সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৭

বাংলাদেশ সরকার ও ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্রকারী পেপ্যাল (Paypal)

ভেবেছিলাম চলতি মাসের ১৯ তারিখের আগে এই পেপ্যাল ইস্যু নিয়ে কোন কথা বলবো না। আগে দেখতে চাইছিলাম বাংলাদেশ সরকারের স্টেট মিনিস্টার অব আইসিটি জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার এই বিষয়টি সবাইকে ক্লিয়ার করে কিনা। আসলে আমাদের মন্ত্রী জুনেয়েদ আহমেদ পলক স্যার দেশের তরুন প্রজন্ম ও ফ্রিল্যন্সারদের জন্য একজন গর্বিত ব্যাক্তিত্ব যার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে অনেক অবদান আছে যেটা আমাদের স্বীকার করতে হবে। ২০১৩ সালে একবার তিনি আমাদের আশা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে এই পেপ্যাল সুবিধা চালু করার জন্য যে যে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে তা তিনি করবেন। ইউএসএ তে তিনি সেবছরই পেপ্যাল ইউএস কর্পোরেশন এর সাথে আলোচনা শেষে আমাদের জানিয়েছিলেন পেপ্যাল নাকি এখনও বাংলাদেশে চালু করার মতো সময় হয়নি তারা আমাদেরকে পরিক্ষামূলক কিছু সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায় যেমন ঝুম এর সার্ভিস। এপর্যন্ত আমরা জানার পরে এই ইস্যুটি এখানেই দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে থাকে। বর্তমানে আজ আবার প্রায় ৪ বছর পরে এসে তিনি আমাদের আশার কথা শুনেয়েছেন চলতি মাসের ১৯ তারিখে বাংলাদেশে পেপ্যাল তার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ৫ দিন আগে যশোর জেলার সফটওয়ার পার্ক পরিদর্শনে গিয়েও তিনি আবারও সেই একই কথা বলেন। গতকাল প্রথম আলোর প্রকাশিত একটি সংবাদে আমরা আবার দেখতে পেলাম এমন কিছু আভাষ যে পেপ্যাল এখনও আমাদের থেকে অনেক দূরে। তখনই একটু বুঝতে পেরেছিলাম এবারও বাঙ্গালীকে ভূগোল বুঝ দেওয়া হচ্ছে মনে হয়। অনেকেই দেখলাম খুশিতে আত্তহারা হচ্ছে এই কথা শুনে যে বাংলাদেশে অবশেষে সেই ইহুদী নাসারাদের পেপ্যাল সেবা চালু হতে যাচ্ছে।
একটু আগে সকাল ৯ টার দিকে মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার তার একটি স্টাটাস এ সেটা ক্লিয়ার করলেন অন্তত সেই জন্য তাকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। দেখুন আমাদের আর ১৯ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগছে না এই ইস্যু নিয়ে। এখন আমরা সবাই ক্লিয়ার হতে পারলাম পেপ্যাল এর নামে আসলে বাংলাদেশে কি সেবা চালু করা হচ্ছে। এটা আসলে Xoom  জুম নামের আরেকটি মানি ট্রান্সফার সার্ভিস যা পেপ্যাল ইউএস কর্পোরেশন এর সাথে যৌথভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সেবা দিয়ে আসছেন। এটা এমন একটা ব্যাপার, আসছে শীতের ছুটিতে কেউ মেক্সিকো সী বিচ ভ্রমনে যাচ্ছে আর কেউ যাচ্ছে কক্সবাজার সী বিচে। কিছুক্ষন আগে জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার তার  Is this PayPal or is this Xoom ? নামক শিরোনামের এক স্টাটাস এ নানা ভাবে বুঝাতে চেয়েছেন যে জুম কোন অংশেই পেপ্যাল থেকে কমা কিছু নয়। আমি অত্যান্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের দেশের মন্ত্রী মিনিস্টার আর যারা প্রচুর লাফালাফি করছে পেপ্যাল এর সেবা চালু হবার কথা শুনে সেসব ফ্রিল্যান্সাররা কি আসলেই পেপ্যাল আর জুম এর মধ্যেকার পার্থক্য বুঝে কিনা। আসুন একটু জানার চেষ্টা করি পেপ্যাল কি আর ঝুম কি।

পেপ্যাল একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যারা অর্থের স্থানান্তর বা হাতবদল ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সহায়তা দিয়ে থাকে। অননলাইন স্থানান্তরের এই পদ্ধতি গতানুগতিক অর্থের লেনদেনের পদ্ধতি যেমন চেক বা মানি অর্ডারের বিকল্প হিসেবে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে। একটি পেপ্যালের একাউন্ট খোলার জন্য কোন ব্যাঙ্ক একাউন্টের ইলেকট্রনিক ডেবিট কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন পড়ে। পেপ্যালের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে গৃহীতা পেপ্যাল কর্তৃপক্ষের নিকট চেকের জন্য আবেদন করতে পারে, অথবা নিজের পেপ্যাল একাউন্টের মাধ্যমে খরচ করতে পারে অথবা তার পেপ্যাল একাউন্টের সাথে সংযুক্ত ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা করতে পারে। পেপ্যাল অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে, এছাড়াও অনলাইন , নিলামের ওয়বসাইট, ও অন্যান্য বানিজ্যিক ওয়েবসাইট পেপ্যালের সেবা গ্রহণ করে যার জন্য পেপ্যাল ফী বা খরচ নিয়ে থাকে। এছাড়াও অর্থ গৃহণের জন্যেও ফী নিয়ে থাকে যা মোট গৃহীত অর্থের সমানুপাতিক হয়ে থাকে। এই ফী বা খরচ নির্ভর করে কোন দেশের মূদ্রা ব্যাবহার হচ্ছে, কিভাবে অর্থের লেনদেন হচ্ছে প্রেরক ও প্রাপকের দেশ, পাঠানো অর্থের পরিমাণ ও প্রাপকের একাউন্টের ধরণের ওপরে। এছাড়াও, ইবে ওয়েবসাইট থেকে পেপ্যালের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করলে পেপ্যাল আলাদা অর্থ গ্রহণ করতে পারে যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা ভিন্ন মূদ্রা ব্যাবহার করে।

বর্তমানে, পেপ্যাল ১৯০টি দেশে বাজারে পরিচালনা করে, এবং এইটি ২৩.২ কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে, তাদের মাঝে সক্রিয়ের সংখ্যা ৮.৭ কোটির চেয়ে বেশি। পেপ্যাল ২৪ টি মূদ্রায় গ্রাহকদের অর্থ পাঠাতে, গ্রহণ করতে ও অর্থ সংরক্ষণ করার সুযোগ দিয়ে থাকে। এই মূদ্রাগুলো হল অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ব্রাজিলের রিয়েল, কানাডার ডলার , চীনের ইউয়ান (শুধুমাত্র কিছু চীনা একাউন্টে ব্যাবহারযোগ্য), ইউরো, পাউন্ড স্টার্লিং, জাপানী ইয়েন, চেক ক্রোনা, ডেনিশ ক্রোন, হং কং ডলার , হাঙ্গেরীর ফ্রইন্ট, ইজরাইলের নতুন শেকেল, মালেশিয়ার রিঙ্গিত, মেক্সিকোর পেসো, নিউ জিল্যান্ডের ডলার , নরওয়ের ক্রোন, ফিলিপাইনের পেসো, পোল্যান্ডের যোলটি, সিঙ্গাপুরের ডলার, সুইডেনের ক্রোনা, সুইস ফ্র্যাঙ্ক, নতুন তাইওয়ানের ডলার, থাইল্যন্ড এর বাথ এবং U.Sআমেরিকান ডলার পেপ্যাল স্থানীয়ভাবে ২১ টি দেশে কাজ করে। এটা হচ্ছে পেপ্যাল ইউএস কর্পরেশন এর প্রাথমিক পরিচয়। এবার দেখুন জুম কি।

