রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

সৃষ্টিকর্তাকে আবারও বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে মানুষের অমরত্বের পথে যাত্রা সফল।


এর আগেও ধর্মের দোহায় আর সৃষ্টিকর্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে রাশিয়ার এক নিউরো সায়েন্টিস্ট আমাদেরকে মানুষের অমরত্বের গল্প বাস্তবে সম্ভব বলে তার গল্প শুনিয়েছেন। অর্থাৎ ধর্মান্ধদের বহুল প্রচলিত কথা “জন্ম মৃত্যু সবই নাকি কারো হাতে” এই কথাটি সত্যি সত্যি ভুল প্রমানিত হতে যাচ্ছে। মানব জন্মের পদ্ধতি অনেক আগেই মানুষ তার দখলে নিয়েছেন। কিন্তু মৃত্যু এখনও তাদের দখলে ছিলো না। “দিমিত্রি ইটস্কভ” এর গবেষনাটি একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষনা হবার কারনে আমরা ২০৪৫ সালের আগে তার এই প্রজেক্টের সফলতা দেখতে পারবো না। তবে সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম সফল হেড ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন করে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা আমাদের আবার প্রমান করে দেখাল যে আসলে মানুষের মৃত্যু আমরা থামিয়ে দিতে সক্ষম। হেড ট্রান্সপ্লান্টেশনের ব্যাপারটি এই বছরের শেষে কোথাও করা হবে বলে আমাদের জানিয়েছিলেন ইতালির তুরিনো অ্যাডভান্সড নিউরোমডুলেশন গ্রুপের বিখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো। কিন্তু তা কোথাই অথবা কবে করা হবে তা আমাদের তখন নিশ্চিত করে কিছুই বলেননি।


এই সফল গবেষনা ও মানুষের মস্তিষ্ক ট্র্যান্সপ্ল্যানটেশন আমাদের অনেক আশার খবর দিচ্ছে। বিশেষ করে মহাকাশ যাত্রা ও মহাকাশ গবেষনার ক্ষেত্রে। কারন মহাকাশের যাত্রা ও এর দুরত্ব মানুষের একটি জীবনে সফল করা সম্ভব নয়। তাই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করে একজন মানুষের পক্ষে এই দুরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তাছাড়াও “দিমিত্রি ইটস্কভ” এর প্রজেক্ট অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক মেশিন এর ক্ষেত্রেও এটা এক বিরাট অবদান রাখতে চলেছে। পদার্থবিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী যেমন এক জীবনে কোন মানুষের দ্বারা মহাবিশ্বের এই আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রা প্রায় অসম্ভব ঠিক তেমনি ধর্মীয় কুসংস্কার এই ধরনের গবেষনার জন্য ক্ষতিকর। কারণ কোন ধর্মই আসলে জ্ঞান এবং বিজ্ঞানের চর্চা মুক্তভাবে করতে দিতে চাইনা।


আজ থেকে তিনদিন আগে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেন। তখন তিনি জানান খুব শীঘ্রই আমরা হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করতে যাচ্ছি এবং তার ফলাফল আপনাদের জানানো হবে। তারই ধারাবাহিকতাই গতকাল চীনে একটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে তিনি, অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো ও প্রফেসর জিয়াওপিং বিশ্বের প্রথম হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করতে সক্ষম হয়েছে। চীনের হারবিন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার জিয়াওপিং রেন ১৮ ঘণ্টা যাবত প্রায় ১৫০ জন সহযোগী ডাক্তার এবং নার্সের সহযোগে এই অপারেশনটি সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, আমরা সফল ভাবেই একজন মানুষের মাথা আরেকজন মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে প্রথমবারের এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনের প্রধান কুশলী ও দিকনির্দেশক হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইতালির তুরিনো অ্যাডভান্সড নিউরোমডুলেশন গ্রুপের বিখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো ও আরো অনেকে।


বিশ্বের উন্নত সকল দেশ বা পশ্চিমা দেশ গুলি রেখে চীনের মতো একটি দেশে এই ট্রান্সপ্লান্টেশন কেন করা হলো সেই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো বলেন আসলে বর্তমান মার্কিন সরকার ধর্মান্ধতার পক্ষে কথা বলে। আর তাই সেখানে এখন ধর্মীও মৌলবাদী ও জঙ্গীদের ভীতি কাজ করছে এধরনের গবেষনার ক্ষেত্রে। তারা কোনভাবেই এই হেড ট্রান্সপ্লান্টেশন সফল হতে দিবে না। আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সেসব দেশের জনগন জানিয়েছিলো এই কাজটি “ঈশ্বরের বিপক্ষে” তাই এটা করা ঠিক হবে না। তাই তারা ইউরোপকেও এই গবেষনার বাইরে রাখেন। আর অপরদিকে চীন সরকার এই বিষয়ে অনেক পরিষ্কারভাবে আমাদের সাহায্য করতে চেয়েছেন। আর চীনে অর্গানিক ডোনারও অনেক পাওয়া গিয়েছিলো তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই গবেষনা আমরা চীনেই করবো।


এই অপারেশন সম্পর্কে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো জানান, একজন প্যারালাইসড বা পঙ্গু মানুষের অর্থাৎ অচল দেহ সম্বলিত একটি মানুষের মস্তিষ্ক ও একজন ব্রেন ডেড বা অক্ষম মস্তিষ্কের মানুষের দেহ ব্যাবহার করে এই ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন করা হয়েছে। কম্পিউটার সিম্যুলেশন ও জটিল প্রোগ্রাম ব্যাবহার করে আগে থেকেই কিভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে সে সম্পর্কে সকলেরই ধারনা ছিলো। তারা মানুষের শরীরের মাথা ও মস্তিষ্ক আলাদা করার জন্য প্রথমে সুক্ষ্ম কিছু ডায়মন্ড স্কালপ্যেল ব্যাবহার করে তা আলাদা করেছিলো। আলাদা করার পরে অত্যান্ত সতর্কতার সাথে তারা শিরা, উপশিরা, ধমনী, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী ও স্পাইনাল কর্ড সংযুক্ত করে। সঠিকভাবে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে বলে কম্পিউটার স্যিমুলেশন অপারেশন সাকসেস বলে জানিয়েছে। অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো আরো জানিয়েছেন, এই অপারেশনের মুল সফলতা আসলে নির্ভর করেছে স্পাইনাল কর্ডের সঠিক সংযুক্তির উপরে যা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।


ডাক্তার “জিয়াওপিং রেন” এর আগে একটি বানরের দেহে মানুষের মস্তিষ্ক স্থাপন করে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তার মতে সেই অপারেশনে ভিন্ন প্রকৃতির দুইটি জীব হওয়ার কারনে মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের সঠিক সংযুক্তির অভাবে অপারেশনের মাত্র ২০ ঘন্টা পরেই সেই বানর মানব হাইব্রিডটি মারা গিয়েছিলো। তারপর তিনি সফলভাবে একটি সুস্থ ইদুরের মাথা আরেকটি ইদুরের দেহে ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট করেন এবং এখনও সেটি সুস্থ ভাবেই বেচে আছে। তিনি আরো বলেন আসলে এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট মানব ইতিহাসে কোন নতুন ঘটনা না। এর আগে আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর পুর্বে দুইটি বানরের ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করা হয়েছিলো এবং সেই হাইব্রিড বানরটি প্রায় ৮ দিন বেচে ছিলো যা পরবর্তিতে জীবানু সংক্রমনের কারনে মারা যায়। তখন চিকিৎসা বিজ্ঞান এতো উন্নত ছিলোনা যা বর্তমানে হয়েছে। আজ মানুষ অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারছে। এই গবেষনায় প্রথমে রাশিয়ার এক ৩০ বছর বয়ষ্ক নাগরিক যার নাম ভ্যালারে স্পিরিদিনভের এর মস্তিষ্ক অন্য একটি সুস্থ দেহে প্রতিস্থাপনের কথা থাকলেও পরবর্তিতে তিনি মত পাল্টান। এই চিকিৎসাতে মৃত্যু ঝুকি থাকার কারনে তিনি বলেন আমি পক্ষাঘাত গ্রস্থ অবস্থাতেই মারা যেতে চাই তাই আর সেখানে এই গবেষনা করা সম্ভব হয়নি।  


