্তিতে মিসরের রাজা হেরাক্লিয়াস এর মৃত্যুর পর বিনা যুদ্ধে এই মুসলিম জাতি মিশর দখল করে নেয়। যেমনটি একবার হয়েছিলো সেই সময় থেকে ৩০০০ বছর আগে ১২তম ফারাও ফারাও মামোস এর সময়ে চাইনীজ হিকক্স জাতীর দ্বারা। এর পরেই মিশরীয় সভ্যতার অনেক আচার, রীতিনীতি, মুল্যবান সম্পদ আস্তে আস্তে আরবের দখলে চলে আসে। এমনকি ধারনা করা হয় মুহাম্মদ (সাঃ) যে মেরাজের গল্প বলে মুসলমানদের নামজ আর রোজার নিয়ম শিখিয়েছেন সেটাও কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই মিশরীয় সভ্যতাতে পালিত হয়ে আসছিলো। সে মিশরীয় প্রার্থনার সাথে এই মুসলিমদের নামাজের ৮০% মিল পাওয়া যায়। জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা বা শান্তির ও সুশৃঙ্খলার কথা ইসলামের ইতিহাস বা প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে কোথাও পাওয়া যায় না। ইসলামের ইতিহাস অটোমান সাম্রাজ্য, মিশরীয় সাম্রাজ্য দখল, মক্কা দখল এসবের কথা জানতে গেলে শুধুই দেখা যায় মুসলমানেরা ইসলাম ধর্মের নামে রক্তের হলিখেলায় মেতেছিলো সেসময়ে। সেখানে জ্ঞান বিজ্ঞান বা শিক্ষার কোন চিহ্ন ছিলো না। বরং শোনা যায় জ্ঞান ধ্বংশ করার কথা যেটা দিয়ে শেষ করবো লেখাটি।


একটি ইতিহাস আছে যেখানে গ্রীক ও রোমান গৌরবের আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরির কথা উল্লেখ পাওয়া যায় যা এই মুসলমান জাতির দ্বারা ধ্বংশ প্রাপ্ত হয়। দখলের পরে সেই লাইব্রেরির সমস্ত গ্রন্থসমূহ ওমর (রাঃ) এর সামনে নিয়ে আশা হয়। বিভিন্ন হাদিসে বলা আছে তিনি বলেছিলেন “এই কিতাবগুলি যদি পবিত্র কোরানের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ না হয় তাহলে এগুলি অপ্রয়জনীয়, আর যদি পবিত্র কোরানের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন না হয় তাহলে এগুলি ক্ষতিকর। আর তাই উভয় ক্ষেত্রেই এগুলি ধ্বংশ করা একান্ত প্রয়োজন”। তার পরে কয়েক শতাব্দী ধরে মিশরের খ্রিস্টান শাসকদের পৌত্তলিক বিরোধী শক্ত অবস্থানের ফলে ধ্বংশ করার মতো খুব কম গ্রন্থই টিকে ছিলো যা থেকে পুর্বের ইতিহাস জানা যায়।  

----------- মৃত কালপুরুষ

                 ০৬/১০/২০১৭

মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

মুর্তি পূজা, হুবাল দেবতা ও ইসলাম ধর্ম (২য় পর্ব)


হুবাল দেবতা সম্পর্কে আমি আগের লেখাটিতে আপনাদের হুবালের পরিচয় দিয়েছিলাম সাথে তার তিন কন্যা লাত, উজ্জা আর মানাত এর সাথেও সংখিপ্ত পরিচয় করিয়েছি। আমার সেই লেখাটিতে এক ভাই একটি মন্তব্য করেছিলেন। তার মন্তব্য ছিলো এরকম, যেই হুবাল বর্তমান সৌদিআরব এর মক্কা শহরের কাবা শরিফ এর প্রধান দেবতা ছিলো সেই হুবালের মুর্তি বর্তমানে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কো তে দামাস্কাস মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। যখন হুবালের মুর্তি সংরক্ষন করা বা স্থানান্তর করা হয় তখন মুর্তিটির একটি হাত (ডান হাত) ভাঙ্গা ছিলো এবং সিরিয়ার বাদশা হাফিজ আল আসাদ সরকার সেই হাতটি প্রতিস্থাপন করেন সোনা দিয়ে। এটা ছিলো তার করা মন্তব্যের মূল কথা কিন্তু সময়কাল তিনি উল্লেখ করেনি সেখানে। তার কথায় একটু দ্বিমত আছে আমার। বিষয়টি বড় বলে মন্তব্য করে উত্তর দেওয়া সম্ভব না তাই এই লেখার প্রথমেই তা যোগ করলাম।

