বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

শার’ঈ সম্পাদকের কথা ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (৩য় পর্ব)



আগের পর্বটির সাথে এই ১১ আর ১২ নাম্বার পৃষ্ঠার শার’ঈ সম্পাদকের কথার আলোচনাটি শেষ করার কথা ছিলো কিন্তু লেখকের কথার পর্বটি একটু দীর্ঘ হয়ে যাবার কারনে শেখানে আর এই অংশটি যোগ করা হয়নি। এখানে বই “আরজ আলী সমীপের” শার’ঈ সম্পাদকের কথা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পুর্বেই জানিয়েছিলাম এই বইটির প্রকাশক তার কথার মধ্যে বলেছিলেন বইটিতে যেনো কোন প্রকারের ভুল ত্রুটি না থাকে তাই একজন আলেমের সাহায্যে তা যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এখানে যেই অধ্যাপক ভদ্রলোক এই বইটির শার’ঈ সম্পাদনা করেছেন তার নাম হচ্ছে “ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া” তিনি অধ্যাপক, আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ, আইন ও শরী’আহ অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। “আরজ আলী সমীপে” বই এর লেখক ও প্রকাশক এই ভদ্রলোককে এই বইটির শার’ঈ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং তিনিই এই বইটির সম্পাদনা করেছেন বলে এখানে দাবি করেছেন। আমি জানিনা তিনি কি “আরজ আলী মাতুব্বর” এর কোন বই পড়েছেন কিনা বা তার সম্পর্কে কতটুকু জ্ঞান রেখে এই বইটির সম্পাদনা করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক সম্পর্কে আমার মনে এমন প্রশ্ন উদয় হবার কারণ তার এই কথাগুলি। তিনি তার কথার শেষভাগে বলেছেন “আমার বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী সবার হাতে থাকা দরকার, যাতে করে আর কোন আরজ আলী আমাদের সন্দেহের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ধোকা দিতে না পারে” তারমানে তিনি চাচ্ছে এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে কোন জ্ঞানের চর্চা হবে না। কেউ কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। যেদিকেই তাকানো যাবে দেখা যাবে নারীরা বোরখা পরে মাথা ঝুকিয়ে কোরান পড়ছে আর ছেলেরা মাথায় টুপি দিয়ে মাথা ঝুকিয়ে কায়দা পড়ছে এরকম একটা অন্ধকার দেশ।

শুরুতেই এই অধ্যাপক সাহেবের মস্তিষ্ক সম্পর্কে আপনাদের একটি ধারনা দিতে চাই। যদিও একজন অধ্যাপক সম্পর্কে আমার এমন কিছু বলার ইচ্ছা ছিলোনা তারপরেও উনি যেহেতু এরকম একটি জঙ্গী ও সন্ত্রাসীমনা ধর্মীয় ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন বই এর সাথে নিজেকে জড়িয়ে জোর গলায় এখানে কিছু বলেছেন তাই জবাব এর খাতিরে এগুলো চলে আসবেই। “আরজ আলী সমীপে” গ্রন্থের প্রকাশক এবং লেখকের মস্তিষ্ক যে একটি নির্দিষ্ট প্রকারের বিশ্বাসের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত সেটার প্রমাণ নিশ্চয় আমরা আগেই পেয়েছে। পূর্বের দুই পর্বের লেখার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক আরিফ আজাদের গুনি ফলোয়ারদের মতামত দেখেও আমরা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি তারাও কোন মানুষিকতার। এখন সেই বই এর শার’ঈ সম্পাদনা জিনি করবেন তার মস্তিষ্ক যে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকবে এটা কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করতে পারিনা তাই এখানে অপ্রত্যাশিত কিছুই ঘটেনি সেটা নিশ্চিত থাকবেন। এই অধ্যাপক সাহেব দাবি করেছেন যে আরজ আলী মাতুব্বরের মতো লোকের প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের কলা কৌশল ও জ্ঞান নিয়ে তারপরে তার উওর দিতে হবে। কিন্তু শুরুতেই তিনি কোন বিজ্ঞানমনষ্কের পরিচয় দিয়েছেন আসুন একটু দেখি। তিনি বইটির ১২ নং পৃষ্ঠার শার’ঈ সম্পাদকের কথার শুরুতেই বলেছেন “মহান আল্লাহ আমাদের জ্বীন ও মানুষ দু-ধরনের শয়তান থেকে একান্তভাবে তার কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শয়তানরা পথভ্রস্ট করার জন্য দুইটি অস্ত্র ব্যাবহার করে থাকে” আর বাকিটা না হয় পরেই বলি।

এখানে আমাদের খেয়াল করে দেখার বিষয় হচ্ছে তিনি আমাদের এই লেখার মধ্যেই বলেছেন বিজ্ঞানমনষ্ক ও যথেষ্ট যুক্তি প্রামণ ছাড়া বর্তমানে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না। তাহলে এখানে তিনি যে চারটি কাল্পনিক চরিত্রের কথা বলেছেন তার যদি যৌক্তিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয় তাহলে তিনি কিভাবে প্রমাণ করে দেখাবেন আমার জানা নেই। আমরা ছোটবেলায় ঠাকুরমার ঝুলি গল্পের বই পড়েছি যেখানে বিভিন্ন ধরনের রাক্ষশ আর ক্ষোক্কোশ ও নানান কাল্পনিক চরিত্রের সন্ধান পেয়েছিলাম। এই অধ্যাপক ভদ্রলোক এখানে যে চারটি চরিত্রের কথা বলেছেন তার সবগুলোই কি সেই একই রকম চরিত্র নয় ? আর যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে আমি অনুরোধ করবো আমাকে একটু যৌক্তিক ও প্রমাণ সহ এই চারটি চরিত্রের ব্যাখ্যা তিনি দিবেন। এরপরের লাইনে তিনি সেই কাল্পনিক চরিত্রের কাজ সম্পর্কে বলেছেন তারা দুইভাবে মানে দুইটি অস্ত্র ব্যাবহার করে থাকে। আসলে যে চরিত্রের কোন অস্তিত্বই নেই যার অবস্থান শুধুই মানুষের মস্তিষ্কের অবচেতন মনের মধ্যে তার আবার কাজ কি ? আর কাজ করার অস্ত্রই বা কি ? কথা তো এখানেই শেষ হয়ে যাবার কথা। কিন্তু যেহেতু তারা বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত তাই তাদেরকে সেইভাবেই জবাব দিতে হবে বলে মনে করি, আর তাই নিচের বাড়তি কথা গুলো লেখা।

অধ্যাপক সাহেব তার পরেই বলেছেন (শয়তানের দুইটি অস্ত্র সম্পর্কে) “একটি হচ্ছে প্রবৃত্তির বাধাহীন চাহিদাপূরণের প্রতি উৎসাহপ্রদান, আরেকটি হচ্ছে মনের কন্দরে সন্দেহের বীজ বপন করা। আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবদের কর্মকান্ডে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টিই বেশি দেখা যায়। তারা আল্লাহ, তার রাসূল, আখেরাত, তাকদীর ইত্যাদি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে ঈমান ও আমল বিনষ্ট করতে সচেষ্ট থাকে। তারা নিজেরা তাদের সন্দেহের ঔষধ গ্রহন করে তা নিরাময় না করে অপরের দিকে সেই সন্দেহ পাচার করে শান্তি পায়। আর এটাই চিরাচরিত নিয়ম যে রোগীরা সাধারণত সুস্থ মানুষকে ঈর্ষা করে তারা যদি নিজেদের রোগ নিরাময় করতে পারতো তবে নিজেরা যেমন শান্তি পেতো অনুরূপভাবে অপর লোকদেরও শান্তি দিতো” তিনি বলেছেন “প্রবৃত্তির বাধাহীন চাহিদাপূরণের প্রতি উৎসাহপ্রদান” তাহলে এখানে একটি উদাহরন দিতেই হয়। মানব সভ্যতায় ধর্ম নামের প্রথাটি এসেছে অনেক পরে। সভ্যতার শুরুতে মানুষের জ্ঞান যেপর্যন্ত জানতে পেরেছিলো আর যেগুলো সম্পর্কে মানুষ জানতে পারেনি, সে সময়ের জ্ঞান যে পর্যন্ত পৌছেনি, সেগুলো সম্পর্কে মানুষ ধারনা করেছে, কল্পনা করেছে অজ্ঞানতা, জানতে না পারার হতাশা, অজ্ঞতা একধরনে হীনমন্যতায় রুপ নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে অজ্ঞানতার অন্ধকার একপর্যায়ে ঈশ্বর নামক একটা কল্পনা দিয়ে তারা ভরাট করে দিয়েছে শুনতে খুব কঠিন এবং খারাপ শুনালেও এটাই সত্য যে অজ্ঞানতার অন্ধকারের অপর নাম ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা যে মানুষকে সৃষ্টি করেনি বরং মানুষই সেই কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করেছে। আর যখন মানুষের মধ্যে এই ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার ধারনা এসেছে তখন তারা নিজেরাই মনেমনে তৈরি করেছে কিছু ধর্মীয় নিয়ম যাকে এই অধ্যাপক ভদ্রলোক “প্রবৃত্তি” বলছেন। আসলে মানুষের প্রবৃত্তি সেই শুরু থেকেই বাধাহীনভাবেই ছিলো মাঝে মানুষকে শাসন আর শোষন করার জন্য তৈরি হওয়া কিছু ধর্মীয় রীতিনীতি আজও টিকে আছে মানুষের মস্তিষ্কে।

