লেখক আরিফ আজাদ
সাহেব গতবছরের তার মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যায় ভরা বই “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” এর
পর আবারও কি মনে করে সেই একই মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যার ঝুলি নিয়ে এবার “সমকালীন
প্রকাশনের” দারস্থ হলো আর সেই প্রকাশনীই বা কি মনে করে এই জাতীয় অযৌক্তিক বই
প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলো সেটা বুঝতে হয়তো যুক্তিবাদী সমাজের কারো বাকী থাকার
কথা নয়। যায় হোক বই এর ভেতরে লেখা কি আছে না আছে সেটা দেখার আগে কিন্তু কভার
ডিজাইন বা প্রচ্ছদের কথাটা বলতে হয়। ওল্ড স্টাইল ব্যাকগ্রাউন্ডে কভার ডিজাইন
কিন্তু একেবারেই খারাপ বলা যায়না বইটার। আসলে ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলাটা
খারাপ কিছুই না, কিন্তু দুঃখ লাগে তখন যখন কভার থেকে ভেতরের লেখা মিথ্যাচার আর
অপব্যাখ্যার কথা মনে পড়ে। আমার মনে হয় লেখক আরিফ আজাদ যদি চেষ্টা করে তবে
যুক্তিবাদী সমাজের জন্য মানবতার কল্যানে আসবে এমন যে কোন বই সে লিখতে পারবে কেননা
সে যেভাবে পুর্বে “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” এবং বর্তমানে “আরজ আলী সমীপে” বইতে
কৌশলে মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে ও তা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে,
তাতে সত্য ও যুক্তিযুক্ত লেখা লিখলে তার সুনাম ছাড়া দুর্নাম হবার কথা না। তবে সেটা
লেখক করবে কিনা তা নির্ভর করছে তার মাথার মধ্যে শিশুকাল থেকে তৈরি হওয়া বিশ্বাসের
ভাইরাসের উপরে। বাড়তি কথায় না গিয়ে আমি প্রকাশকের কথা থেকেই বইটির সমালোচনা শুরু
করবো।
§ এই বইটির প্রথম
পৃষ্ঠা থেকে তৃতীয় পৃষ্ঠা পর্যন্ত বইএর না্ম, লেখকের নাম, প্রকাশকের নাম,
প্রকাশকাল, মুল্য, গ্রন্থস্বত্ব, পরিবেশক, প্রচ্ছদ ও মুদ্রন সম্পর্কিত তথ্য ও ISBN নাম্বার এবং
সর্বোশেষ কল্পিত ঈশ্বরের নামে বইটি উৎসর্গ করার তথ্য দেওয়া আছে এবং ৪র্থ পৃষ্ঠাতে আছে প্রকাশকের কিছু
কথা। আমার ধারনা এই বই এর প্রকাশক আসলে নতুন কোন প্রকাশক নয় যে এই বইটি দিয়েই সে
প্রথম যাত্রা শুরু করছে বা এমন কিছু। তারপরেও একজন সচেতন প্রকাশক হয়ে এমন কিছু
উক্তি ব্যাক্ত করা যা সাধারণ পাঠক মহলে তা গ্রহন করার পাশাপাশি সমালোচিত হবে এটাই
স্বাভাবিক। এই বই এর প্রকাশক শুরুতেই বোঝাতে চেয়েছেন সংশয়বাদ, আজ্ঞেয়বাদ,
নাস্তিক্যবাদ, বা যুক্তিবাদী মনোভাব আসলে বর্তমান সময়ে এবং আমাদে্র প্রচলিত সমাজের
জন্য চরম একটি সমস্যা। তিনি কি বলেছেন সেটা বলার আগে আমি নাস্তিক্যবাদ, সংশয়বাদ আর
আজ্ঞেয়বাদ নিয়ে কিছু বলতে চাই। আমরা জানি যথেষ্ট প্রমাণ ও যুক্তির অভাবে যাদের
কাছে কল্পিত ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব নেই বা যারা এসব মতবাদকে অযৌক্তিক
ধারনা বলে থাকে তাদেরকেই আমরা নাস্তিক, সংশয়বাদী বা আজ্ঞেয়বাদী বলে থাকি। এক কথায়
যুক্তি প্রমাণ ও সঠিক ব্যাখ্যা ছাড়া যারা কিছুই মানতে রাজি নয়। যেমন ধরুন প্রমাণ এবং যুক্তির ওপর নির্ভর করে একজন মানুষ তার জীবন যাপন করতে
পারে এই হাইপোথিসিসের ওপর যে, ঈশ্বর বলে কিছু
নেই এবং যারা এই মতবাদে বিশ্বাস করে আমরা কখনই তাদের ধর্মবিদ্বেষী বা ধর্মের
অপব্যাখ্যাকারী বলতে পারবো না যেমনটি এই আরিফ আজাদের বই এর প্রকাশক “আরজ আলী সমীপে”
বই এর প্রকাশকের কথায় বলে বোঝাতে চেয়েছেন।
প্রকাশক এখানে বলেছেন (শুরু থেকে) “বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে যে