ডাক্তার জিয়াওপিং মানুষকে এমন এক আশা দেখাচ্ছেন যাতে মানুষ অমরত্বের খুব কাছাকাছি আছে। তিনি ইদুরের মধ্যে যে ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করেছেন তাতে খুবই আশাবাদী এটাও তেমন একটি সফল অপারেশন হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে ইতিমধ্যেই এই হেড ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে ট্রাম্পবাদীদের মধ্যে। কারণ অপারেশন করার পর ভুক্তভুগি মস্তিষ্কের এখনও জ্ঞান ফেরেনি, যদিও তার দেহের সমস্ত প্রক্রিয়া এখনও স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল আছে। তবে জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত এখনও বলা যাচ্ছে না তা কতটা সফল। একই সাথে ডাক্তার জিয়াওপিং আরো একটি আশা দেখাচ্ছে সেই মানুষদের যারা সারা জীবন পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে গ্লানি নিয়ে মৃত্যবরন করেন। তিনি যে এখানেই থেমে থাকবেন তাও নই। তিনি জানান আগামীতে স্টেম সেল ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনের কথাও তার মাথায় আছে। কারণ যেসমস্ত মানুষের মস্তিষ্কে জটিলতা আছে বা যাদের মস্তিষ্কের নিউরো সেল গুলো ড্যামেজ অবস্থায় আছে তাদের জন্য এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন কোন কাজে আসবে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যদি স্টেম সেল ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনে আরো অগ্রসর হতে পারে তাহলে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস এর মতো মটর নিউরন ডিজিস এ আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয় ধর্মীও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানব জাতি এই বিষয়টিকে কে কিভাবে নিচ্ছেন।

সুত্রঃ The Telegraph, The Guardian.

