শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

মানবিক হিন্দু ধর্মে ভগবানের আদেশ পালন।


জিহাদী মুসলমান ও ইসলাম ধর্মের আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই মনে হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়া, ব্লগ আর বিভিন্ন ওয়য়েবসাইট এর বিতর্ক ও সমালোচনা গুলা দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবে তার আসল চেহারা। আমরা খুব ভালো করেই জানি পৃথিবীতে যুগে যুগে যত রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছে আর যত মানুষ হত্যা করা হয়েছে এই ধর্মের নামে তা আর অন্য কোন কারনে দেখা যায়নি আমার ধর্ম ভালো তোমার ধর্ম খারাপ এমন মনোভাব থেকেই যার সুত্রপাত। ধর্মকে অনেকেই ব্যাবহার করে নিজে্দের ফাইদা লুটে নিতে ব্যাস্তযখন কোথাও ইসলাম ধর্মাবলম্বী জিহাদী বা জঙ্গীরা মানুষ হত্যা করে তাদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি করে চলে যাচ্ছে, তার ঠিক পরেই আরেক দল চলে আসছে তাদের ধর্মের গুনগান করতে। সেটা হচ্ছে হিন্দু ধর্ম ও তার অনুসারিরা। অনেকের দাবী হিন্দু ধর্ম বলতে কিছুই নেই সবই আসলে সনাতন ধর্ম। হিন্দু ধর্মের যত খারপ ও ব্লাক সাইড আছে তা যদি খুব ক্রিটিক্যলি একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী যাচাই বাছাই করে আর তা নিরাপেক্ষ ভাবে পর্যালোচনা করে এবং ফলাফল সে সঠিক ভাবে বুঝে তাহলে সেই মুহুর্তে সে হিন্দু তথা এই সনাতন ধর্ম ত্যাগ করবে আমার ধারনা। আসলে বর্তমান সময়ের মডারেট হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দাবী করে অন্য কিছু। তারা বলে (রাম রাম) আমাদের ধর্মে আসলে কোন হিংস্রতা নেই, আপনি কোথাও মানুষ হত্যা করার কথা আমাদের ধর্মে খুজে পাবেন নাএমনকি দেখা যায় তারা কোথাও কোথাও দাবী করে আমাদের ধর্ম একমাত্র সত্য ও মানবিক। তাহলে তাদের এই সত্য মানবতার ধর্ম নিয়ে আমাদের আলোচনা করতেই হয়। আর সেই চিন্তা থেকেই “আকাশ মালিকের” অনুপ্রেরনা থেকে লেখা।


এখন কোন মডারেট হিন্দু ধর্মানুসারিকে ডেকে যদি বলেন আপনার ধর্মটা আসলে কি এবং কেন ? তাহলে দেখবেন ১০ জনের মধ্যে ৮ জন গুলিয়ে ফেলবে তা বলতে গিয়ে। কারন এদের অধিকাংশ হিন্দু ধর্ম সম্পর্কিত ধারনা এসেছে প্রথমেই নিজের পরিবার, মন্দিরের পন্ডিত-পুরোহিত-ব্রাহ্মন, গীতা, ঋগবেদ, রাবনের লংঙ্কা, রামায়ন, মহাভারত, কিছু হিন্দু সাস্ত্রের বই, আর কিছু টিভি চ্যানেলের মিথ্যাচার থেকে। কিছু দিন আগে মহেঞ্জোদারো সভ্যতা নিয়ে একটি মুভিও খুব চলেছে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে। মুভিটির নামই ছিলো মহেঞ্জোদারো। এখানে সম্পুর্ন রুপে মহেঞ্জোদারো সভ্যতাকে বিকৃত করা হয়েছে এই মডারেট হিন্দুদের ব্রেন ওয়াশ করার জন্য। এই মহেঞ্জোদারো সভ্যতার কথা কেন বলছি ? কারন এই সভ্যতা থেকেই তৈরি হয়েছে এই হিন্দু ধর্ম। মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আসলে প্রায় ৫ হাজার বছর পুরাতন একটি সভ্যতা যার প্রথম উদ্ভব হয় বর্তমান পাকিস্তান এর দক্ষিনাঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ে। এখানেই প্রথম আর্যদের সভ্যতা গড়ে উঠে। আর তখনকার যে সিন্ধু নদীর কথা আমরা জানতে পারি সেটাই ছিলো আর্যদের পবিত্র নদী। হিন্দু ধর্মের পবিত্র নদী গঙ্গার কোন নাম গন্ধ ছিলো না হিন্দু ধর্মের শুরুতে। প্রায় ৫ হাজার বছরের ব্যাবধানে সেই আর্য সভ্যতা চলে গিয়েছে বর্তমান পাকিস্তানের মধ্যে আর তাই হিন্দুরা কালে কালে গঙ্গাকে বানিয়েছে তাদের পবিত্র নদী সেই সাথে হারিয়েছে সিন্ধু নদীর নাম।


হিন্দু ধর্ম আসলে ছিলো এই আর্যদের ধর্ম। এটাকে আমরা আর্যদের বৈদিক ধর্ম বলতে পারি যার প্রধান ও আদি ধর্ম গ্রন্থের নাম “ঋগবেদ”। পরবর্তিতে আরো কিছু তার সাথে যোগ হয়েছে যেমন, ঋগবেদ, সমবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ ইত্যাদি। প্রথমে যখন ঋগবেদ ছিলো হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ তখন তাদের মধ্যেও মুসলমানেদের মতো একেশ্বরবাদী একটা ধারনা ছিলো। তাই অনেকের ধারনা হিন্দু ধর্মের শুরুতে বা বেদের সূচনাকালে এটিও একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম ছিলো। এরপর যুগে যুগে ব্রহ্মের অবতারগনেদের আগমন ঘটানো হয়েছে যার ফলে ঋগবেদের অনুশীলন করতে গিয়ে এর সাথে স্থান কাল সংযোজন ও বর্ধন করে পরবর্তিতে আরো ৪টি সংস্করন তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এগুলোই হিন্দু ধর্মের প্রধান অনুসরনীয় কিতাব। এ গুলোতে বিশ্বাস করাকেই হিন্দু ধর্ম বলে যাকে পুর্বে আর্য ধর্ম বলা হত। হিন্ধু ধর্মের এই প্রধান গ্রন্থ গুলির ভেতরে যা আছে তা মানা না মানা সম্পুর্ন ব্যাক্তি স্বাধীন ব্যাপার বলে দাবী করে বর্তমান যুগের আধুনিক ও স্মার্ট হিন্দুরা। তাদের দাবী আপনি মানতেও পারেন আবার নাও মানতে পারেন তবে শুধু বিশ্বাস রাখলেই আপনি হিন্দু হতে পারেন এমন কিছু। আসলে আমি বলবো এসব হচ্ছে ভাওতাবাজি যা বোকা হিন্দুদের ব্রেন ও্য়াশ করতে ব্যবহার করা হয়। যারা বলে শুধু বিশ্বাস করলেই হবে মানতে হবে না বা বেদে বিশ্বাস না রেখেও হিন্দু থাকা যায় বা বেদ কি ঈশ্বরের দেওয়া অবশ্য পালনীয় বানী যে তাকে মানতেই হবে তাদের আমি বলবো তারা হিন্দু ধর্মের দলভারী রাখার জন্য বা দলবড় রাখার জন্য এমনটি প্রচার করছে যাদের আমরা সহজ ভাষায় বলে থাকি ধর্ম ব্যাবসায়ী।