কয়েকটা জিনিস মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো নাস্তিকতা। ধর্মবিদ্বেষ,
ধর্মের অপব্যাখ্যাসহ বিভিন্ন কার্যকলাপ দিনদিন যেন বেড়েই চলেছে। ব্লগ, ফেসবুকসহ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এসব নিয়ে হরহামেশাই এখন লেখালেখি, তর্কাতর্কি হচ্ছে”
এটা হচ্ছে প্রথম প্যারা। এখানে যদি কিছু না বলা হয় তাহলে প্রকাশক যে মাথাচাড়া দিয়ে
উঠার কথা এখানে বলেছেন সেটাই হবে তবে সেটা, জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা, প্রচার এবং
প্রসারের বিপক্ষে একটি অন্ধকার ও মিথ্যাচার ও কুসংস্কারে ভরপুর একটি সমাজের পক্ষে
মাথাচাড়া। আমরা চাই কুসংস্কারাচ্ছন্ন গতবাধা হাজার হাজার বছরের পুরাতন রীতিনীতি
দিয়ে ঠাসা এই প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থার পরিবর্তন, তাইতো বর্তমানে মুক্তমনা
যুক্তিবাদী সমাজ নিজেদেরকে প্রথাবিরোধী বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। আর এখানে মাথাচাড়া
দিয়ে উঠার কিছুই নেই বরং যদি দাবী করা হয় হাজার হাজার বছর আগে বিভিন্ন নামের ধর্ম
ও ধর্ম ব্যাবস্থা গুলিই এক একটি সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিলো এবং আজ অবধী একশ্রেনীর
মানুষের মস্তিষ্কে তা প্রচলিত আছে তবে সেটাই হবে বেশি যৌক্তিক। যুক্তিবাদী সমাজ,
নাস্তিক্যবাদ, সংশয়বাদী, আজ্ঞেয়বাদীদের কখনও ধর্মবিদ্বেষী বা ধর্মের
অপব্যাখ্যাকারী বলা যাবে না। এর কারণ হচ্ছে এই জাতীয় মতবাদে আস্থা রাখার পূর্বে
বিশ্বাস নামক বস্তুটিকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে যার কোন ভিত্তি নেই বিজ্ঞানভিত্তিক একটি
সমাজব্যাবস্থায়। আর তা করতে হলে আপনাকে অবশ্যয় ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের
উপরে যথাযথ জ্ঞান রাখতে হবে।
যেহেতু প্রচলিত ধর্ম গুলির উপরে আপনাকে যথাযথ জ্ঞান রেখেই এই
মতবাদে আস্থা রাখতে হবে সেক্ষেত্রে এই প্রচলিত ধর্মগুলির কালো অধ্যায় বা খারাপ দিক
যা মানব সভ্যতার জন্য যা হুমকি স্বরুপ বা ক্ষতিকারক সেই বিষয়গুলিই তারা প্রচার করে
থাকে বা মানুষকে সচেতন করে থাকে। এখন বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যারা তাদের
জীবন পরিচালনা করে আসছে তারা ভেবে বসতে পারে এটাই হচ্ছে ধর্মবিদ্বেষ আসলে কিন্তু
তা নয়। এখানে বলতেই হয় ধর্মবিদ্বেষ তারাই ছড়াই যারা বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাস করে
থাকে যেমন, এক ধর্মের মানুষ আরেক ধর্মের মানুষকে দেখতে পারেনা যেমন, ইসলাম ধর্ম
মতে (আল-কোরানের সুরা আন নিসা, আয়াত- ১৪৪ এ বলা হচ্ছে “অবিশ্বাসীদের কখনও বন্ধু
বানানো যাবেনা”) ইসলাম ধর্ম মতে যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না তারা কাফের, মুশরিক
ও অবিশ্বাসী আর এরা প্রত্যেকেই কোন না কোন ধর্মে বিশ্বাসী আর তাদের উদ্দেশ্যে এরকম
আয়াত সমস্ত কোরানে আছে প্রায় হাজার খানেক আর তাই যদি হয় তাহলে ধর্মবিদ্বেষ কে বা
কারা ছড়াচ্ছে সমাজে ? এবার দেখুন হিন্দু ধর্ম মতে কি বলে, (অথর্ববেদ ১২,০৫,৫৪) এ
বলা আছে “Vedic followers should destroy infidels” অর্থঃ
“বৈদিক অনুসারীদের (কাফের বা
বেধর্মীদের) ধ্বংস করা উচিত” হিন্দু ধর্ম মতে
এই ধর্মের উপরে যাদের বিশ্বাস নেই তারা সবাই বেধর্মী আর তাই তাদের সবাইকে ধ্বংস
করতে বলা হচ্ছে। সম্পুর্ণ ঋগ্বেদ, অথর্ববেদ, যযুর্বেদ পড়লে এরকম অসংখ্য শ্লোক
পাওয়া যাবে তাহলে আবারও প্রশ্ন আসলে এই ধর্মবিদ্বেষী কারা ? এছাড়াও খ্রিস্টান
ধর্মের ক্ষেত্রেও এরকম অনেক কথা আমরা দেখতে পায়।
আর
একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে প্রকাশক এখানে বলেছে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে।
একমাত্র ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা করে থাকে যুক্তিবাদী সমাজ কোন ধার্মীক বা আস্তিক সমাজ
কোন ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা করেনা (নিরাপেক্ষভাবে)। আর যদি তাই করতে হয় তাহলে তারা
আর আস্তিক থাকবে না হয়ে যাবে নাস্তিক বা আজ্ঞেয়বাদী কারণ সঠিক ব্যাখ্যা করতে হলে
তাদের আগে নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারনা নিতে হবে আর সঠিক ধারনা নিতে গেলেই
বিশ্বাসের পাখি উড়াল দেবে। এরপরের প্যারা গুলিতে প্রকাশক বলেছেন “শত শত মুসলিম
তরুণ এই অপব্যাখ্যা এবং বিদ্বেষের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে ধর্ম থেকে সরে যাচ্ছে। তাদের
মনে নানারকম প্রশ্ন, সন্ধেহ ঢুকিয়ে দিচ্ছে বিরুদ্ধবাদীরা” এখানে বলতে হয় তিনি
কয়েকটি আংশিক সত্য কথা বলেছেন সাথে লেখক আরিফ আজাদের মতো মিথ্যার আস্রয় নিয়েছেন
যেমন, শত শত মুসলিম তরুনের যায়গায় হবে লক্ষ্য লক্ষ্য জ্ঞান পিপাসু মানুষ যারা অন্ধকারে
বা মিথ্যা আর অযৌক্তিক মতবাদের সাথে থাকতে চাইনা আর অপব্যাখ্যার নমুনা আগেই দিয়েছি
আর দরকার আছে মনে হয়না। মায়াজাল বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ছলনা বা মিথ্যার উপরে
ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে এমন কিছু। মানুষ দিনে দিনে ঝুকছে কোনদিকে বেশি আর কোনটা
ত্যাগ করছে সেটা দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যাবে কোনটা মায়াজাল আর কোনটা সঠিক।
পরবর্তি
প্যারাতে তিনি দাবী করেছেন “আরজ আলী মাতুব্বর” সেই বহু বছর আগে যেই প্রশ্ন রেখে
গিয়েছিলেন তার “সত্যের সন্ধ্যানে” বই এর মাধ্যমে সেই প্রশ্নের কারনে নাকি অনেক
শিক্ষিত যুবক শ্রেনী সন্ধেহের বেড়াজালে আটকা পড়ছে। আর তাই সেই সব যুবকদের জন্য আরজ
আলী মাতুব্বরের বই এর বিপরীতে উনার যুক্তি, প্রশ্নের উওর দেওয়াটা ছিলো সময়ের একটি
উন্নতম দাবি। এবং সেই কথা মাথায় নিয়ে তিনি লিখেছেন “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সময়ের
উন্নতম তরুন লেখক আরিফ আজাদ সেই কাজটিই হাতে তুলে নিয়েছেন। অবিশ্বাসীদের মৌচাকে
তিনি প্রথম ঢিল ছুড়েছিলেন গত বছরের বই মেলায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ লিখে।
বিশ্বাসীমহলে বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় এই লেখক এবার আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্নের
জবাবে লিখেছেন আরজ আলী সমীপে। বইটিতে তিনি আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবের উথাপিত প্রশ্নগুলোর
জবাব তো দিয়েছেনই, সাথে ছুড়ে দিয়েছেন পালটা প্রশ্নও”। এবার বলতে বাধ্য হচ্ছি “আরজ
আলী মাতুব্বর” হচ্ছে সেই শুরু থেকেই লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের আদর্শ হয়ে আছে। আমি
নিশ্চিত আরজ আলী মাতুব্বর আরো কয়েকশো বছর এভাবেই যুক্তিবাদী সমাজের কাছে আলোচিত
হয়ে আসবে এবং এরকম অনেক আরিফ আজাদ এবং প্রকাশক মাঝখানে এসে তাদের প্রকৃত চেহারা
আমাদের দেখিয়ে দিয়ে যাবে। আরজ আলী মাতুব্বর তার “সত্যের সন্ধ্যানে” বা “অনুমান”
এসব বই যখন লিখেছেন তখন এই বই এর লেখক যে আরজ আলী মাতুব্বর এর প্রশ্নের জবাব হিসাবে
এই বই লিখেছেন তার জন্মও হয়নি আমার ধারণা। তাহলে সেই সময়ের প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থা
সম্পর্কে তার ধারণা কিভাবে ?