আমরা হিশাম ইবনে আল কালবি লিখিত কিতাব "আল-আসনাম" থেকে জানতে পারি, হুবালের মূর্তিটি আঁকা ছিলো যার ডান হাত তখনই ভাঙা ছিলো এবং সেটা সোনার হাত দিয়ে প্রতিস্থাপিত। এখন আমার কথা হচ্ছে বর্তমান সিরিয়া নামের দেশটির একটি শহর এর নাম হচ্ছে হোমস। আর এই শহরের বর্তমান বয়স প্রায় ২০০০ বছর। কিন্তু সুলেমানি সাম্রাজ্য বা অটোমান সাম্রাজ্য শুরুর ইতিহাস কিন্তু ১২৯৯ খ্রিষ্টপুর্ব থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯১৪-১৮ সাল পর্যন্ত। তাহলে এই হোমস শহরে যখন মানুষ বসবাস শুরু করে তখন কিন্তু সেই যায়গার বা সেই দেশের নাম সিরিয়া ছিলো না। আর আমরা জানি ইসলাম ধর্মানুসারীদের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে এই হুবাল অনুসারীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন যার নাম বদরের যুদ্ধ। আর তার ৬ বছর পরে তৎকালীন মক্কা শহর দখল করার পরে বর্তমান কাবা শরিফ যা তখন ছিলো এই হুবাল দেবতার মন্দির সেই মন্দির থেকে হুবাল সহ সর্বোমোট ৩৬০ টি মুর্তি সরিয়ে ফেলেন বা একেবারেই ধ্বংস করে ফেলেন যাতে পরবর্তিতে মুহাম্মদ (সাঃ) এর তৈরি করা ইসলাম ধর্ম বিতর্কিত না হয়। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) প্যাগান ধর্মের সম্পৃক্ততা ধ্বংস করেছিলেন সাদ ইবনে যায়িদ আল আশহালি এর সাথে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে। তাহলে বর্তমানে যদি দামস্কাস মিউজিয়ামে কোন হুবালের মুর্তি সংরক্ষিত থাকে সেটা কি এই হুবাল। আর হলেও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তখন কি ধ্বংস করেছিলেন।

আবার আমরা হুবাল প্রসঙ্গে ফিরে যায়। ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মেরও অনেক আগে মানে কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই মক্কা শহরের এই কাবা নামক মন্দিরটি বিভিন্ন ধর্মীয় মানুষের একটি ধর্মীয় উপাশনালয় ছিলো। কাবা প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া একটি নাম। কাবা শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে চারকোনা বা বর্গাকার। প্যাগান ধর্মাবলম্বি সহ মক্কার আদীবাসীদের বিভিন্ন দেব দেবীর মুর্তিতে কাবা পরিপুর্ন ছিলো। সেখানে একই সাথে অনেক ধর্মের মানুষের অনেক রকম আচার অনুষ্ঠান পালন করা হত। যায়গাটি ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার আগ পর্যন্ত একটি সাংস্কৃতিক অঙ্গন হিসেবেও পরিচিত ছিলো সেখানে নাচ গান এর কথাও উল্লেখ আছে অনেক যায়গায়। ছবি আকার প্রতিযোগিতা হতো কাবা সহ তার আশেপাশের অঞ্চলে। আর বর্তমানে যে কাবা শরিফ তা ছিলো এই হুবাল দেবতার নামে উৎসর্গ করা মন্দির। আর এই কাবা সহ মক্কার প্রধান দেবতা ছিলো এই হুবাল। সেই হুবালের তিন কন্যাতিন প্রধান দেবী লাত, উজ্জা ও মানাতের মূর্তি ছিল এই কাবা শরিফে ও আরো দুইটি কাবা ঘরে যা পরে ইসলাম প্রচারক নবী মোহাম্মদ (সাঃ) তার দলবল নিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন।