---------- মৃত কালপুরুষ

                ১৯/১১/২০১৭

শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

শান্তির ধর্ম ইসলামে ১৪৫০ বছর আগের রক্ত

আমরা যখনই ইসলামের শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা জানতে ইসলামের ইতিহাস পড়ি তখনি দেখতে পায় সেই শুরু থেকেই এই একটি মাত্র শান্তির ধর্মে আছে শুধুই যুদ্ধের কথা। এতো পরিমান যুদ্ধ আর মানুষ হত্যা আছে এই ধর্মটিতে যা একটু ভালোভাবে জানলে মনে হয় এটা আসলে কোন ধর্ম নয় এটা একটা রাজনৈতিক সংগঠন যার প্রধান এবং মুখ্য উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি আর লোভ দেখিয়ে এই ধর্ম গ্রহন করানো। আর যারা তাতে রাজী হতেন না তাদের অবস্থান হতো তলোয়ার এর নিচে। জিনি এই ধর্মের প্রধান প্রচারক ছিলেন তার নামে আমরা যে ইহুদী বুড়ির রাস্তায় কাটা দেওয়া আর মুসলমানদের উপরে ইহুদীদের নির্যাতনের কথা শুনি সেই সূত্র খুজতে গেলে একটু অবাকই হতে হয় আমাদের। কারন এরকম কোন কথা আমরা আসলে ইসলামের ইতিহাসে পাই না বরং খুজে পাই উহুদের যুদ্ধ, বদরের যুদ্ধ, খাইবার যুদ্ধ, বনু কোরাইজাদের উপরে আক্রমন, আবিসিনিয়ার যুদ্ধ, উবাইদা ইবনে হারিসের যুদ্ধ, বুয়াত অভিযান, উশাইরা অভিযান, সাদ ইবনে আবী অভিযান, সাফওয়ান অভিযান, যূ-আমার অভিযান, বাহরানের ফুর অভিযান, সহ পরবর্তিতে আরো শত শত যুদ্ধের কথা যা বলে শেষ করা যাবে না। সবই যে ছিল ধর্মযুদ্ধ তা কিন্তু নয়। যে কেউ নিরাপেক্ষভাবে এসব ঘটনা বিচার বিশ্লেষন করলে দেখতে পারবে বর্তমান যুগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে এর কোন পার্থক্য নেই। আবার শুরুর দিকে তাদের প্রধান সেনাপতি যুদ্ধের ডাক দিলেই যে সমস্ত মুসলামান আল্লাহু আকবার বলে ঝাপিয়ে পড়তো তাও না। এর জন্য আল্লাহ তালার প্রয়োজন পড়েছে অনেক আয়াত নাজিল করার।
আল্লাহ কোরানের বানীতে মুসলিমদের এই সমস্ত যুদ্ধে যাবার জন্য আগ্রহী করে তুলতে যখন যেভাবে প্রয়োজন ছিলো নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর চাহিদা অনুযায়ী তখন সেই সমস্ত আয়াত নাজিল করেছেন। যখন মিষ্টি কথায় কাজ কম হয়েছে তখন দেখানো হয়েছে দোজোখের বা জাহান্নামের আগুনের ভয়। আর পরাজিত হয়ে মৃত্যুবরন করলে আজীবন বেহেশতের মতো কোনো কাল্পনিক জগতের গল্প আর সেই সাথে বিজয়ী হলে পরাজিতদের ধন সম্পদ গনিমতের মাল ভোগ করার অধিকার। এর আগে তো অনেক যুদ্ধের কথা আমরা শুনেছি ইসলামের শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে। আজকে ছোট্ট করে উহুদ যুদ্ধের কথা জানাবো। কারন বেশি বা বিস্তর যদি জানাতে যায় তাহলে আবার কারো কারো অনুভূতি আহত হতে পারে। এশিয়ার নিন্ম মানের দেশগুলোর মধ্যে যারা ইসলামকে তাদের প্রধান ধর্ম ও রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে মানে যেমন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এই সমস্ত দেশের মানুষের এখন অনুভূতি প্রচন্ড বেশি। তারা এই ধর্মটি সম্পর্কে কিছু জানুক আর না জানুক এই ধর্ম রক্ষা করতে নাঙ্গা তলোয়ার হাতে নি্যে ঝাপিয়ে পড়ে। এখানে অবশ্য বলতে হবে যারা এভাবে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের কিন্তু আসলে কোন দোষ নেই। কারন এদের ব্রেন অন্য যায়গাতে ওয়াশ করা হয়েছে।
আজ থেকে ১৪৪২ বছর আগে ৩ হিজরির ৭ শাওয়াল (২৩ মার্চ ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে) বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা শহরের ঠিক উত্তরে উহুদ পর্বত সংলগ্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছিলো একটি পুর্ব পরিকল্পিত যুদ্ধ যা ইসলামে আজো উহুদের যুদ্ধ বলে প্রচার করা হয়। এই যুদ্ধের কথা বলে সাধারন ধর্মপ্রান মুসলিম জাতির মানুষের ব্রেন ওয়াশ করে চলেছে একশ্রেনীর ধর্ম ব্যাবসায়ী যাদের আসল উদ্দেশ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করা না। সবচেয়ে অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে মদিনার নব্য তৈরি হওয়া মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়ছিলো। নব্য তৈরি হওয়া বলতে এই যুদ্ধ যখন হয় তখন শুধু মদিনার এই যোদ্ধাদলটি ছাড়া পৃথিবীর কেউ জানতো না ইসলাম বলে কোন ধর্ম আছে। কারন এই যুদ্ধের সর্বোচ্চ ১৫ বছর আগে থেকে নবী মুহাম্মদ তার আল্লার বানী প্রচার করতে থাকেন যখন তার বয়স ছিলো ৪০ বছর। এই দুই পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন যথাক্রমে মুহাম্মাদ (সাঃ) ও আবু সুফিয়ান। ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত প্রধান যুদ্ধসমূহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় যুদ্ধ হিসেবে আজো পরিচিত। এর পূর্বে ৬২৪ সালে এই দুইপক্ষের মধ্যে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং তা চলমান ছিলো। বদরের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মক্কার পক্ষ থেকে এই যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছিল। যুদ্ধযাত্রার খবর পাওয়ার পর মুসলিমরাও তৈরী হয় এবং উহুদ পর্বত সংলগ্ন প্রান্তরে আসে এবং এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
এখানে সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এই যুদ্ধটি যাদের সাথে সংগঠিত হয় তারা কিন্তু ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পুর্বপুরুষেরই বংশের লোক ছিলো যাদের আমরা কুরাইশ বংশ বলে থাকি। যদিও এই যুদ্ধে দুই দলের কেউই জয়ী হতে পারেন নাই। মুহাম্মদ (সাঃ) এর বানানো ইসলাম ধর্ম নামের যোদ্ধা দল তখন ছিলো খুব ছোট একটি দল এই কুরাইশদের কাছে। কারন উহুদের যুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিলো তখন মুসলিম দলে ছিলো ৭০০ পদাতিক যোদ্ধা ও ৫০টির মতো তীরন্দাজ। অপরদিকে কুরাইশদের দলে অর্থাৎ আবু সুফিয়ান এর দলে ছিলো প্রায় ৩০০০ হাজার পদাতিক যোদ্ধা ও ২০০ তীরন্দাজ। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুহাম্মদ এর দলের ৭০ জন নিহত হবার পরে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং পিছু হটতে থাকেন। অপরদিকে কুরাইশদের দলের ২২ জন বা মতান্তরে ৩৭ জন যোদ্ধার মৃত্যুর পরে দেখতে পান মোহাম্মদের দল পিছনে যাচ্ছে। এই দেখে কুরাইশরা ভেবে নিয়েছিলো এরা মনে হয় আগামীতে আর আক্রমন করবে না তাই তারা মক্কায় ফিরে এসেছিলো।
বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের একটি বই যার নাম সিরাত ইবনে হিশাম মূল-ইবনে হিশাম যার অনুবাদ করেন আকরাম ফারুক নামের কেউ যার (ISBN – 984-31-0614-8) সেই বইতে উল্লেখ আছে সেসময়ের আরবের মানুষেরা ছিলো একেবারেই মুর্খ ও অশিক্ষিত। তারা এটাও জানতো না যে ইতিহাস কাকে বলে। তাদের সময়ের পুর্বে হাজার হাজার বছর ধরে লোহিত সাগরের ওপারেই যে ছিলো বিশাল মিশরীয় সাম্রাজ্য যেখান থেকে অনেক কিছুই আজকের ইসলামে এসেছে সেটা সম্পর্কে তাদের কনো ধারনাও ছিলোনা। ইতিহাস বলতে এরা জানতো শুধু তাদের বাপ দাদার মুখে শোনা কিছু গল্প ও কেচ্ছা। তাইতো এই জাতির মাথায় খুব সহজে ইসলামের সকল বিষয় ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিলেন নবী মোহাম্মদ (সাঃ)। এই জাতীয় শত শত যুদ্ধ ছাড়াও আরো অনেক ইতিহাস আছে যেখানে প্রমানিত হয়েছে ইসলামের বর্বরতা যার সাথে শান্তির কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না। পরবর্তিতে মক্কা বিজয়ের পর যারা একদিনের জন্যও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বলা ও তৈরি করা পথে চলেননি তাদের গর্দানে তলোয়ার ধরে ইসলাম গ্রহন করানো হয়েছে। যারা একটু অর্থ সম্পদের মালিক ছিলো তাদের বলা হলো ইসলাম গ্রহন না করলে চাদা দিতে হবে যার আরেক নাম জিজিয়া কর। এই পদ্ধতি একবার চালু হবার পরে আর আরবের মতো একটি যায়গায় এই ইসলাম নামের রাজনৈতিক দলকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।
এই যে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাই বলে কিন্তু আজ আমরা পিছনের দিকে একটু নজর দিয়ে দেখবো না তা কিন্তু হতে পারেনা। কারন যেই ধর্মে এতো শান্তি আর সেটা কোথা থেকে আসলো তা আমাদের একটু খুজে দেখতে হয়। সেই সময়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আল্লা ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে যে সব বানী পাঠিয়েছিলেন সেসব বানীর কারনে ইসলামের হাতে যে রক্ত তখন লেগেছিলো তা কিন্তু আজ ১৪৫০ বছর পরেও ইসলামের পক্ষে ধুয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। কারন আজকের দিনের আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আইএসআইএস, তালেবান, আনসারুওল্লাহ এসবই কিন্তু সেই রক্তের নমুনা। আজকের দিনের বা বর্তমান যুগের সাধারন ধর্মপ্রান মানুষেরা কিন্তু কেউ চাইবেনা যুদ্ধ করতে, বা মানুষ মারতে। যেমন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময় তারাও চাইনি। তাই তাদেরকে জান্নাত আর জাহান্নামের গল্প বলা হয়েছিলো। বর্তমানে আল্লাহু আকবার বলে কোন জঙ্গী যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মানুষ হত্যা করে তখন যারা বলে এরা প্রকৃত মুসলিম না তাদের বলবো আপনারা ভালো করে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানুন। আরবী ভাষায় হিং টিং সট বলে কিছু একটা বলে আপনাকে যাতে কেউ ভূগোল বোঝাতে না পারে। যতটুকু মানবেন তা বুঝে মানার চেষ্টা করুন তাহলে হয়তো প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবেন।
---------- মৃত কালপুরুষ
১৮/১১/২০১৭