এরপরেই তিনি কাল্পনিক চরিত্র শয়তানের দ্বিতীয় অস্ত্র হিসাবে যেটা উল্লেখ করেছেন সেটা হচ্ছে “মনের কন্দরে সন্দেহের বীজ বপন করা” এর মানে হচ্ছে হুজুর, কোন প্রশ্ন করা যাবেনা প্রশ্ন করলেই সন্দেহ ঢুকবে আর তাতে করে ঈমান নষ্ট হবে এমন একটা কিছু বোঝানো হচ্ছে। আমি সাধারন একজন পাঠক আমি চাই যতক্ষন পর্যন্ত না আমার জ্ঞানের ক্ষোরাক মিটছে ততক্ষন পর্যন্ত জানতে চাইবো যেমন, “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর” কবিতা পড়লে এখনও মনে হয় জ্ঞান পিপাসু তরুন সমাজের ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি পায়। তার কবিতা “মিলিত মৃত্যু” বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়, বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে, বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো, অন্তত আর যাই করো, সমস্ত কথায় অনায়াসে সম্মতি দিও না এই কবিতার সাথে কি এই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভদ্রলোকের কথার কোন মিল আছে ? আমি আর কথা বাড়াবো না এরপরের কথায় চলে যাচ্ছি। তিনি এরপরে বলেছেন “অসুস্থ মানুষ নাকি সুস্থ মানুষদের ঈর্ষা করে” সেটা যিনি অসুস্থ তিনিই ভালো বলতে পারবেন তিনি সুস্থ মানুষদের ঈর্ষা করেন কিনা তবে যারা মুক্তমনা ও মুক্তভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করে তারা কিন্তু বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষদের ভালোর জন্যই কথা বলে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ মানুষরা আসলে বুঝতে পারেনা তারা আসলে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। সম্প্রতি সিরিয়ার ঘটনা দেখুন। ইসরায়েলের প্রতি সৌদিয়ারবের আচরন দেখুন। সমস্ত পৃথিবীতে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী হামলা গুলো কাদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছে তা একটু যাচাই করে দেখুন। আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আইএস, তালেবান, এসব সংগঠনের সাথে কারা জড়িত তা একটু ক্ষতিয়ে দেখুন।

এখন কথা হচ্ছে একটি কোম্পানীর পন্য খেয়ে যদি নির্দিষ্ট কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে কিন্তু সবাই তাদের সুস্থতা কামনা করলেও তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাবে না যদি জানতে পারে এই লোক বা এই অসুস্থ মানুষগুলো যেনে বুঝেই এই কোম্পানীর পন্য খাচ্ছে। এখন যদি দেখা যায় যে সেই অসুস্থ মানুষগুলো যে শুধু নিজেরাই অসুস্থ হচ্ছে তা না তার পাশাপাশি তারা সুস্থ সবল মানুষদের কামড় দিয়ে তাদেরও অসুস্থ করে ফেলছে। যেমন আইএস দ্বারা সাধারন মানুষ হত্যা, বোকো হারাম দ্বারা সাধারন মানুষ হত্যা, আফগানিস্তানে তালেবানের হামলায় সাধারন মানুষ নিহত, আল-কায়েদার হামলায় সাধারন মানুষের মৃত্যু, গাড়িবোমা, আত্মঘাতি বোমা এসবই হচ্ছে অসুস্থ মানুষ দ্বারা সুস্থ মানুষের আক্রান্ত হবার জলজ্যান্ত প্রমাণ। আরো চাইলে অনেক তথ্যসুত্র দেওয়া যাবে। এসব বিচার বিশ্লেষন করলেই পরিষ্কার বোঝা যায় আসলে কারা অসুস্থ আর কারা সুস্থ। কাদের চিকিৎসার দরকার আছে আর কে কাকে ঈর্ষা করে। এখানে আমার মনে হয়েছে অধ্যাপক সাহেব মনে হয় সুস্থ আর অসুস্থ মানুষের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই বই এর পাঠকদের কাছে। আমি বলছি না তিনি লেখকের মতো মিথ্যাচার করেছেন।

এই সম্পাদনার কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া অধ্যাপক সাহেব তার শেষ কথা যা বলেছেন তা হচ্ছে “আরজ আলী মাতুব্বরকে” তো তিনি অসুস্থ বলেছেনই সাথে বলেছেন “কিন্তু তারা বাকা পথটিই বেছে নিয়েছে। এদের এসব সন্দেহের উত্তরে সত্যিকারের দ্বীনী জ্ঞান থাকা যেমন জরুরি তেমনি দরকার আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি” এই ভদ্রলোক একবার বলছেন দীনী জ্ঞান দিয়ে এসব সন্দেহের উওর দিবেন আবার বলছেন “আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি” নাকি থাকতে হবে এর উত্তর দিতে হলে। তাহলে কথা হচ্ছে দীনী জ্ঞান মতে তাদের যে শিক্ষা দেয় সেটা হচ্ছে গাধার পিঠে মহাকাশ ভ্রমন করা যায় এমন ধারনা বা এই পৃথিবী থেকেই হাত দিয়ে চাঁদ ফাটিয়ে ফেলা যায় এমন ধারনা। যদিও এই লেখক দাবী করেছে এমন কিছুই নাকি কোথাও বলা নেই তবে আমার পরিচিত ৯৯% মুসলমান বন্ধুরা এটাই জেনে এসেছে তাদের ছোটবেলা থেকে কিন্তু এই বই এর লেখক দাবী করেছে এটা নাকি সঠিক ইসলাম না। যাক সে কথা মহাকাশ যাত্রা সম্পর্কে এরকম ধারনা যেটাকে আমরা দীনী জ্ঞান বলতে পারি আর তার সাথে আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন নাকি এই বই এর প্রচার এবং প্রসার স্বরুপ এমন একটা কথা বলে দিলে ভালো হবে এই বইটিকে একটু বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক বই বলে চালোনা যাবে তা বুঝতে পারলাম না।

এরপরের কথা হচ্ছে সেই আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি ও দীনী জ্ঞান এই “দুটির সমন্বয়ে তা হয়ে উঠবে সোনায় সোহাগা। আরজ আলী সমীপে গ্রন্থটির শার’ঈ দিকটি আমি দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তাতে দুটি দিকই যথার্থভাবে স্থান পেয়েছে। যদি কোরান ও সুন্নাহর সত্যিকারের অনুসরনের মাধ্যমে কোন সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয় তবে তা হয় যথার্থ। সুতরাং এ বইটির উত্তরসমূহ শার’ঈ ভিত্তির উপর নির্ভর করে প্রদত্ত হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমার বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী সবার হাতে থাকা দরকার, যাতে করে আর কোন আরজ আলী আমাদের সন্দেহের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ধোকা দিতে না পারে” এটা বলে ভদ্রলোক তার বক্তব্য শেষ করেছেন। তিনি বলেছে এই দুইটি বিষয় দিয়ে “আরজ আলী মাতুব্বরের” প্রশ্নের উত্তর দিলে তা হবে সোনায় সোহাগা কিন্তু আসলেই কি সেই বই এর ভেতরে তা আছে কোথাও ? সেটা নিয়ে পরের পর্বগুলিতে দেখা হবে নিশ্চয়। তবে এই বই এর শার’ঈ সম্পাদক এই অধ্যাপক ভদ্রলোক দাবি করেছে তিনি নাকি এটা দেখেছেন এবং তার কাছে মনে হয়েছে এই বইতে এই দুইটি দিকই ফলো করা হয়েছে। তিনি আসলে কি দেখে এই কথা বলেছেন আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। সম্পুর্ণ বইটি পড়ে আমি বিজ্ঞানের কিছু অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচার (যা ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিতাবের সাথে মিল রেখেই লেখা) ছাড়া আর কিছুই পেলাম না আপনারাও দেখবেন সেগুলা পরের পর্বগুলিতে।

অধ্যাপক ভদ্রলোকের সর্বশেষ কথা ছিলো “আমার বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী সবার হাতে থাকা দরকার, যাতে করে আর কোন আরজ আলী আমাদের সন্দেহের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ধোকা দিতে না পারে”। এই কথার মাধ্যমে তিনি যা দাবি করলেন তাতে কিন্তু একটি বিষয় এখানে আমাদের মতো সাধারন পাঠকদের মনে দাগ কেটে গেলো। আর সেটা হচ্ছে এই ধর্মটি আর ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলি কি মনুষ্য  রচিত কোন গ্রন্থ কিনা। কারণ তাই যদি না হবে তাহলে সাধারন একটা মানুষ এই আরজ আলী মাতুব্বর কবে না কবে কিছু কথা বলে গিয়েছেন কয়েকটা প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন তাই দেখে নাকি মানুষ ধুম্রজালে আটকা পড়ে এ কেমন কথা ? এখানেও কিন্তু এই ভদ্রলোক আবার বলেছেন সেই বিশ্বাসের কথা কারণ তার মাথায় আছে বিশ্বাসের ভাইরাস। অভিজিৎ রায়ের লেখা সেই “ল্যাংসেট ফ্লুক নামের প্যারাসাইটের কথা আবার মনে পড়ে গেলো যেটা তিনি তার বিশ্বাসের ভাইরাসে লিখেছিলেন। “ল্যাংসেট ফ্লুক নামের প্যারাসাইটের কারণে পিপড়ের মস্তিস্ক আক্রান্ত হয়ে পড়ে, তখন পিপড়ে কেবল চোখ বন্ধ করে পাথরের গা বেয়ে উঠা নামা করে। যেমনটি ধর্ম বিশ্বাসে আক্রান্ত মানুষেরা করে থাকে। বারবার বিশ্বাস বিশ্বাস করে তারা হৈ চৈ করে। কিন্তু একটিবারও ভেবে দেখে না বিশ্বাস জিনিষটি আসলে কি। এখানে ফ্রুটার রেভুসের একটি বানী দিয়ে শেষ করছি, তিনি বলেছিলেন “বিশ্বাস তোমাকে উত্তর দেয়না বরং প্রশ্ন করা বন্ধ করে”।