ইসলামের আজকের দিনে আল্লাহ্‌ বলতে যেমন একমাত্র ঈশ্বর বোঝায়, ইসলাম আবির্ভাবের পুর্বে আরবে তা ছিল না। আল্লাহ শব্দটির ইতিহাস ইসলামের চেয়ে অনেক প্রাচীন এবং বহুল প্রচলিত। আল্লাহ্‌শব্দটির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মতামত পাওয়া যায়। নবী  মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাবার নাম ছিল আবদ আল্লাহ্‌ বা আব্দুল্লাহ ইবন আবদ আল মুত্তালিব। আবদ আল্লাহ বা আব্দুল্লাহ অর্থ আল্লাহ্‌-এর দাস। আমরা জানি যে নবী মোহাম্মদ এর পিতা তার জন্মের আগে মারা গিয়েছেন। আর ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু হয়েছে মুহাম্মদ (সাঃ) এর বয়স যখন ৪০ বছর তখন থেকে। তার আগে কিন্তু ইসলাম ধর্ম বা তার প্রধান ঈশ্বর আল্লাহ ছিলেন না। তাহলে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা কোন আল্লাহর দাস ছিলেন।  প্রাক-ইসলামী খ্রিস্টান, ইহুদি ও হানাফি নামে পরিচিত একেশ্বরবাদী আরবরা বিসমিল্লাহ্‌শব্দটিও ব্যবহার করত। আরবের শিলালিপিগুলিতে ইসলামের আবির্ভাবের কয়েক শতাব্দীর আগেও আল্লাহ্‌’-কে সর্বোচ্চ দেবতা বা সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারনা করা হয় এই আল্লাহ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে এই হুবাল দেবতা থেকে। হুবালের থেকে আরেকটু কম ক্ষমতার দেবতা ছিলেন মানাফ নামের আরেক দেবতা। মক্কাবাসীদের আরেকটি অন্যতম দেবতা ছিলেন এই মানাফ(আরবি: مناف)তিনি ছিলেন নারী ও ঋতুস্রাবের দেবতা। যার নামে মিল রেখে তখনকার সময়ে শিশুদের নাম রাখা হত। যেমন, Abd Manāf al Mughirah ibn Quai নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্র-প্র-পিতামহ, Hashim ibn ‘Abd Manaf al Mughirah নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রপিতামহ এবং Wahb ibn `Abd Manaf নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাতা আমিনার পিতার নাম ছিলো।

এহাড়াও তখন মক্কায় তিন প্রধান দেবী ছিলো এই দেবতা হুবাল এর তিন কন্যা লাত, উজ্জা ও মানাত। এদের প্রত্যেকের বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা এবং কাজের ক্ষেত্র ছিল এবং মক্কা কাবা ও তাইফের কাছে মূর্তি সহ মন্দিরও ছিল। সেই সকল মূর্তিই পরিবর্তীতে বদরের যুদ্ধে ও মক্কা দখলের পরে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে যাতে ইসলাম ধর্ম বিতর্কিত না হয়।

লাত ছিলো সমস্ত আরবের দেবী যাকে চন্দ্রের দেবী বলা হত। লাত বা আল-লাত ছিল আরবের প্রাক-ইসলামী যুগের একজন দেবী। সে মক্কার তিনজন প্রধান দেবীর একজন। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফের ৫৩ নম্বর সুরা নজমের ১৯ নম্বর আয়াত বা বাক্যে লাতের কথা বর্ণিত হয়েছে, যা থেকে জানা যায় ইসলাম-পূর্ববর্তী সময়ে আরবের অধিবাসীগন মানাত ও উজ্জার সাথে লাতকেও ঈশ্বরের মেয়ে হিসেবে বিবেচনা করতো। মতান্তরে, আল-লাত (ইলাহ) থেকেই আল্লাত বা আল-ইলাহ বা আল্লাহ নামের উৎপত্তি, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ স্ত্রীবাচক এবং সেই পৌরাণিক দাবিই বেশি জোরালো।

এবার উজ্জা কে নিয়ে আলোচনার পালা। উজ্জা ছিলো প্রাক ইসলামিক যুগে মক্কার কাবা ঘরে অবস্থিত তিন মুর্তি লাত ও মানাতের মাঝখানের মুর্তি। এই উজ্জাকেও সেই সময়ের কুরাইশ বংশের লোকেরা হুবালের মতো সমৃদ্ধি ও কল্যানের আশায় পুজা করতো। মক্কা বিজয়ের পর নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নির্দেশে খালিদ বিন ওয়ালিদ তার একটি অভিযানের মাধ্যমে নাখলা নামক স্থানে উজ্জার প্রতি উৎসর্গীকৃত একমাত্র মন্দির ও তার ভেতরে অবস্থিত উজ্জার দু'টি মূর্তিই ধ্বংস করে দেন।