এখন দেখুন এই আধুনিক যুগের হিন্দুদের কথা শুনে আপনার কেন ভালো লাগবে। তাদের দাবী চীনের কুনফুসিয়াস ধর্ম বা দর্শন এর মতো হচ্ছে এই হিন্দু ধর্ম। এটা মানা মানির কোন ধর্ম নয়, কারন এর শাস্ত্রীয় কোন বিধি বিধান নেই, কিছু মানা বাধ্যতা মূলক নয়, মানা না মানা ঐচ্ছিক ব্যাপার, এটি একটি লোকায়ত দর্শন, একটি জাতি বা একটি দেশের লোকাচার, যাপিত জীবন ও সংস্কৃতির ইতিহাস মাত্র। এসব কথা শুনতে বেশ ভালো লাগলেও আসল গন্ডগোল দেখুন কোথায় এখানে বেদ থেকে কয়েকটি উদাহরন দেখুন “হে ঈশ্বর, যারা দোষারোপ করে বেদ ও ঈশ্বরের/তাদের উপর তোমার অভিশাপ বর্ষন করো। (ঋগবেদ ২,২৩,৫)” আরো দেখুন “যে লোক ঈশ্বরের আরাধনা করেনা, এবং যার মনে ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ নেই, তাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে হত্যা করতে হবে। (ঋগবেদ ১,৪৮,৮)” অনেক পুর্বে হিন্দু ধর্মের শুরুর দিকে একদল মানুষ ভারতের বিহার এলাকায় বসবাস করতো, যাদের মূলত উপজাতি বলা হয়ে থাকে এবং “কিটক্যাট” (Kitkatas) নামে ডাকা হতো যারা বেদে বিশ্বাস করতো না, তাদের নিয়ে বেদের মাধ্যমে ভগবানের আদেশ দেখুন “গবাদি পশুগুলো কি করছে এই কিটক্যাটদের (Kitkats) এলাকায়, যাদের বৈদিক রীতিতে বিশ্বাস নেয়, যারা সোমার সাথে দুধ মিলিয়ে উৎসর্গ করে না এবং গরুর ঘি প্রদান করে যজ্ঞও করেনা ? ছিনিয়ে আনো তাদের ধন সম্পদ আমাদের কাছে। (ঋগবেদ ৩,৫৩,১৪)” আরো দেখুন “যে ব্যাক্তি ব্রাহ্মনের ক্ষতি করে, ব্রাহ্মনের গরু নিজের কাছে লাগায় তাকে ধ্বংস করে দাও। (অথর্ববেদ ১২,৫,৫২)” আরো দেখুন “তাদেরকে হত্যা কর যারা বেদ ও উপাসনার বিপরীত। (অথর্ববেদ ২০,৯৩,১)” এবং “তাদের যুদ্ধের মাধ্যমে বশ্যতা মানাতে হবে। (যজুর্বেবেদ ৭/৪৪)”।


আপাতত এগুলই যথেষ্ট মডারেট হিন্দুদের জন্য, যারা দাবি করে আমাদের ধর্মে খুনা-খুনি, হত্যা, লুটপাট আর যুদ্ধ নেই। শুধু তাই না এই হিন্দুরা আজ থেকে বহু বছর আগে এমন কিছু বর্বর অমানবিক আচার ও প্রথা পালন করে আসতো যা মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরুপ ছিলো। যুগে যুগে বিজ্ঞানের আধুনিকায়ন এর ফলে এর অনেক কিছুই আজ আর হিন্দুদের পালন করতে দেখা যায় না। খুব বেশিদিন আগের কথা নয় মাত্র ২০০ বছর আগের কিছু ইতিহাস পড়লেই আপনি খুব পরিষ্কার ভাবে জানতে পারবেন হিন্দু ধর্মের কিছু অমানবিক আর বর্বর রীতিনীতি ও ধর্মীও আচার অনুষ্ঠানের কথা যা তারা ঈশ্বর বা ভগবান প্রদত্ত নিয়ম হিসাবে পালন করতো। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে “সতীদাহ” প্রথা। এটি হচ্ছে ইতিহাসের একটি বড় নজিরবিহীন মারাত্মক পাশবিক জঘন্য বর্বর রীতি ছিলো এই হিন্দু ধর্মে যা ভগবানের আদেশ বলে তারা পালন করেছে যুগ যুগ ধরে। বর্তমানে আধুনিক হিন্দুদের এই কথা বললে তারা দাবী করে এটা আসলে হত্যা না এটা ছিলো “সহমরন”। আসলে হিন্দুরা নারীকে দোষ দেয়ার লক্ষ্যে এর নাম দিয়েছেন “সহমরন”। এই হিন্দু ব্রাহ্মনদের জ্ঞানের বাহার দেখুন তারা আবার বলে এটা নাকি “ইচ্ছেমরন”। আসলে এদের এই প্রথাকে আমরা এক প্রকার গনহত্যার আওতায় ফেলতে পারি কারন একটু ইতিহাস ঘাটলে দেখতে পারবেন কি পরিমান নারীকে আজ থেকে ২০০ বছর আগে এই হিন্দুরা সতী বানাতে গিয়ে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে যা ভাবলে আপনার গায়ে কাটা দেবে।