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

দীপিকা পাডুকোন ও বানসালীর মাথার মুল্য এখন পাঁচ কোটি রুপি।

সম্প্রতি ভারতে “সঞ্জয় লীলা বানসালী” পরিচালিত চলচ্চিত্র “পদ্মাবতী” বানানোর জন্য রাজস্থানের জয়পুর, যোধপুর, উদেয়পুরের রাজপরিবারের এক হিন্দু রাজপুত পরিচালক “সঞ্জয় লীলা বানসালী” ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী “দীপিকা পাডুকোন” এর মাথার দাম ধার্য করেছে ৫ কোটি রুপি। কেউ যদি এদের কাউকে শিরোচ্ছেদ করতে পারে তাহলে তাকে এই ৫ কোটি রুপি দেওয়া হবে। রাজস্থানের রাজ পরিবারের দাবী রানী পদ্মাবতীর যে ইতিহাস সমস্ত ভারতের মানুষ জানে সেই ইতিহাস নাকি এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিকৃত করা হয়েছে। আসলে আমরা এখন পর্যন্ত কেউ জানি না আসলে সঞ্জয় লীলা বানসালী আমাদের পদ্মাবতী চলচ্চিত্রে কি দেখাতে যাচ্ছে, কারন এই ছবি চলতি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মুক্তি পাবার কথা থাকলেও এই হিন্দু রাজপুতের আন্দোলনের কারনে শোনা যাচ্ছে আগামী বছর জানুয়ারী মাসের আগে তা মুক্তি পাবে না। রানী পদ্মাবতীর ইতিহাস ও চিতর কেল্লা ট্রাজেডি ইতিহাসে হিন্দু ও মুসলিম জাতির পরিচয় বহন করে থাকে বলে অনেকের ধারনা। হিন্দুরা বর্তমানে এটা ভেবে থাকে তাদের ধর্মের যে একটি বর্বর অধ্যায় ছিলো যা ১৮২৯ সালে ব্রিটিশরা আইন করে বন্ধ করেছিলো সেই সতীদাহ প্রথা এই রানী পদ্মাবতী ও চিতর কেল্লা থেকেই শুরু হয়েছে যদিও তারও হাজার হাজার বছর আগেও হিন্দু ধর্মে এই প্রথার সন্ধান পাওয়া গেছে। আবার অনেকেই মনে করে এই প্রথাটি হিন্দু ধর্মে অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু পরে আবার ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের দিকে দিল্লির মুসলিম শাসক আলাউদ্দীন খিলজির অত্যাচার ও নারী লোভী মনোভাবের কারনে এই রানী পদ্মাবতী দ্বারা আবার চালু হয়েছিলো। তাই রাজস্থান সহ সমস্ত ভারতবর্ষে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই রানী পদ্মাবতী দেবী একটি স্পর্সকাতর চরিত্র হয়ে আছে।
ইতিহাস যাই হোক, এটা নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়েছে তাতে এই রাজাস্থানবাসির স্বাগত জানানো উচিত ছিলো। আর যদি সঞ্জয় লীলা বানসা্লী রানী পদ্মাবতীর ইতিহাস বিকৃত করেই থাকে তাহলে তাকে হুমকি ধামকি না দিয়ে এবং অভিনেত্রীদের মাথা না কাটতে চেয়ে উচিত ছিলো তার বিপক্ষে প্রকৃত সত্য জানিয়ে আরেকটি ছবি বানিয়ে তার জবাব দেওয়া। কিন্তু রাজপুতের এই আচরন আসলে প্রমান করে হিন্দু ধর্মের মধ্যেও মুসলিম জিহাদি মৌলবাদীদের মতো আচরন আছে যা কোন অংশেই কম নয়। মুসলিমরা যেমন তাদের নবী বা ধর্ম নিয়ে কথা বললে মানুষের মাথা কাটতে চায় হিন্দুরাও ঠিক তেমনই করতে চায়। তারাও মুক্তভাবে মত প্রকাশ করতে দিতে চায়না। তাই যদি না হতো তাহলে এই “পদ্মাবতী” চলচ্চিত্রের জের ধরে এই হত্যা হুমকি ও মাথার মুল্য ধার্য না করে সারা ভারতবর্ষের নির্যাতিত হিন্দু জাতিদের জন্য কাজ করতো। বাংলাদেশে যে প্রতিনিয়ত হিন্দুদের ওপরে নির্যাতন হচ্ছে তার বিপক্ষে কথা বলতো এই হিন্দু রাজপুতেরা। অথবা এই “পদ্মাবতী” চলচ্চিত্র বর্জন করে তার জবাব দিতে পারতো, কিন্তু সেটা না করে তারা তাদের ক্ষমতার অপব্যাবহার করছে। বিশাল রাজপুত কিংডম নামে পরিচিত বর্তমান ভারতের রাজস্থানের পুরাটায় এই রাজপুতদের দখলে থাকায় ভারতের মোদী সরকারও মনে হয় এদের কাছে কিছুটা অসহায়। আর যদি তাই হয় তাহলে জনগনের নিরাপত্তা না দিতে পারার কারনে এই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করি।
আসলে যে রানী পদ্মাবতীকে নিয়ে এতো কাহিনী তার ইতিহাস পড়লে যেমন চোখে পানি চলে আসবে ঠিক তেমনই আবার প্রমান করে দেওয়া যাবে এই রানী পদ্মাবতী বলে কেউ ছিলোই না। পদ্মাবতীর অস্তিত্ব নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে ইতিহাসে। তবে মুসলিম শাসক বর্বর আলাউদ্দীন খিলজীর ইতিহাস নিয়ে কোন সমস্যা নেই এখন পর্যন্ত। তবে রানী পদ্মাবতী বর্তমান ভারতবর্ষের একটি মর্মস্পর্শী ইতিহাস যা এখন পর্যন্ত টাটকা হয়ে আছে হিন্দু জাতিদের কাছে। তাইতো তাদের এই নিয়ে এতো অনুভূতি দেখা যাচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয় এই রাজপুতেরা সেই ইতিহাস কতটুকু জানে আর সঞ্জয় লীলা বানসালীর মতো পরিচালকেরাইবা কতটুকু জানে। আমি হিন্দু ধর্মের বর্বর প্রথা সতীদাহ নিয়ে একটি লেখাতে এই এই পদ্মাবতি ট্রাজেডির কথা একবার উল্লেখ করেছিলাম। কারন এই ইতিহাসের সাথে সতীদাহ প্রথাটি জড়িত আছে। সেটা অন্য আলোচনা তবে এখানে পদ্মাবতী ট্রাজেডির কিছু ইতিহাস যেমন চিতর কেল্লা, রানী পদ্মাবতী ও আলাউদ্দীন খিলজীর কিছু সংক্ষিপ্ত পরিচয় না দিলে মনে হয় আধুরী থেকে যাবে।
প্রাপ্ত ইতিহাস অনুযায়ী আমরা জানতে পারি মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজি তার আপন চাচা ও খিলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন খিলজিকে হত্যা করে ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসন দখল করেন অর্থের বিনিময়ে । তিনি ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন । ইলবেরি তুর্কি আমলে ভারতে দিল্লিতে মুসলিম সুলতানির যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, আলাউদ্দিন খিলজির সময় তা পরিপূর্ণ রূপ গ্রহন করেছিল । উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সাম্রাজ্য স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার চালু করে নিজ কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করতে তিনি সচেষ্ট হয়েছিলেন এই শাসক । এই দিক দিয়ে বিচার করলে তাঁকে সুলতানি আমলের শ্রেষ্ঠ সম্রাট বলা যেতে পারে । তবে প্রকৃত এই আলাউদ্দীন খিলজি ছিলো একজন মাতাল ও লম্পট টাইপের মানুষ। তার বাইসেক্সুয়ালিটি অভ্যাস ছিলো। তার বৈধ স্ত্রীর সংখ্যা ছিলো শতাধিক। তা বাদেও তার হারেমে প্রায় ৭ হাজার এর মতো নারী, শিশু ও বালক ছিলো। এই আলাউদ্দীন খিলজির তারপরেও এমন অভ্যাস ছিলো যে, যদি কোন যায়গায় কোন সুন্দরী রমনীর কথা শুনতো বা সন্ধান পেতো তাহলে তাকে নিজের বশে না আনা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হতো না এবং এর জন্য সে যেকোন কিছু করতে রাজি থাকতো। খিলজি রাজবংশ ছিল তুর্কি বংশোদ্ভুত মুসলিম রাজবংশ যারা পরবর্তিতে তুর্কিতে ইসলামের দোহায় দিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ আর্মেনীয়কে হত্যা করেছিলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই রাজবংশ দক্ষিণ এশিয়ার বিরাট অংশ শাসন করে। জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি এই রাজবংশের পত্তন করেন। এটি দিল্লি সালতানাত শাসনকারী দ্বিতীয় রাজবংশ। আলাউদ্দিন খিলজির সময় খিলজিরা সফলভাবে মোঙ্গল আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়।