মানাত হলো ইসলাম-পূর্ব যুগে মক্কায় পৌত্তলিকদের তিন প্রধান দেবীর অন্যতমা আরেক দেবী। আল লাত, উজ্জা ও মানাত এই তিন দেবীর মধ্যে মানাত সবচেয়ে প্রাচীন। মতান্তরে, মানাতকে হুবালের স্ত্রীও বিশ্বাস করে কেউ কেউ। প্রাচীন আরবগণ তাদের সন্তানদের নামকরণ আবদ মানাত এবং যায়িদ মানাত করতো। মানাতের মূর্তি কুদায়িদ-এর নিকটবর্তী সমুদ্র উপকূলে ছিল, যা মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থান। আরবগণ তাকে অর্চনা ও তার কাছে উৎসর্গ করতো। আউস, খাজ্রায, মক্কা-মদিনা ও তাঁর আশেপাশের নাগরিকরা তার পূজা করতো, তার কাছে বলি দিতো এবং তাকে নৈবেদ্য প্রদান করতো। আউস, খাজ্রায এবং ইয়াশ্রিবরা তীর্থযাত্রায করতো বর্তমানে মুসলমানেরা যেমন হজ্জ্ব পালন করে থাকে। হজ্জ্ব শব্দের পুরাতন অর্থ হচ্ছে মুর্তি দর্শন করা। তীর্থযাত্রার পরে তারা বাড়ি ফিরতো না বরং যেখানে মানাত পূজা হয়েছিল, সেখানে মস্তকমুণ্ডণ করতো এবং কিছু সময় অতিবাহিত করতো। মানাত দর্শন না করা পর্যন্ত তারা তীর্থযাত্রা অসম্পূর্ণ মনে করতো। বর্তমানে হজ্বগামী হাজ্বীদের যেমন মাথামুণ্ডণ করতে হয়।

ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত আরবগণ মানাতের পূজা করত। মানাতের মন্দির নবী মুহাম্মদ (সাঃ) নির্দেশে সাদ ইবনে যায়িদ আল আশহালি জানুয়ারি ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে ধ্বংস করেন।

এই লেখাটিতে ইচ্ছা ছিলো হুবাল দেবতা কিভাবে তৎকালীন আরবের কয়েক হাজার বছর ধরে প্রচলিত প্যাগান ও আরবের আদীবাসী ধর্মানুসারীদের মধ্যে এসেছিলো সেটা নিয়ে কথা বলার। কিন্তু হুবাল ও তার তিন কন্যা লাত, মানাত ও উজ্জা সম্পর্কে এই তথ্য গুলোও দরকার ছিলো আগে জানার। পরবর্তি লেখাতে বর্তমান কাবা ঘর ও ধ্বংস করে ফেলা আরো দুইটি কাবা ঘর ও হুবাল সম্পর্কে আরো জানানোর চেষ্টা করবো।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০৪/১০/২০১৭







সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০১৭

আইএসআইএস এর স্বীকারোক্তি ও ট্রাম্পের অস্বীকার। (লাস ভেগাস হামলা)


গতকাল রাতে আমেরিকার লাস ভেগাস স্ট্রেটের নামকরা ক্যাসিনো ও নাইটক্লাব মান্দালয় বে ক্যাসিনো সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে জনপ্রিয় এক সঙ্গীত গ্রুপ ও সংগীতশিল্পী জ্যাসন আলদিয়ান এর  কনসার্ট চলার সময় রুট নাইনটি ওয়ান হারভেস্ট নামের অনুষ্ঠানে সমবেত প্রায় ২২০০০ দর্শকের উপর বেপরোয়া গুলি চালায় এক বন্দুকধারী। স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই বন্দুকধারী মান্দালয় বেতে অবস্থান নিয়ে কনসার্টে সমবেতদের উপর গুলি চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। স্থানীয় সময় রোববার (অক্টোবর ০১) দিবাগত রাতে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৮ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুলো। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫১৫ জন (স্কাই নিউজ সংবাদ)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে। স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী এক হামলাকারীকে পরে মান্দালয় বের ৩২ তলায় কোণঠাঁসা করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বন্দুকধারী বলে পুলিশ জানলেও সংবাদ মাধ্যম গুলো জানাচ্ছে সে নিজেই আত্তহত্যা করছে।