Xoom is a service of PayPal, Inc., a licensed provider of money transfer services. All money transmission is provided by PayPal, Inc. pursuant to PayPal, Inc.'s licenses. PayPal, Inc.   এই ঝুম ওপরের পেপ্যাল এর মতোই কিছুটা ব্যাতিক্রম আরেকটি মানি ট্রান্সফার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঝুম একটি ‘অনলাইন’ রেমিট্যান্স কোম্পানি। ঝুম এর মাধ্যামে টাকা পাঠানোর ‘উৎস’ হিসেবে ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর দিতে হবে। গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের হিসাবের নম্বর উল্লেখ করা যাবে। xoom.com ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে আমরা দেখতে পায় যে, টাকা পাঠানোর ‘উৎস’ হিসেবে যেসব ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেওয়া যাবে, তাতে পৃথিবীর বহু দেশের বহু ব্যাংক রয়েছে। আর ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের যে নম্বর ব্যবহার করা যাবে, তা যেকোনো ব্যাংক কর্তৃক ইস্যু করা ভিসা ও মাস্টার কার্ড হতে হবে। কিন্তু টাকা পাঠানোর উৎস হিসেবে ‘পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট’ নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। লক্ষণীয় যে অন্যান্য রেমিট্যান্স কোম্পানির মতো ঝুমের কোনো সরাসরি এজেন্টও নেই, যেখানে গিয়ে ক্যাশ প্রদান করা যাবে।

এবার আমার পরিষ্কার কথা শুনুন। পেপ্যাল সরাসরি এমন কোনো সার্ভিস নিয়ে আপাতত বাংলাদেশে আসছে না, আসছে অন্যভাবে। পেপ্যাল অনেক আগেই ঝুম (xoom.com) নামের আমেরিকাভিত্তিক এই অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে শুধু রেমিট্যান্সের টাকা পাঠানোর সার্ভিস প্রদান করবে। কিন্তু আমাদের একটু ভালোভাবে বুঝতে হবে এখানে যেসব বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সররা তাদের আয় করা টাকা লেনদেন করবেন এটার মালিক কিন্তু তারা নিজেই কারন এই টাকা তার ইনকাম করা টাকা এটা রেমিট্যান্স না। তবে যেহেতু পেপ্যাল (PayPal) ‘ঝুম’ নামের এই অনলাইনভিত্তিক রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, তাই আশা করা যায় যে অচিরেই কোম্পানিটি ঝুম সিস্টেমে টাকা পাঠানোর উৎস হিসেবে ‘পেপ্যাল হিসাবকে’ অন্তর্ভুক্ত করবে। তখন আমাদের দেশের অগণিত ফ্রিল্যান্সার সরাসরি তাঁদের পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে যে ডলার জমা হবে, তা ঝুমের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনতে পারবেন।

আজকের এই পেপ্যাল বিষয়ক শেষ কথা দেখে আমার আবার মনে হলো যে বাংলাদেশে বহুক প্রচলিত নেটেলার সার্ভিস এই ঝুম থেকে অনেক ভালো কাজ করছে। তবে যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে পেপ্যাল এর বদলে ঝুম এর পেছনে না ছুটে পেপ্যাল বাংলাদেশকে যে সমস্ত শর্ত দিয়েছিল সেগুলো পূরণ করে কিভাবে পেপ্যালকে দেশে আনা যায় সেই চিন্তা করা। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা আবারও আরেকবার ধোকা খেলো কারন তাদের সাথে আবারও একটা বাটপারি করা হলো। কারন হিসেবে বলবো যেই সরকার কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের রেফারেন্স দেয় অথচ অসংখ্য তরুণদের দাবী এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রমানের বড় সুযোগ এই পেপাল চালু করার কথা বলে ভুয়া পেপাল ঝুম বা পেপ্যাল এর বাচ্চা বা জটিল একটি পদ্ধতি তারা উদ্ভোধন করতে যাচ্ছে ঢাক ঢোল পিটিয়ে যেটা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার পথে একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মনে করি। যেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং এর বাজার হল বাংলাদেশ আর সেখানে পেপালের মত জনপ্রিয় একটি অর্থ প্রেরণ স্থানান্তর সেবা চালু না করতে পারা সরকারের বড় অযোগ্যতা  ও ব্যর্থতা প্রমানে যথেষ্ট বলে মনে করি যার তীব্র নিন্দা জানাই।
----------- মৃত কালপুরুষ
  ১৭/১০/২০১৭