তার শাসনামলে দিল্লি থেকে সব থেকে কাছের রাজ্য বর্তমান রাজস্থানের চিতরের রাজা ছিলেন হিন্দু রতন সিং। আর এই রতন সিং এর স্ত্রী ছিলেন রানী পদ্মাবতী। রানী পদ্মাবতী এতই সুন্দরী ছিলেন যে আশেপাশের দশ রাজ্যে তার নাম মানুষ জানতো বলে প্রচার ছিলো। তবে অনেক ইতিহাসবিদের মতে খিলজির শাসনামলে রানী পদ্মাবতী ছিলো না। সে যাই হোক, রানী পদ্মাবতীর রুপ আর সৌন্দর্যের কথা এই আলাউদ্দীন খিলজি যে কোন ভাবে জানতে পারে। কিভাবে জানতে পারে তা নিয়েও অনেক ইতিহাস আছে তা আর এখানে তুলছি না। আলাউদ্দীন খিলজী রানী পদ্মাবতীর রুপের কথা শুনে পাগল হয়ে যায়। শোনা মাত্র সে তার বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে রাজস্থানের চিতর আক্রমনের উদ্দেশ্য ১৩০৩ সালের ২৮ জানুয়ারী বেরিয়ে পড়ে। যখন সে চিতরের কেল্লার কাছে আসে তখন দেখতে পায় চিতর কেল্লার নিরাপত্তা খুবই মুজবুত যা ভেঙ্গে ভেতরে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। তাই সে মতলব আটে এবং রাজা রতন সিং এর কাছে তার দুত পাঠায় এই বলে যে, সে রানী পদ্মাবতীকে তার বোনের মতো জানে তাই তাকে একবার দেখে সে আবার দিল্লি চলে যাবে। তার কোন প্রকারের যুদ্ধ করার ইচ্ছা নেই। এই শুনে রানী পদ্মাবতী তার প্রজাদের দিকে তাকিয়ে লম্পট আলাউদ্দীন খিলজিকে দেখা দেবেন বলে রাজি হন। তবে শর্ত থাকে সে আয়নাতে তার চেহারা দেখতে পারবেন। এই আয়নাটি নিয়েও অনেক ইতিহাস আছে কারন এই ঘটনা যখন ঘটেছিলো তখন আমরা আয়না বলে যাকে জানি তা আসলে ছিলো না। তবে সোনা, রুপা, তামা, পিতল বা কাসার তৈরি আয়নার চল ছিলো তখন। অনেকের মতে এই আয়না আলাউদ্দীন খিলজি দিল্লি থেকেই নিয়ে এসেছিলো।
আলাউদ্দীনের আয়না সাথে নিয়ে আসার কারন ছিলো। সে জানতো যে হিন্দু রাজপরিবারের রাজরানীদের কোন বাইরের পুরুষের সামনে যাওয়ার চল তখন ছিলোনা। যখন আলাউদ্দীন রানী পদ্মাবতীকে আয়নায় দেখতে পান তখন তার মাথা আরো খারাপ হয়ে যায়। সে পদ্মাবতী সম্পর্কে যা শুনেছিলেন আর ভেবেছিলেন তার থেকেও অনেকগুন বেশি সুন্দরী ছিলো এই রানী পদ্মাবতী। সাথে সাথে তার মত পাল্টে ফেলেন লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি এবং সুযোগ খুজতে থাকেন কিভাবে রানী পদ্মাবতীকে তার দখলে নিবেন। তার বিদায়ের সময়ে সৌজন্য রক্ষা করতে রাজা রতন সিং আলাউদ্দীনকে কে কিছুদূর এগিয়ে দেবার জন্য কেল্লার বাইরে আসেন। এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি। রাজা রতন সিং কে বন্দি করে রাখেন কেল্লার বাইরে। আর খবর পাঠান রানী পদ্মাবতীর কাছে, যদি সে স্বইচ্ছায় তার কাছে চলে যায় তাহলে সে রাজা রতন সিং কে জীবিত ছেড়ে দেবে এবং কোন ক্ষতি না করে আবার দিল্লি ফিরে যাবে। এই কথা শুনে রানী পদ্মাবতী রাজী হয়ে আলাউদ্দীনকে জানায় যেহেতু সে রানী তাই একা যাবে না তার ৭০০ দাস দাসী তার সাথে যাবে সেবা করার জন্য। এতেও লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি রাজী হয়ে যান। রানী পদ্মাবতী ৭০০ পালকিতে করে তার বাছাই করা সৈন্য বাহিনী পাঠান। এবং তারা কৌশলে রাজা রতন সিং কে উদ্ধার করে আবার চিতর কেল্লাতে নিয়ে আসেন।
এতে করে আলাউদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে চিতর দখল করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু চিতরের কেল্লা এমন ভাবে তৈরি করা ছিল যা ভেদ করে ভেতরে যাওয়ার কোন উপায় খুজে না পেয়ে চারদিক থেকে অবরোধ করে রাখেন। তার পরিকল্পনা মতো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কেল্লার ভেতরে খাবারের সংকট দেখা দেয়। তখন রাজা রতন সিং বাধ্য হয়ে আলাউদ্দীন খিলজির বিশাল বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং মারা যান। এরপরেও সে কেল্লার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এরকম অবস্থায় রানী পদ্মাবতী সহ সকল নারীরা তাদের সতীত্ব রক্ষা করার জন্য জীবন্ত আগুনে পুড়ে আত্তহননের সীদ্ধান্ত নেন। কেল্লার ভেতরে তৈরী করা বিশাল চিতার আগুনে রানী পদ্মাবতী তার সতীত্ব রক্ষা করার জন্য হিন্দু ধর্মের সতীদাহ প্রথা অনুযায়ী নিজেকে পুড়িয়ে ফেলেন। সেই সাথে তাকে অনুসরন করে সমস্ত রাজবধু ও দাসীরা প্রায় ছয়শো থেকে সাতশো নারী একসাথে আত্তাহুতি দেন। লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি যখন কেল্লার ভেতরে প্রবেশ করে তখন দেখতে পায় আগুনের ভেতরে শুধুই হাড়্ গোড় পড়ে আছে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে সমস্ত রাজপুত সৈন্যদের হত্যা করে এবং চিতর দখলে নেয়।
এটা ছিলো রানী পদ্মাবতী ও চিতর কেল্লার রাজপুতদের ট্রাজেডির একটি সংক্ষিপ্ত ধারনা। আসলে রানী পদ্মাবতীর ইতিহাস যে বিস্তর ভাবে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে আছে আর কথিত আছে তা নিয়ে লিখলে ঘন্টার পর ঘন্টা লেখা যাবে তারপরও শেষ হবে না এই ইতিহাস। আমি এখানে লেখাটা সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয় বাদ দিয়েছে যা এই ঘটনার সাথে সুক্ষভাবে জড়িত। এই ইতিহাসকে যদি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে ভারতের কোন পরিচালক তা নিয়ে চলচ্চিত্র বানিয়ে থাকে তাহলে রাজস্থানের রয়েল ফ্যামিলির উচিত হবে তাদেরকে অভিবাদন জানানো তাদের মাথা কাটতে চাওয়া না। অভিনেত্রী “দীপিকা পাডুকোন” এর আগেও “রাম লীলা” ছবি করে হুমকির শিকার হয়েছিলেন। রাজস্থানের ইতিহাসের বড় অংশ জুড়ে থাকা সম্রাট আকবরের ইতিহাস নিয়ে “যোধা আকবর” চলচ্চিত্র করতে গিয়েও পরিচালক “আসুতোষ” এই রাজপুতদের বাধায় পড়ে তাদের মনগোড়া কিছু ইতিহাস ঢুকিয়েছিলেন সেই চলচ্চিত্রে। কিন্তু একই কাজ আবার এরা “সঞ্জয় লীলা বানসালি”র সাথে করতে না পেরে এখন হয়তো ক্ষিপ্ত হয়ে এই ছবি মুক্তি না দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন এবং তার ও দীপিকার মাথার দাম তুলে দিয়েছেন তাদের হত্যা করার জন্য। এখন আমাদের ভেবে দেখতে হবে সেই মধ্যযুগে আলাউদ্দীন যা করেছিলো তার সাথে এই বর্তমান যুগের রাজপুতদের পার্থক্য কি থাকলো। তবে বাকি থাকলো “পদ্মাবতী” চলচ্চিত্র দেখা, দেখার পরে না হয় আরেকটা রিভিউ লেখা যাবে।