“সতীদাহ” হচ্ছে হিন্দু ধর্মের একটি ভগবান প্রদত্ত নিয়ম কিছুদিন আগে ব্রিটিষ শাসনামলে সরকার এটি একটি অমানবিক হত্যা ও বর্বর অসভ্য নিয়ম বলে আইন করে বন্ধ করেছিলেন। এটা এরকম ছিলো যদি কোনো ব্রাহ্মনবাদীদের কোন হিন্দু স্বামী বা বিবাহিত পুরুষ মারা যায় তাহলে তাদের বিধবা স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলে “সতী” বানাতে হবে। এই বীভৎস ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি ইঙ্গিত করে Pascal বলেছেন Men never do evil so completely and cheerfully as when they do it from religious conviction. আসলেই কি হিন্দু নারীরা তার স্বামীর মৃত্যুর পরে স্বেচ্ছায় স্বামীর চিতায় উঠে সহমরনে যেতেন ? আমার তো মনে হয় না আর সেটাই হবার কথা। তাহলে নিশ্চয় এটা ছিলো এক একটি হত্যা ও বর্বর ধর্মীয় প্রথা যা বন্ধ করতে ইংরেজ শাসনামলে আইন করে ভগবানের এই আদেশ রুখতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে। “ধর্মশাস্ত্রের ইতিহাস” (আট খন্ড) গ্রন্থের “সতী” বিষয়ক কয়েকটি অধ্যায়ের বেশ কিছু পরিসংখান থেকে আমরা জানতে পারি কিছু গনহত্যা টাইপের এই হিন্দুদের দ্বারা মানবতা বিপর্যয়ের কথা। এই বই এর পরিসংখ্যানে দেখা যায় আজ থেকে মাত্র ২০০ বছর আগে ১৮১৫ সাল থেকে ১৮১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন বছরে শুধুমাত্র (তৎকালীন বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত) বাংলাতেই ভগবানের আদেশ পালন করতে হিন্দু ব্রাহ্মনরা নারীর সতীত্ব রক্ষার গান গেয়ে ২৩৬৬ জন নারীকে আগুনে পুড়িয়ে কাবাব করে সতী বানিয়েছে। এদের মধ্যে কলকাতাতেই সতীদাহের সংখ্যা ছিলো ১৮৪৫ নারী। আর ১৮১৫ সাল থেকে ১৮২৮ সাল পর্যন্ত শুধু বাংলাতেই ভগবানের আদেশে ৮১৩৫ জন নারীকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে সতী বানিয়েছিলেন ঠাকুর ও পুরোহিতগন। এটা কে কি বলবেন আপনি ? এটা কি জঘন্য-বর্বর ধর্মীয় রীতি নয় ? এটা কি গনহত্যা থেকে কোন অংশে কম ?


বিভিন্ন ইতিহাস থেকে আমরা যেটা জানতে পারি এবং ঐতিহাসিকগনের মত নিয়ে যেটা প্রমানিত হয়েছে সেটা হচ্ছে কোন হিন্দু নারীর স্বামী মারা গেলে তাকে বিভিন্ন উপায়ে সেই স্বামীর চিতায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার নামই ছিলো “সতীদাহ”। এখন কোন নারীতো আর সেচ্ছায় আগুনে পুড়ে মরতে চাইতো না, তাই ঠাকুর ও পুরোহিতরা স্বামী মারা যাওয়া সেই নারীকে বিভিন্ন উত্তেজক পানীয় পান করাতেন কিংবা খুব শক্তিশালী নেশা জাতীয় দ্রব্য শুকিয়ে অজ্ঞান করে বা অর্ধচেতন অবস্থায় স্বামীর চিতায় তুলে দিতেন। এবিষয়ে ভারতের উন্নতম মানবতাবাদী লেখক ডাঃ সুকুমারী ভট্টাচার্য তার “প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ” গ্রন্থে উল্লেখ করেন “সদ্য বিধবা নারী নববধুর সাজে, তার শ্রেষ্ঠ পোষাক পরে, সিদুর, কাজল, ফুলমালা, চন্দন, আলতায় সুসজ্জিত হয়ে ধীরে ধীরে সে চিতায় উঠে, তার স্বামীর পা দুটো বুকে আকড়ে ধরে বা মৃতদেহকে বাহুতে আলিঙ্গন করে, এইভাবে যতক্ষন না আগুন জ্বলে সে বিভ্রান্তির সাথে অপেক্ষা করে। যদি শেষ মুহুর্তে বিচলিত হয় এবং নীতিগত, দৃশ্যগতভাবে ছন্দপতন ঘটে তাই শুভাকাঙ্খীরা তাকে উত্তেজক পানীয় পান করান। এমনকি পরে যখন আগুনের লেলিহান শিখা অসহনীয় হয়ে ওঠে, পানীয়র নেশা কেটে যায়, তখন যদি সেই বিধবা বিচলিত হয়ে পড়ে, সতী’র মহিমা ক্ষুন্ন হবার ভয় দেখা দেয়, তখন সেই শুভাকাঙ্ক্ষীরাই তাকে বাশের লাঠি দিয়ে চেপে ধরে, যদি সে চিতা থেকে নেমে আসতে চায়, প্রতিবেশী, পুরোহিত, সমাজকর্তা সকলেই অনুষ্ঠানের সাফল্যের জন্য অতিমাত্রায় সাহায্য করতে চায়। তারা গান করে ঢাক বাজায় এতো উচ্চ স্বরে জয়ধ্বনি দেয় যে, সতী যা কিছু বলতে চায় তা সবই উচ্চনাদে ঢেকে যায়। (প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ, পৃষ্ঠা ১৪৭)। পরবর্তিতে আরো জানানোর চেষ্টা করবো।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৭/১০/২০১৭
           
         


বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭

“আত্মা”র বিশ্বাস লৌকিক না অলৌকিক ?


“আত্মা” বলে কিছু আছে ? না, আত্মা বলে কিছু নেই ? এমন প্রশ্ন মানুষের মনে নতুন কিছুই না। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানব সভ্যতার সাথে মিশে আছে এই “আত্মা” শব্দটি। লিখিত মানব সভ্যতার ইতিহাস যতদুর পর্যন্ত জানা যায় সেটা ছিলো মিশরীয় সভ্যতা যার লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায় আজ থেকে প্রায় ৬ হাজার বছর পুর্বের। আর সেখানেও মানুষের মধ্যে এই “আত্মা” বিষয়ক নানান জল্পনা কল্পনা দেখা যায়। শুধু তাই নয় তার অনেক পূর্বেও “আত্মা”র বিশ্বাস মানুষের মাথায় ছিলো তার প্রমানও পাওয়া যায়। মুলত মানব সভ্যতায় ধর্মীয় অনুশাসন তৈরি হবার সাথে সাথেই ধর্ম প্রস্তুতকারীরা বিভিন্ন ভূতের গল্প তৈরি করতে থাকে মানুষের মাঝে আরো শক্ত ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য। আর এ থেকেই “আত্মা”র গল্প আরো শক্তভাবে মানব সভ্যতায় মিশে যায়। যুগে যুগে অনেক ধর্ম তৈরি হয়েছে, হয়েছে তার বিলুপ্তি, তারপরেও আজকের পৃথিবীতে টিকে থাকা ধর্মগুলিতে এই “আত্মা”র উপস্থিতি অনেক শক্তিশালী ভাবেই টিকে আছে যার একটিই কা্রন, আর তা হচ্ছে “বিশ্বাস”এখানে “বিশ্বাস” নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়, যেমন “বিশ্বাস” জিনিষটি আসলে কি বা এই “বিশ্বাস” কথাটির সংজ্ঞা কি ?