বইটিতে শার’ঈ সম্পাদকের কথা যেভাবে আছে এখানে দেখুন
পৃষ্ঠা ১২ http://i63.tinypic.com/2mxlxg2.jpg
পৃষ্ঠা ১৩ http://i63.tinypic.com/1zny5pz.jpg

মৃত কালপুরুষ
২৮/০২/২০১৮

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

লেখকের কথা ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ (২য় পর্ব)



প্রকাশকের কথার পরেই ৭ নং পৃষ্ঠাতে আছে লেখকের কথা ও ১০ নং পৃষ্টাতে আছে শার’ঈ সম্পাদকের কথা। এই পর্বে এই দুইটি বিষয়ের জবাব দেবার চেষ্টা করবো। লেখকের কথার শুরু এভাবে করা হয়েছে বইটিতে “আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন। শুকরিয়া সেই মহান সত্তার, যিনি আমাকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। দরুদ এবং সালাম প্রিয় নবী (সাঃ) এর প্রতি”। এখানে বলতেই হয় প্রথমে “আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন” হচ্ছে একটি আরবী ভাষা। বাংলাদেশে প্রকাশিত একটি বইতে এই ভাষা ব্যাবহার করাতে এই বই এর কতজন পাঠক এই লাইনের অর্থ বুঝতে পারবে বা জানে তার একটা ধারনা আমরা করতে পারি যেমন তার এই বইটি যদি ১০০ জন পড়ে তার মধ্যে ৯০ জন পাঠক এই কথাটির অর্থ বুঝতে পারবে না যদিও লেখক এটার পরে এটা লিখে বোঝাবার চেষ্টা করেছে “শুকরিয়া সেই মহান সত্তার” আসলে কিন্তু এই আরবী ভাষাটির “আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন” এর অর্থ এটা না এর বাংলা অর্থটা হবে “সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকর্তার। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র প্রভু সৃষ্টিকর্তার প্রতি” এরপরেই লেখক ধারনা করেছেন তার অস্তিত্ব এমন কেউ একজন দান করেছেন যার নিজেরই কোন অস্তিত্ব নেই এবং সেই কল্পিত মহান কোন সত্তার প্রতি লেখক “আরিফ আজাদ” কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন। ব্যাক্তিগত বিশ্বাস বা আস্থার যায়গা নিয়ে কোন কথা এখানে বলতে চাচ্ছিনা। তবে এটুকু ধারনা নিশ্চয় আমরা পাচ্ছি, এই লেখক আরিফ আজাদ তার মস্তিষ্কে কোন জাতীয় চিন্তা বহন করে নিয়ে বেড়ায় যার বহিঃপ্রকাশ আমরা এখানে দেখলাম।

আমার আসলেই ভাবতে অবাক লাগছে এই ধরনের বিশ্বাস মস্তিষ্কে নিয়ে একটি মানুষ কিভাবে “আরজ আলী মাতুব্বরের” মতো একজন অবিশ্বাসী মানুষের বই আর তার প্রশ্নের জবাব দিতে আসে। আর জবাব দিতে গিয়ে তাকে নিশ্চয় আরজ আলী মাতুব্বরের বই পড়া লেগেছে আর কথা হচ্ছে তার বই পড়ে কিভাবে সে এই “আরজ আলী সমীপে” টাইপের একটি বই দিয়ে দাবী করে যে আমি তার সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিলাম এবং সেই সাথে এই বইয়ের প্রকাশকও কিভাবে বলে লেখক আরিফ আজাদ সমস্ত প্রশ্নের জবাব তো দিয়েছেনই পাশাপাশি আরো প্রশ্ন রেখেছেন। আমি কিন্তু আগের পর্বেই বলেছি “আরজ আলী সমীপে” নামের সম্পুর্ণ বইতে লেখক “আরজ আলী মাতুব্বরের” একটি প্রশ্নেরও জবাব দেইনি প্রশ্ন করা তো দুরের কথা তাহলে উত্তর কি দেবো। লেখকের কথার ২য় প্যারাতে বলা হচ্ছে “বাংলা অন্তর্জালে কিংবা বাংলাসাহিত্যে নাস্তিক্যবাদী লেখাজোখা বলতেই প্রথমে যার নাম চলে আসে তিনি হলেন আরজ আলী মাতুব্বর। নিজের অবিশ্বাসী দর্শনের পক্ষে উনি কিছু বইপত্র লিখেছেন। প্রশ্ন করেছেন যুক্তি দেখিয়েছেন” এখানে তেমন কিছুই বলার নেই কারণ শুরুর দিক থেকে ধরতে গেলে আরজ আলী মাতুব্বর ছাড়া তেমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি বাংলা সাহিত্যে নাস্তিক্যবাদ নিয়ে এতো বিস্তর আলোচনা করেছেন এবং শক্ত দলিল রেখে গিয়েছেন তবে এর অর্থ এটা নয় যে “আরজ আলী মাতুব্বর” একাই তার নিজের অবিশ্বাসী দর্শনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন এবং প্রশ্ন করেছেন আর আরজ আলী সমীপের লেখক আরিফ আজাদ যদি এমনটি ভেবে থাকেন তাহলে তিনি বর্তমান মুক্তচিন্তার চর্চা ও এর প্রচার ও প্রসার সম্পর্কে কোন ধারনায় রাখেনা।

লেখকের কথার ৩য় প্যারায় লেখক আরিফ আজাদ এমন কিছু কথা দিয়ে এখানে তার পাঠকের মন পাবার চেষ্টা করেছে যা পড়লে মনে হবে ভূতের মুখে রামনাম টাইপের কিছু। বিশ্বাস না হয় নিজেই মিলিয়ে দেখুন। তিনি বলেছে “প্রশ্ন করতে কারনা ভালো লাগে? মানুষের স্বভাবজাত একটি বৈশিষ্ঠ হলো এই যে, সে প্রশ্ন করতে পারে। এই ক্ষমতা আছে বলেই সে মানুষ। একটি গরুর সামনে যদি কিছু প্লাস্টিক রাখা হয়, তাহলে গরুটি প্রথমে প্লাস্টিকের গন্ধ শুকবে। এরপর হয়তোবা আলতো করে জিহবা দিয়ে একটু পরীক্ষা করবে। যখন দেখবে এই জিনিষ তার গলধকরণ করার উপযুক্ত না, গরুটি তখন ভদ্রভাবে তার বিশাল মাথাটি অন্যদিকে সরিয়ে নেবে। গরুটি জানতে চায়না প্লাস্টিক খেলে কি হয়। জানতে চায়না প্লাস্টিক খাওয়া যায়না কেন ইত্যাদি। কিন্তু একজন মানব শিশু, যে সবে মাত্র একটু আধটু বুঝতে শিখেছে, সে প্রশ্ন করে। সে তার বাবার হাতের আঙুল ধরে জানতে চাই আকাশ নীল কেন, রাত কেন কালো, পাহাড় কেন উচু, পাখি কেন উড়তে পারে ইত্যাদি প্রশ্নবাণে সে জর্জরিত করে তার বাবা-মাকে, তার আশেপাশের সবাইকে। এই যে প্রশ্ন করার ক্ষমতা, চিন্তা করার ক্ষমতা, এটা প্রানীজগতে একমাত্র মানুষেরই আছে। মানুষ অজানাকে জানার জন্য প্রশ্ন করে। সত্য মথ্যা নির্ণয়ের জন্য প্রশ্ন করে। তার আদীমতম কৌতুহল থেকে জন্ম নেয় প্রশ্নের। সে প্রশ্নগুলোর ডালপালা মেলে চতুর্দিকে বিস্তৃত হয়। জানার কৌতুহলটা যদিও মানুষের আদিম কৌতুহলগুলোর একটি, তবুও সে কতটুকু জানছে আর কি জানছে তা নির্ভর করে সে কোথা হতে জানছে আর কার কাছ থেকে জানছে” এই ছিলো লেখকের কথার ৩য় প্যারার কথা গুলো। আসলে এটা দেখে মনে হচ্ছে এই ব্যাক্তি যে একটু আগে কোন এক কল্পিত ঈশ্বরের কাছে যে ঈশ্বরের নিজেরই কোন অস্তিত্ব নেই এমন এক অস্তিত্বহীন ঈশ্বরের কাছে নিজের অস্তিত্ব দানের জন্য শুকরিয়া আদায় করছিলো তার মুখে এমন কথা কিভাবে আসলো ? আছে কারণ আছে। এটাকে বলে পাঠকের ব্রেন ওয়াশ। আগে কিছু যৌক্তিক কথা শুনিয়ে সে তার অযৌক্তিক মতবাদের বৈধতা দাবী করতে চাচ্ছে তার জন্য পরের প্যারাতে কি বলছে সেটা আপনাদের একবার দেখতে হবে।