---------- মৃত কালপুরুষ
১৮/১১/২০১৭

বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭

ধর্মীও সংশয় দূর করতে “সংশয় দূর হোক” শ্লোগান নিয়ে “কলুর বলদ” আসছে।


বাংলা ভাষায় কলুর বলদ শব্দটি আমরা প্রায় ব্যাবহার হতে দেখি বিভিন্ন কারনে। আসলে এটি ছিল একটি বাগধারা যার অর্থ দাঁড়ায় “এক টানা খাটুনি করে যে” তাকে কলুর বলদ বলা হয়। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এই কলু ও তার বলদের সাথে খুব একটা পরিচিত না। কারন কলুর কার্যক্রম আমাদের এই দেশ থেকে অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। এখন আর এদের একেবারেই দেখা যায় না। তবে কলু যেভাবে তার কার্য উদ্ধার করে নিত তার বলদকে ব্যাবহার করে ঠিক তেমনই একটি পদ্ধতীর প্রয়োগ এখনও আমাদের এই পৃথিবীতে প্রচলিত আছে। মানুষ অনেকে সময় বুঝে আবার অনেক সময় না বুঝেও এই পদ্ধতীর মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন। এর কারন হচ্ছে তার আশৈশব মেনে চলা একটি প্রথা থেকে কিন্তু বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না তার প্রতিকুল পরিবেশের কারনে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অনেকটা বাধ্য হয়েই এই কলুর বলদের মতো মেনে নিতে হচ্ছে। আসুন তাই আগে একটু জেনে নেই এই কলু কাকে বলা হতো এবং তার বলদের পরিচয়।
একটা সময় ছিলো আমাদের এই বাংলায় প্রচুর তৈল বীজ ফলতো যেমন সর্ষে, তিল ইত্যাদি। এসব তৈল বীজ থেকে তেল আলাদা করার কোন উন্নত পদ্ধতী তখন আমাদের দেশে খুব একটা ছিলো না। তখন একধরনের দেশীয় একটি পদ্ধতীতে এই কার্য সম্পাদন করা হতো। আর সেই দেশী তেল পেশাই যন্ত্রকে ঘানি, ঘানিযন্ত্র, ঘানিকল বা ঘানিগাছ বলা হতোঅর্থাৎ যে যন্ত্রে সর্ষে বা সেরকম কোনো তৈলবীজকে নিষ্পেষণ করে তেল ও খোল আলাদা করা হতো তাকে ঘানি, ঘানিযন্ত্র, ঘানিকল বা ঘানিগাছ বলা হতো "তৈল নিষ্পেষণ" একটি প্রাচীন জীবিকা হিসেবে পরিচিত ছিলোএই পেশার লোকেদের বলা হতো কলু ঘানি কাজ করে ঘূর্ণন দ্বারা। সাধারণতঃ ঘানি টানবার জন্য কলু বলদ (গরু)  ব্যবহার করতোতাই থেকে "কলুর বলদ" বাগধারাটি এসেছে। অর্থাৎ সারাদিন একটানা ঘানি টানা যার কাজ। কলুর বলদের অনেক সময় চোখ বাঁধা থাকতো কারন চোখে না দেখতে পেলে সে ভাবতো যে এখনো পথ শেষ হয়নি তাই হাটতেই থাকতো এই ভেবে যে এই পথ নিশ্চয় একসময় না এক সময় শেষ হবেই। কিন্তু সে বুঝতে পারতো না যে সে ঘানিকলের চারপাশেই দিনভর পাক খাচ্ছে এই চোখ বাধা থাকার কারনে। ঘানি টানা খুব পরিশ্রমের কাজ ছিলোতাই আগেকার দিনে সশ্রম কারাদন্ডের বন্দীদের দিয়ে জেলের মধ্যে ঘানি ঘোরানো হত। তাই থেকে জেলে যাওয়াকেই অনেক সময় জেলের ঘানি ঘোরানো বলা হয়ে থাকে।
এখন একটু ধর্ম বিষয়ক কিছু আলোচনা করি। আসলে ধর্ম নিয়ে কিছু লিখতে বা বলতে গেলেই প্রচন্ড ভয় লাগে। মানে ধর্মের সাথে তো ভয় আর লোভ অনেক আগে থেকেই জড়িত ছিলো  তারপরেও নতুন করে ধর্ম নামটি উচ্চারন করলেই কেমন যেন একপ্রকারের ভয় কাজ করে। কারন এখন দেশের মানুষের ধর্মানূভূতি খবই প্রবল। বলা তো যায়না, যে কোন সময় তাতে আঘাত লেগে যেতে পারে। আমি আসলে কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত করতে চাইনা বা ধর্মনানুভূতিতে আঘাত করছি না। আসলে মানব সভ্যতাই এই ধর্মের উৎপত্তি উত্তর পুরুষ পৃথিবীতে ধর্মের কিভাবে শুরু কিংবা উৎপত্তি হয়েছিলো তা নিয়ে না্নান মত ও নানান ব্যাখ্যা আছে সেই সাথে আছে শত শত ইতিহাস। তবে সব থেকে বেশি গ্রহনযোগ্য হচ্ছে আদিম যুগে মানুষ তাদের সমাজ পরিচালনা করতে এই ধর্মের প্রচলন শুরু করেছিলো। সমাজের কিছু বুদ্ধিমান মানুষেরা তাদের নিজস্ব ধ্যান ধারনা ও কল্পনা শক্তি দিয়ে তৈরি করেছিলো কিছু কল্পিত ঈশ্বর এবং মানুষের কাছে প্রচার করেছিলো এই ঈশ্বররাই আমাদের এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছে, আমাদেরকেও সৃষ্টি করেছে। তাই আমাদের উচিত হবে সেই ঈশ্বরের নামে প্রার্থনা করা এবং তাকে খুশি করা। সেই থেকেই এই ধর্মের শুরু আর যুগে যুগে তা মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে সমান ভাবে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু বর্তমানের এই উন্নত তথ্য প্রযুক্তির যুগে এসে আর সেই ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মানুষ মনে করছে না।
এ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সংখ্যা প্রায় ৪০০০ তবে ধর্মের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে প্রায় ৫২০০ টি। বর্তমানে পৃথিবীতে খুব শক্তভাবে আর শীর্ষ অবস্থানে টিকে থাকা ধর্মের মধ্যে প্রথমেই আছে খ্রিস্টান, ইসলাম, হিন্দু, ইহুদী, বৌদ্ধ ধর্মগুলি। তবে এই সকল ধর্মের কোন ধর্মই আসলে তার ধর্মের উৎপত্তি নিয়ে খুব বেশি জানতে দিতে চাই না। প্রতিটি ধর্মই তার উৎপত্তি ও স্ব স্ব ধর্ম নিয়ে তার অনুসারিদের বেশি চিন্তা করতে নিষেধ করে এবং শুধু চোখ বন্ধ করে পালন করতে বলেতাই তো সকল ধর্মই শুধু এককভাবে চাই তাদেরকে শুধুই বিশ্বাস করতে হবে। আসলে মানুষ কখনও ভেবে দেখে না এই বিশ্বাসের সংজ্ঞা কি। বিশ্বাস এমন কিছুকেই করতে হয় যার কোন অস্তিত্ব নেই বা যাকে কেউ প্রমান করতে পারবে না। আর যারা এই ধর্মের অনুসারিদের স্ব স্ব ধর্মের ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন তারাই হচ্ছে সেই ধর্মের ঈশ্বরের এজেন্ট। যারা এই সকল ধর্মের নিয়ম কানুন মানুষদেরকে শেখায়, তাদের পালন করতে বলে এবং এসকল কিছুকেই ঈশ্বরের কথা বলে চালায় তাদেরকেই আমরা মূলত ঈশ্বরের এজেন্ট হিসেবে জানি। কারন ঈশ্বর কিন্তু সরাসরি এসে মানুষকে কোন আদেশ উপদেশ দেয় না তা দেয় এই ঈশ্বরের এজেন্টরাই।
কলুর বলদ বাগধারাটির চলন এখন খুব একটা কম আছে বলা যাবে না। কারন দেখুন কলু যেভাবে তার বলদের চোখ বেধে তাকে ঘানিকলের চারিপাশে দিনভর ঘুরিয়ে নিজের কার্য হাসিল করে নিতো বর্তমান যুগের এই ধর্মীয় এজেন্ট রা কিন্তু সেই একই পদ্ধতীতে তাদের কার্য সম্পাদন করে চলেছে। পার্থক্য শুধু এটুকুই এখানে কলু তার বলদের চোখ এক টুকরো কাপড় দিয়ে বেধে এই কাজ করতো। কিন্তু এখানে বিভিন্ন ধর্মের এজেন্টরা কাপড়ের যায়গায় ঈশ্বরের প্রতি একটি আজগুবি বিশ্বাস এর কথা বলে তাদেরকে সেই বিশ্বাসের প্রতি অটল রেখে তাদের এই কাজ করে চলেছে। আর এই বিশ্বাস নামক একটুকরো কাপড়ের কারনে সেই সব ধর্মের অনুসারিরা ধর্মীয় শিক্ষার বাইরে অনেক অজানা সত্য যার কিছুই জানতে পারছে না। জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা থেকে দুরেই থেকে যাচ্ছে। দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় তারা তাদের ঈশ্বরের প্রার্থনায় ব্যয় করছে যার ফলে অন্যান্য জ্ঞানের চর্চা তারা করতে পারছে না। আর এসমস্ত ধর্মীয় এজেন্টরা তাদেরকে এটাও শিক্ষা দিচ্ছে যে এর বাইরে আর অন্য কিছু জানা যাবে না। আর যদি কেউ তা করতে যায় তাহলে ঈশ্বর অখুশি হবে।