গতবছর
এই বই এর লেখক আরিফ আজাদ তার প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বই লিখে আমাদেরকে তার আসল
পরিচয় দিয়েছিলেন তাই সে ছাড়া আর কে এমন ব্যাক্তি আছেন যে “আরজ আলী সমীপে” নামক
আরেকটা বই লিখবেন ? সেই কারনেই এই কাজটি তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন বলে আমার ধারনা।
আর বিশ্বাসী মহলে এই লেখক নাকি খুবই জনপ্রিয় একজন লেখক কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এই
লেখক আজও আছেন আড়ালে। আজ পর্যন্ত কেই দাবী করতে পারবে না যে এই লেখকের সাথে তার
সাক্ষাত হয়েছে বা তার ফেসবুক প্রফাইলে তার একটা ছবি দেখেছে কেউ। অর্থ্যাৎ এখন
পর্যন্ত এই লেখক আরিফ আজাদের কোন হদিস কেউ দিতে পারবে না। একবার একটা স্টাটাস
দেখেছিলাম যেখানে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ সহ দাবি করা হয়েছিলো এই আরিফ আজাদ বলে কোন
লেখক বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কখনও ছিলো না। যাক আমি সেই আলোচনায় যাচ্ছিনা
আমি খুব পরিষ্কার করে একটা কথা এখানে বলতে চাই সেটা হচ্ছে এই প্রকাশক এই বই এর
শুরুতেই “প্রকাশকের কথা”র দুইটি পৃষ্ঠার মধ্যে এই যায়গাটিতে সব থেকে বড় মিথ্যা
কথাটি বলেছেন আর তা হচ্ছে তিনি এখানে বলেছেন “আরজ আলী সমীপে” বইটিতে নাকি আরিফ
আজাদ “আরজ আলী মাতুব্বর” সাহেবের উথাপিত সব প্রশ্নগুলোর জবাব তো দিয়েছনই, সাথে
ছুড়ে দিয়েছেন পালটা প্রশ্নও” এখানে আমি বলতে চাই, পাঠক যারা তার এই অপাঠ্য বইটি
আমার মতো না পেরেও পড়ে হজম করেছেন তাদেরতো আর কিছু বলার নেই কিন্তু যারা পড়েননি
তদের উদ্দেশ্যে বলি, আমি চ্যালেঞ্জ করলাম এবং বলছি “আরজ আলী সমীপে” নামের বইটিতে লেখক
আরিফ আজাদ আরজ আলী মাতুব্বরের একটি প্রশ্নেরও জবাব দেইনি। আমি আবারও বলছি যে লেখক
আরিফ আজাদ “আরজ আলী মাতুব্বরে”র একটি প্রশ্নেরও জবাব দেইনি। যদি এমন কেউ থাকে যে
মনে করে আরিফ আজাদ কোন একটি প্রশ্নের জবাব এখানে (এই বইতে) দিয়েছেন তাহলে আমার
সামনে তা আনার জন্য অনুরোধ করলাম।
লেখক
এখানে যা করেছে তা হচ্ছে সম্পুর্ণ (ধানাই পানাই) কৌশলে আসল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে
ভুলভাল আর মিথ্যাচারের ব্যাখ্যা করে গিয়েছেন পাশাপাশি প্রশ্নটিও সাজিয়েছে নিজের
মনগড়া ভাবে। যদি কেউ আমার এই দাবী ভুল প্রমাণ করতে পারেন তাহলে কমেন্টস করে জানানোর
অনুরোধ করা হলো। এরপরের প্যারাতে প্রকাশক আরো বলেছেন “এতোদিন আরজ আলী মাতুব্বরের
বইপত্র পড়ে যারা বিভ্রান্ত হতো, যারা মনে করতো আরজ আলী মাতুব্বরের অবস্থান সঠিক
এবং প্রশ্নাতীত, লেখক আরিফ আজাদের নতুন বই “আরজ আলী সমীপে” তাদের নতুন করে ভাবতে
বাধ্য করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস” এই প্রকাশককে আমি বলতে চাই তিনি কি এই বইটি
প্রকাশ করার আগে একবারও পড়ে দেখেছেন বা আরজ আলী মাতুব্বরের কোন বই পড়ে দেখেছেন ?