লেখকের কথার ৪র্থ প্যারাতে বলা হচ্ছে “সঠিক প্রশ্ন নিয়ে যদি ভুল মানুষের কাছে যায়, তাহলে সে ভুল উত্তর পাবে আর ভুল জানবে। ভুল প্রশ্ন নিয়ে যদি সঠিক মানুষের কাছে যায়, তবে সে সঠিক উত্তর পাবে। কারণ, সঠিক মানুষটা প্রথমে তার প্রশ্ন শুধরে দেবে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে। সুতারং শুধু প্রশ্ন করতে পারাটাই বাহাদুরি নয়, সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য কোথায় আর কার কাছে যাওয়া হচ্ছে সঠিক জ্ঞানার্জনের জন্য সেটাও অন্যতম একটা বিষয়” আসলে ঠিক এখানেই এই লেখক আরিফ আজাদ চেষ্টা করেছে আমাদের মতো সাধারন পাঠাকদের মস্তিষ্কে একটু অযৌক্তিক বিষয় ঢুকিয়ে দেবার যেটা সে তার এই সম্পুর্ণ বই “আরজ আলী সমীপে”তে করেছে। একটু খেয়াল করে দেখবেন সে এখানে বলতে চেয়েছে “প্রশ্ন করতে পারাটাই বাহাদুরি নয়” এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে আরজ আলী মাতুব্বর কি তার কোন বইতে কোথাও উল্লেখ করেছে যে “প্রশ্ন করতে পারাটাই বাহাদুরি” এই কথাটা ? না তিনি কোথাও এই কথা বলেনি। কিন্তু বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসীদের তাদের ধর্মীও মতবাদ এই কথা তাদের মস্তিষ্কে গেথে দেয় সেই শিশুকাল থেকেই যে প্রশ্ন করা যাবে না। প্রশ্ন করলেই ঈমান নষ্ট হবে এমন ধারণা। যাইহোক এই প্যারাতে লেখক বুঝিয়েছে সঠিক মানুষের কাছে যদি ভুল প্রশ্ন নিয়েও যাওয়া যায় তাহলে সেখান থেকে সঠিক উত্তরটিই পাওয়া যাবে কারণ যে ব্যাক্তি সেই প্রশ্নের উত্তর দিবে সে ভুল প্রশ্নটি আগে সুধরে দিবে তারপর উত্তর দিবে আর তাইতো সে তার এই বই “আরজ আলী সমীপে”তে আরজ আলী মাতুব্বরের প্রতিটি প্রশ্ন নিজেই শুধরে নিয়ে উত্তর দিয়েছেন যে কারণেই আমি এই সমালোচনা সিরিজের প্রথম পর্বে চ্যালঞ্জ দিয়েছি আরিফ আজাদের ভক্তদের যে, আরিফ আজাদ তার এই বইতে কোথাও আরজ আলী মাতুব্বরের একটি প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি।

এবার দেখুন সেই বহুল প্রচলিত মুমিনিয় বানী “ভাই আপনি সঠিক ইসলাম জানেন না” এই কথাটা আরিফ আজাদ কিভাবে ছলে বলে কৌশলে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। লেখকের কথার ৫ম প্যারাতে তিনি বলছেন “আরজ আলি মাতুব্বর জন্মেছেন বরিশাল। যখন থেকে উনার লেখার সাথে পরিচয়, তখন থেকে উনার যে বিশেষ গুনটি আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে, তা হচ্ছে উনার প্রশ্ন করার ক্ষমতা। উনি প্রশ্ন করেছেন ধর্ম নিয়ে, ঈশ্বর নিয়ে। প্রশ্ন করেছেন আত্মা, পরকাল নিয়ে। ধর্মের সাথে দর্শন আর বিজ্ঞানের আসামাঞ্জশ্য নিয়েও বিস্তর আলাপ করেছেন। উনার প্রশ্ন করার এই ক্ষমতাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু উনি যে বিশেষ এঙেল থেকে প্রশ্ন করে ধর্মকে, বিশেষ করে ইসলাম ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন, সেই এঙেলটা আসলে মূল ইসলাম না” এটার মাধ্যমে লেখক এখন বোঝাতে চাচ্ছেন আরজ আলী মাতুব্বর যখন তার বিভিন্ন বই লিখেছিলেন এবং তখনকার সময়ে সে যেই পরিবেশ এবং সমাজে বেড়ে উঠেছিলেন তখন যে ইসলাম ধর্ম সমাজে প্রচলিত ছিলো সেটা আসলে মূল ইসলাম না। তার মানে একই কথা “আপনি সঠিক ইসলাম জানেন না”। এখানে এখন এই আরিফ আজাদ যা বলবে তাই মেনে নিতে হবে যে তিনিই একমাত্র সঠিক আর মূল ইসলাম প্রচার করছে এবং সেই হিসাবেই তিনি তার উত্তর দিয়েছেন।

এখানে দেখুন লেখকের কথার ৬ষ্ঠ প্যারাতে বলা হচ্ছে “আগেই বলেছিলাম, প্রশ্ন করতে পারাটা সাধুবাদের। কিন্তু প্রশ্নের সোর্স যদি ভুল হয়, সঠিক উত্তরের আশা করাটা তখন বোকামিমাত্র। আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। উনি ভুল ইসলাম দিয়ে মূল ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন উনার জানা ইসলামটা যে আসল ইসলাম নয়, সেটাই এই বইতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি” এখানেও সেই ভুতের মুখে রামনাম টাইপের কথা আছে। প্রথমেই আরিফ আজাদ বলার চেষ্টা করেছে “প্রশ্ন করতে পারাটা সাধুবাদের” আসলে কিন্তু তা একেবারেই না। এই ধর্মটিতে প্রশ্ন করার জন্য কোন অপশন নাই। শুধুই শুনতে হবে এবং মানতে হবে তাও আবার বিশ্বাসের উপরে ভিত্তি করে। আসলে বিশ্বাস এর সংজ্ঞা কি এবং কখন ও কেন মানুষকে বিশ্বাস করতে বলা হয় সেই সংজ্ঞাটা আগে আপনাদের অনুরোধ করবো উইকিপিডিয়া থেকে একবার পড়ে আসুন। বিশ্বাস এমন কোন বস্তুকে বা বিষয়কে করতে বলা হয় যার কোন অস্ত্বিত্ব নেই, প্রমাণ নেই, যাকে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা যায়না এমন বিষয়কেই। আর তাই এই ধর্মটিতে প্রশ্ন করার কোন অপশন নেই। কিন্তু এখানে এই লেখক বারবার বলেছে যে আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্ন করাকে সে সাধুবাদ জানাচ্ছে আসলে কিন্তু তা নয়। আর যদি তাই হতো তাহলে তার উত্তর দেবার জন্য এই বই লেখার প্রয়োজন তার ছিলোনা। উত্তর সেই ধর্মের ধর্মীয় কিতাবের মধ্যেই পাওয়া যেতো নতুন করে ইসলাম শেখাতে আরিফ আজাদের মতো নতুন কোন লেখকের ইসলাম শিক্ষা বই এর দরকার পড়তো না। এরপরে লেখক বলেছে প্রশ্ন করার সোর্স ভুল তাই সঠিক উত্তর আশা করা যাবে না কিন্তু সম্পুর্ণ বইতে সে সঠিক সোর্স বলতে যা দেখিয়েছেন সেই একই কথা আরজ আলী মাতুব্বর বলে গিয়েছেন। এরপরেই যা বলেছে সেটা হচ্ছে সঠিক ইসলাম আরজ আলী মাতুব্বর জানতো না তাই ভুল ইসলাম দিয়ে মূল ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন আর এখন এই লেখক পৃথিবীর মানুষকে সঠিক ইসলাম শেখাতে এই বই লিখেছেন এটাই তার দাবি।

এরপরের লেখকের কথার ৭ম প্যারাতে লেখক আরিজ আজাদ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে এই বইটি লেখার জন্য লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করেছেন যেটা সাধারন মুমিন মুসুল্লিরা করে থাকেন। আসলে দেখুন এই যে বইটি তিনি লিখেছেন তার সম্পুর্ণ ক্রেডিট কিন্তু এই লেখকেরই হবার কথা কারণ তিনিই এই বই এর স্রষ্টা কিন্তু তার মাথার ভাইরাস তাকে সেই ক্রেডিট দিচ্ছে না দিচ্ছে আরেকজনের নামে। এরপরের ৮ম প্যারতে এসে সেই কথা তিনি এখানে শিকার করেছেন যেটা আমি এই পর্বের শুরুতেই বলেছি। একজন অস্ত্বিত্বহীন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী একটি মস্তিষ্কের অধিকারী একজন মানুষ কিভাবে “আরজ আলী মাতুব্বরের” মতো একজন অবিশ্বাসীর লেখা বই এর প্রশ্ন খন্ডন করতে যায় ? আর যদি তাই করেই থাকে তাহলে আরজ আলী মাতুব্বরের বই পড়ার সময়ই তো সেই মস্তিষ্ক থেকে বিশ্বাসের ভাইরাস পালায়ন করার কথা এরকম অনেক প্রমাণ আছে। কিন্তু এখানে লেখক নিজের কথা কিছুই বলেনি বলেছে তার বই এর পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমি জানিনা তার বিশ্বাস এখনও বহাল আছে কি নেই। তিনি বলেছে “আমার উদ্দেশ্য ছিলো আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবের সংশয়বাদী প্রশ্ন এবং যুক্তিগুলোর উত্তরপ্রদান, ইখতিলাফকৃত (অর্থঃ মতপার্থক্য) বিষয় নিয়ে উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করা কখনই আমার উদ্দেশ্য নয়”। এই কথার অর্থ নিশ্চয় পাঠক মহলের বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। সে এই উক্তির মাধ্যমে তার বই এর পাঠকদের সাবধান করছেন যে আপনাদের ঈমান যদি আমার এই বই পড়ে মানে আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায় সেটা আমার উদ্দেশ্য নয় আমার উদ্দেশ্য তার প্রশ্নের জবাব দেওয়া।