আমার কাছে এখন পুরা ঘটনা টম ক্রুজের ২০১২ সালের মুভি জ্যাক রিচার্ড নেভার গো ব্যাকএর মতো মনে হচ্ছে। ঘটনার সাথে সাথেই বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াতে হামলার ভিডিও সরাসরি দেখা যায় উপস্থিত দর্শকদের ক্যামেরাতে। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। ঘটনার পর এক টুইট বার্তায় ডোনাল্ড জ ট্রাম্প বলেন, লাস ভেগাসের ভয়াবহ হামলার হতাহতদের এবং তাদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাচ্ছি। ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন। এই ব্যাপারে ইনভেস্টিগেশন চলছে এবং ইসলামি জঙী গোষ্ঠি আইএসআইএস এর মধ্যেই স্বীকার করেছে এই হামলার কথা। আরো প্রমান পাওয়া যাচ্ছে যে স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারীকে কয়েক মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে এবং একটা সময় সে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশেই সেনা সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তাই ইসলামি জঙী সংগঠনের সাথে তার সম্প্রিক্ততা থাকা অস্বাভাবিক কিছুই না। কিন্তু শুরু থেকেই ট্রাম্প সরকার ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা গুলি জানিয়ে আসছে এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে।

আসলে আমাদের ভাবার বিষয় এখানে। দেখুন ট্রাম্প ইলেকশনে জয়ী হবার পর থেকে বিশ্ববাসীকে নানান গল্প শুনিয়ে এসেছেন। আসলে ট্রাম্প হচ্ছে একজন খাটি বা ১০০% ব্যবসায়ী মানুষ। মাথার হ্যাট থেকে শুরু করে জাহাজের ব্যবসা পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ছড়ানো আছে তার। আজ পর্যন্ত সে তার ব্যাক্তিগত সম্পতির পরিমান সাধারন জনগনের কাছে প্রকাশ করেনি। আচ্ছা বাদ দিলাম, এগুলা সবই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার আর সে প্রেসিডেন্ট হবার আগে থেকেই একজন বিলিয়নিয়ার। কিন্তু নির্বাচিত হবার আগে ওবামা সরকারের সময় সে, যে বয়ান গুলা দিয়েছিলো সেগুলা কি সে রাখতে পেরেছে একটাও। ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠি আইএস দ্বারা গতকাল যে হামলা লাস ভেগাসে হয়েছে এবং তাতে যে রক্তের হলি খেলা হয়েছে এটা যদি সে বা তার সরকার বা আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই যদি তা প্রকাশ করে তাহলে ট্রাম্পের জবাব দেবার যায়গা থাকে না। তাই সে কৌশলে এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে নাকি ভেবে দেখুন।

কিন্তু এরকম একটা সময়ে আবার জঙী গোষ্ঠী আইএসআইএস এই হত্যা কান্ডের দ্বায় স্বীকার করে ট্রম্পের ভাষ্যকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করলো। আইএস এর যে ওয়েবসাইট আছে তা সাধারনের জন্য উন্মুক্ত নয় তাই আমরা সরাসরি তা দেখতে পারি না। প্রচলিত সার্চ ইঙ্গিন গুলোর কোনটাই আইএস এর সাইট শো করে না কারন আইএস জঙ্গীরা তাদের নিজস্ব ভিপিএন সার্ভার ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু জঙ্গী গোষ্ঠি আইএস যে তাদের ওয়েবসাইটে এই হামলার কথা স্বীকার করেছে তা বর্তমানে গার্ডিয়ান, ইনডিপেন্ডেন্ট, নিউ ইয়র্ক পোস্ট, দা সান, সিএনএন সহ আরো অনেক মিডিয়া তা প্রকাশ করেছে।


