প্রকাশকের কথার পরেই
৭ নং পৃষ্ঠাতে আছে লেখকের কথা ও ১০ নং পৃষ্টাতে আছে শার’ঈ সম্পাদকের কথা। এই পর্বে
এই দুইটি বিষয়ের জবাব দেবার চেষ্টা করবো। লেখকের কথার শুরু এভাবে করা হয়েছে বইটিতে
“আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন। শুকরিয়া সেই মহান সত্তার, যিনি
আমাকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। দরুদ এবং সালাম প্রিয় নবী (সাঃ) এর
প্রতি”। এখানে বলতেই হয় প্রথমে “আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন”
হচ্ছে একটি আরবী ভাষা। বাংলাদেশে প্রকাশিত একটি বইতে এই ভাষা ব্যাবহার করাতে এই বই
এর কতজন পাঠক এই লাইনের অর্থ বুঝতে পারবে বা জানে তার একটা ধারনা আমরা করতে পারি
যেমন তার এই বইটি যদি ১০০ জন পড়ে তার মধ্যে ৯০ জন পাঠক এই কথাটির অর্থ বুঝতে পারবে
না যদিও লেখক এটার পরে এটা লিখে বোঝাবার চেষ্টা করেছে “শুকরিয়া সেই মহান সত্তার”
আসলে কিন্তু এই আরবী ভাষাটির “আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন”
এর অর্থ এটা না এর বাংলা অর্থটা হবে “সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকর্তার। সমস্ত প্রশংসা
একমাত্র প্রভু সৃষ্টিকর্তার প্রতি” এরপরেই লেখক ধারনা করেছেন তার অস্তিত্ব এমন কেউ
একজন দান করেছেন যার নিজেরই কোন অস্তিত্ব নেই এবং সেই কল্পিত মহান কোন সত্তার
প্রতি লেখক “আরিফ আজাদ” কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন। ব্যাক্তিগত বিশ্বাস বা আস্থার যায়গা
নিয়ে কোন কথা এখানে বলতে চাচ্ছিনা। তবে এটুকু ধারনা নিশ্চয় আমরা পাচ্ছি, এই লেখক
আরিফ আজাদ তার মস্তিষ্কে কোন জাতীয় চিন্তা বহন করে নিয়ে বেড়ায় যার বহিঃপ্রকাশ আমরা
এখানে দেখলাম।
আমার আসলেই ভাবতে
অবাক লাগছে এই ধরনের বিশ্বাস মস্তিষ্কে নিয়ে একটি মানুষ কিভাবে “আরজ আলী
মাতুব্বরের” মতো একজন অবিশ্বাসী মানুষের বই আর তার প্রশ্নের জবাব দিতে আসে। আর
জবাব দিতে গিয়ে তাকে নিশ্চয় আরজ আলী মাতুব্বরের বই পড়া লেগেছে আর কথা হচ্ছে তার বই
পড়ে কিভাবে সে এই “আরজ আলী সমীপে” টাইপের একটি বই দিয়ে দাবী করে যে আমি তার সমস্ত
প্রশ্নের জবাব দিলাম এবং সেই সাথে এই বইয়ের প্রকাশকও কিভাবে বলে লেখক আরিফ আজাদ
সমস্ত প্রশ্নের জবাব তো দিয়েছেনই পাশাপাশি আরো প্রশ্ন রেখেছেন। আমি কিন্তু আগের
পর্বেই বলেছি “আরজ আলী সমীপে” নামের সম্পুর্ণ বইতে লেখক “আরজ আলী মাতুব্বরের” একটি
প্রশ্নেরও জবাব দেইনি প্রশ্ন করা তো দুরের কথা তাহলে উত্তর কি দেবো। লেখকের কথার
২য় প্যারাতে বলা হচ্ছে “বাংলা অন্তর্জালে কিংবা বাংলাসাহিত্যে নাস্তিক্যবাদী
লেখাজোখা বলতেই প্রথমে যার নাম চলে আসে তিনি হলেন আরজ আলী মাতুব্বর। নিজের
অবিশ্বাসী দর্শনের পক্ষে উনি কিছু বইপত্র লিখেছেন। প্রশ্ন করেছেন যুক্তি
দেখিয়েছেন” এখানে তেমন কিছুই বলার নেই কারণ শুরুর দিক থেকে ধরতে গেলে আরজ আলী