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

নারী’র চিন্তাজগত উন্মোচনের অবারিত ক্যানভাস।



ব্যাক্তিগতভাবে আমি সকল নারীবাদী নারীদের শ্রদ্ধা করি। আমি প্রকাশ্যেই বলি আমি তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ ফলো করি। আর তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ যেসব নারী ফলো করে তাদেরকেও আমি সম্মান করি। কারন তারাই পারবে আমাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে ধর্মান্ধ এই পচা সমাজের পরিবর্তনে এক বড় ভূমিকা রাখতে এবং রাখছেও তারা। তাই পুরুষ হবার পরেও তাদের পুরুষবিদ্বেষি কথাবার্তা আমার কাছে ভালো লাগে যা আমি কখনই তা গায়ে নেইনা। কারন আমি জানি তারা যে কাজটি করছে তা অনেক কঠিন একটি পথে হাটার মতো কাজ করছে। আমি মনে করি নারীবাদ একটি জটিল বিষয়। এটা গভীরভাবে বুঝতে হলে নিজেকে সমাজের ঐ স্তরে নিয়ে যেতে হয়। না হলে চিন্তার সীমাবদ্ধতা ধরা পড়তে পারে। এখন আমি যদি নিজেকে মুক্তমনা দাবী করে নারীবাদীদের কথা নিজের গায়ে নিয়ে নেই তাহলে আমি মুক্তমনাদের কাতারে থাকলাম কিভাবে ? আজকের এই লেখাটি এলিজা আকবর কে নিয়ে সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্য, পাশাপাশি আবার এলিজা আকবর ও সমমনাদের উদ্দেশ্যেও সমান মনে করতে পারেন।
বর্তমানে দেখছি আবার নতুন করে এভ্রিল প্রসঙ্গ দারুন ভাবে ভাইরাল হয়েছে। কেউ তার পক্ষে আছে তো কেউ বিপক্ষে। আমি সবসময় লিঙ্গ নিরাপেক্ষ থেকে এসব বিষয় দেখার চেষ্টা করি। এভ্রিল প্রসঙ্গে আসিফ মহিউদ্দীন এর একটি লেখা আমার কাছে সব থেকে ভালো লেগেছে যা না বলে পারিনা। কিন্তু বর্তমানের অনেক নারীবাদী নারীকে দেখে আমার মনে হয় তারা লেখার জন্য বা আলোচনার জন্য হয়তো কোন টপিক্স খুজে পায় না। কারন তাদের একমুখী চিন্তা ভাবনা আর একই বিষয়ে বারবার আলোচনা কিন্তু তার প্রমান দিচ্ছে। আমি জানি এবং ভয় পায়, না জানি অযাচিত কোন কথা বলে আবার কারো আক্রোশে না পড়ি। নারীবাদীরা নিঃসন্ধেহে যথেষ্ট ভালো কাজ করছে এবং তারা যেভাবে সমাজের প্রথা বিরোধী কাজে অংশ গ্রহন করছে তা আর কাউকে দেখিনা। কিন্তু আমার মনে হয় দ্বিমত বা সমালোচনা থাকা প্রয়োজন। তাই যদি না হয় তবে তারা যে সঠিক পথে আছে বা কোন ভুল হচ্ছে না সেটা কিভাবে বোঝা যাবে। সেটা কিন্তু আপনার লেখার নেগেটিভ কমেন্টস গুলা দেখে বোঝা সম্ভব না। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এই পচা সমাজে কতটুকু আলোচিত হচ্ছে বা তা কতটুকু ফলপ্রসূ।
প্রথমেই আমার সমমনা পুরুষদের বলবো নারীবাদীদের পরুষবিদ্বেষী কোন কথা আপনার অনুভুতিতে আঘাত লাগার কথা বলে নিজের দিকে টেনে না নেওয়ার অনুরোধ রইলো। কারন আপনার যদি এসব অনুভুতি থাকে তাহলে ধর্মান্ধদের যে চাপাতি অনুভুতি আমরা দেখি তার সাথে কোন পার্থক্য থাকলো না কিন্তু। আমি মনে করি আমাদের আগে দেখা উচিত তারা কিভাবে আমাদের ঘুনে ধরা সমাজে আঘাত করছে। আর সেই আঘাতটাই জরুরী। সকলেরই উচিত হবে নারীবাদীদের গভীরের তত্বটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করা, হোক সেটা পুরুষবিদ্বেষী।
এবার এলিজা আকবর প্রসঙ্গ নিয়ে দু চারটা কথা বলি। নারীতে তার লেখা দেখলাম। আমরা জানি আমাদের সমাজে ধর্ষন একটি বড় সমস্যা আর অবশ্যয় নারীবাদীদের এব্যাপারে আরো সোচ্চার হতে হবে আরো আরো প্রচার করতে হবে এটা বন্ধ করার জন্য। এখন কথা হচ্ছে আরো অনেকেই করেছে এরকম জেনারেলাইজ কিন্তু বারবার এই জেনারেলাইজ করে গড়ে সব পুরুষদের এক দলে ফেলে দেওয়া মনে হয় এক প্রকারের উৎসাহ দেওয়া হয়ে যায় এই সব ধর্ষকদের। অবশ্য এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত। এলিজা আকবর এর লেখা আমি বলবো সহজ ও সাবলিল ভাষা ব্যবহার করে খুব সুন্দর যুক্তি দিয়ে শেষ করা হয়েছে। আমি তার লেখার বিষয়বস্তুর সাথে একমত হতে পারলেও বহুল আলোচিত একটি কথা “সব পরুষই মস্তিষ্কে ধর্ষক” এই কথাটির সাথে তার লেখার মিল খজে পাই নাই।
আমি জানিনা সে এই কথাতে কি বোঝাতে চাইছে কারন সে ভেতরে বলেছে আবার “সব দেশেই, সব পুরুষ'ই সম্ভাব্য ধর্ষণকারী। পৃথিবীতে পৌরাণিক কাল আর নেই, তাই দেবতারা আর ধর্ষণ করে না। তবে আজকাল আমি, তুমি, সে এবং আমরাই প্রকৃত ধর্ষণকারী” এই কথার সাথে কিন্তু সম্ভাব্য কথাটা যোগ করা আছে। তাহলে কিন্তু শিরনামের সাথে প্রথমেই একটি অমিল দেখা যাচ্ছে। যেই কারনে আমি এটা নিয়ে সমালোচনা করছি এর বেশি কিছু না। এই বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে নিবেন না। আমি জানি এলিজা এখানে নিজেকে ভিক্টিমাইজেশন করছে না। এরকম বিতর্কিত বিষয়টি বা কথাটি তার শিরনামে দিয়ে সে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টাও করছে না আবার তার উদ্দেশ্য আলোচনায় থাকা এমন ভাবারও কোন কারন নেই। কারন আমাদের দেশে ধর্ষন কিন্তু বন্ধ হইনি। কিন্তু একটু ভেবে দেখবেন কি, আমাদের দেশের সাধারন জনগন কিন্তু ভেবে বসে থাকবে যে ধর্ষন করা কিন্তু পুরুষের সহজাত বৈশিষ্ঠ তখন আপনার এই লেখার উদ্দেশ্য কোন পর্যায়ে থাকবে।
আমার মনে হয় নারীবাদীরা এগিয়ে যাক আমরা সব সময় তাদের সাথে আছি। তারা বারবার এই সমাজে আঘাত করুক, জাতে আর কিছু না হলেও সেই শ্রেনীর তাদের সেই স্থান জ্বলে পুড়ে যায়। নারীকে শুধুই ধর্ম ছোট করেনি, রাষ্ট্র, সমাজ সমান ভাবেই এর জন্য দায়ী। আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি। তবে কথা হচ্ছে তাদেরকেও খেয়াল রাখতে হবে তাদের সমমনাদের সাপোর্ট হারিয়ে কিন্তু এই পরিবর্তন আনা সম্ভব না। তাই খেয়াল রাখতে হবে ধর্মান্ধদের মত কোন বেফাশ কথা যেনো তারা না বলে ফেলে।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ১৫/১০/২০১৭

ধর্ম ও ধর্মানুসারিদের স্বর্গ নরক।



আমার ধর্ম সত্য আর অন্যান্য সকল ধর্ম মিথ্যা ও নিকৃষ্ট এমন মনোভাব আছে প্রতিটি ধর্মের অনুসারি মানুষের মধ্যেই। প্রতিটি ধর্মই তার অনুসারিদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন সুসজ্জিত স্বর্গ আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য অনেক তেল গ্যাস পুড়িয়ে তৈরি করে রেখেছেন অনেক বড় বড় নরক। এখন দেখুন যারা বলে থাকে আমার ধর্ম শান্তির ধর্ম বা আমার ধর্ম মানবতার কথা বলে তাদের আমি বলবো তারা হইত মানবতা কি তা ঠিক বোঝে না বা তাদের ধর্ম আসলে কি বলছে তা সঠিক ভাবে জানেই না। কারন আমরা জানি যেকোন সত্য একটি অখন্ড বিষয় যার কোন শাখা প্রশাখা থাকতে পারেনা। একই সত্য কোনদিন দুইভাবে উপস্থাপন হতে পারে না। আর তাই প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটি ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে। কারন তারা যে জীবনাদর্শ অনুসরন করছে তা একটি ভুল জীবনাদর্শন বলে এখানেই প্রমানিত হচ্ছে। আর একটি ভুল জীবনাদর্শ মানুষকে শুধু প্রতারণাই দিতে পারে সঠিক পথ দেখাতে পারে না। এখন বর্তমানে এই পৃথিবীতে প্রচলিত কিছু ধর্মের কথা বলি দেখুন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাবী তাদের এই ধর্মটি পৃথিবীর অন্যন্যা অনেক প্রচলিত ধর্ম থেকে অনেক খাটি একটি ধর্ম। কারন তাদের এই ধর্ম অনেক পুরাতন একটি ধর্ম যার আনুমানিক সৃষ্টি হয়েছে আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগে। তাদের মুল ধর্ম গ্রন্থ বেদ অনুযায়ী আমরা তাই জানতে পারি। এই ধর্মটিতে অন্য ধর্মের মানুষের স্বাভাবিক ভাবে কোন প্রবেশ অধিকার নেই কেউ চাইলেই এই ধর্মের অনুশারি হতে পারবে না যদি সে জন্মগত হিন্দু না হয়ে থাকেন। তাদের ধর্ম বলছে যে, নিজের ধর্মে থেকে যদি মৃত্যুবরন কর তাহলে তোমার জন্য আছে পুরুষ্কার প্রাপ্তি আর যদি ভিন্ন ধর্ম গ্রহন কর তাহলে আছে ভয়ঙ্কর শাস্তি। তাদের ধর্মের বাইরে যারা আছে তাদের জন্য রয়েছে রৌরব নরক বাস এবং অহিন্দু মানেই যবন, স্লেচ্ছ জাতীয় কিছু। ঘুরে ফিরে আমরা সেই একই কথা দেখতে পাচ্ছি যে নিজের ধর্ম বিশ্বাস করলে আছে স্বর্গ আর অন্যান্য বাকি যারা আছে তাদের জন্য ভয়ানক নরক।