এখন কথা হচ্ছে দুই দিন আগেই আমারা শুনেছিলাম চীন ইসলাম ধর্মানুসারীদের প্রধান ধর্মীয় কিতাব পবিত্র কোরান শরিফ কে একটি জঙ্গী ও উস্কানি মূলক বই হিসেবে চিহ্নিত করে সেই পবিত্র গ্রন্থ কাছে রাখা ও বহন করা বা সংরক্ষন করা সম্পুর্ন নিষেধ ঘোষনা করেছে এবং সকল কোরান শরিফ মুসলিম নাগরিকদের নিকটস্থ পুলিশ ষ্টেশনে জমা দিতে বলেছে। তাদের ধারনা মুসলমান জাতী এই কোরান শরিফ পড়ে আরো বেশি সন্ত্রাসী আর জঙ্গী হচ্ছে। কারন সেখানে লেখা আছে জিহাদই হচ্ছে একমাত্র বেহেস্তে যাবার পথ। জিহাদ করলে সরাসরি জান্নাত পাওয়া যায়। এমন ধারনা থেকে তারা এই জাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আজকের এই লাস ভেগাসের হামলাকারী আবার কি প্রমান করলো সেটা সত্য হতে পারে ? বা আইএসআইএস জঙ্গীরা মুসলিম নাও হতে পারে ?
লাস ভেগাসের পুলিশ জানিয়েছে স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারী মাত্র কয়েক মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলো। সে মূলত আমেরিকার নেভাডা স্ট্রেটের একজন বাসিন্দা ছিলো সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পর সে লাস ভেগাসে এসে বসবাস করছে। এখন কথা হচ্ছে সে যদি কোন মানুষিক রোগী হতো বা তার অন্য কোন সমস্যা থাকতো তাহলে একই সাথে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি সে হইতো করতে পারতোনা সেই ৩২ তলার একটি হোটেলের কক্ষ থেকে। যেখানে পুলিশ সর্বোমোট ১০ টি আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছে। পুলিশ দাবী করছে তাকে নাকি তারা গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু এখানে বলে রাখি অনেক সংবাদ মাধ্যম তার আগেই জানিয়েছে যে সে গুলি করে মানুষ হত্যা করার পর নিজেই আত্তহত্যা করেছে। সেটা সাধারনত জঙ্গী বা জিহাদি আত্তঘাতীরা করে থাকে। আর এভাবেই তারা মনে করে তাদের সারা জীবনের পাপ মুক্ত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করলো।

আরো কিছু তথ্য দিচ্ছি একটু ভেবে দেখবেন। স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারী তার কর্ম জীবন অতিবাহিত করেছে সেনা সদস্য হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে। এই জাতীয় সরকারী চাকুরীজীবিরা ধারনা করে যে তারা সারা জীবন যে পাপ করেছে তা থেকে মুক্ত হতে হবে। একটা সময় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তদের ভেতরে মৃত্যু ভয় কাজ করতে থাকে। আর সেই মৃত্যু ভয় থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাসে তাদের বিশ্বাস স্থাপন করতে থাকে। কারন ধর্ম গুলি এটা দেখায় যে মানুষ সারা জীবনে যে পাপ নামক কোন এক বস্তু করবে তা থেকে মুক্তির উপায় আছে। আর সেই মুক্তি লাভের জন্য তারা এই জাতীয় ধর্ম একটু গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে থেকে। এটাই হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ীদের একটি বড় ধরনের প্লাস পয়েন্ট। তারা এই সময় ব্যক্তির সম্পুর্ন মানুষিকতা পরিষ্কার বুঝতে পারে এবং তাকে দিয়ে যে কোন ধরনের কাজ করিয়ে নিতে পারে। যেমন মুসলমান জাতী বিশ্বাস করে যে জিহাদ, কিতাল, কিসাস, আল-কাতল সবই হচ্ছে জান্নাতে যাবার সহজ পথ। তারা এটা মানে তলোয়ার এর নিচেই হচ্ছে জান্নাত তাই তারা জিহাদ করতে বলে।

আসলে এই ঘটনাটি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি বন্দুকধারী হামলা বলা হচ্ছে। কারন এর আগে সেদেশে একটি হামলায় সর্বোচ্চ ৪৯ জন এর মৃত্যু হয়েছিলো। কিন্তু এটি তা ছাড়িয়েছে। পা্ঠক এখানে আমার কথা ভুল থাকতে পারে বা আপনাদের দ্বিমত থাকতে পারে যা আপনারা জানাতে পারেন। আমি এই হামলায় নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও শোক প্রকাশ করছি।   

---------- মৃত কালপুরুষ

           ০২/১০/২০১৭

রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৭

কোরান শরিফ কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ?