একটা বিষয় সবাই ভেবে দেখবেন “বিশ্বাস” কিন্তু করতে হয় যার কোন অস্তিত্ব নেই এমন জিনিষের উপরেই। কারন যার যুক্তিযুক্ত প্রমান আছে বা লজিক্যালি আমরা যাকে প্রমান করতে পারি তাকে কিন্তু বিশ্বাস করার কিছুই নেই। যেমন ধরুন চাঁদ বা সূর্যের ক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু বিশ্বাস করতে হয় না যে, চাঁদ আছে বা “বিশ্বাস করুন সূর্য আছে যা আমাদের আলো দেয়” এমন কিছু। কারন এই চাঁদ বা সূর্যকে আমরা লজিক্যালি প্রমান করতে পারি এটার অস্তিত্ব আমাদের মাঝে আছে। এখন যেহেতু এই “আত্মা”কে আমরা লজিক্যালি কেউ প্রমান করতে পারিনা তাই এই “আত্মা”কে আমাদের “বিশ্বাস” করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে নাাই বলছিলাম আমাদের আগে জেনে নেওয়া ভালো এই “বিশ্বাস” জিনিষটি আসলে কি বা “বিশ্বাস” এর সংজ্ঞা কি। ইংরেজিতে Believe, Trust, Faith এই তিনটি শব্দের অর্থ আগে জেনে নেয়া যাক। Believe  (অনুমান, বিশ্বাস, বিশেষভাবে প্রমাণ ছাড়াই মেনে নেয়া)1. accept that (something) is true, especially without proof. 2. hold (something) as an opinion think. যেমন, আত্মা বিশ্বাস করা, ভুতে বিশ্বাস করা, এলিয়েনে বিশ্বাস করা ইত্যাদি। এবার দেখুন Trust (আস্থা)1. firm belief in the reliability, truth, or ability of someone or something. কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ধারণার আলোকে কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা করা। যেমন আমি আমার অমুক বন্ধু সম্পর্কে আস্থাশীল যে, সে টাকা ধার নিলে আমাকে ফেরত দেবে। এবার দেখুন Faith (বিশ্বাস, ধর্মবিশ্বাস, ঈশ্বরবিশ্বাস বা  বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই পরিপূর্ণ বিশ্বাস) 1. complete trust or confidence in someone or something. 2. strong belief in the doctrines of a religion, based on spiritual conviction rather than proof. যেমন, ভূত বিশ্বাস, আত্মা বিশ্বাস, ঈশ্বর বিশ্বাস করা ইত্যাদি ইসলাম, খৃষ্টান, হিন্দু বা ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাস করা। আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখা।


আর বিশ্বাসের সংজ্ঞা থেকে আমরা যা পায় তা হচ্ছে, বিশ্বাস বলতে সাধারণতঃ পারিপার্শ্বিক বিষয়-বস্তুরাজি  জগৎ সম্পর্কে কোনো সত্ত্বার স্থায়ী-অস্থায়ী প্রত্যক্ষণকৃত ধারণাগত উপলব্ধি বা জ্ঞান এবং তার নিশ্চয়তার উপর আস্থা বোঝানো হয় সমাজবিজ্ঞান , মনোবিজ্ঞান , জ্ঞানতত্ত্ব  ইত্যাদি বিভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্বাস শব্দটি বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে খানিকটা আলাদা অর্থ বহন করতে পারে , তাই  জ্ঞান , সত্য , ইত্যাদির মত বিশ্বাসেরও কোনো একটি সর্বজনসম্মত  সংজ্ঞা  নেই বলে অনেকের ধারণা । কোনো বিষয় সত্য না মিথ্যা তা বিচার 'রে - সত্য মনে হলে তা "বিশ্বাস করা" অথবা মিথ্যা মনে হলে অবিশ্বাস করা আর মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশী মনে হলে সন্দেহ করা হয় । বিশ্বাস মানে হতে পারে আস্থা (faith) , ভরসা(trust) বিশ্বাসের দৃঢ়তা (বিশ্বাস যত বেশি সন্দেহ তত কম) যা খুব বেশি হলে তাকে বলা যায় ভক্তি বা অন্ধবিশ্বাস আবার বিশ্বাস মানে হতে পারে আশা (hope) বা আশ্বাস (assurance) বা বিশ্বাস করার ইচ্ছা (willingness to trust) বিশ্বাস হতে পারে কোন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অনুভুতির সচেতন অনুধাবন বা কোনো তথ্য (information) বোধগম্য হওয়া এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যাচাই করার পর এই বোধের নিশ্চয়তা সম্বন্ধে প্রত্যয় বা প্রতীতি জন্মালে (সত্য বলে স্থায়ী ধারণা) হলে তাকে জ্ঞান (knowledge) বলা যায়। পর্যবেক্ষণের উপর যুক্তির (ও পূর্বলব্ধ জ্ঞানের) সাহায্যে বিচার (deduction) করে কোন বিষয় সত্য বলে সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে নতুন জ্ঞান জন্মায়। এইভাবে মনের মধ্যে উপলব্ধ সত্যগুলিকে জুড়ে যে তত্ত্বের জাল বোনা হতে থাকে তাদের বিষয়বস্তুগুলি সামগ্রিকভাবে হল জ্ঞান আর তাদের গ্রহণযোগ্যতার সচেতন অনুমোদন হল “বিশ্বাস”তাহলে আমরা এটুকু পর্যালোচনা করলে মোটামুটি এই “বিশ্বাস” শব্দটির একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নিশ্চয় পায়। আর এই হচ্ছে সেই বিশ্বাস যার উপরে টিকে আছে “আত্মা” নামের ধারনাটি। বিশ্বাস হচ্ছে সোজা কথায় যুক্তিহীন কোন ধারণা, অনুমান, প্রমাণ ছাড়াই কোন প্রস্তাব মেনে নেয়া। তথ্য প্রমাণ পর্যবেক্ষন এবং অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয় মানুষের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।