এরপরের ৯ম প্যারাতে আবারও লেখক আরিফ আজাদ সেই সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার লেখকের কথার সমাপ্তি করেছেন। এখানেও তিনি বলেছেন বইটিতে যদি কোন ভুলত্রুটি থাকে তাহলে তা সম্পুর্ণ তার নিজের দোষ আর যদি সঠিক বা ভালো কিছু থেকে থাকে তাহলে তার কোন ক্রেডিট এখানে নেই যা আছে তা সবই সৃষ্টিকর্তার। এবং সবশেষে বলেছেন “রাব্বুল আ’লামীন আমাদের সিরাতুল মুস্তাকীমের পথে অটল, অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন” এটাকে আপনি একটি সাবধান বানী হিসাবে নিতে পারেন। এই বানী শেষে দেবার কারণ হচ্ছে এই বইটিতে আরজ আলী মাতুব্বরের কোন প্রশ্নের উত্তর তো দেওয়া হয়নি সেটা আমি আগেই বলেছি কিন্তু তার প্রশ্নের ভুল ব্যাখ্যা দেবার জন্যও লেখককে আরজ আলী মাতুব্বরের করা প্রশ্ন গুলির মধ্যে কয়েকটা এই যেমন ধরুন সব প্রশ্নের ২% এর মতো এই বইটিতে উল্লেখ করা লেগেছে আর সেই ২% প্রশ্ন যদি আপনার চিন্তার বন্ধ দরজায় আঘাত করেই ফেলে তাহলে যেনো আপনার ঈমান দুর্বল না হয়ে যায় সেই পুর্বাভাস হিসাবে নিতে পারেন এটা। যাইহোক ইচ্ছা ছিলো লেখকের কথা ও শার’ঈ সমাপাদকের কথা এই পর্বটিতেই শেষ করে দিবো কিন্তু দীর্ঘতার কারনে এখানে আর সেটা করা সম্ভব হচ্ছেনা পরের পর্বে আমি এই বই “আরজ আলী সমীপে”র শার’ঈ সম্পাদকের কথা তুলে ধরবো।

মৃত কালপুরুষ
২৮/০২/২০১৮  
      

প্রকাশকের কথা ও সমালোচনা। বইঃ আরজ আলী সমীপে, লেখকঃ আরিফ আজাদ।( ১ম পর্ব)




লেখক আরিফ আজাদ সাহেব গতবছরের তার মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যায় ভরা বই “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” এর পর আবারও কি মনে করে সেই একই মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যার ঝুলি নিয়ে এবার “সমকালীন প্রকাশনের” দারস্থ হলো আর সেই প্রকাশনীই বা কি মনে করে এই জাতীয় অযৌক্তিক বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলো সেটা বুঝতে হয়তো যুক্তিবাদী সমাজের কারো বাকী থাকার কথা নয়। যায় হোক বই এর ভেতরে লেখা কি আছে না আছে সেটা দেখার আগে কিন্তু কভার ডিজাইন বা প্রচ্ছদের কথাটা বলতে হয়। ওল্ড স্টাইল ব্যাকগ্রাউন্ডে কভার ডিজাইন কিন্তু একেবারেই খারাপ বলা যায়না বইটার। আসলে ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলাটা খারাপ কিছুই না, কিন্তু দুঃখ লাগে তখন যখন কভার থেকে ভেতরের লেখা মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যার কথা মনে পড়ে। আমার মনে হয় লেখক আরিফ আজাদ যদি চেষ্টা করে তবে যুক্তিবাদী সমাজের জন্য মানবতার কল্যানে আসবে এমন যে কোন বই সে লিখতে পারবে কেননা সে যেভাবে পুর্বে “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” এবং বর্তমানে “আরজ আলী সমীপে” বইতে কৌশলে মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে ও তা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে, তাতে সত্য ও যুক্তিযুক্ত লেখা লিখলে তার সুনাম ছাড়া দুর্নাম হবার কথা না। তবে সেটা লেখক করবে কিনা তা নির্ভর করছে তার মাথার মধ্যে শিশুকাল থেকে তৈরি হওয়া বিশ্বাসের ভাইরাসের উপরে। বাড়তি কথায় না গিয়ে আমি প্রকাশকের কথা থেকেই বইটির সমালোচনা শুরু করবো।

§    এই বইটির প্রথম পৃষ্ঠা থেকে তৃতীয় পৃষ্ঠা পর্যন্ত বইএর না্ম,‌ লেখকের নাম, প্রকাশকের নাম, প্রকাশকাল, মুল্য, গ্রন্থস্বত্ব, পরিবেশক, প্রচ্ছদ ও মুদ্রন সম্পর্কিত তথ্য ও ISBN নাম্বার এবং সর্বোশেষ কল্পিত ঈশ্বরের নামে বইটি উৎসর্গ করার তথ্য  দেওয়া আছে এবং ৪র্থ পৃষ্ঠাতে আছে প্রকাশকের কিছু কথা। আমার ধারনা এই বই এর প্রকাশক আসলে নতুন কোন প্রকাশক নয় যে এই বইটি দিয়েই সে প্রথম যাত্রা শুরু করছে বা এমন কিছু। তারপরেও একজন সচেতন প্রকাশক হয়ে এমন কিছু উক্তি ব্যাক্ত করা যা সাধারণ পাঠক মহলে তা গ্রহন করার পাশাপাশি সমালোচিত হবে এটাই স্বাভাবিক। এই বই এর প্রকাশক শুরুতেই বোঝাতে চেয়েছেন সংশয়বাদ, আজ্ঞেয়বাদ, নাস্তিক্যবাদ, বা যুক্তিবাদী মনোভাব আসলে বর্তমান সময়ে এবং আমাদে্র প্রচলিত সমাজের জন্য চরম একটি সমস্যা। তিনি কি বলেছেন সেটা বলার আগে আমি নাস্তিক্যবাদ, সংশয়বাদ আর আজ্ঞেয়বাদ নিয়ে কিছু বলতে চাই। আমরা জানি যথেষ্ট প্রমাণ ও যুক্তির অভাবে যাদের কাছে কল্পিত ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব নেই বা যারা এসব মতবাদকে অযৌক্তিক ধারনা বলে থাকে তাদেরকেই আমরা নাস্তিক, সংশয়বাদী বা আজ্ঞেয়বাদী বলে থাকি। এক কথায় যুক্তি প্রমাণ ও সঠিক ব্যাখ্যা ছাড়া যারা কিছুই মানতে রাজি নয়। যেমন ধরুন প্রমাণ এবং যুক্তির ওপর নির্ভর করে একজন মানুষ তার জীবন যাপন করতে পারে এই হাইপোথিসিসের ওপর যে, ঈশ্বর বলে কিছু নেই এবং যারা এই মতবাদে বিশ্বাস করে আমরা কখনই তাদের ধর্মবিদ্বেষী বা ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী বলতে পারবো না যেমনটি এই আরিফ আজাদের বই এর প্রকাশক “আরজ আলী সমীপে” বই এর প্রকাশকের কথায় বলে বোঝাতে চেয়েছেন।

প্রকাশক এখানে বলেছেন (শুরু থেকে) “বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে যে কয়েকটা জিনিস মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো নাস্তিকতা। ধর্মবিদ্বেষ, ধর্মের অপব্যাখ্যাসহ বিভিন্ন কার্যকলাপ দিনদিন যেন বেড়েই চলেছে। ব্লগ, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এসব নিয়ে হরহামেশাই এখন লেখালেখি, তর্কাতর্কি হচ্ছে” এটা হচ্ছে প্রথম প্যারা। এখানে যদি কিছু না বলা হয় তাহলে প্রকাশক যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠার কথা এখানে বলেছেন সেটাই হবে তবে সেটা, জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা, প্রচার এবং প্রসারের বিপক্ষে একটি অন্ধকার ও মিথ্যাচার ও কুসংস্কারে ভরপুর একটি সমাজের পক্ষে মাথাচাড়া। আমরা চাই কুসংস্কারাচ্ছন্ন গতবাধা হাজার হাজার বছরের পুরাতন রীতিনীতি দিয়ে ঠাসা এই প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থার পরিবর্তন, তাইতো বর্তমানে মুক্তমনা যুক্তিবাদী সমাজ নিজেদেরকে প্রথাবিরোধী বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। আর এখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠার কিছুই নেই বরং যদি দাবী করা হয় হাজার হাজার বছর আগে বিভিন্ন নামের ধর্ম ও ধর্ম ব্যাবস্থা গুলিই এক একটি সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিলো এবং আজ অবধী একশ্রেনীর মানুষের মস্তিষ্কে তা প্রচলিত আছে তবে সেটাই হবে বেশি যৌক্তিক। যুক্তিবাদী সমাজ, নাস্তিক্যবাদ, সংশয়বাদী, আজ্ঞেয়বাদীদের কখনও ধর্মবিদ্বেষী বা ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী বলা যাবে না। এর কারণ হচ্ছে এই জাতীয় মতবাদে আস্থা রাখার পূর্বে বিশ্বাস নামক বস্তুটিকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে যার কোন ভিত্তি নেই বিজ্ঞানভিত্তিক একটি সমাজব্যাবস্থায়। আর তা করতে হলে আপনাকে অবশ্যয় ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের উপরে যথাযথ জ্ঞান রাখতে হবে।