গতকাল থেকেই একটি সংবাদ ফেসবুক সহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম গুলিতে ব্যপক ভাবে প্রচারিত হচ্ছে দেখে এই বিষয়টি নিয়ে লেখার প্রয়োজন মনে করলাম। গত আগস্ট ২০১৭ তে আমরা সবাই একটি সংবাদ শুনেছিলাম যে, চীনে মুসলমানদের জন্য যে প্রধান উপাশনালয় বা মসজিদ গুলি আছে সেগুলি থেকে সমস্ত লাউড স্পিকার খুলে ফেলার আদেশ দিয়েছেন সেদেশের সরকার। কারন লাউড স্পিকার ব্যবহার করে তারা তাদের ধর্মানুসারীদের মসজিদে ডাকার পাশাপাশি নাকি আরো অন্য সাধারন মানুষদের মধ্যে শব্দ দূষন করছিলো দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ আছে অনেকের। এরই ধারাবাহিকতায় সেই মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত মসজিদ থেকে লাউড স্পিকার খুলে ফেলা হয়। আপনারা হয়তো জানবেন যে বিশ্বের সমস্ত উন্নত দেশে শব্দ দূষন এর উপরে একটি আইন আছে এবং লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে হলে সেই আইন মেনে করতে হয়। আমেরিকা ও ইউরোপের মসজিদ গুলির কথা বলি, সেখানে এমন ভাবে মসজিদ আছে যা কেউ বুঝতে পারবে না। নিজস্ব কোন ভবন নেই। সাধারন অফিস বা কমার্শিয়াল এরিয়াতে ফ্লোর ভাড়া করে মসজিদ নামে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সমস্ত কাজ সেখানে করা হয় মসজিদ মনে করে। কোন লাউড স্পিকার বাজাবার অনুমতি নেই। তাছাড়াও আরো অনেক রেস্ট্রেকশন আছে এই জাতীয় উপাশনালয় পরিচালিত করার ক্ষেত্রে তবে কিছু কিছু এলাকায় এর ব্যতিক্রম হলে হতে পারে।

গতকাল থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলি প্রকাশ করেছে, চীন আবারও মুসলমান সম্প্রদায়ের উপরে নতুন আইন করেছে। মুসলমানদের প্রধান ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরিফ বহন করা, কাছে রাখা এবং সংরক্ষন করা একেবারেই নিষেধ করেছে। চীনা পুলিশ মুসলিম নাগরিকদের জানিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব তাদের এই পবিত্র গ্রন্থ যাতে নিকটস্থ পুলিশ ষ্টেশন এ গিয়ে জমা দেয়। অন্যথায় তারা অন্য ব্যবস্থা গ্রহন করবে। ইতিমধ্যেই অনেক কোরান সংগ্রহ করেছে তারা। এর কারন চীনাদের ধারনা এই ঐশরিক কিতাব জঙ্গীবাদ ছড়াচ্ছে যা থেকে মুসলিমরা বেশি সন্ত্রসী করছে। তাই তারা সীদ্ধান্ত নিয়েছে এই কিতাব নিষিদ্ধ করার।

আমার কথা হচ্ছে সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় কি এই বিষয়ে চুপ থাকবে না এর বিপক্ষে দাঁড়াবে। এটা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আমার প্রশ্ন। আমার মনে হয় বিপক্ষে দাড়াবার মতো কারন তারা তৈরি করতে পারেনি। কারন বিশ্ব জুড়ে যত হানাহানী, যুদ্দ্ব, হত্যা, হামলা, জঙ্গীপনা, সন্ত্রাসীপনা, জিহাদ, কিতাল, কিসাস, আল-কাতল সহ ইসলাম ধর্মে আর যা কিছু আছে সেগুলোর কোনটাই প্রমান করে না এটা একটি শান্তির ধর্ম। আগে বলি কেউ আমার কথা খারাপ ভাবে নিবেন না। আমি অতি সাধারন মানুষ। আমি শুধু জানতে চাচ্ছি চীনের বিরুদ্ধে যদি কোরান নিষিদ্ধ করা নিয়ে আপনারা প্রতিবাদ করেন তাহলে কি অজুহাত এর প্লে কার্ড হাতে নিয়ে রাস্তায় দাড়াবেন সেটা জানতে চাচ্ছি এর বেশি কিছু না। আমার জানা মতে অন্যান্য দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের থেকে বাংলাদেশের মুসলমান জাতি এই ইসলাম ধর্ম নিয়ে একটু বেশি আবেগ প্রবন। তার প্রমান হচ্ছে, এই যে বর্তমান সময়ের সব চেয়ে আলোচিত ইস্যু রোহিঙ্গা ইস্যু। আমার মনে হয় মুসলমানদের জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর চেয়ে আরো বড় ইস্যু হবার কথা ছিলো এই কোরান কে জিহাদি বই বলে নিষিদ্ধ ঘোষনা করার বিপক্ষে আন্দোলন করা বা পথে নামা। কিন্তু তা হচ্ছে না কেন।