মাতুব্বর ছাড়া তেমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি বাংলা সাহিত্যে নাস্তিক্যবাদ নিয়ে
এতো বিস্তর আলোচনা করেছেন এবং শক্ত দলিল রেখে গিয়েছেন তবে এর অর্থ এটা নয় যে “আরজ
আলী মাতুব্বর” একাই তার নিজের অবিশ্বাসী দর্শনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন এবং
প্রশ্ন করেছেন আর আরজ আলী সমীপের লেখক আরিফ আজাদ যদি এমনটি ভেবে থাকেন তাহলে তিনি
বর্তমান মুক্তচিন্তার চর্চা ও এর প্রচার ও প্রসার সম্পর্কে কোন ধারনায় রাখেনা।
লেখকের কথার ৩য়
প্যারায় লেখক আরিফ আজাদ এমন কিছু কথা দিয়ে এখানে তার পাঠকের মন পাবার চেষ্টা করেছে
যা পড়লে মনে হবে ভূতের মুখে রামনাম টাইপের কিছু। বিশ্বাস না হয় নিজেই মিলিয়ে দেখুন।
তিনি বলেছে “প্রশ্ন করতে কারনা ভালো লাগে? মানুষের স্বভাবজাত একটি বৈশিষ্ঠ হলো এই
যে, সে প্রশ্ন করতে পারে। এই ক্ষমতা আছে বলেই সে মানুষ। একটি গরুর সামনে যদি কিছু
প্লাস্টিক রাখা হয়, তাহলে গরুটি প্রথমে প্লাস্টিকের গন্ধ শুকবে। এরপর হয়তোবা আলতো
করে জিহবা দিয়ে একটু পরীক্ষা করবে। যখন দেখবে এই জিনিষ তার গলধকরণ করার উপযুক্ত
না, গরুটি তখন ভদ্রভাবে তার বিশাল মাথাটি অন্যদিকে সরিয়ে নেবে। গরুটি জানতে চায়না
প্লাস্টিক খেলে কি হয়। জানতে চায়না প্লাস্টিক খাওয়া যায়না কেন ইত্যাদি। কিন্তু
একজন মানব শিশু, যে সবে মাত্র একটু আধটু বুঝতে শিখেছে, সে প্রশ্ন করে। সে তার
বাবার হাতের আঙুল ধরে জানতে চাই আকাশ নীল কেন, রাত কেন কালো, পাহাড় কেন উচু, পাখি
কেন উড়তে পারে ইত্যাদি প্রশ্নবাণে সে জর্জরিত করে তার বাবা-মাকে, তার আশেপাশের সবাইকে।
এই যে প্রশ্ন করার ক্ষমতা, চিন্তা করার ক্ষমতা, এটা প্রানীজগতে একমাত্র মানুষেরই
আছে। মানুষ অজানাকে জানার জন্য প্রশ্ন করে। সত্য মথ্যা নির্ণয়ের জন্য প্রশ্ন করে।
তার আদীমতম কৌতুহল থেকে জন্ম নেয় প্রশ্নের। সে প্রশ্নগুলোর ডালপালা মেলে চতুর্দিকে
বিস্তৃত হয়। জানার কৌতুহলটা যদিও মানুষের আদিম কৌতুহলগুলোর একটি, তবুও সে কতটুকু
জানছে আর কি জানছে তা নির্ভর করে সে কোথা হতে জানছে আর কার কাছ থেকে জানছে” এই
ছিলো লেখকের কথার ৩য় প্যারার কথা গুলো। আসলে এটা দেখে মনে হচ্ছে এই ব্যাক্তি যে
একটু আগে কোন এক কল্পিত ঈশ্বরের কাছে যে ঈশ্বরের নিজেরই কোন অস্তিত্ব নেই এমন এক
অস্তিত্বহীন ঈশ্বরের কাছে নিজের অস্তিত্ব দানের জন্য শুকরিয়া আদায় করছিলো তার মুখে
এমন কথা কিভাবে আসলো ? আছে কারণ আছে। এটাকে বলে পাঠকের ব্রেন ওয়াশ। আগে কিছু
যৌক্তিক কথা শুনিয়ে সে তার অযৌক্তিক মতবাদের বৈধতা দাবী করতে চাচ্ছে তার জন্য পরের
প্যারাতে কি বলছে সেটা আপনাদের একবার দেখতে হবে।
লেখকের কথার ৪র্থ
প্যারাতে বলা হচ্ছে “সঠিক প্রশ্ন নিয়ে যদি ভুল মানুষের কাছে যায়, তাহলে সে ভুল