যেহেতু প্রচলিত ধর্ম গুলির উপরে আপনাকে যথাযথ জ্ঞান রেখেই এই মতবাদে আস্থা রাখতে হবে সেক্ষেত্রে এই প্রচলিত ধর্মগুলির কালো অধ্যায় বা খারাপ দিক যা মানব সভ্যতার জন্য যা হুমকি স্বরুপ বা ক্ষতিকারক সেই বিষয়গুলিই তারা প্রচার করে থাকে বা মানুষকে সচেতন করে থাকে। এখন বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যারা তাদের জীবন পরিচালনা করে আসছে তারা ভেবে বসতে পারে এটাই হচ্ছে ধর্মবিদ্বেষ আসলে কিন্তু তা নয়। এখানে বলতেই হয় ধর্মবিদ্বেষ তারাই ছড়াই যারা বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাস করে থাকে যেমন, এক ধর্মের মানুষ আরেক ধর্মের মানুষকে দেখতে পারেনা যেমন, ইসলাম ধর্ম মতে (আল-কোরানের সুরা আন নিসা, আয়াত- ১৪৪ এ বলা হচ্ছে “অবিশ্বাসীদের কখনও বন্ধু বানানো যাবেনা”) ইসলাম ধর্ম মতে যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না তারা কাফের, মুশরিক ও অবিশ্বাসী আর এরা প্রত্যেকেই কোন না কোন ধর্মে বিশ্বাসী আর তাদের উদ্দেশ্যে এরকম আয়াত সমস্ত কোরানে আছে প্রায় হাজার খানেক আর তাই যদি হয় তাহলে ধর্মবিদ্বেষ কে বা কারা ছড়াচ্ছে সমাজে ? এবার দেখুন হিন্দু ধর্ম মতে কি বলে, (অথর্ববেদ ১২,০৫,৫৪) এ বলা আছে “Vedic followers should destroy infidels” অর্থঃ বৈদিক অনুসারীদের (কাফের বা বেধর্মীদের) ধ্বংস করা উচিত হিন্দু ধর্ম মতে এই ধর্মের উপরে যাদের বিশ্বাস নেই তারা সবাই বেধর্মী আর তাই তাদের সবাইকে ধ্বংস করতে বলা হচ্ছে। সম্পুর্ণ ঋগ্বেদ, অথর্ববেদ, যযুর্বেদ পড়লে এরকম অসংখ্য শ্লোক পাওয়া যাবে তাহলে আবারও প্রশ্ন আসলে এই ধর্মবিদ্বেষী কারা ? এছাড়াও খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রেও এরকম অনেক কথা আমরা দেখতে পায়।

আর একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে প্রকাশক এখানে বলেছে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে। একমাত্র ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা করে থাকে যুক্তিবাদী সমাজ কোন ধার্মীক বা আস্তিক সমাজ কোন ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা করেনা (নিরাপেক্ষভাবে)। আর যদি তাই করতে হয় তাহলে তারা আর আস্তিক থাকবে না হয়ে যাবে নাস্তিক বা আজ্ঞেয়বাদী কারণ সঠিক ব্যাখ্যা করতে হলে তাদের আগে নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারনা নিতে হবে আর সঠিক ধারনা নিতে গেলেই বিশ্বাসের পাখি উড়াল দেবে। এরপরের প্যারা গুলিতে প্রকাশক বলেছেন “শত শত মুসলিম তরুণ এই অপব্যাখ্যা এবং বিদ্বেষের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে ধর্ম থেকে সরে যাচ্ছে। তাদের মনে নানারকম প্রশ্ন, সন্ধেহ ঢুকিয়ে দিচ্ছে বিরুদ্ধবাদীরা” এখানে বলতে হয় তিনি কয়েকটি আংশিক সত্য কথা বলেছেন সাথে লেখক আরিফ আজাদের মতো মিথ্যার আস্রয় নিয়েছেন যেমন, শত শত মুসলিম তরুনের যায়গায় হবে লক্ষ্য লক্ষ্য জ্ঞান পিপাসু মানুষ যারা অন্ধকারে বা মিথ্যা আর অযৌক্তিক মতবাদের সাথে থাকতে চাইনা আর অপব্যাখ্যার নমুনা আগেই দিয়েছি আর দরকার আছে মনে হয়না। মায়াজাল বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ছলনা বা মিথ্যার উপরে ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে এমন কিছু। মানুষ দিনে দিনে ঝুকছে কোনদিকে বেশি আর কোনটা ত্যাগ করছে সেটা দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যাবে কোনটা মায়াজাল আর কোনটা সঠিক।

পরবর্তি প্যারাতে তিনি দাবী করেছেন “আরজ আলী মাতুব্বর” সেই বহু বছর আগে যেই প্রশ্ন রেখে গিয়েছিলেন তার “সত্যের সন্ধ্যানে” বই এর মাধ্যমে সেই প্রশ্নের কারনে নাকি অনেক শিক্ষিত যুবক শ্রেনী সন্ধেহের বেড়াজালে আটকা পড়ছে। আর তাই সেই সব যুবকদের জন্য আরজ আলী মাতুব্বরের বই এর বিপরীতে উনার যুক্তি, প্রশ্নের উওর দেওয়াটা ছিলো সময়ের একটি উন্নতম দাবি। এবং সেই কথা মাথায় নিয়ে তিনি লিখেছেন “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সময়ের উন্নতম তরুন লেখক আরিফ আজাদ সেই কাজটিই হাতে তুলে নিয়েছেন। অবিশ্বাসীদের মৌচাকে তিনি প্রথম ঢিল ছুড়েছিলেন গত বছরের বই মেলায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ লিখে। বিশ্বাসীমহলে বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় এই লেখক এবার আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন আরজ আলী সমীপে। বইটিতে তিনি আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবের উথাপিত প্রশ্নগুলোর জবাব তো দিয়েছেনই, সাথে ছুড়ে দিয়েছেন পালটা প্রশ্নও”। এবার বলতে বাধ্য হচ্ছি “আরজ আলী মাতুব্বর” হচ্ছে সেই শুরু থেকেই লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের আদর্শ হয়ে আছে। আমি নিশ্চিত আরজ আলী মাতুব্বর আরো কয়েকশো বছর এভাবেই যুক্তিবাদী সমাজের কাছে আলোচিত হয়ে আসবে এবং এরকম অনেক আরিফ আজাদ এবং প্রকাশক মাঝখানে এসে তাদের প্রকৃত চেহারা আমাদের দেখিয়ে দিয়ে যাবে। আরজ আলী মাতুব্বর তার “সত্যের সন্ধ্যানে” বা “অনুমান” এসব বই যখন লিখেছেন তখন এই বই এর লেখক যে আরজ আলী মাতুব্বর এর প্রশ্নের জবাব হিসাবে এই বই লিখেছেন তার জন্মও হয়নি আমার ধারণা। তাহলে সেই সময়ের প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থা সম্পর্কে তার ধারণা কিভাবে ?


গতবছর এই বই এর লেখক আরিফ আজাদ তার প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বই লিখে আমাদেরকে তার আসল পরিচয় দিয়েছিলেন তাই সে ছাড়া আর কে এমন ব্যাক্তি আছেন যে “আরজ আলী সমীপে” নামক আরেকটা বই লিখবেন ? সেই কারনেই এই কাজটি তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন বলে আমার ধারনা। আর বিশ্বাসী মহলে এই লেখক নাকি খুবই জনপ্রিয় একজন লেখক কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এই লেখক আজও আছেন আড়ালে। আজ পর্যন্ত কেই দাবী করতে পারবে না যে এই লেখকের সাথে তার সাক্ষাত হয়েছে বা তার ফেসবুক প্রফাইলে তার একটা ছবি দেখেছে কেউ। অর্থ্যাৎ এখন পর্যন্ত এই লেখক আরিফ আজাদের কোন হদিস কেউ দিতে পারবে না। একবার একটা স্টাটাস দেখেছিলাম যেখানে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ সহ দাবি করা হয়েছিলো এই আরিফ আজাদ বলে কোন লেখক বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কখনও ছিলো না। যাক আমি সেই আলোচনায় যাচ্ছিনা আমি খুব পরিষ্কার করে একটা কথা এখানে বলতে চাই সেটা হচ্ছে এই প্রকাশক এই বই এর শুরুতেই “প্রকাশকের কথা”র দুইটি পৃষ্ঠার মধ্যে এই যায়গাটিতে সব থেকে বড় মিথ্যা কথাটি বলেছেন আর তা হচ্ছে তিনি এখানে বলেছেন “আরজ আলী সমীপে” বইটিতে নাকি আরিফ আজাদ “আরজ আলী মাতুব্বর” সাহেবের উথাপিত সব প্রশ্নগুলোর জবাব তো দিয়েছনই, সাথে ছুড়ে দিয়েছেন পালটা প্রশ্নও” এখানে আমি বলতে চাই, পাঠক যারা তার এই অপাঠ্য বইটি আমার মতো না পেরেও পড়ে হজম করেছেন তাদেরতো আর কিছু বলার নেই কিন্তু যারা পড়েননি তদের উদ্দেশ্যে বলি, আমি চ্যালেঞ্জ করলাম এবং বলছি “আরজ আলী সমীপে” নামের বইটিতে লেখক আরিফ আজাদ আরজ আলী মাতুব্বরের একটি প্রশ্নেরও জবাব দেইনি। আমি আবারও বলছি যে লেখক আরিফ আজাদ “আরজ আলী মাতুব্বরে”র একটি প্রশ্নেরও জবাব দেইনি। যদি এমন কেউ থাকে যে মনে করে আরিফ আজাদ কোন একটি প্রশ্নের জবাব এখানে (এই বইতে) দিয়েছেন তাহলে আমার সামনে তা আনার জন্য অনুরোধ করলাম।