ইহুদী ধর্মাবলম্বীরা কি বলছে দেখুন। তাদের দাবী তারা একটি ধর্মীয় জাতীয়াতাবাদীতে বিশ্বাস করে। তাদের ধারনা এই পৃথিবীর সকল মানুষ জন্ম গ্রহন করে আদিপাপ নিয়ে আর তাই তারা সকলেই অনন্তকাল মানে যার কোন শেষ নাই সেই সময় ধরে নরক ভোগের উপযুক্ত। শুধুমাত্র ব্যাতিক্রম আছে খাটি ইহুদী সম্প্রদায়ের জন্য ও খ্রস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য। তাদের এই জাতীয় বিশ্বাসকে আমি নিঃসন্ধেহে ভয়ানক বিশ্বাস বলবো। কারন তারা মনে করে তারাই এই পৃথিবীতে একমাত্র ঈশ্বরের মনোনিত জাতি। এই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের স্বর্গ আর নরকের যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তার সাথে ইসলাম ধর্মের প্রায় মিল পাওয়া যায় তাই অনেকের ধারনা এই ধর্মটি থেকে আজকের ইসলাম ধর্ম তার অনেক কিছু কপি করেছে যা তাদের নিজস্ব প্রথা না।

এবার দেখুন বৌদ্ধ ধর্ম কি বলছে। এই ধর্মে আসলে কোন একক বা বহুঈশ্বর এর কোন প্রচার প্রচারনা নাই। তারা আসলে বিশ্বাস করে না কেউ একজন শ্রষ্টা আছেন বা তাদের কোন কালে কোন বিচার আচার হবে। তাদের ধারনা এই পৃথিবীর কোন শুরু বা শেষ নাই এটা অনন্তকাল এমন ভাবেই আছে। আর তারা এই পৃথিবীতে জীবনের তাগিতে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। অনেকের ধারনা এটি কোন ধর্ম নই বরং এটি একটি দর্শন বলা চলে আর অনেকে এটা মানেই সেই মতাবেক।

এবার ইসলাম ধর্ম দেখুন, এই ধর্মটি সেই ইহুদী আর খৃস্টান ধর্মের মতো তৈরি করে রেখেছে সুসজ্জিত স্বর্গ আর ভয়ঙ্কর নরক। সেই সাথে এই ধর্মটি এক বাক্যে পৃথিবীর বাদবাকি সকল ধর্মেকেই অস্বীকার করে। ইসলাম ধর্মের মুল গ্রন্থ কোরানে আছে “নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম (আল-কোরান ৩:১৯)” ইসলাম ধর্ম মতে সকল মুসলিম জাতি তাদের মৃত্যুর পরে (পাপ মোচনের পর) চিরদিনের জন্য বেহেশতে যাবে আর সেই সাথে যত অবিশ্বাসী আছেন তারা সবাই যাবে দোযোখে (আল-কোরান ২;৩৯)। তাহলে দেখুন এই একটি যায়গায় আমরা কিন্তু সব ধর্মেই মিল খুজে পায়। আরো অনেক হাজার হাজার ধর্ম পৃথিবীতে আছে যাদের মধ্যেও এর থেকেও অনেক বড় বড় ভ্রান্ত ধারনা আমরা দেখি।

এখন একটু পর্যালোচলা করলে আমরা দেখতে পাই এসব ধারনা আসলে প্রতিটি মানুষ পেয়েছে তার বা তাদের নিজ নিজ পরিবার ও পিতা মাতাদের কাছ থেকে। যখন কোন শিশুর জন্ম হয় তখন দেখা যায় সে যেই ধর্মের পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছেন পরবর্তীতে তাকে সেই ধর্মের অনুসারিই হতে হয়। এমন কোন নমুনা আমরা দেখি না যে কোন মুসলিম পরিবারে হিন্দু বা খৃস্টান ধর্মের শিশু জন্ম গ্রহন করেছে বা খ্রিস্টান কোন পরিবারে হিন্দু বা মুসলিম কোন শিশু জন্ম গ্রহন করেছে। তাই কোন শিশু জন্ম গ্রহনের পরেই তার ধর্ম নির্ধারন করা হয়। সেই শিশুটি একটু বড় হতে না হতেই তাকে শেখনো হয় নির্দিষ্ট একটি ধর্মের সকল আচার ব্যবহার। তার পরিবার থেকেই তাকে শোনানো হয় অলৌকিক কিছু ধর্মীয় কেচ্ছা কাহিনী যা সেই পৌরাণিক সব গল্প থেকে আগত। আর এই সমস্ত গল্প পৌরাণিক কাহিনী আর কেচ্ছা সেই সব শিশুদের মনে গভীর একটি দাগ কাটে যা থেকে বের হয়ে আসর চেষ্টাও সে আর কোন দিন করে না। পক্ষান্তরে সে কোন প্রকার যাচাই বাছাই করা ছাড়াই সারাজীবন তার সেই ধর্মকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে আসে। এটি ছাড়াও আমরা আরো কিছু কারন খুজে পায় যেমন ধর্ম পরিবর্তন বা ধর্ম গুলিতে অবিশ্বাস করে স্বাভাবিক জীবন পরিচালনায় নানান ধরনের বাধা বিপত্তি।

একটি ধর্ম থেকে আরেকটি ধর্ম তে যাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। আমি আমাদের এই বাংলাদেশের কথা বলি। আমাদের দেশের প্রতিটি ধর্মই টিকে আছে পরিবার আর সমাজের সাথে এক হয়ে। আর এই সমাজে যদি জন্ম সুত্রে পাওয়া ধর্ম কেউ ত্যাগ করতে চায় বা নতুন কোন ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করতে চায় তবে সেটা হয় আমাদের দেশের জন্য খুবই কঠিন একটি কাজ। কারন এমন কোন কিছু করতে হলে তাকে প্রথমেই তার পরিবার আর সমাজ ত্যাগ করতে হয় তাই ব্যাক্তি তার জানা বোঝার যায়গাকে যতই বৃদ্ধি করে তাতে কোন লাভ হয় না কারন পরিবার আর সমাজ ছাড়া একটি মানুষ স্বাভাবিক ভাবে বেচে থাকতে পারে না। এর একটি কারন গবেষকেরা খুজে পায় বাংলাদেশের সমাজের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ধর্ম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে বা বুঝতে একেবারেই অক্ষম। যতই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এদের থাকুক না কেন তারা এই ধর্ম নিয়ে কখনই গভীর আলোচনায় যায় না। বাংলাদেশের সমাজের বেশিরভাগ লোক বা কিছু কিছু মানুষের সেই সুযোগ একেবারেই নেই (যারা স্বল্প শিক্ষিত বা নিরক্ষর)।

আমাদের খুব বেশি আগের কথা চিন্তা করার দরকার নেই আজ থেকে মাত্র ২০০ বছর আগের কথায় আপনারা একবার ভেবে দেখুন তখন কিন্তু খুব কম লোকই ছিলো যারা একটু শিক্ষিত বলা যায়। এরা বাদে আর যারা ছিলো তারা সবাই একটু অতি মাত্রাই নিরক্ষর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মান্ধ ছিলো। এখন তাহলে আবার একটু ভেবে দেখুন এই হাজার হাজার বছর আগে যেসব ধর্ম গুলা তৈরি হয়েছিলো বা তখন যারা এই ধর্ম গুলা বিশ্বাস করে গ্রহন করেছিলো তারা কতটা সচেতন মানুষ হতে পারে। যে সকল ধর্ম আজো বংশপরম্পরায় মানুষের মাঝে সঞ্চারিত হয়ে আসছে তা কতটা যৌক্তিক তা কিন্তু বড়ই ভাবনার বিষয় যেটা বর্তমান সমাজের মানুষেরা কখনও ভেবে দেখে না। আমরা ইতিহাস পড়লে খুজে পায় অতীতে যত (ব্যাতিক্রমী দুই একজন বাদে) জ্ঞনী, গুনী, সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানীদের ধর্ম ত্যাগের কথা শোনা যায় তারা কিন্তু কেউ আর পরবর্তিতে নতুন কোন ধর্ম বা কোন সত্য ধর্ম গ্রহন করে নাই। সেখানে সমাজের সাধারন মানুষেরা যাদের চিন্তা ভাবনা ও জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ তাদের ক্ষেত্রে এরকম আশা করা কি অবান্তর নই। 