সম্প্রতি ফেসবুক ও বিভিন্ন মুক্তচিন্তা চর্চার ওয়েবসাইট গুলিতে এই “কলুর বলদ” নামে একটি ওয়েবসাইটের কথা আমরা সবাই শুনছি। বাংলাদেশ সহ পশ্চিমবঙ্গ ও পৃথিবীর নানান দেশ থেকে বাংলাভাষী মুক্তচিন্তক, যুক্তিবাদী এবং মানবতাবাদীদের একটি মিলন মেলা হতে যাচ্ছে এই সাইটটি এমন কথা শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি প্রধান ধর্মের প্রান কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে মুক্তবুদ্ধি চর্চার সাথে এগিয়ে চলা একজন সাহসী পুরুষ যার নাম “আব্দুল্লাহ আল মাসুদ” জিনি মুলত ছিলেন একজন (একটি ধর্মের মূফতী) তাকেও এই “কলুর বলদ” নামক সাইটের সাথে দেখা যাবে।  হ্যা, তবে এখন এটা শুধুই অপেক্ষার পালা আসলেই কি হতে যাচ্ছে সেটা দেখার। আমি যতটুকু জানি এখন পর্যন্ত এই সাইটটি তৈরি করার জন্য অনেক মুক্তমনা মানুষ একত্রে কাজ করে চলেছেন। আমার কাছে এখন পর্যন্ত এই সাইটের কোন লিংক নেই তাই আমি সেটা আপনাদের দিতে পারছি না। তবে আপনাদের আমি এই নামটি জানিয়ে রাখছি “কলুর বলদ” নামে একটি মুক্তচর্চার মাধ্যম যার শ্লোগান “সংশয় দূর হোক” আগামীতে আমাদের সামনে আসছে। আসলে আমরা সবাই চাই শতাব্দী প্রাচীন ভাববাদী দর্শনের বিপরীতে ও আজন্ম লালিত ধর্মীয় ও সামাজিক নিবর্তনমূলক সকল অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে এমন কিছু আলোচনা চক্র তৈরি হোক যেখানে শুধুই যুক্তি ও জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করা হবে।   

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৫/১১/২০১৭
  



সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৭

আর কত ভাবে নারীকে ছোট করা হবে ?



সম্প্রতি দাউদ হায়দারের কবিতা নিশ্চয় সবাই পড়েছেন। আমি আসলে এটাকে কবিতা বলতে পারছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা তার নারীর প্রতি ব্যাক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি যে আসলে এই একটি ব্যাপারে মানুষিকভাবে সুস্থ আছেন কিনা আমার তাতেও সন্ধেহ আছে যথেষ্ট। কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মনোবিজ্ঞানীদের মতে যারা নারীদের প্রতি আক্রমনাত্মক ও উদ্দেশ্য প্ররোচিত লেখনি লিখে থাকে তাদের ব্যাক্তিগত জীবনে কোন না কোন সময়ে এই নারীর কাছ থেকেই যে কোন ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে এমন মনোভাবের সৃষ্টি হয়। আমি কাউকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করতে চাই না তাই এই বিষয়ে আলোচনায় যাবো না। তবে আমাদের মতো সাধারন পাঠকদের যদি এধরনের ধারনা হয়ে থাকে তাহলে যে সেটা ভুল নাও হতে পারে তাই এই কথাটুকু তোলা। কবি দাউদ হায়দার এই কবিতার মাধ্যমে সমস্ত নারীবাদী নারীদের পাশাপাশি সমস্ত কবিদেরও অপমান করেছে। কারন তিনি একটি নয়, তিনটি বিষয় এখানে তিনি তুলে ধরেছেন বলে আমি মনে করি। একটি হচ্ছে তিনি নারীবাদী লেখিকাদের সাথে নিজেকে তুলনা করে নিজেকে ছোট করে ভেবেছেন আর তাই এমন কিছু তার মাথা থেকে এসেছে। দুই হচ্ছে তিনি যে একজন পুরূষতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখেন সেটা এখানে প্রমানিত। আর তিন হচ্ছে তিনি এইজাতীয় শব্দ “ছিনাল” ব্যাবহার করে নারীদেরকে শুধু ছোট করেনি সাথে ধর্ষক পুরুষদেরকেও আরো উস্কে দিয়েছে এই জাতীয় পর্নো কবিতা রচনার মাধ্যমে।