লেখক এখানে যা করেছে তা হচ্ছে সম্পুর্ণ (ধানাই পানাই) কৌশলে আসল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ভুলভাল আর মিথ্যাচারের ব্যাখ্যা করে গিয়েছেন পাশাপাশি প্রশ্নটিও সাজিয়েছে নিজের মনগড়া ভাবে। যদি কেউ আমার এই দাবী ভুল প্রমাণ করতে পারেন তাহলে কমেন্টস করে জানানোর অনুরোধ করা হলো। এরপরের প্যারাতে প্রকাশক আরো বলেছেন “এতোদিন আরজ আলী মাতুব্বরের বইপত্র পড়ে যারা বিভ্রান্ত হতো, যারা মনে করতো আরজ আলী মাতুব্বরের অবস্থান সঠিক এবং প্রশ্নাতীত, লেখক আরিফ আজাদের নতুন বই “আরজ আলী সমীপে” তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস” এই প্রকাশককে আমি বলতে চাই তিনি কি এই বইটি প্রকাশ করার আগে একবারও পড়ে দেখেছেন বা আরজ আলী মাতুব্বরের কোন বই পড়ে দেখেছেন ? যদি পড়েই থাকেন তাহলে কে কাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে সেটা আমি তাকে নিরাপেক্ষভাবে যাচাই বাছাই করে দেখার অনুরোধ জানালাম। আর “আরজ আলী সমীপে” বই সম্পর্কে আর কিছু বলার আছে বলে মনে হয়না কারন আমি কিন্তু আগেই একটি চ্যালেঞ্জ করেছি যে এই সম্পুর্ণ বইটিতে আরিফ আজাদ একটি প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি তাহলে আর বাড়তি কথা এখানে বলার দরকার আছে বলে মনে করিনা। এরপরের শেষ প্যারায় প্রকাশক যা বলেছেন আমি জানিনা তিনি তার এই কথার কতটুকু রক্ষা করবেন। তিনি বলেছেন “আমরা চেষ্টা করছি বইটিকে নাস্তিকতার বিপক্ষে, আস্তিকতার পক্ষে একটি দলিল, একটি রেফারেন্স বই হিসাবে উপস্থাপন করতে। শার’ঈ দৃষ্টিকোণ থেকে যেনো কোন সমস্যা না থাকে, সে জন্য আমরা প্রখ্যাত আলেম দ্বারা শার’ঈ সম্পাদনা করে নিয়েছি। এরপরও এতে কিছু ভুল ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। যেকোন ধরনের ভুলত্রুটি যদি বোদ্ধা পাঠকমহলের দৃষ্টিগোচর হয়, আমাদের জানানোর বিশেষ অনুরোধ করছি। আমরা সেটা আন্তরিকভাবে গ্রহন করবো এবং সংশোধন করে নেবো” খুব ভালো কথা বলেছেন কিন্তু এই কথা গুলা রাখলে হয়।

আসলে এই বইটির জন্য এতো দীর্ঘ সমালোচনা করার অর্থই হচ্ছে আপনারা যারা সাধারন পাঠকদের এই জাতীয় অপাঠ্য বই এর মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বা আপনারা যে একটি বিজ্ঞান মনষ্ক ও যুক্তিবাদী সমাজের বিপক্ষে এবং একটি মৌলবাদী সমাজের পক্ষে কথা বলছেন তা আমার মতো সাধারণ পাঠকদের মাঝে প্রকাশ করে জানানো। ইতিমধ্যেই “আরজ আলী সমীপে” নামের বইটির সমালোচনা সিরিজ আমার জানামতে আরো কয়েকজন লেখা শুরু করে দিয়েছে এবং সেটা বিভিন্ন ব্লগ ও সোস্যাল মিডিয়াতেই খুজে পাবেন। যদি আপনারা আপনাদের ভুল ত্রুটি নিজেরা ধরতে না পারেন তাহলে এই সমালোচনা সিরিজ গুলা পড়ে সিদ্ধান্ত নেবার অনুরোধ রইলো। এরপরের পর্বে লেখকের কথা ও শার’ঈ সম্পাদকের কথা ও তার একটি জবাব নিয়ে আরেকটি লেখা আসছে।

মৃত কালপুরুষ
২৭/০২/২০১৮           


শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

মানব ক্লোন অবৈধ ঘোষণা করার পেছনে কি ধর্ম বিশ্বাস না নৈতিকতা ?



বিজ্ঞান যখনই নতুন কিছু আবিষ্কার করে তখনই ধর্মান্ধরা দাবী করে এটা আমাদের ঐশ্বরিক কিতাবে অনেক আগেই লেখা ছিলো এবং সেখান থেকে রিসার্চ করে বিজ্ঞানীরা এখন এটা আবিষ্কার করেছে তারমানে এই আবিষ্কারের সব ক্রেডিট সেই ধর্মীও ঈশ্বরের, মানুষের না। এরকম ধারণা এখনও যে কত কোটি কোটি মানুষ তাদের মাথায় করে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তা কিন্তু আপনি, আমি চিন্তাও করতে পারবো না যদি বাস্তবে এরকম দুই একজনকে না দেখেন। কয়েকদিন আগে আমি আসিফ ভায়ের একটা লাইভ দেখছিলাম যেখানে এক ভদ্রলোক সৌদি আরব থেকে তার সাথে লাইভে কানেক্ট হয় এবং আলোচনা করতে থাকে। লাইভে ভিউয়ার্স মনে হয় ৬ থেকে ৭শ মতো ছিল এরকম সময়ে সেই ভদ্রলোক তার ইসলামিক কিছু জ্ঞানের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি জীবনে অনেক ইসলামিক বই পড়েছেন বলে দাবী করলেন এবং কিছু বই তিনি উপস্থিত সবাইকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেখালেন। এরকম একজন জানাবোঝা মানুষের মস্তিষ্কের অবস্থা দেখলাম শেষের দিকে তার কিছু ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা শুনে। সে দাবী করলো “মাছির এক পাখায় জীবানু আর এক পাখায় প্রতিষেধক আছে” এটা নাকি কোন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছে এবং একই কথা ইসলাম ধর্মের কোন এক হাদীসেও নাকি বলা আছে।

এরকম সময় আসিফ ভাই যখন তাকে প্রশ্ন করলো আপনি কি আমাকে সেই জার্নাল না রিসার্চ পেপারের নাম বলতে পারবেন যেখানে এই বিজ্ঞানী এটা প্রমান করেছে। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কি জানেন জার্নাল কাকে বলে সে বলেছিলো “না”। এরকম আরো অনেকেই আছে যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বিভিন্ন ধর্মের ঐশ্বরিক কিতাব আর মুখে মুখে প্রচলিত অনেক কথা বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। আজ ক্লোন নিয়ে কিছু কথা বলবো, তবে জানিনা এই ক্লোন নিয়ে কোন ধর্মীয় গ্রন্থে কিছু বলা আছে নাকি। আমি শুনেছি পৃথিবীতে এমন অনেক ধর্মীয় ঐশ্বরিক কিতাব আছে যাতে এই পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি ও সমস্ত আবিষ্কারের কথা লেখা আছে। ক্লোনিং এর মধ্যে বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু কারণে মানব ক্লোনিং করা নিষেধ করা আছে যা এখন অবৈধ। এখানে আগেই একটি কথা উল্লেখ করা দরকার সেটা হচ্ছে ক্লোন অর্থ হচ্ছে অনুরুপ বা প্রতিলিপি বা আমরা কপি বলতে পারি আর ক্লোনিং হচ্ছে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ক্লোন করা হয় তাকে ক্লোনিং বলা হয়। ক্লোনিং হলো অতি অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে একটা প্রাণীর ক্রোমোজোম বা ডিএনএ (কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত এক বিশেষ ধরনের জৈব অ্যাসিড যা একটি জীবের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে জন্ম, মৃত্যু, চেহারা, আকার-আকৃতি, আচার ব্যবহার, বেড়ে উঠা ইত্যাদি) ব্যবহার করে হুবহু সেই প্রাণীর অনুরূপ আরেকটি প্রাণী করা হয়,  যা জেনেটিক এবং ফিনোটাইপিক উভয় দিক থেকেই অনুরূপ হবে।  সোজা কথায় ক্লোনিং হল কোন জিনগত ভাবে কোন কিছুর হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করা।

