বর্তমানে একশ্রেনীর
মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম নয় যারা নিজেদের আজ্ঞেয়বাদী ও সংশয়বাদী বলে পরিচয় দিয়ে
থাকে। এর কারণ হচ্ছে এই মানুষগুলির দাবী ঈশ্বর বলে কোন স্বত্বা আছে না নেই তার
প্রমান আসলে কোন পক্ষই দিতে পারেনা তাই আমি যদি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকি তাহলেতো
দোষের কিছু নেই। আসলেই তাই, এখানে দোষ বা গুনের কিছুই নেই আসলে এটা সম্পূর্ণ ব্যাক্তির
স্বাধীন ইচ্ছার উপরে বর্তায়। প্রতিটি মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও মত প্রকাশ করার যেমন
অধিকার আছে তেমনি প্রতিটি মানুষের বিশ্বাস অবিশ্বাস করারও স্বাধীনতা আছে। তবে
বিশ্বাসী মানুষেরা সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা অন্যান্য মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা
শক্তির মুল্যায়ন করেনা। তারা চাই তাদের ধর্মীয় নিয়ম কানুনের মধ্যে নিজেদের বেধে
রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, জাতি ও সর্বোপরি রাষ্ট্রকেও সেই প্রচলিত নিয়মের মধ্যে
বেধে রাখতে যা তাদের নিজেদের জন্য তো একটি বড় ধরনের হুমকি বোটেই পাশাপাশি অন্যান্য
মানব সভ্যতার জন্যও হুমকি স্বরুপ যেটা তারা বুঝতে পারেনা।
আমি এর আগেও এধরনের
একটি উদাহরণ দিয়েছিলাম যেমন ধরুন, কোন একটি প্রতিষ্ঠানের খাদ্য বা পন্য ব্যবহার
করে যখন একজন মানুষ অসুস্থ হচ্ছে তাতে সমাজের আর দশ জনের কোন সমস্যা থাকার কথা নয়,
যদি না সেই ব্যাক্তি বুঝে বা না বুঝে সেই প্রতিষ্ঠানের পন্য ব্যবহার করে থাকে।
কিন্তু যখন দেখা যায় সেই প্রতিষ্ঠানের পন্য ব্যবহার করে শুধু সেই একজন ব্যাক্তিই
অসুস্থ হচ্ছে না পাশাপাশি তার পরিবার, সমাজ বা রাষ্টের অন্যান্য সুস্থ মানুষদের
কামড় দিয়ে তাদেরকেও অসুস্থ বানাচ্ছে তখনতো সেই প্রতিষ্ঠনের ও সেই প্রতিষ্ঠানের পন্যের
মান যাচাই বাছাই করা একজন সচেতন নাগরিকের অবশ্যয় কর্তব্য হয়ে পড়ে। যেহেতু বিভিন্ন
ধর্মীও বিশ্বাস ও কুসংস্কার আর গোড়ামীকে বর্তমান যুগের সচেতন ও যুক্তিবাদী সমাজ এক
প্রকারের ভাইরাসের মতই মনে করে থাকে। যেমন অতীতে সাপে কামড়ালে ঝাড় ফুক আর ঈশ্বরের
কাছে প্রর্থনা করে ভুক্তভোগী ব্যাক্তির আরগ্য চাওয়া হতো যা এখন আর কেউ করেনা বরং
তারা আধুনিক চিকিৎসার উপরে আস্থা রাখে।
আজকের দিনে বিশ্বের
অন্যান্য দেশের অবস্থা আমাদের বাংলাদেশের থেকে যে কত উন্নত আর কত আধুনিক তা কারো
অজানা থাকার কথা নয়। আজ দেশের মানুষের হাতে হাতে ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তির ছোয়া
আছে। কিন্তু কষ্ট লাগে তখন যখন একশ্রেনীর মানুষকে দেখি এতো এতো টেকনোলজি হাতে
পেয়েও তারা হাজার হাজার বছর আগের কিছু অন্ধ বিশ্বাস সাথে নিয়ে একটি একটি দিন
অতিবাহিত করছে। যেখানে চীনের রাস্তার একটি রিকশা চালকও (আমি এখানে কোন পেশাকে ছোট
করছি না মান যাচাইয়ের জন্য বলছি) পাওয়া যাবেনা যারা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেনা
শেখানে আমাদের দেশের বহুল প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসীদের দিকে একটু নজর দিয়ে দেখুন তারা
কি বলে। এখানে আসলে কাদের দোষ তা খুজতে গেলেও আবার নানা তথ্য বেরিয়ে আসবে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিবর্তনবাদ নিয়ে কোন শিক্ষা দেওয়া হয় কিনা তা আমাদের
দেশের শিক্ষার্থীরা ভালো বলতে পারবে। এই বিষয়ে গতকাল একজন ক্যামিস্ট্রির এক
ছাত্রীর কাছে জানতে চাইলে সে আমাকে বলে আমাদের বইতে বিবর্তনবাদ নিয়ে মাত্র একটি
অধ্যায় আছে কিন্তু শিক্ষকরা বলে এই অধ্যায়টি বেশি পড়ার দরকার নেই তাতে ঈমান নষ্ট
হবে তাই আমরা সেই অধ্যায়টি আর বেশি পড়িনা।
আসলে এভাবেই আমাদের