এখন কথা হচ্ছে যেহেতু কোন পর্যবেক্ষন বা অভিজ্ঞতালব্ধ কোন বিষয় বা তথ্য প্রমান সহ কোন বস্তু মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে পড়েনা তাহলে “আত্মা” মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে পড়ে। কারন পৃথিবীতে “আত্মা”র কোন প্রমান নেই, এর কোন গবেষনালব্ধ ফলাফল নেই, “আত্মা” সম্পর্কে কারো কোন অভিজ্ঞতা নেই (চোখে দেখা বা স্পর্শ করা), “আত্মা” সম্পর্কে মানুষের তথ্য প্রমানের তালিকা জিরো। তাই নিঃসন্ধেহে এই আত্মাকে বিশ্বাস করা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় থাকে না। এখন অনেক সৃষ্টিবাদী বা ক্রিয়েসনিস্টদের একটি বৈজ্ঞানিক প্রমানের কথা বলতে শোনা যায়। একজন বিজ্ঞানী একটি পরীক্ষন এর মাধ্যমে মানুষের আত্মার ওজন আছে বলে এবং তা ২১ গ্রাম বলে দাবী করেছিলো। সেই দাবিটি কি ছিলো দেখুন। ১৯০৭ সালের ১১ই মার্চ ডা: ম্যাকডুগাল নামের একজন চিকিৎসক আত্নার ওজন মেপে বের করেছেন বলে New York Times  পত্রিকা প্রকাশ করেছিলো একটি প্রতিবেদন।  এখন পর্যন্ত অনেকেই এই খবরকে আত্মার প্রমান হিসেবে ব্যবহার করে।  আসুন দেখি কেমন ছিলো সেই গবেষনা পদ্ধতি আর কতটা নির্ভর করা যায় সেই গবেষনার ফলাফলের উপরে।


ডা: ম্যাকডুগাল ১৯০১ সালে ৬ জন রোগীর উপরে এই পরীক্ষা চালিয়েছিলেন এবং পরে ১৫টি কুকুরের উপরেও একই পরীক্ষা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে কুকুরের আত্মা নেই। কারন সেই সময় ধারনা করা হত মানুষের আত্মা আছে আর কুকুরের আত্মা নেই।  ডা: ম্যাকডুগাল মারা যেতে পারে এমন রোগীদের তার কক্ষে বিশেষ ভাবে তৌরি বিছানায় রাখতেন বিছানা বড় ওজন পরিমাপের যন্ত্রের সাথে সংযুক্ত রাখা ছিলো। এবং ডা: ম্যাকডুগাল পর্যবেক্ষন করতেন রোগী মারা যাবার পরে তার ওজনের পরিবর্তন হয়েছে কিনা। তিনি মোট ৬ জন রোগীর উপরে এই পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। যারা বৃদ্ধাআশ্রেমে ছিলো এবং যক্ষায় আক্রান্ত ছিলো। তিনি মাত্র ১ম জনের মৃত্যুর পরে ২১ গ্রাম ওজন কম পর্যবেক্ষন করেছিলেন।  ২য়/৩য় রোগীর তথ্য তিনি বাদ দেন কারিগরী সমস্যার জন্য।  বাকি ৩ জনের ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন মাপের ওজন কম দেখেন ৪র্থ জনের মৃত্যুর পরে কিছুটা ওজন হারালেও একটু পরে তা ফিরে আশে। ৫ম রোগী মৃত্যুর পরে ওজন ঠিকই থাকে কিন্তু কয়েক মিনিট পরে তার ওজন কমে।(তার মতে মৃত্যুর পরেও তার আত্মা শরিরে ছিলো)৬ষ্ঠ জন মারা যাবার পরে ওজন হারায় এবং একটু পরে আরো বেশি ওজন হারায়। তিনি পরে ১৫টি কুকুরের উপরেও এই পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোন ওজনের পরিবর্তন তিনি দেখেন নাই। আর তাই  তিনি লিখেছিলেন যে কুকুরের কোন আত্মা নেই।  ডা: ম্যাকডুগাল পরে আত্মার ছবি তোলার জন্য গবেষনা শুরু করেছিলেন কিন্তু কোন প্রমান তিনি উপস্থাপন করতে পারেন নাই।  পরবর্তিতে তিনি ১৯২০ সালে মারা জান এবং এই বিতর্কিত গবেষনা আজ পর্যন্ত আর কেউ করেনি।


ডাঃ ম্যাকডুগাল এর এই গবেষনা যখন প্রকাশ পায় তখন তিনি বিজ্ঞানী মহলে সমালোচনার শিকার হন। যেমন, তার গবেষনার উপরে অন্যান্য গবেষকদের মতামাত ছিলো এরকম physicist Robert L. Park  বলেছিলেন ডা: ম্যাকডুগাল এর গবেষনার কোন scientific merit  নেই এবং তিনি তা ব্যাখ্যাও করে দেখিয়েছেন কিভাবে মৃত্যুর পরে একটি মৃত দেহ থেকে ২১ গ্রাম ওজন কমতে পারেpsychologist Bruce Hood  বলেছিলেন because the weight loss was not reliable or replicable, his findings were unscientific আর এই একটি মাত্র গবেষনা ছাড়া আত্মা আছে বলে প্রমান করার জন্য আর কেউ কখনও চেষ্টাও করেনি। তবে তথ্য প্রমানের দিক থেকে এই সৃষ্টিবাদীদের আরেকদল দাবী করে থাকেন অনেকেই আত্মা, ব্রহ্মা, জ্বীন, পরী বা এই জাতীয় যত অলৌকিক চরিত্র গুলা আছে তা তাদের কেউ কেউ দেখতে পায় বা দেখেছে। আর তাতেই তারা দাবী করে এই পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব আছে। বা মানুষ মারা গেলে তার আত্মা বা রুহু তার শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও বিজ্ঞান এই সব আজগুবি ঘটনার কিছু কারন ব্যাখ্যা করেছেন। যাতে প্রমানিত হয়েছে এমন কিছু কেউ যদি দেখেই থাকে বা এমন কিছু কারো সাথে যদি কখনও ঘটেই থাকে তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেকটি শাখা নিউরোসায়েন্স মতে তাকে মানুষিক রোগী বলা হয়ে থাকে। এই জাতীয় ঘটনা ঘটা বা আত্মা দেখার কারন হিসাবে বিজ্ঞানীরা ১০টি কারনের কথা বলে থাকেন আর তা হচ্ছে (১) ইডিওমোটর এফেক্ট (Ideomotor Effect) (২) পরিচলন (Convection) (৩) অটোম্যাটিজম (Automatism) (৪) বৈদ্যুতিক স্টিমুলেশান (Electric Stimulation) (৫) ইনফ্রাসাউন্ড (Infrasound) (৬) স্লিপ প্যারালাইসিস (Sleep Paralysis) (৭) কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া (Carbon Monoxide Poisoning) (৮) ফসফিন (Phosphine) এবং মিথেন (Methane) (৯) গণহিস্টেরিয়া (Mass Hysteria) (১০) আয়ন (Ions) এসবের যে কোন একটির কারনে একজন মানুষ আত্মা বা অশ্বরিরী দেখতে পারে বা অনুভব করতে পারে। এছাড়াও নিউরোসায়েন্স কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষকে এরকম অনুভূতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে যেই পদ্ধতির নাম “গড হেলমেট” বলা হয়ে থাকে সেটা অন্য আলোচনা