যদি পড়েই থাকেন তাহলে কে কাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে সেটা আমি তাকে
নিরাপেক্ষভাবে যাচাই বাছাই করে দেখার অনুরোধ জানালাম। আর “আরজ আলী সমীপে” বই
সম্পর্কে আর কিছু বলার আছে বলে মনে হয়না কারন আমি কিন্তু আগেই একটি চ্যালেঞ্জ
করেছি যে এই সম্পুর্ণ বইটিতে আরিফ আজাদ একটি প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি তাহলে আর বাড়তি
কথা এখানে বলার দরকার আছে বলে মনে করিনা। এরপরের শেষ প্যারায় প্রকাশক যা বলেছেন
আমি জানিনা তিনি তার এই কথার কতটুকু রক্ষা করবেন। তিনি বলেছেন “আমরা চেষ্টা করছি
বইটিকে নাস্তিকতার বিপক্ষে, আস্তিকতার পক্ষে একটি দলিল, একটি রেফারেন্স বই হিসাবে
উপস্থাপন করতে। শার’ঈ দৃষ্টিকোণ থেকে যেনো কোন সমস্যা না থাকে, সে জন্য আমরা
প্রখ্যাত আলেম দ্বারা শার’ঈ সম্পাদনা করে নিয়েছি। এরপরও এতে কিছু ভুল ত্রুটি থেকে
যাওয়া স্বাভাবিক। যেকোন ধরনের ভুলত্রুটি যদি বোদ্ধা পাঠকমহলের দৃষ্টিগোচর হয়,
আমাদের জানানোর বিশেষ অনুরোধ করছি। আমরা সেটা আন্তরিকভাবে গ্রহন করবো এবং সংশোধন
করে নেবো” খুব ভালো কথা বলেছেন কিন্তু এই কথা গুলা রাখলে হয়।
আসলে
এই বইটির জন্য এতো দীর্ঘ সমালোচনা করার অর্থই হচ্ছে আপনারা যারা সাধারন পাঠকদের এই
জাতীয় অপাঠ্য বই এর মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বা আপনারা যে একটি
বিজ্ঞান মনষ্ক ও যুক্তিবাদী সমাজের বিপক্ষে এবং একটি মৌলবাদী সমাজের পক্ষে কথা
বলছেন তা আমার মতো সাধারণ পাঠকদের মাঝে প্রকাশ করে জানানো। ইতিমধ্যেই “আরজ আলী
সমীপে” নামের বইটির সমালোচনা সিরিজ আমার জানামতে আরো কয়েকজন লেখা শুরু করে দিয়েছে
এবং সেটা বিভিন্ন ব্লগ ও সোস্যাল মিডিয়াতেই খুজে পাবেন। যদি আপনারা আপনাদের ভুল
ত্রুটি নিজেরা ধরতে না পারেন তাহলে এই সমালোচনা সিরিজ গুলা পড়ে সিদ্ধান্ত নেবার
অনুরোধ রইলো। এরপরের পর্বে লেখকের কথা ও শার’ঈ সম্পাদকের কথা ও তার একটি জবাব নিয়ে
আরেকটি লেখা আসছে।
মৃত
কালপুরুষ
২৭/০২/২০১৮

আরজ আলী মাতুব্বর লোকটাকে আমার খুব পছন্দ হয়। তিনি যে তথ্য পেয়েছেন সেটির ভিত্তিতে প্রচলিত বিশ্লেষণ অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে সত্যের অনুসন্ধান করেছেন। তার পাওয়া তথ্যগুলো সব ক্ষেত্রে ঠিক না, তবে ঐ তথ্যের ভিত্তিতে তার অনুসন্ধান দেখলে তাকে একজন দার্শনিক বলতেই হবে। আরজ আলী মাতুব্বর যদি ইসলাম সম্পর্কে সব ঠিক তথ্য জানতেন তাহলে হয়তো ভিন্নভাবে লিখতেন(আমার কখনোই তাকে ইসলামবিদ্বেষী বলে মনে হয় নি )।
উত্তরমুছুন