দেশের মানুষদের ও নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বিবর্তনবাদকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে এবং
একটি শ্রেনী অনেক ধীর গতিতে হলেও এই বিবর্তনবাদ নিয়ে সকল প্রকারের শিক্ষা
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে তুলে দিচ্ছে। আমাদের দেশে যেখানে বিবর্তনবাদ নিয়ে
এখনও লুকোচুরি খেলা হচ্ছে শেখানে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের দিকে তাকালে দেখা
যাবে তারা অজ্ঞেয়বাদী বা সংশয়বাদীদের যে মনোভাব, যেমন ঈশ্বর বলে কেউ বা কিছু আছে
কি নেই অর্থাৎ ঈশ্বর, ভগবান, গড, আল্লাহ, যোহোবা, এটলাস, অসিরিস, আমেনহোটেপ,
আনুবিস, আইসিস বলে যেসব কাল্পনিক চরিত্রের কথা পৃথিবীর ৫০০০ এর অধিক ধর্ম
বিশ্বাসীরা বলে থাকে, তাদের কোন অস্তিত্ব আছে না নেই তা এখনও কোন পক্ষই প্রমাণ
করতে পারেনি তাই আমি নিজেকে আজ্ঞেয়বাদী বা সংসময়বাদী বলে থাকি। তাদের এই ধারনাকেও
আধুনিক বিজ্ঞান পাল্টে দিচ্ছে। যদিও কয়েকবছর আগেই বিজ্ঞানী ‘স্টিফেন হকিংস’ তার
বহুল আলোচিত বই ‘গ্রান্ড ডিজাইনে’ আগেই জানিয়েছে যে মহাবিশ্ব একটি প্রাকৃতিক
নিয়মেই তৈরি হয়েছে যা তৈরি করতে কোন কাল্পনিক ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই এবং তিনি তার এই
বই এর মাধ্যেমে বিভিন্ন যুক্তিযুক্ত উপস্থাপনার মাধ্যমেও তা দেখিয়ে দিয়েছেন।
এসব বাদেও যখন কোন
ধর্মের ঈশ্বর আসলে সত্য বা কোন ধর্মের ঈশ্বর আসলে মানুষের কথা শোনে এমন পরীক্ষা
করে দেখা হয় তখনও এরকম কোন ঈশ্বরের সন্ধান আজ অবধি মানুষ খুজে পাইনি যারা সত্য
অথবা যারা মানুষের কথা শোনে। যেমন ধরুন যদি এরকম একটি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়
যেখানে খৃস্টান, মুসলিম, হিন্দু ও ইহুদী ধর্মের চারজন অসুস্থ রোগীর জন্য তাদের সুস্থতা
কামনা করে চারটি ধর্মের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থানা করা হলো। এদের মধ্যে যদি কোন
নির্দিষ্ট ধর্মের কোন রোগী মানুষের প্রার্থনা শুনে আরগ্য লাভ করতে শুরু করে তাহলে
বোঝা যেতো সেই ধর্মটি সত্য বা সেই ধর্মের ঈশ্বর আছে এবং সে মানুষের কথা শোনে। তবে
দুঃখের বিষয় এমন কোন ঘটনা আসলে আজও ঘটেনি তাই এখানেও আজ্ঞেয়বাদী আর সংশয়বাদীদের
মনোভাব ভুল প্রমানিত হচ্ছে।
এছাড়াও আরো
অনেকভাবেই আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে ঈশ্বরসহ তথাকথিত যত অতিপ্রাকৃতিক ও
কাল্পনিক গল্প বিভিন্ন ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব ও ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে প্রচলিত
আছে তার আসলে কোন ভিত্তি নেই যা বিজ্ঞান যেকোন সময় ভুল প্রমাণ করতে পারে। যেমন
বিবর্তনবাদ যখন প্রামাণিত হয়েছিলো তখন বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের এই পৃথিবীতে মানব
আগমনের ইতিহাস পাল্টিয়ে গিয়েছিলো যা ছিলো সকল ধর্মের বানী বিজ্ঞান দ্বারা মিথ্যা
প্রমাণ করার প্রথম ধাপ। যেমন এখানে একটি উদাহরণ দিতে গেলে, ধরুন খ্রিস্টান ধর্মের ‘বাইবেলে’র
ওল্ড স্টেটমেন্ট এর প্রথম অধ্যায় ‘জেনেসিস’ যেখানে আমাদের সৃষ্টির কথা বলা আছে
শেখানে পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবীর আগমন ৪০০৪ খ্রিস্টপুর্বাব্দতে এবং যাদের নাম
ছিলো ‘এডাম’ ও ‘ইভ’ তাদের আগমন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অপরপক্ষে বিবর্তনবাদ আমাদের
বলছে ‘বিগ ব্যাং’ সংগঠিত হবার পরে পৃথিবী তৈরি হয়েছে এবং আজ থেকে প্রায় সাড়ে চারশো
কোটি বছর পূর্বে এককোষী প্রানের থেকেই আমরা আজকের আধুনিক মানুষে এসে দাড়িয়েছি।
তাহলে এখনও কেন আজ্ঞেয়বাদ আর সংশয়বাদ ?
---------- মৃত
কালপুরুষ
০৮/০১/২০১৮