আমি “রোহিঙ্গা ইস্যুর নতুন সম্ভবনা” নামের আমার একটি লেখাতে এর আগেই আপনাদের দক্ষিন এশিয়ার যে কোল্ড ওয়ার বা ঠান্ডা যুদ্ধের কথা বলেছিলাম সেটা মনে আছে নিশ্চয়। কেউ না পড়ে থাকলে এখানে লিংক দিলাম পড়তে পারেন। চীন কিন্তু মায়ানমারে তাদের অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছে সেটা বা এতে আবার কেউ ভাববেন না রাখাইন রাজ্য সহ আরো বেশ কিছু অঞ্চলে যে, বড় বড় কিছু খনির সন্ধান পাওয়া দিয়েছে সেটা এই ইস্যুর সাথে জড়িত তাহলে ভূল করবেন। আবারও আমি বাংলাদেশের সাধারন মুসলিম ভায়েদের বলবো প্যান ইসলামিস্টদের চিনে রাখুন। এদের উদ্দেশ্য আসলে অন্য কিছু।

আমি অনেক আগে বলতাম বাংলাদেশের সাধারন মুসলমানেরা বা সাধারন ধার্মিকেরা আসলে এই জিহাদ, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, আইসিস, বোকো হারাম, তালেবান, আল-কায়েদা বা আরসা এতো কিছু বোঝে না। তারা মানুষ হত্যা করা, অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃনা করা, নারীকে অপমান করা, বহু বিবাহ, শিশু বিবাহ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এসবকে প্রস্রয় দেয়না। কারন আমি দেখতাম বাংলাদেশের সাধারন মুসলিমরা কখনই কোন বেধর্মীকে হত্যা করার কথা বলে না। তারা সর্বোচ্চ এটুকু বলে যে এরা ইহকাল পরকাল কোন কালেই শান্তি পাবে না এর বেশি কিছু না। কিন্তু অনেকেই আমার এই কথার দ্বিমত পোষন করে বলেছেন যে, “আপনি কি জানেন যে ইসলামেই কেন এই জংগীপনা আর গুপ্তহত্যা বেশি করা হয় ? কারন এর বীজ বোনা আছে অন্য কোথাও একটু চেষ্টা করলে দেখতে পারবেন নিশ্চয়। আপনার লেখার পক্ষে থাকতে পারলাম না বলে দুঃখিত”। এই কথার পরে চেষ্টা করলাম আরো ভাল ভাবে জানার আসলে কি বীজ বোনা আছে এর মধ্যে যে এখান থেকে এই জাতীয় মানুষিকতা তৈরি হচ্ছে।

এরকম নানা কারনেই আমার আজকের এই প্রশ্ন যে, “কোরান শরিফ কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ?” একটু ভেবে দেখবেন। ১৯৭০ সালের দিকে আফগানিস্তানের নারীরা প্রকাশ্যে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারতো। তাদের ছিলোনা কোন পোশাকের বাধা ধরা নিয়ম। তখন নারীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই পড়াশোনা করেছে এবং অফিস আদালতে চাকুরীও করেছে। কিন্তু তালেবান নামের ইসলামি জঙ্গী গোষ্ঠী আফগানিস্তা্নে তৈরি হবার পর থেকে ৭০ এর দশক থেকেই হতে থাকে তার পরিবর্তন। আস্তে আস্তে নারীদের প্রকাশ্যে চলাফেরাই বাধা দেওয়া শুরু হয়। তাদেরকে বোরকা নামক বস্তা বন্দী করা হয়। পঞ্চম শ্রেনীর উপরে কোন নারীকে শিক্ষা গ্রহন করতে দেওয়া যাবে না বলে আইন করা হয়। এমনকি কোরান বাদে অন্য যত বই আছে তা রাখা এবং পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, এই বলে যে, কোরান বাদে আর যত বই আছে তা সবই শয়তানি কিতাব। এই বই রাখলে বা পড়লে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাকে ধর্মান্তরিত করা হবে। আর ইসলামে বেধর্মিকে হত্যা করা জায়েজ। তাহলে কি আজ চীন সরকার কোরান শরিফ নিষিদ্ধ করে ভালো করলো না খারপ করলো এটা আমার জানার বিষয়।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০১/১০/২০১৭