এত কিছুর পরেও একটি মহল কোনভাবেই বিশ্বাস করতে চাই না আত্মা বা রুহু বলে কিছুই নেই, যা সম্পুর্ন একটি অলৌকিক চরিত্র বা প্যারানরমাল এক্টিভিটিতাদের একটি দাবী দেখা যায় তারা বলে যদি আত্মা বলে কিছু নাই থাকবে তাহলে বিজ্ঞানীরা তার প্রমান কেন করতে পারেনা। সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা কই ? রেফারেন্স দিন এমন কোন লিংক/রেফারেন্স থাকলে দিন যেখানে কেউ প্রমান করেছে আত্মা বলে কিছু নাই, সাথে রেফারেন্স থাকতে হবে। এই রকম কথাকে আমি অযুক্তি/কুযুক্তি ছাড়া কিছু বলি না। কারন হচ্ছে, যে বস্তুর অস্তিত্ব আছে তাকে আছে বা নাই প্রমান করার চেষ্টা করা যায় কিন্তু যে বিষয় বা বস্তুর কোন প্রমান তো দূরে থাক অস্তিত্বই নাই তার আবার নাই প্রমান করার কি আছে। এর পরেও এমন যদি হত যে কেই এমন কোন প্রমান দেখিয়েছে যে “আত্মা” বলে কিছু আছে তাহলে সেটার পক্ষে বা বিপক্ষে কিছু বলা যেত কিন্তু যেখানে কিছুই নাই তার আবার কিভাবে নাই প্রমান করে তাও আবার বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা দিয়ে। হ্যা আগামীতে মানুষ অমরত্ব পেতে যাচ্ছে। অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক রোবট এর মতো ব্যাবস্থা করা হচ্ছে যখন মানুষের মস্তিষ্ক মৃত্যুর পরেও সচল থাকবে। সেটা হলে হইতো এই পরকাল ভাবনা সম্পর্কে বা আত্মা সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে পারবো বা আগামীতে হইতো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসহ প্রমান করে দেওয়া সম্ভব হবে “আত্মা” বলে কিছু নেই।


রাষ্ট্রব্যাবস্থার সাথে যেমন ধর্মব্যাবস্থা জড়িত ঠিক তেমনই ধর্মের সাথে এই আত্মা বা এই জাতীয় অলৌকিক চরিত্র গুলি জড়িত। কিন্তু দুঃখের বিষয় এদের অবস্থান মানুষের মস্তিষ্কে ছাড়া আর কোথাও নেই। মানুষ যুগে যুগে তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে এই চরিত্র গুলার ব্যাবহার করে এসেছে। ধর্মবিশ্বাসী মানুষেরা তাদের মস্তিষ্কে পুষে রেখেছে এই জাতীয় চরিত্র গুলিকে। একটি স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত দেশে শিশুকাল থেকেই এই জাতীয় চরিত্রের সাথে একটি মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যার ফলে সে তার যৌবনে গিয়েও এমনকি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই এই বিশ্বাস বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এই সুযোগে ধর্ম ব্যাবসায়ীরা তাদের ফাইদা লুটে নিচ্ছে। প্রথমে মানুষকে এই জাতীয় ভূতের গল্প শুনিয়ে নিচ্ছে যেটা না থাকলে মানুষের পরকাল চিন্তা মাথার ভেতরে ঢুকানো সম্ভব না আর তার পরে শুরু হচ্ছে ভোট চাওয়ার কাজ। আমাদের দেশেও এরকম নজির অনেক দেখা যায়। আগে ধর্মের নামে ভূতের গল্প তার পর ভোটের কথা। আর এই সমস্ত কারনেই আজ খুব শক্ত ভাবে এই আত্মারা আমাদের পৃথিবীতে, আমাদের দেশে, আমাদের সমাজে এবং আমাদের পরিবারে টিকে আছে কিন্তু যার কোন অস্তিত্ব নেই।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৬/১০/২০১৭       


মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ডাঃ মরিস বুকাইলি কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলেন ?


. মরিস বুকাইলি এর ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য এই লেখাটির প্রয়োজন পড়লো। একজন প্রশ্ন করেছিলো মরিস বুকাইলি কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলো। আসলে আ্লোচনা যখন একটু দীর্ঘ হয় তখন তো আর মন্তব্য করে উত্তর দেওয়া যায় না। তাই লিখেই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ইসলাম হচ্ছে একটি মতবাদ আর এই মতবাদ যারা মেনে চলে তারা মুসলিম জাতি। এখন কথা হচ্ছে যে অনেকেই একটি মতবাদ নিয়ে একমত বা দ্বিমত থাকতে পারে, সেটা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে কিন্তু এমন নয় যে সত্য নয় বা গোজামিল দিয়ে কোন ভুল তথ্যকে সত্য বলে প্রকাশ করতে চাইলে বা ভুল তথ্য দিয়ে কোন মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেই তা সবাই গ্রহন করে নিবে। যদি কোন সচেতন ব্যাক্তির সামনে এমন কিছু পড়ে তবে অবস্যয় সে দ্বিমত পোষন করবে কারন তার আদর্শগত মানুষিকতা তাকে এভাবেই পরিচালিত করে।


ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ভেতরে প্রায় দেখা যায় তাদের প্রধা্ন ঐশরিক গ্রন্থ পবিত্র কোরান এর সাথে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মিল খুজে থাকেন। তাদের ধারনা আজকের বিশ্বে বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার দেখা যায় তা এই গ্রন্থে অনেক আগেই উল্লেখ করা ছিলো। এসব আরো শক্তিশালী করার জন্য কিছু বিশিষ্ঠ ব্যাক্তিদেরকে জড়িয়ে কিছু ভুল এবং মিথ্যাচার প্রকাশ করতে থাকে, যেমন ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে প্রায় শোনা যায় এরকম কিছু যে, মাইকেল জ্যাকসনের ইসলাম ধর্ম গ্রহন বা নীল আর্মস্ট্রং চাদে গিয়ে চাদের সেই ফাটল দেখে পৃথিবীতে এসেই ইসলাম গ্রহন করলেন ইত্যাদি কথা। এরকমই একটি কথা অনেক আগে প্রচলিত ছিলো একজন ফরাসি চিকিৎসক যার নাম ড. মরিস বুকাইলি যিনি একজন ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারি ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাই ছিলেন যাকে মুসলামান ভাই এবং বোনেরা প্রায় এই বলে মিথ্যাচার করে থাকেন যে, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলো। কিন্তু সত্য কথা এই যে এমন কোন দলিল বা প্রমান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই যেখানে তিনি বলেছিলেন, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। যদি কারো কাছে এই বিষয়ে কোন প্রমান থেকে থাকে তাহলে আমাকে জানাতে পারেন।