স্বর্গ ও নরক এমন একটি বিষয় যার কোন সত্যতা নেয়। কিছু প্রচলিত ধর্মীয় কিতাব ও কিছু ধর্মীয় গুরুদের কাছে মৌখিক ভাবে শোনা কথার উপরে এটা টিকে আছে। একটি জিনিষ ধর্ম বিশ্বাসীরা কখনই ভেবে দেখে না এই যে স্বর্গ নরক বা বেহেশত দোযোখ নামের যে যায়গার কথা বলা হয় তার সাথে পৃথিবীর কোন যায়গা বা কোন বিষয় বস্তুর কোন অমিল পাওয়া যায় না। এই সম্পর্কে যত ব্যাখ্যা আমরা পায় তা সবই এই পৃথিবীর সাথে মিলে যায়। পক্ষান্তরে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা যেসব নতুন নতুন গ্রহ নক্ষত্র আবিষ্কার করে চলেছে সেসবের পরিবেশ ও অন্যান্য অনেক পরিবর্তন আমরা দেখতে পাই যা এই পৃথিবীর কোন কিছুর সাথে মিলে না।


---------- মৃত কালপুরুষ
                  ১৬/১০/২০১৭



শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭

ইসলাম ধর্মের সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াত ও বিগ ব্যাং।


অনেক মুসলমান ধার্মিক ভায়েদের ধারনা যে এই ক্ষুদ্র পৃথিবী যেই বিশাল সৌরজগত এর মধ্যে আছে, আর সেই সৌরজগত যে মহাবিশ্বের মধ্যে আছে, সেই মহাবিশ্বের যেভাবে সৃষ্টি তত্ব বিজ্ঞানীরা দিয়ে থাকেন বা বিজ্ঞানীরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার সাথে এই পৃথিবীর প্রচলিত ৫২০০ টি ধর্মের মধ্যে ইসলাম ধর্মের পবিত্র ঐশরিক কিতাব আল কোরানের ২১ তম সূরা আল আম্বিয়া এর ১১২টি আয়াতের মধ্যে ৩০ নম্বর আয়াতের মিল খুজে পাওয়া যায়। আর তাই তাদের ধারনা --- কি সেটা বুঝতেই পারছেন। আমি সুরা আল আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত আর বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু আলোচনা করছি একটু মিলিয়ে দেখুন ঠিক আছে নাকি। প্রথমেই আমরা একটু দেখে নেবো সূরা আল আম্বিয়া সেই ৩০ নম্বর আয়াত আমাদের কি বলছে। সূরা আল আম্বিয়া (আরবিسورة الأنبياء "নবীগণ") মুসলমানদের  ধর্মীয় গ্রন্থ  কুরআনের একুশতম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১২ টি। যে সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও কুরাইশদের সাথে মধ্যে যে বিবাদ ছিল তা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। যার ৩০ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে –

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

30
উচ্চারন -  আওয়ালাম্ ইয়ারল্লাযীনা কাফারূ য় আন্নাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া কা-নাতা- রত্ক্বন্ ফাফাতাক্বনা-হুমা-অজ্বাআল্না-মিনাল্ মা-য়ি কুল্লা শাইয়িন্ হাইয়িন্; আফালা-ইয়ু মিনূন্।

অর্থ - কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না ?




এটা হচ্ছে সূরা আল আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াত। এখন দেখুন বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই এই পৃথিবীর মানুষ একটি জিনিষ সঠিক ভাবে জানার অনেক চেষ্টা করেছে। আর সেটা হলো আমাদের এই চারপাশের সুন্দর পৃথিবী যে মহাজগৎ এর মধ্যে আছে সেই মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে আর কেনই বা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমরা কিভাবে এসেছি এরকম নানা প্রশ্ন। আর এই সব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে মানুষ যুগে যুগে তৈরি করেছে অনেক যৌক্তিক আর কিছু অযৌক্তিক গল্প। সেই সাথে তৈরি করেছে নানান নামের নানান শক্তির হরেক রকমের কল্পিত ঈশ্বর যারা আজকের এই পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের মস্তিষ্ক দখল করে আছে। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদেরকে দিয়েছে তার কিছু সঠিক নমুনা। বিজ্ঞান এর আবিষ্কার আমরা কখনই কল্পিত ঈশ্বর এর সৃষ্টির সাথে মেলাতে পারিনা। কারন ঈশ্বর প্রদত্ত সৃষ্টি রহস্য গুলা কয়েকটি কয়েকশো পাতার বই দিয়ে ইতি টানা হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস যে এখানেই লুকায়িত আছে সকল সৃষ্টি রহস্য ও সমস্ত বিজ্ঞান জ্ঞান। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের তা বলে না। বিজ্ঞান আমাদের বলছে একটি নতুন তত্ব আবিষ্কার হবার পরে তার আগের তত্বটি আর ভ্যালিড থাকে না। শুরু হয় যেখানে এসে শেষ হয়েছিলো শেখান থেকে আবার নতুন করে নতুন তত্বের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা। এই সৃষ্টি রহস্য আবিষ্কার করতে গিয়ে আজ বিজ্ঞান অনেক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ বই লেখার প্রয়োজন পড়েছে আমাদের সৃষ্টি রহস্য প্রমান করতে গিয়ে। নতুন নতুন অনেক তত্ব আজো আবিষ্কার করে চলেছে বিজ্ঞানীরা। তবে আজ পর্যন্ত সব চেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য তত্ব হচ্ছে এই বিগ ব্যাং তত্ব।


বিগ ব্যাং বা একটি বিশাল বিস্ফোরন যার মাধ্যমে এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই তত্ত্ব মতে বিশ্বজগতের সৃষ্টির শুরুতে সমস্ত বিশ্বজগতের মোট উপাদান এক বিন্দুতে মিলিত ছিল এবং এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়েছে  শুরু হয়েছে বিশ্বজগতের যাত্রা এবং এই যাত্রায় নতুন করে যোগ হয়েছে সময় নামের একটা নতুন মাত্রার  ফলে আমাদের এই ত্রিমাত্রিক বিশ্বজগতে একটি নতুন মাত্রাসময় যুক্ত হয়ে চতুর্মাত্রিক জগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই সাথে হয়েছে দিন এবং রাতের মতো পরিবেশ বিগ ব্যাং-এর পূর্বে সময়হীন একটা জগত ছিল, যে জগতে কোন সময় ছিল না , দিন বা রাত বলে কিছুই ছিলো না। বিগ ব্যাং-এর পরেই সময়ের সৃষ্টি হয়েছে যেমন করে ত্রিমাত্রিক জগত সৃষ্টি হয়েছে l তাই আজো আমাদের কাছে এই বিগ ব্যাং এক রহস্য হয়ে আছে।

বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই মেনে নিতে পারি না এমন একটা সময় অতীতে ছিলো যেখানে কোন সময় ছিলো না। এটা অনেকের দাবী যে সময়হীন একটি বিশ্বজগত থাকা সম্ভব নয়। আসলে এখানে এসেই বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে যায় যে বিগ ব্যাং এর পুর্বে এরকম কি ছিলো যা সেই বিন্দুতে এসে আটক হয়ে ছিলো এবং পরবর্তীতে তা আবার বিস্ফোরন হলো। অথবা আমরা চিন্তাই করতে পারি না যে বিগ ব্যাং-এর পূর্বে কোন সময় ছিল না এবং বিশ্বজগত এক বিন্দুতে মিলে ছিল আর এই এক বিন্দুর কোন অতীত নেই যেমন নেই কোন পূর্ব মুহূর্ত বা পাস্ট এবং এই এক বিন্দুর বাইরে কিছু ছিলনা। অর্থাৎ বিশ্বজগত এই এক বিন্দুতেই স্বীমাবদ্ধ ছিল এর বাইরে কিছু থাকা সম্ভব নয় এটা স্থান কালহীন এক অবস্থা যেটা সময়ের জগতে বসে কল্পনাও করা অসম্ভব আর এই অসম্ভব অকাল্পনিক অবস্থাই ছিল বিশ্বজগতের শুরুতে l বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানী এই বিগ ব্যাং এর পুর্বের ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকেই কিছু নতুন তত্ব নিয়ে গবেষনা করছেন। কিন্তু ফলাফল সেই একই বিন্দুতে গিয়ে আটক হচ্ছে। তবে আজ আমি সেব্যপারে আলোচনা করবো না।


বর্তমানে মানুষের মনে এই বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তা হচ্ছে এই বিন্দু কিভাবে আসলো কোথা থেকে আসলো বা এই মহাবিশ্বের মূল উপাদান কিভাবে তৈরি হলো এরকম নানা প্রশ্ন। এব্যাপারে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এর সঠিক উত্তর আমরা জানি না এবং বুঝতেও পারি না  এগুলো বিজ্ঞানের কঠিন হিসাব বা ক্যালকুলেশন যেগুলো বিজ্ঞানী ছাড়া খুব কম মানুষই বুঝতে পারে আর তাই মানুষ বুঝতে পারে না কেন বিগ ব্যাং-এর কোন পূর্ব মুহূর্ত অথবা কোন অতীত বা পাস্ট থাকা সম্ভব নয় তারা শুধু জানে যে বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত বা পাস্ট নেই  কিন্তু সেই অতীত বা পাস্ট অর্থাৎ সময়হীন জগতটা কিভাবে থাকা সম্ভব সেটা মানুষের ধারণ ক্ষমতার বাইরে এই বাস্তব সত্যটি যেভাবে তাত্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু সেভাবে কল্পনা করা যায় না ফলে অনেকের কাছেই বিগ ব্যাং-এর আদি অবস্থাটা অর্থাৎ শুরুর অবস্থাটা ধুয়াশাময় থেকে যায়।  আমরা বিগ ব্যাং পর্যন্ত জগতকে চিন্তা করতে পারব অথবা জানতে পারব কিন্তু এর উত্পত্তি কেন হলো কিভাবে হলো অথবা এর কোন অতীত কেন থাকবে না অথবা এর অতীত যদি থেকেই থাকে তাহলে সেটা কেমন থাকা উচিত এসব প্রশ্ন অর্থহীন হয়ে যায় যখন বাস্তবতা বা থিওরি অথবা পদার্থ বিজ্ঞান বিগ ব্যাং -এর পূর্ব অবস্থা বর্ণনা করতে যায়  কারণ তাত্তিকভাবে অথবা পদার্থ বিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত অবস্থা বা এর কোন ভিন্ন অবস্থা থাকা সম্ভব নয় l

আমরা জানি বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্ব অতীতে এক বিন্দুতে মিলিত ছিল যখন বিগ ব্যাং শুরু হলো এটি চারদিকে ছুটতে শুরু করে যেমন করে রাতের আকাশে আমরা তারা বাজি দেখে থাকি l ডানে বায়ে সামনে পেছনে উপরে নিচে সব দিকেই এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং এর পরে সমান তালে বাড়তে থাকলো। এর পর থেকে এটি প্রসারিত হতে হতে আজকের এই মহাবিশ্বের আকার ধারণ করে l কিন্তু এটি যে সেখানেই থেমে গিয়েছিলো তা নয়, এটি প্রসারিত হতেই থাকছে এবং এর বিস্তার বাড়তেই থাকছে আর তাই আমরা জানতে পারি এই বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী এটির একটি শুরু আছে এবং এটি এখনো প্রসারিত হচ্ছে অসীমের দিকে যার কোন সীমা পরিসীমা নেই l সৌর বিজ্ঞানীগণ মহাবিশ্বের প্রসারণ লক্ষ করে অনুমান করেছে যে এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং-এর সময়ে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল এবং বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে এটি প্রসারিত হয়েছে এবং আজ অবধি তা হয়েই যাচ্ছে এখন মহাবিশ্বের বিগ ব্যাং থেকে আজকের দিন পর্যন্ত প্রসারণকে যদি আমরা একটি বৃত্তের সাথে তুলনা করি যে বৃত্তের একটা বর্তমান আয়তন আছে এবং এটি শুরুতে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল তাহলে আমরা কি দেখতে পায়  দেখবো যে এই বিন্দু বাড়তে বাড়তে আমাদের আজকের এই মহাবিশ্বের আকৃতি পেয়েছে।


আরেকটু সহজ ভাবে বোঝার জন্য আমরা এখন চেষ্টা করবো একটি বেলুন এর ব্যবহার করতে। ধরুন একটি বেলুন শুরুতে ছোট্ট একটি বস্তু ছিলো কিন্তু আমরা যখন এতে বাতাস দিতে থাকলাম তখন থেকে এটা তার আগের আকৃতি থেকে বাড়তে শুরু করলো। একটা সময় সেটা তার পুর্বের আকৃতি থেকে বেড়ে বড় একটি আকৃতি নিলো। এভাবেই শুরুতে ছোট্ট একটি বিন্দু থেকে বিস্ফোরনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের আকৃতিতে এসে দাড়িয়েছে। এখানেই এসে কিন্তু সেটা থেমে যায়নি বরং পুর্বের মতো আরো বৃদ্ধি হচ্ছে সমান তালে অসীমের দিকে। এখন আবার আরেকবার চিন্তা করে দেখুন এরকম একটি বেলুন কথা, যদি আমরা তার ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যেতে দেখি তাহলে কি হবে। আমরা আমাদের সময়ের উলটা গননা যদি করি সময় যত পেছনে যাচ্ছে মানে বেলুনের বাতাস যত বেরিয়ে যাচ্ছে তত বেলুনের আকৃতি ছোট হচ্ছে। এভাবে ছোট হতে হতে একটা পর্যায়ে এসে আবার সেই পুর্বের আকৃতিতে এসে আটকে যাবে। আর এভাবে যেখান থেকে এই বিগ ব্যাং শুরু হয়েছিলো সেই বিন্দুতে গিয়ে থেমে যাবে। তার থেকে কিন্তু আর কমতে পারবে না। একটা সময় অবশ্যয় ক্ষুদ্র একটি আকৃতিতে গিয়ে তাকে থামতে হচ্ছে। আমরা যদি তার থেকেও ক্ষুদ্র কোন আয়তনের কথা ভাবী তাহলে সেটা হয়ে যাবে একটি শূন্য আয়তন। কিন্তু শূন্য আয়তনে কোন বিন্দু থাকতে পারেনা তাই নির্দিষ্ট একটি অবস্থানে গিয়ে তাকে থেমে যেতে হচ্ছে। আর সেটাই হচ্ছে বিগ ব্যাং এর পুর্ব অবস্থা। আর এর ভেতরেই ছিলো আজকের এই মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান।