উত্তর পাবে আর ভুল জানবে। ভুল প্রশ্ন নিয়ে যদি সঠিক মানুষের কাছে যায়, তবে সে সঠিক
উত্তর পাবে। কারণ, সঠিক মানুষটা প্রথমে তার প্রশ্ন শুধরে দেবে। এরপর সেই প্রশ্নের
উত্তর দেবে। সুতারং শুধু প্রশ্ন করতে পারাটাই বাহাদুরি নয়, সেই প্রশ্নের উত্তরের
জন্য কোথায় আর কার কাছে যাওয়া হচ্ছে সঠিক জ্ঞানার্জনের জন্য সেটাও অন্যতম একটা
বিষয়” আসলে ঠিক এখানেই এই লেখক আরিফ আজাদ চেষ্টা করেছে আমাদের মতো সাধারন পাঠাকদের
মস্তিষ্কে একটু অযৌক্তিক বিষয় ঢুকিয়ে দেবার যেটা সে তার এই সম্পুর্ণ বই “আরজ আলী
সমীপে”তে করেছে। একটু খেয়াল করে দেখবেন সে এখানে বলতে চেয়েছে “প্রশ্ন করতে পারাটাই
বাহাদুরি নয়” এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে আরজ আলী মাতুব্বর কি তার কোন বইতে কোথাও
উল্লেখ করেছে যে “প্রশ্ন করতে পারাটাই বাহাদুরি” এই কথাটা ? না তিনি কোথাও এই কথা
বলেনি। কিন্তু বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসীদের তাদের ধর্মীও মতবাদ এই কথা তাদের
মস্তিষ্কে গেথে দেয় সেই শিশুকাল থেকেই যে প্রশ্ন করা যাবে না। প্রশ্ন করলেই ঈমান
নষ্ট হবে এমন ধারণা। যাইহোক এই প্যারাতে লেখক বুঝিয়েছে সঠিক মানুষের কাছে যদি ভুল
প্রশ্ন নিয়েও যাওয়া যায় তাহলে সেখান থেকে সঠিক উত্তরটিই পাওয়া যাবে কারণ যে
ব্যাক্তি সেই প্রশ্নের উত্তর দিবে সে ভুল প্রশ্নটি আগে সুধরে দিবে তারপর উত্তর
দিবে আর তাইতো সে তার এই বই “আরজ আলী সমীপে”তে আরজ আলী মাতুব্বরের প্রতিটি প্রশ্ন
নিজেই শুধরে নিয়ে উত্তর দিয়েছেন যে কারণেই আমি এই সমালোচনা সিরিজের প্রথম পর্বে
চ্যালঞ্জ দিয়েছি আরিফ আজাদের ভক্তদের যে, আরিফ আজাদ তার এই বইতে কোথাও আরজ আলী
মাতুব্বরের একটি প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি।
এবার দেখুন সেই বহুল
প্রচলিত মুমিনিয় বানী “ভাই আপনি সঠিক ইসলাম জানেন না” এই কথাটা আরিফ আজাদ কিভাবে
ছলে বলে কৌশলে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। লেখকের কথার ৫ম প্যারাতে তিনি বলছেন “আরজ
আলি মাতুব্বর জন্মেছেন বরিশাল। যখন থেকে উনার লেখার সাথে পরিচয়, তখন থেকে উনার যে
বিশেষ গুনটি আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে, তা হচ্ছে উনার প্রশ্ন করার ক্ষমতা। উনি প্রশ্ন
করেছেন ধর্ম নিয়ে, ঈশ্বর নিয়ে। প্রশ্ন করেছেন আত্মা, পরকাল নিয়ে। ধর্মের সাথে
দর্শন আর বিজ্ঞানের আসামাঞ্জশ্য নিয়েও বিস্তর আলাপ করেছেন। উনার প্রশ্ন করার এই
ক্ষমতাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু উনি যে বিশেষ এঙেল থেকে প্রশ্ন করে ধর্মকে,
বিশেষ করে ইসলাম ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন, সেই এঙেলটা আসলে মূল
ইসলাম না” এটার মাধ্যমে লেখক এখন বোঝাতে চাচ্ছেন আরজ আলী মাতুব্বর যখন তার বিভিন্ন
বই লিখেছিলেন এবং তখনকার সময়ে সে যেই পরিবেশ এবং সমাজে বেড়ে উঠেছিলেন তখন যে ইসলাম