একসময় আমাদের দেশে তসলিমা নাসরিনের মতো লেখিকা ছিলো। আজ তারা নেই, নেই তাতেই ভালো হয়েছে, কারন যদি আজ এই দেশে সে থাকতো তাহলে হয়তো একদিন একশ্রেনীর কাঙ্গালী খুনী টাইপের মানুষরা তার হাড় পর্যন্ত মাটিতে মিশিয়ে দিতো। তারাও কিন্তু অতীতে “ছিনাল” জাতীয় কথা ব্যাবহার করে এই নারী লেখিকাকে আক্রমন করেছিলো। কবি দাউদ হায়দার আসলে কাকে আক্রমন করে এই জাতীয় কবিতা লিখেছেন তা এখানে পরিষ্কার না। তবে এটা পরিষ্কার তিনি নারীদের এগিয়ে চলায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আছেন। তার আচরনে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা মৌলবাদীরা অনেক আগেই আমাদের দেখিয়েছে। তাহলে কি আমরা ভেবে নেবো সেই পুরাতন কবি যাকে অনেকেই বহু বছর ধরে চেনেন সে এখন মৌলবাদীদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে। নারীদের অপমান করছে। তাহলে কেন এযুগের কবি হয়ে দাউদ হায়দার আজ মধ্যযুগের মানুষের মতো আচরন করবে। এই নারীরাই তো কৃষির সূচনা করেছিলো মানব সভ্যতাই। তাদের কাছ থেকে আবার পুরুষেরা এই ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকে “ছিনাল” বলেছিলো তখন। আজ আবার কি কেড়ে নিতে নারীদের উপরে এমন আচরন এই কবিদের। আছে হয়তো কিছু। যেমন ধরুন নারীরা এখন অনলাইন ও সাইবার জগতে বাংলাদেশ এ পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু অঞ্চলে বাংলা ভাষায় অনেক এক্টিভ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাভাষী লেখিকারা খুব ভালো ভাবেই তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে বর্তমান অনলাইন জগতে।
কিন্তু এই দাউদ হায়দারের মতো অনেক লেখক এখনও অনলাইন জগতে এতোটা পরিচিতি আনতে পারেনি যতটা নারীরা এতোদিনে করে ফেলেছে। আমার জানামতে সোস্যাল মিডিয়াতে তার এখনও একটি একাউন্ট পর্যন্ত নেই। আমার ভুল হতে পারে আমি সঠিক নাও জানতে পারি। তবে আমি নিশ্চিত দাউদ হায়দারের কোন সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট নেই। তিনি বর্তমান যুগের নারীবাদী নারীদের থেকে এই বিষয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন। এমতাবস্থায় যদি হঠাৎ করে অনলাইনে সাড়া ফেলতে চাই তাহলে একমাত্র বড় উপায় হচ্ছে নারীবাদীদের উদ্দেশ্য করে এমন কিছু লেখা যাতে তাদেরকে ছোট করে উপস্থাপন করা যায়। অতএব বলা চলে তাদের কাছ থেকে বর্তমানে অনলাইন ও সোস্যাল অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো ছিনিয়ে নিতে এমন আচরনের কোন জুড়ি থাকার কথা না। দাউদ হাওয়াদার যাকেই উদ্দেশ্য করে এই জাতীয় লেখা লেখুক না কেন তিনি অবশ্যয় বর্তমান সময়ের প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচার করেছে। তিনি যে জঘন্য ভাষার ব্যাবহার মানে মৌলবাদী বা মুমিনদের মতো ভাষার ব্যাবহার এখানে করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এখানে প্রমান করেছেন তিনি নিজেও এই জাতীয় মনোভাব বয়ে নিয়ে বেড়ান যা মনস্তাত্বিক দিক থেকেও নিচু মানের।
এখানে “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” এই বাক্যটি কিভাবে কবিতার ভাষা হতে পারে ? এই লেখটি দিয়ে দাউদ হায়দার কি প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচরন করেনি। একটু খেয়াল করে দেখবেন এখন দেশে নারীবাদীদের আন্দোলনে ও লেখালেখিতে যেভাবে দেশের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মানুষ গর্জে উঠছে ঠিক তখনই এমন কিছু লিখে সেই নারীদের দমিয়ে দেবার চেষ্টাকে আমরা কি বলতে পারি। প্রথমে যে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছিলাম সেই তিনটি বিষয়ের মিল কি এখন খুজে পাচ্ছেন। হ্যা আসলেই দাউদ হায়দার মনে হয় এই সমস্ত কারনে মানুষিক চাপের ভেতরে আছেন যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার এই “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” কবিতায়। তিনি নিজেকে নারীদের সাথে তুলনা করে আবিষ্কার করেছেন নারীবাদী লেখিকা থেকে তার অবস্থান অনেক নিচে যাকে বলা হয়ে থাকে (ইনফেরিয়োরিটি কমপ্লেক্স)। তিনি আসলে তার যৌন হতাশা থেকেও এমন কিছু বলেছেন তারও প্রমান এখান থেকে পাওয়া যায়। অশ্লীল ভাবে পর্নগ্রাফী রচনা করার একটি বড় কারন এটা হতে পারে। আরো প্রমানিত হয়েছে তিনি পুরূষতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে নিয়ে নারীদের পেছনে লেগেছে এই লেখা দিয়ে। তিনি এই জাতীয় পর্ন কবিতা রচনা করে ধর্ষকদের এক প্রকার সমর্থন করেছেন বলে মনে করি।
আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন আছেন যারা এই কবি দাউদ হায়দারের লেখার ভক্ত ছিলেন। কিন্তু তার এমন নিম্ন রুচির আক্রমনাত্মক লেখাতে তারা তার প্রকৃত রুপ দেখতে পেয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন এই কবিকে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে কখনই কোন ইস্যুতে চিন্তাশীল কোন আলোচনা করতে দেখি নাই। এমনও হতে পারে তিনি হয়তো অতীত ভুলে গিয়ে নতুন করে যারা নারীবাদীদের “ছিনাল” বলে থাকেন তাদের দলে ভিড়ছেন। আসলে তাকেও তো একটা সময় সেই শ্রেনীর মানুষেরাই এই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ঠিক তসলিমা নাসরিনের মতো। তবে একটা ব্যাপার হয়তো এই কবির জানা নেই যে, পর্ন কবিতা রচনা বা নারীদের আক্রমন করে লিখেই যে সেলিব্রেটি হওয়া যায় না। যদি সেলিব্রেটি হতেই হয় তবে তাকে সবার আগে এই দেশের মৌলবাদীদের মন জয় করতে হবে। তাহলে কি তিনি অবশেষে সেই চেষ্টাই করছেন ?
---------- মৃত কালপুরুষ
              ১৩/১০/২০১৭