এখন অনেক ঈশ্বরবাদীদের প্রশ্ন থাকতে পারে যে তাহলে আপনার এই বিন্দুর আগে কি ছিলো এই মহাবিশ্ব। আমি কিন্তু সে কথা আগেই বলেছি। সেটা একটা সময়হীন স্তব্ধ ব্যাপার আর তাই আমাদের এই সময় ও দিন রাত দ্বারা পরিচালিত পৃথিবীতে বসে কারো পক্ষে তার আগের ইতিহাস জানা সম্ভব না। তবে একটি বিন্দু অর্থাৎ যা থেকে আর ছোট হওয়া সম্ভব নয় সেই অবস্থায় গিয়ে চিন্তা শক্তি থেমে যাওয়া। আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের এই অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে। অর্থাৎ আজ থেকে সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছর আগে এই বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়ে আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিলো আমরা যাকে মহাবিশ্বের যাত্রা বলে থাকি। আর এখানে এই মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্র মানে এটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যেমন ধরুন ৯৯,৯৯% বাদ রেখে যে বাকী সংখ্যাটা থাকে তার থেকে আবার ৯৯.৯৯% বাদ দিলে যা থাকবে সেই আকৃতির একটি ক্ষুদ্র পৃথিবীর মানুষের বিশ্বাস করা কল্পিত ঈশ্বর এর দ্বারা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন কিছুই ঘটে নাই এটা নিশ্চিত থাকুন। এটা মহাবিশ্বের প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটেছিলো এর বাইরে কিছুই ঘটেনি।


প্রথম আমাদেরকে বিজ্ঞানী হাবল এই বিগ ব্যাং এর কথা বলেছিলো। কিন্তু আজ হাজার হাজার বিজ্ঞানী ও নাসার মহাকাশ গবেষকেরা এই তত্বেই আটক আছেন। তবে এর সাথে নতুন অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে যেমন আজ বিজ্ঞানীরা এটাও বের করে দেখতে সার্থক হয়েছেন যে এই মহা বিস্ফোরন বা বিগ ব্যাং এর মাত্র ১০ সেকেন্ড পর থেকেই আমাদের এই সৌরজগত এর সমস্ত উপাদান তৈরি হয়েছিলো। সৃষ্টির প্রাথমিককালে মহাবিশ্ব সুষম এবং সমতাপীয় রূপে একটিই অতি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপবিশিষ্ট পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কার্যকারিতা লাভ করে। তাই এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়। প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০৩৫ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতিশুরু হয়। এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এ সময় থেকে মূলত মহাবিশ্বের exponential সম্প্রসারণ শুরু হয়।


---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৪/১০/২০১৭



বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭

ব্ল্যাক হোল (Black hole) বা কৃষ্ণ গহ্বর এক মহাআশ্চর্য।


গতকাল বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, গাজীপুর এর একজন এক্স সিনিয়র সাইন্টিস্ট আমার সাথে বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছে। আমি তাকে বলেছি এই দুঃসাহস যেনো আমার না হয় এতে তিনি কি মনে করেছেন জানি না। যেকোন কারনে আমি তার নাম এখানে বলছি না তবে আজকের এই লেখাটা তাকে স্বরন করে। বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে কথা উঠাতেই আমি এটা নিয়ে লেখার কথা চিন্তা করি। বিগ ব্যাং নিয়ে যতটুকুই জানি সেটা নিয়ে পরে আরেকদিন লেখার চেষ্টা করবো আজ ব্ল্যাক হোল নিয়েই আলোচনা করবো। এখানে আমি চেষ্টা করেছি সকলের সহজ বোঝার সুবিদার্থে একদম সহজ ভাষা ব্যবহার করার।


আমাদের পৃথিবীটা যেই সৌরজগত এর মধ্যে অবস্থিত সেই সৌরজগত এর বাইরে যে মহাবিশ্ব আছে সেখানে খুবই রহস্যময় হাজার হাজার বিষয় ও বস্তু আছে। আমরা কিন্তু সবাই সেই বিষয়গুলি নিয়ে খুব একটা জানতে চাই না। তবে যারা বিজ্ঞানের উপরে বিশ্বাস রাখে তাদের ৫০% কে দেখা যায় এসব অজানা নিয়ে আরো জানতে আগ্রহী কিন্তু, বাকী ৫০% জীবনে কয়েকবার মাত্র আকাশের দিকে যখন সময় পায় তখন একটু তাকিয়ে মনে মনে কল্পনা করে কি আছে এই আকাশে। কিছু তারা ও চাঁদ দেখতে পারলেই মহাকাশ সম্পর্কে জানার ইচ্ছা শেষ হয়ে যায় তাদেরএরা তো তাও একটু আছে বলতে হবে, কিন্তু তাদের কথা একটু ভেবে দেখুন যারা সৌরজগতের এই সব প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে তাদের ধর্মীয় কিতাব এর মিল খুজে তারা আবার কি জিনিষ। তাদের ধারনা সৌরজগত এর এসব ঘটনা কেউ একজন সৃষ্টি করেছেন এবং আজকের সৌরবিজ্ঞানীরা এই সৌরজগত নিয়ে যা আবিষ্কার করছে তা আজ থেকে হাজার বছর আগেই কোন ধর্মীয় কিতাবে লেখা ছিলো। সেই আলোচনায় আজকে যাবো না আজ ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে অল্প কিছু আলোচনা করবো।


এই রহস্যময় মহাবিশ্বের অনেক রহস্যময় জিনিসের মধ্যে মানুষ আজ পর্যন্ত খুব অল্প কিছুই জানতে পেরেছে। কিন্তু সেটা কতটুকু তা বলার চেয়ে এটা বলা আমি শ্রেয় মনে করি যে আজ পর্যন্ত মানুষ এই মহাবিশ্বের কতটুকু জানতে পারেনি সেটা হচ্ছে ৯৯,৯৯% এখনও মানুষের অজানা। তাহলে একবার ভেবে দেখুন এই মহাবিশ্বের কি জানতে পেরেছে আজকের পৃথিবীর মানুষ। তবে বিশ্বাসীদের মতে পৃথিবী থেকে দুইভাগ করে ফেলা সেই চাদে মানুষ আজ থেকে প্রায় অর্ধশত বছর আগেই ঘুরে এসেছেন। চাদের থেকেও এই মহাবিশ্বের আরো একটি রহস্য হচ্ছে এই ব্ল্যাক হোল। মহা বিশ্বের  সবচেয়ে বড় রহস্য, সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক বিস্ময়, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর। ব্ল্যাক হোল হলো আমাদের সূর্যের মত এক ধরনের নক্ষত্র। কোন নক্ষত্রের যদি অনেক ভর ও ঘনত্ত্ব থাকে, তাহলে তার মহাকর্ষীয় শক্তি এতই শক্তিশলী হবে যে আলো পর্যন্ত সেখান থেকে নির্গত হতে পারবে নামহাকর্ষীয় শক্তি আবার কি তাই না ? এ মহাবিশ্বের যেকোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষন তাই হচ্ছে মহাকর্ষীয় শক্তি। এই নক্ষত্রের থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই নক্ষত্রটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে এ পর্যন্ত  জানতে পেরেছেন সামান্যই। তবে যতটা তথ্য উদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন তা যথার্থই অভাবনীয়, সাধারণ চিন্তার বাইরে।


এই ব্ল্যাক হোল গুলা কিন্তু আমাদের পৃথিবী তেকে সরাসরি দেখা সম্ভব হয় না। ধারনা করা হয় মহাবিশ্বের এই ব্ল্যাক হোলের জন্ম হয়েছে নক্ষত্র যখন তার জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন নক্ষত্র গুলো সংকুচিত হতে থাকে। সাধারনত গ্যালাক্সি গুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে সুপারনোভা বিস্ফোরনের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে। নক্ষত্র গুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই সংকুচিত হওয়ার মাত্রা কতটুকু তা শুনে হয়তো একটু অবাক হবেন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের ব্যাসর্ধ প্রায় ৬.৯৬০০০০০ কিলোমিটার। এই বিশালাকার আয়তনকে যদি কোনোভাবে মাত্র ১০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটি এই মহাবিশ্বের একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। আর আমাদের পৃথিবীকেই যদি চেপেচুপে মাত্র দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটা বানানো যায়, তাহলে পৃথিবীও একটি ক্ষুদে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। ব্ল্যাক হোল হওয়া তাহলে সোজা ব্যপার না তাই না এটা কিন্তু পরিষ্কার।