ড. মরিস বুকাইলি জন্ম ১৯ জুলাই, ১৯২০ মৃত্যু ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ যিনি ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসাবিদ অনেকেই তাকে বিজ্ঞানী বলে মিথ্যাচার করে থাকেন আসলে তিনি পেশায় একজন সার্জন ডাক্তার ছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত তাঁর রচিত বাইবেল, কোরআন ও বিজ্ঞান (দ্যা বাইবেল, দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স) গ্রন্থটির কারণে তিনি বিখ্যাত। বইটি পৃথিবীর প্রায় সতেরোটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মরিস এবং মারি (জেমস) বুকাইলির পুত্র তিনি একজন ফরাসি চিকিৎসক ছিলেন। ডাক্তারী, মিশরতত্ত্ব এর ফরাসি সোসাইটির সদস্য, এবং পরবর্তিতে একজন লেখক। বুকাইলি ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত মেডিসিন চর্চা করেন এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির উপর একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন । ১৯৭৩ সালে, বুকাইলি সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের পরিবারের চিকিৎসক নিযুক্ত হন এবং একই সাথে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের পরিবারের সদস্যরা তার রোগী ছিল। তখন কিছুদিনের জন্য মরিস বুকাইলি ইসলামের একজন একনিষ্ঠ গবেষক হয়ে উঠেছিলেন, তবে তিনি কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই।

তার লেখা বইটির নাম ছিলো “দ্যা বাইবেল দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স” আজ থেকে ৪২ বছর আগে লেখা এই বই প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে ফ্রান্সে। বাংলাদেশে দুইজন এই বইটি অনুবাদ করেছিলেন ২০০৮ সালে। তাদের মধ্য একজন হচ্ছেন খন্দকার রোকনুজ্জামান। আসলে আমি বই এর রিভিউ করছি না তাই এই বই সম্পর্কে বেশি কিছু বলবো না। এই বইটি যখন প্রকাশ করা হয়েছিলো তখন ড. মরিস বুকাইলি সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। অনেকেই তখন বলেছিলেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাথে গোজামিল করে কিছু মিল দেখাবার চেষ্টা করেছেন বুকাইলি। এর সাথে অর্থ (ডলার) কেলেঙ্গারিও জড়িত ছিলো। তাকে এই নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করলে সে সেই সময় জবাব দিতে পারেন নাই। ডাঃ উইলিয়াম এফ ক্যাম্পবেল নামের একজন চিকিৎসকের একটি ই-মেইল থেকে জানা যায় কিছু তথ্য যার অনুবাদ এখানে আমি দিচ্ছি।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি লিখেছিলেন ডাঃ মরিস বুকাইলি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছিলো বা সেকি মুসলমান ছিলো ?” এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন। ইতিমধ্যেই আপনারা অনেকেই শুনে থাকবেন বুকাইলি এর বই দ্যা কোরান দ্যা বাইবেল এন্ড সায়েন্স সম্পর্কে। তিনি কোরানের নির্ভুলতা সম্পর্কে গবেষনা করেছেন। কিন্তু তিনি কখনই তার নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেন নাই তিনি গবেষনার সময় এবং গবেষনার পরেও একজন ক্যাথলিকই ছিলেন। এই গবেষনার কারনে অনেকেই ধারনা করেন তিনি সাময়িক ভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলেন। কিছু পয়েন্ট দিয়ে এই গবেষনায় তিনি চেষ্টা করেছেন যে, কোরান হল ঈশ্বরের শব্দ তা প্রমান করার। কিন্তু এই বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি, শুধু এটুকুই বলেছেন যে এখানে অনেক কিছুই আজকের আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মিলে যায় যেমন ভ্রুনতত্ব, সৃষ্টিতত্ব, মানব সৃষ্টি, মহাকাশ বিজ্ঞান ইত্যাদি সহ আরো অনেক কিছু। তিনি আরো বলেন আমি বুকাইলিকে ১৯৯৬ সালে soc.religion.islam এর মাধ্যমে প্রশ্ন/জিজ্ঞাসা করেছিলাম। এমন কোন প্রমান কি কারো কাছে আছে যেখানে দেখা যাবে মরিস বুকাইলি কোন ধর্মীয় উপাশনালয়ে গিয়েছেন যেমন মন্দির, মসজিদ বা এমন কোন যায়গায়। বা কেউ কি নিশ্চিত করে বলতে পারবে যে সে মুসলমান হয়ে উঠেছিলো এমন কিছু। কিন্তু আমি কোন মুসলামন এর পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের জবাব পাইনি। আমি ডাঃ উইলিয়াম এফ ক্যাম্পবেল আরেকটি বইয়ের "কোরান এন্ড বাইবেল ইন দ্য লাইট অব হিস্ট্রি অ্যান্ড সায়েন্স" বইয়ের লেখককে ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৬ সালে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার কাছে কি এই সম্পর্কে কোন তথ্য আছে ? সেই প্রশ্নের জবাবে নিচে তার প্রতিক্রিয়া দেওয়া হলো।
 
ডাঃ বুকাইলি তার জীবনের কিছু সময়ের জন্য সৌদিআরবের বাদশাহ, রাজা ফয়সালের পারিবারিক চিকিৎসক হন। এই সময় তিনি তাঁর বই "দ্যা বাইবেল, দ্যা কুরআন ও বিজ্ঞান" লিখেছিলেন, যা ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। আমি মনে করি তিনি ক্যাথলিক গির্জার প্রতি তার একপ্রকারের রাগ থেকে এই বই লিখেছিলেন,  এবং তারপর তিনি আবিষ্কার করেন যে তিনি অনেক টাকা জোগাড় করতে পারেন এই বই লেখার মাধ্যমে। তবে, তার লেখা বই এর সকল বিশ্লেষন আপনাদের পর্যালোচনা করে দেখার অনুরোধ করবো। ১৯৭৭ সালে আমার সুপরিচিত একজন পুরুষের সাথে তিউনিশিয়াতে দেখা হয়েছিলো যে আমাকে প্রথম এই বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো, যাকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম ডাঃ মরিস বুকাইলি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলো ? তিনি আমাকে তখন জানিয়েছিলেন ১৯৭৬ সালে ডাঃ মরিস বুকাইলি তিউনিশিয়াতে আসেন একটি কনফারেন্স এ অংশগ্রহন করার জন্য। তার বক্তৃতা শেষে আমি যখন তাকে প্রশ্ন করেছিলাম আপনি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন ? এই প্রশ্নের জবাবে ডাঃ মরিস বুকাইলি উত্তর দেন “না”।