ধর্ম সমাজে প্রচলিত ছিলো সেটা আসলে মূল ইসলাম না। তার মানে একই কথা “আপনি সঠিক
ইসলাম জানেন না”। এখানে এখন এই আরিফ আজাদ যা বলবে তাই মেনে নিতে হবে যে তিনিই
একমাত্র সঠিক আর মূল ইসলাম প্রচার করছে এবং সেই হিসাবেই তিনি তার উত্তর দিয়েছেন।
এখানে দেখুন লেখকের
কথার ৬ষ্ঠ প্যারাতে বলা হচ্ছে “আগেই বলেছিলাম, প্রশ্ন করতে পারাটা সাধুবাদের।
কিন্তু প্রশ্নের সোর্স যদি ভুল হয়, সঠিক উত্তরের আশা করাটা তখন বোকামিমাত্র। আরজ
আলী মাতুব্বর সাহেবের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। উনি ভুল ইসলাম দিয়ে মূল ইসলামকে
প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন উনার জানা ইসলামটা যে আসল ইসলাম নয়, সেটাই এই বইতে
তুলে ধরার চেষ্টা করেছি” এখানেও সেই ভুতের মুখে রামনাম টাইপের কথা আছে। প্রথমেই
আরিফ আজাদ বলার চেষ্টা করেছে “প্রশ্ন করতে পারাটা সাধুবাদের” আসলে কিন্তু তা
একেবারেই না। এই ধর্মটিতে প্রশ্ন করার জন্য কোন অপশন নাই। শুধুই শুনতে হবে এবং
মানতে হবে তাও আবার বিশ্বাসের উপরে ভিত্তি করে। আসলে বিশ্বাস এর সংজ্ঞা কি এবং কখন
ও কেন মানুষকে বিশ্বাস করতে বলা হয় সেই সংজ্ঞাটা আগে আপনাদের অনুরোধ করবো
উইকিপিডিয়া থেকে একবার পড়ে আসুন। বিশ্বাস এমন কোন বস্তুকে বা বিষয়কে করতে বলা হয়
যার কোন অস্ত্বিত্ব নেই, প্রমাণ নেই, যাকে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা যায়না এমন
বিষয়কেই। আর তাই এই ধর্মটিতে প্রশ্ন করার কোন অপশন নেই। কিন্তু এখানে এই লেখক
বারবার বলেছে যে আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্ন করাকে সে সাধুবাদ জানাচ্ছে আসলে কিন্তু
তা নয়। আর যদি তাই হতো তাহলে তার উত্তর দেবার জন্য এই বই লেখার প্রয়োজন তার
ছিলোনা। উত্তর সেই ধর্মের ধর্মীয় কিতাবের মধ্যেই পাওয়া যেতো নতুন করে ইসলাম শেখাতে
আরিফ আজাদের মতো নতুন কোন লেখকের ইসলাম শিক্ষা বই এর দরকার পড়তো না। এরপরে লেখক
বলেছে প্রশ্ন করার সোর্স ভুল তাই সঠিক উত্তর আশা করা যাবে না কিন্তু সম্পুর্ণ বইতে
সে সঠিক সোর্স বলতে যা দেখিয়েছেন সেই একই কথা আরজ আলী মাতুব্বর বলে গিয়েছেন।
এরপরেই যা বলেছে সেটা হচ্ছে সঠিক ইসলাম আরজ আলী মাতুব্বর জানতো না তাই ভুল ইসলাম
দিয়ে মূল ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন আর এখন এই লেখক পৃথিবীর মানুষকে সঠিক ইসলাম
শেখাতে এই বই লিখেছেন এটাই তার দাবি।
এরপরের লেখকের কথার
৭ম প্যারাতে লেখক আরিজ আজাদ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে এই বইটি লেখার জন্য
লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করেছেন যেটা সাধারন মুমিন মুসুল্লিরা করে থাকেন। আসলে
দেখুন এই যে বইটি তিনি লিখেছেন তার সম্পুর্ণ ক্রেডিট কিন্তু এই লেখকেরই হবার কথা