এই ব্ল্যাক হোল এর আরো একটি আশ্চর্য করার মতো বিষয় আছে। ব্ল্যাক হোল থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই ব্ল্যাক হোলটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দ্বারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। ঠিক বুঝলেন না ব্যাপারটা। আরো ভালো করে বোঝার জন্য আপনাকে ইউটিউবের কিছু ভিডিও দেখতে বলবো। ধরুন এমন কি কখনও হতে পারে আপনি টর্চ লাইট দিয়ে সোজা আলো মারলেন কিন্তু সেটা মাঝামাঝি গিয়ে বাকা হয়ে অন্য যায়গায় গিয়ে পড়লো। এরকম ঘটতে পারে মহাবিশ্বের এই ব্লাক হোল নামক যায়গাটিতে। অবাক হবার কিছুই নাই এর চেয়ে অবাক করার মতো কথা হচ্ছে আপনি যদি স্বশরীরে এই ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে পড়ে যান তাহলে আমরা আপনাকে পড়ে যেতে দেখবো কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি নিচে পড়ছেন তো পড়ছেনই যার কোন শেষ হচ্ছে না আমরা যদি কয়েক বছর পরেও আবার আপনাকে দেখতে যায় যে নিচে পড়েছেন কিনা তখনও দেখবো আপনি পড়ছেন তো পড়ছেনই মনে হচ্ছে উপর থেকে নিচের কোন শেষ নাই। আবারও বলছি আমি আসলে সকলের বোঝার সুবিধার্থে এখানে খুবই সহজ ভাষা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।


এরকম আরো কি আশ্চর্য হবার মতো ঘটনা আছে এই ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে যা আমাদের এই পৃথিবীতে কখনই ঘটে না। আলোর ব্যাপারটি দেখুন। যেহেতু এই ব্লাক হোল থেকে আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না তাহলে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ত কিভাবে দেখা যায় বা বুঝা যায় এরকম প্রশ্ন উঠতে পারে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই মহাকাশে প্রচুর তারকারাশি দেখা যায় যারা একটি বিশেষ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অথবা সর্পিলাকার গ্যাসীয় বস্তু দেখা যায় যা কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই বিশেষ বিন্দুগুলোই হল ব্ল্যাক হোল যেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তারকারাশি বা গ্যাসীয় বস্তুগুলোর অবস্থান আর তাদের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে। বর্তমানে কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার করে কিছু টেলিস্কোপ দিয়ে নেগেটিভের মতো কিছু ছবিও তুলে দেখাতে সক্ষম হয়েছে সৌরবিজ্ঞানীরা।


ব্ল্যাক হোল থেকে এক জাতীয় চম্বুকীয় তরঙ্গ বের হতে থাকে যা এই ব্ল্যাক হোল এর আশেপাশে থাকা সকল বস্তুকে ভেতরের দিকে টানে। এই ব্ল্যাক হোল অতিমাত্রায় কৃষ্ণকায় বা কালো হওয়ার দরুণ ব্ল্যাক হোল আমাদের কাছে এই পৃথিবী থেকে অদৃশ্য বটে কিন্তু এর থেকে নিঃসরিত বিকিরণ জনিত শক্তি প্রতিনিয়তই নির্ণেয়মান। যা থেকে সৌরবিজ্ঞানীরা আমাদের সঠিকভাবেই বলতে পারেন এই ব্লাক হোল এর অবস্থান ও তার গতিবিধি। এই ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানিরা ৯৯,৯৯% জানতে পারে নি। তাই এটি এখনো রহস্যময় একটি জগত হয়ে আছে আমাদের কাছে। তারপরেও আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তা থেকে খুব ভালোভাবেই বোঝা যায় ব্ল্যাক হল এর আচরন কেমন। আবার আরেকটি উদাহরন দেখুন, ধরা যাক, আপনার পা ব্ল্যাক হোলের দিকে আছে। ফলে আপনার শরীরে কি ঘটছে তা দেখতে পাবেন। আপনার পা ব্ল্যাক হোল এর দিকে থাকার কারণে আপনার শরীরের নিচের অংশ বেশী আকর্ষণ অনুভব করবে। আকর্ষণের টানে আপনার শরীর চুইং গামের মত হয়ে যাবে। তারপর একসময় আপনার শরীর নুডুলসের মত হয়ে যাবে। এরপর আপনি ব্ল্যাক হলের ভেতরে গিয়ে পড়বেন আর এসবই হবে সেই চম্বুকীয় তরঙ্গের কারনে।


সূর্যের চেয়ে কমপক্ষে দশগুণ বড় নক্ষত্রদের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে এরা সঙ্কুচিত হতে হতে অতি খুদ্র অন্ধকার বিন্দুতে পরিণত হয়। এধরণের ব্ল্যাক হোল কে বলা হয় স্টেলার মেস (Stellar Mass)  ব্ল্যাক হোল। বেশীরভাগ ব্ল্যাক হোলই এধরণের। কিন্তু নক্ষত্রের সঙ্কুচিত হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হওয়ার পরও ব্ল্যাক হোলে নক্ষত্রের সমান ভর ও অভিকর্ষ টান থাকে। আমাদের গ্যালাক্সিতে সম্ভবত ১০০ মিলিয়ন ব্ল্যাক হোল রয়েছে যার কয়েকটির মাত্র সন্ধান আমরা পেয়েছি আজ পর্যন্ত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে প্রতি সেকেন্ডে একটি ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি হয়। আরেক ধরণের ব্ল্যাক হোল হল সুপার মেসিভ (Super massive) ব্ল্যাক হোল। তাদের এক মিলিয়ন তারার ভর এমনকি এক বিলিয়ন তারার ভরও থাকতে পারে। সুপার মেসিভ ব্ল্যাক হোলরা কোন গ্যালাক্সির মিলিয়ন বা বিলিয়ন তারাকে একত্রে ধরে রাখে। আমাদের গ্যালাক্সিতেও কিন্তু একটি সুপার মেসিভ ব্ল্যাক হোল আছে। সেটির নাম Sagittarius A  (উচ্চারণ আমার জানা নাই), যা আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে। তাহলে একবার একটু ছোট্ট একটি চিন্তা করুন আমরা জানি যে আমাদের এই বিশাল পৃথিবী থেকে যেই ছোট্ট সূর্যটি আমরা দেখতে পায় তা আমাদের এই পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুন বড় একটি বস্তু। তার মানে এই সূর্যের কাছে আমাদের পৃথিবী কিছুই না। আবার যেই নক্ষত্র বা তারার কথা বলা হচ্ছে যাদের এই ব্ল্যাক হোল গিলে ফেলতে পারে সেই নক্ষত্র গুলার একেকটার আকৃতি কিন্তু এই সুর্য থেকে কয়েক হাজার এমনকি কয়েক লক্ষ গুন বড় হতে পারে। তাহলে একটি ব্ল্যাক হোল বা (Super massive) ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে আমাদের এই পৃথিবীর সমান কতটা পৃথিবী ধরতে পারে একটু চিন্তা করে দেখুন একবার। দরকার নেই থাক। আমাদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এতোই বিশাল যে এর গ্রহ-উপগ্রহ, তারা, নক্ষত্র বিজ্ঞানীদের প্রায়ই ধাঁধায় ফেলে দেয়। আর এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ইউওয়াই স্কুটি’ (UY Scuti) নামের সবচাইতে বড় তারা যেটা একাই বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৩/১০/২০১৭