পৃথিবীতে এই ক্লোনিং করার পক্ষে সর্বোপ্রথম বাধা আসে ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের কাছ থেকে। তারা দাবী করে এটা আমাদের সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি বহিঃভুত একটি কাজ। এই থেকে ধারনা করা যায়, মনে হচ্ছে এমন কোন আবিষ্কারের কথা মনে হয় কোন ধর্মের ঈশ্বর তাদেরকে বলেনি তাই তারা এই ক্লোনিং এর বিরোধীতা করেছিলো। শুধু তাই নয় ২০১৪ সালে যখন রাশিয়ার নিউরো সাইন্টিস্ট “দিমিত্রি” তার “আভাতার ২০৪৫” প্রজেক্টের কথা বলে তখন তারাও এটার বিরোধিতা করেছিলো। বিরোধীতা করার কারণ ছিলো “দিমিত্রি” বলেছিলো আমার প্রজেক্ট সাকসেস হলে আমি ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের অমরত্ব দিতে সক্ষম হবো। আর তাই যদি করে ফেলে তাহলে ধর্ম বিশ্বাসীদের ধারনা ঈশ্বর প্রদত্ত বানী “প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে” কথাটা ভুল প্রামণিত হয় আর তখনই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন জাগবে তাই তারা এটার বিরোধীতা করে। কিন্তু এই প্রজেক্ট খুব সুন্দর ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এখন। আর এই কথাটা মনে হয় ওয়াটার বিয়ার (Water bears) বা ট্রেডিগ্রেডস (tardigrades) এর জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ বিজ্ঞানীদের গবেষনায় দেখা গিয়েছে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা এই প্রানীর মৃত্যু নেই বললেই চলে। এরা পৃথিবীর যে কোন পরিস্থিতিতেই বেচেঁ থাকতে সক্ষম হোক সেটা পারমানবিক বোমায় ধ্বংস হওয়া কোন পরিস্থিতি।

ক্লোনিং এর প্রথম বাধার পরেই মানুষ এই ক্লোনিং এর বেশ কিছু পদ্ধতির আবিষ্কার করে যাতে করে নির্দিষ্ট কিছু জটিলতা যাতে না থাকে একটা নতুন প্রান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা যেসমস্ত ক্লোনিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষনা করছেন সেগুলা হচ্ছে সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতি, রস্লিন পদ্ধতি, হনলুলু পদ্ধতি, মলিকিউলার ক্লোনিং, রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোনিং, থেরাপিউটিক ক্লোনিং এবং আরো অনেক পদ্ধতি। আমরা হয়তো সবাই একটি ক্লোন মেষ শাবক (ভেড়ার) কথা কমবেশি জানি যার নাম ছিলো “ডলি” এই ডলি ছিলো রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোনিং করা একটি ক্লোন মেষ শাবক। ডলিকে বলা হয় প্রথম ক্লোন কিন্তু এটা মোটেই ঠিক নয়, এর আগেও ক্লোন করা হয়েছে বরং সঠিকভাবে বললে ডলি ছিল পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে তৈরি করা প্রথম ক্লোন। আসলে ক্লোনিং বা ক্লোন নিয়ে এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গিয়েছে যার কারনে ক্লোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে মানব ক্লোন এর অনুমতি এখনও বিজ্ঞানীদের মেলেনি। এর মধ্যে প্রধান জটিলতা হিসাবে বলা যায় জেনেটিক কিছু অমিল থেকে যায় ক্লোনিং এর ক্ষেত্রে কারণ তৈরি করা প্রাণটি যে গর্ভে বেড়ে উঠছে সেই গর্ভের পরিবেশের উপরেও এই জেনেটিক বিষয় গুলা নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেওয়া (জমজ) ক্লোন এর ক্ষেত্রে এই সমস্যা থাকেনা।

এই সমস্ত নানা কারনে সর্বশেষ ২০১৫ সালে পৃথিবীর প্রায় ৭০ টি দেশ মানব ক্লোনিং কে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তাহলে কি মানব ক্লোন এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে হয়নি ? এখন পর্যন্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দাবী করেছে তারা সফল ভাবেই মানব ক্লোনিং করেছে। তবে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য যেটা সেটা হচ্ছে ২০০২ সালের ২৭ ডিসেম্বরে ক্লোনাইড নামের একটি প্রতিষ্ঠান দাবী করে তারা প্রথম মানব ক্লোনিং করেছে এবং সেই ক্লোন মানব কন্যার নাম “ইভ”। শুধু তাই নয় এই একই প্রতিষ্ঠান আবার ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারী দাবী করেন তারা আবারও আরেকটি মানব ক্লোন সফল ভাবেই করেছে। প্রথম ক্লো্নটি করে তারা ৩১ বছর বয়সী একজন নারীর কোষ থেকে এবং পরের ক্লোনটি করে তারা ২ বছর বয়সী এক শিশুর কোষ থেকে যে ২০০১ সালে জাপানে একটি রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়। এছাড়াও এর আগে আরো অনেকেই দাবী করে তারাও মানব ক্লোন করেছে। সর্বোপ্রথম এমন দাবী করা হয় ১৯৯৮ সালে যা ৫ দিনের মাথায় নষ্ট করে ফেলা হয়। সর্বোশেষ ২০০৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্টিমাজেন কর্পোরেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্যামুয়েল উড এবং অ্যান্ড্রিউ ফ্রেঞ্চ ঘোষণা দেন তারা থেরাপিউটিক ক্লোনিং এর লক্ষ্যে ৫ টি মানব ভ্রূণ তৈরি করেছে কিন্তু পরবর্তীতে তারা নৈতিকতার দিক বিবেচনা করে ভ্রুন ৫ টি নষ্ট করে ফেলে।

তথ্যসুত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Human_cloning

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০২/০২/২০১৮



বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

আবেগীয় সম্পর্কের কোন নির্ধারিত বয়স নেই।


স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভুত প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, যৌন সম্পর্ক বা এরকম কোন ঘনিষ্ট সম্পর্ককে বাংলাদেশ বা বিশ্বের কিছু স্বল্প শিক্ষিত দেশে খুবই নেতিবাচক একটি দিক বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই জাতীয় সম্পর্কের জন্য মানুষকে (নারী, পুরুষ) উভয়কেই শাস্তি পর্যন্ত ভোগ করতে হয়। বহু পূর্বে থেকেই ধারনা করা হয় সমাজে বা মানব সভ্যতায় যখন থেকেই বিবাহ প্রথার শুরু হয়েছিলো তখন থেকেই এই জাতীয় সম্পর্ককে একটি লঘু বা নেতিবাচক সম্পর্ক বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আসলে কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলে আমরা দেখতে পারি এটা শাস্তি যোগ্য কোন অপরাধ নয় যদিও এই জাতীয় সম্পর্ককে নেতিবাচক বলে গন্য করা হলেও এটি কখনই আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হয়না। তবে এধরনের সম্পর্কের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়ে থাকে তবে যার উপরে এমন অভিযোগ আসে তার বিবাহিত সঙ্গী তার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দেশ ভিত্তিক আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আবেদন করতে পারে এটুকুই।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে এধরনের সম্পর্কের কারনে সেই পরিবারের সন্তানদের উপরে এক ধরনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে যা সন্তানদের মানুষিক ও শারীরিক স্বাস্থের জন্য ভালো নয়। এধরনের সম্পর্কের কারনে সামাজিক যোগাযোগেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে তাছাড়াও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতিতে এটা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। এবার দেখুন অন্য কিছু দিক, যেমন আমরা যদি প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে থাকি তাহলে স্বাধীন মত প্রকাশ ও স্বাধীনভাবে সুখি হবার চেষ্টা করাকে অবশ্যয় ইতিবাচক ভাবেই দেখতে হবে। এতে করে প্রতিটি মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশকেও সমর্থন করা হবে। একটি মানুষ তার জীবনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে এসে নিজেকে সুখি করার জন্য যেকোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে। এই পদক্ষেপকে আপনি যদি সমর্থন করেন তাহলে আপনিও মত প্রকাশ করার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একজন মানুষ হবেন। তবে যদি সামাজিক নিয়ম কানুন আর ধর্মীয় রীতিনীতি যেমন, ইসলাম ধর্ম মতে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভুত প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, যৌন সম্পর্ক বা এরকম কোন ঘনিষ্ট সম্পর্কে কেউ যদি জড়িয়ে যায় এবং প্রামণিত হয় তবে তাকে বা তাদেরকে পাথর নিক্ষেপের ব্যবস্থা আছে এমন কিছুতে আপনি বিশ্বাসী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে কখনই প্রথাবিরোধী বা প্রগতিশীল একজন মানুষ বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

সম্প্রতি এই ধরনের সম্পর্ক নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন পোর্টালে দেখলাম প্রচুর আলোচনা চলছে যার হয়তো নির্দিষ্ট কোন কারণ থাকলেও থাকতে পারে। ধরুন একজন চল্লিশউর্ধো পুরুষ দুইটি সন্তানের পিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক এবং সে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবে তার ভালোবাসার পরিবারটিকে সবসময় সুখি রাখতে। মন না চাইলেও তার স্ত্রী সন্তানদের প্রতি আবেগীয় আচরন করবে। কিন্তু এমনও হতে পারে সেই ব্যাক্তির স্বাধীনভাবে একটু সুখ খোজার জন্য নতুন করে কাউকে আপন মনে করে খুবই ব্যাক্তিগত কিছু কথা ভাগাভাগি করতে পারে। আর এটা কিন্তু নতুন কিছুই না এরকম ঘটনা আমরা সচরাচর অনেক দেখে থাকি। ঠিক এরকম একটি পুরুষের ক্ষেত্রে ঘটলে একটি নারীর ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তবে যেহেতু তারা এই ধরনের সম্পর্কে সব কিছু জেনে বুঝে মেনেই জড়িয়েছে বা জড়াচ্ছে তাহলে এটাও বোঝা উচিত দেশ ভেদে এধরনের সম্পর্কের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। আর যদি প্রশ্ন উঠেই যায় তাহলে দুইজনের স্বার্থে তার প্রাইভেসি রক্ষা করা উচিত এবং তা দুইজনের পক্ষ থেকেই সমানভাবেই হতে হবে। কেউ প্রাইভেসি রক্ষা করতে ব্যার্থ হলে ধরে নিতে হবে এখানে কোন স্বার্থ কাজ করছে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৫/০১/২০১৮