কারণ তিনিই এই বই এর স্রষ্টা কিন্তু তার মাথার ভাইরাস তাকে সেই ক্রেডিট দিচ্ছে না
দিচ্ছে আরেকজনের নামে। এরপরের ৮ম প্যারতে এসে সেই কথা তিনি এখানে শিকার করেছেন
যেটা আমি এই পর্বের শুরুতেই বলেছি। একজন অস্ত্বিত্বহীন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী একটি
মস্তিষ্কের অধিকারী একজন মানুষ কিভাবে “আরজ আলী মাতুব্বরের” মতো একজন অবিশ্বাসীর
লেখা বই এর প্রশ্ন খন্ডন করতে যায় ? আর যদি তাই করেই থাকে তাহলে আরজ আলী
মাতুব্বরের বই পড়ার সময়ই তো সেই মস্তিষ্ক থেকে বিশ্বাসের ভাইরাস পালায়ন করার কথা
এরকম অনেক প্রমাণ আছে। কিন্তু এখানে লেখক নিজের কথা কিছুই বলেনি বলেছে তার বই এর
পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমি জানিনা তার বিশ্বাস এখনও বহাল আছে কি নেই। তিনি বলেছে “আমার
উদ্দেশ্য ছিলো আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবের সংশয়বাদী প্রশ্ন এবং যুক্তিগুলোর উত্তরপ্রদান,
ইখতিলাফকৃত (অর্থঃ মতপার্থক্য) বিষয় নিয়ে উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করা কখনই আমার
উদ্দেশ্য নয়”। এই কথার অর্থ নিশ্চয় পাঠক মহলের বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। সে এই
উক্তির মাধ্যমে তার বই এর পাঠকদের সাবধান করছেন যে আপনাদের ঈমান যদি আমার এই বই
পড়ে মানে আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায় সেটা আমার
উদ্দেশ্য নয় আমার উদ্দেশ্য তার প্রশ্নের জবাব দেওয়া।
এরপরের ৯ম প্যারাতে
আবারও লেখক আরিফ আজাদ সেই সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার লেখকের কথার
সমাপ্তি করেছেন। এখানেও তিনি বলেছেন বইটিতে যদি কোন ভুলত্রুটি থাকে তাহলে তা সম্পুর্ণ
তার নিজের দোষ আর যদি সঠিক বা ভালো কিছু থেকে থাকে তাহলে তার কোন ক্রেডিট এখানে
নেই যা আছে তা সবই সৃষ্টিকর্তার। এবং সবশেষে বলেছেন “রাব্বুল আ’লামীন আমাদের
সিরাতুল মুস্তাকীমের পথে অটল, অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন” এটাকে আপনি একটি
সাবধান বানী হিসাবে নিতে পারেন। এই বানী শেষে দেবার কারণ হচ্ছে এই বইটিতে আরজ আলী
মাতুব্বরের কোন প্রশ্নের উত্তর তো দেওয়া হয়নি সেটা আমি আগেই বলেছি কিন্তু তার
প্রশ্নের ভুল ব্যাখ্যা দেবার জন্যও লেখককে আরজ আলী মাতুব্বরের করা প্রশ্ন গুলির
মধ্যে কয়েকটা এই যেমন ধরুন সব প্রশ্নের ২% এর মতো এই বইটিতে উল্লেখ করা লেগেছে আর
সেই ২% প্রশ্ন যদি আপনার চিন্তার বন্ধ দরজায় আঘাত করেই ফেলে তাহলে যেনো আপনার ঈমান
দুর্বল না হয়ে যায় সেই পুর্বাভাস হিসাবে নিতে পারেন এটা। যাইহোক ইচ্ছা ছিলো লেখকের
কথা ও শার’ঈ সমাপাদকের কথা এই পর্বটিতেই শেষ করে দিবো কিন্তু দীর্ঘতার কারনে এখানে
আর সেটা করা সম্ভব হচ্ছেনা পরের পর্বে আমি এই বই “আরজ আলী সমীপে”র শার’ঈ সম্পাদকের
কথা তুলে ধরবো।
মৃত কালপুরুষ
২৮/০২/২০১৮