আমার মনে হয় না এই বিষয়ে আর আলোচনা করার প্রয়োজন আছে। আসলে ডাঃ মরিস বুকাইলি সে সময় বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হবার কারনে তার নামের সকল মিথ্যাচার নিয়ে লেখা ও দলিল, তথ্য প্রমান সবই অনলাইন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে অর্থ ব্যয় করে। তবে এই লেখাটি এখনও পাওয়া যায় অনেক যায়গায়। বাংলাতে ডাঃ মরিস বুকাইলি সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য না থাকায় অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়। আমার মনে হয় এই লেখাটি আগামীতে ডাঃ মরিস বুকাইলি প্রসঙে কাজে দিবে। এখানে আমি ডাঃ উইলিয়াম এফ ক্যাম্পবেলের সেই ই-মেইল এর লিংক দিয়ে দিলাম আপনারা যাচাই করে দেখতে পারেন। এখানে দেখুন

ডাঃ মরিস বুকাইলির বইটির বাংলা অনুবাদ পড়ার পরের অনুভূতি এবং সার্বিক পর্যালোচনার পরে কিছু মন্তব্য না করলে আমার কাছে এই আলোচনা অসুম্পুর্ন মনে হবে। এই বইটি পড়ে আমার লেখক আরিফ আজাদের কথা খুব মনে পড়েছিলো। আমার মনে হয়েছে আমাদের বাংলাদেশের সেই ইসলামিক মাইন্ডের লেখক, যে লিখেছিলো “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” নামের বই যার নাম লেখক আরিফ আজাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তার কথা। কারন পাঠক একটু ভেবে দেখবেন বা দুইটা বই পাশাপাশি রেখে একটি কম্পেয়ার করে দেখবেন যে, ডাঃ মরিস বুকাইলের লেখা বইটির মটিভ নিয়েই কিন্তু “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” বইটা লেখা হয়েছে বলে আমার ধারনা। এটা বিশ্লেষন করে দেখার কাজটি আমি আপনাদের দিতে চাইছি। অবশ্য অনলাইনে ও সোস্যাল মিডিয়াতে “কপি আজাদ” বলে একটি কথা প্রচলিত আছে বর্তমানে। এটা এমন যে কেউ কিছু কপি করে লিখলেই সেখানে বলা হয় “কপি আজাদ”র মতো কাজ। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি পাবলিশার্স বেশ কিছু বই প্রকাশ করছে, বিশেষ করে ডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্যের কয়েকটি বই এই প্রকাশনী প্রকাশ করেছে যার নাম “গার্ডিয়ান পাবলিশার্স” আর এই “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” বইটিও সেই গার্ডিয়ান পাবলিশার্স প্রকাশ করেছিলো। ডাঃ মরিস বুকাইলির “দ্যা বাইবেল, দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স” বইটি পড়ে আমার আরেকজনের কথাও মনে হয়েছে তাকে আপনার যারা সোস্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করেন তারা কিছুটা চিনতে পারেন যথাসম্ভব তিনি ছদ্মনাম ব্যাবহার করেন আমার জানা নাই তবে তার বইটি এখন অনলাইনে এভেইলেবল আছে নাম “ইসলামের অজানা অধ্যায় পর্ব-১ ও পর্ব-২” নরসুন্দর মানুষ ও ধর্মকারী নিবেদিত ও লেখক গোলাপ মাহমুদ এর লেখা এই বই এর ২য় পর্বে একটি উধারন দেওয়া আছে যেটা আমার খুব ভালো লেগেছে তাই এখানে আমি সেই উদাহরনটি তুলে ধরলাম মিলিয়ে দেখুন।

“জল পড়ে পাতা নড়ে” বলে তিনি একটি উধাহরন দিয়েছেন এই বইটির প্রথম অধ্যায়ে। ব্যাপারটা এমন ছিলো যে “জল পড়ে পাতা নড়ে” শব্দটিকে বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে। যেমন, তিনি করেছেন “জল পড়ে পাতা নড়ে” প্রথমে “জল” যার আরেকনাম পানি। এখানে “জল” অর্থ জলের উপাদান হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন বোঝানো হয়েছে। “বিগ ব্যাং (Big Bang)” এর পরে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ছিলো সৃষ্টির আদি এটম (Atom)। মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর আদি উপকরন হলো এটম। পরবর্তীতে সৃষ্ট অন্যান্য সকল এটম সৃষ্টি হয়েছে এই হাইড্রোজেন থেকে। আর অক্সিজেন আমাদের বেচে থাকার এক অত্যাবশাকীয় উপাদান। এবার দেখুন “পড়ে”, এখানে “পড়ে” অর্থে Gravitational force বোঝানো হয়েছে, যা না হলে গ্রহ-নক্ষত্র-গ্যালাক্সি কোন কিছুই সৃষ্টি হতো না। গ্রহ সৃষ্টি না হলে কোন জীবের সৃষ্টি হত না, আমরাও সৃষ্টি হতাম না। আবিষ্কারের আগে বিজ্ঞানের এই ইঙ্গিতটি লেখক কিভাবে জেনেছেন ? সত্যি এটি এক মহাআশ্চর্য। এরপর দেখুন “পাতা” এখানে “পাতা” অর্থে সালোক সংশ্লেষন (Photosynthesis) বোঝানো হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন হয় অক্সিজেন। অক্সিজেনের অভাব হলে আমরা কি বাচতে পারতাম ? “জল পড়ে পাতা নড়ে”-এর এক একটি শব্দ বিজ্ঞানের এক একটি অভুতপূর্ব আবিষ্কারের ইঙ্গিত। কী আশ্চর্য? এরপর দেখুন “নড়ে” এই “নড়ে” এর মধ্যে আছে বিজ্ঞানের দুইটি বিসাল ইঙ্গিত। এখানে নড়ের এক অর্থ হলো বায়ু, বায়ু ছাড়া কি কোন কিছু নড়ে ? নড়ে না। এখানে নড়ে হলো বায়ু অর্থাৎ বায়ুমন্ডল, অর্থাৎ “স্পেস” আর নড়ে এর আরেক অর্থ হলো বল (Force) যেখানে বায়ু নেই সেখানে কোন কিছু নড়াতে গেলে লাগে বল। এই বল ছাড়া সব কিছু অচল।   

----------- মৃত কালপুরুষ

                 ২৪/১০/২০১৭