বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭

আদম হাওয়া থেকে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর দুরত্ব।


আজকাল বিবর্তনবাদ নিয়ে কোথাও কোন লেখা বা অলোচনা দেখলেই আগে দেখা যায় ধর্ম বিশ্বাসী ভায়েদের বিশাল এক বিবর্তনবাদকে ভুল প্রমান করা কেচ্ছা কাহিনী পৃথিবীর প্রথম মানব মানবী আদম আর হাওয়া কে নিয়ে তারা টানাটানি করে। আসলে দেখুন এটা না করে উপাই কি বলুন। আমি এর আগেও বলেছি আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা থেকে কৌশলে একটি শ্রেনী এই বিবর্তনবাদ নিয়ে যত বিজ্ঞান আছে তা তুলে দিচ্ছে। এখন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির বিজ্ঞান বই খুজলে কোথাও পাওয়া যাবে না যেখানে বিবর্তনবাদ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা দেওয়া আছে। এর মধ্যে আবার সেদিন ঢাকা ট্রিবিউন প্রকাশ করলো যে ইন্টারমিডিয়েট এর ফিজিক্স ২য় পত্র বই এর ৬৩৪ পৃষ্ঠায় বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস এর এক পরিচিতি পর্বে ইংলিশ অভিনেতা এডি রেডমাইন এর ছবি দিয়ে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস বলে চালানো হচ্ছে। সেই বই আবার ন্যাশনাল কারিকুলাম এন্ড টেক্সটবুক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক অনুমোদনও পেয়েছে। এই কথাটি এখানে তোলার কারন হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের অধিকাংশ কেন আজ বিবর্তন তত্ব বাদ দিয়ে আদম হাওয়া কেচ্ছা কাহিনীতে আটক হয়ে আছে তার নমুনা স্বরুপ তবে এটা বাদেও আরো অনেক কারন আছে।


আজকাল আমাদের দেশে বিবর্তন বাদ নিয়ে কোন আলোচনা নাই বললেই চলে। পক্ষান্তরে এদেশের বিভিন্ন বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট করা প্রফেসর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রীধারী, শিক্ষক, ইঞ্জিনীয়ার, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, উকিল, ব্যরিষ্টার, নেতা, পাতিনেতা, চামচা অনেকেই এ আদম-হাওয়া তত্ত্ব বিশ্বাস করে। শিক্ষাগত যোগ্যতা যতই থাকুক বা জ্ঞানবিদ্যা যতই থাকুক সেটা এই আদম হাওয়া গল্পের বিশ্বাসে সামান্যতম চিড় ধরাতে পারে না বা পারেনি তা প্রমানিত আমার কিছু লেখা ও তার নিচের মন্তব্যগুলি। এর কারন দেখুন বাংলাদেশের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যতবার না বিবর্তন সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হচ্ছে তার থেকে হাজার গুল বেশি ধারনা দেওয়া হচ্ছে এই আদম হাওয়া গল্প নিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায়, ওয়াজ মাহফিলে, মিলাদে বা অন্যান্য মাধ্যমে যার শেষ নেয়। এসব আমাদেরকে এক প্রকার শুনতে বাধ্য করা হচ্ছে যে বিবর্তনবাদ একটা ভুয়া ও ভুল তত্ব যার কোন ভিত্তি নেই কিন্তু আদম হাওয়া কেচ্ছা ১০০% সত্য যার কোন ভুল নেয়। এর আরেকটি কারন আমি বলেছিলাম অনেক আগেই যেটা, আমাদের ৫০ থেকে ১০০ বছরের সংক্ষিপ্ত একটি জীবনে কোটি কোটি বছর আগের ইতিহাস নিয়ে জানার চেষ্টা করার থেকে কেউ একজন আমাদের মাটি দিয়ে বানিয়ে ফু দিয়ে প্রান দান করে এই পৃথিবীতে ছেড়ে দিয়েছেন সেটা বেশী গ্রহনযোগ্য বলে মনে হয়। তাই তো আমরা বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করা থেকে আদম হাওয়া গল্প বেশি বিশ্বাস করে থাকি।


প্রথিবীতে যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থের আবিষ্কার হয়েছে যার প্রায় সবকয়টিতে এরকম একজন প্রথম মানব মানবির ধারনা দেওয়া হয়েছে সেই সব ধর্ম বিশ্বাসীদের মাঝে। সর্বশেষ ইহুদী, খৃস্টান ও ইসলাম ধর্মে এসে দেখা যায় সেটা রুপ নিয়েছে এডাম ও ইভ বা আদম ও হাওয়া নামে। এখন আমরা বিবর্তন হোক আর ইসলামের ইতিহাস হোক আর ইসলাম ধর্মের উৎপত্তিকাল হোক এই জাতীয় কোন তথ্যপূর্ণ আলোচনা করে কিছু লিখলেই দেখা যায় সেখানে আদম হাওয়া প্রথিবীর প্রথম মানব মানবী এবং তারাই প্রথম মুসলমান এমন দাবী করা হয় সব থেকে বেশি। আবার অনেক মডারেট ধর্মপ্রান ভায়েরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থের অনেক নমুনা টেনে এনে দেখাতে থাকেন। কিন্তু আমরা বিভিন্ন ভাবে জানতে পারি বাইবেল মতে আদম হাওয়া পৃথিবীর প্রথম মানব মানবী যাদের প্রথিবীতে পদার্পন খ্রিস্টপুর্ব ৪০০৪ সালে বাইবেলের আদী পুস্তক জেনেসিস মতে। তার মানে দাড়াচ্ছে আজ থেকে মাত্র ৬০২১ বছর আগে এই আদম হাওয়া পৃথিবীতে আসে। কিন্তু এই কথা বললে ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসী ভায়েরা বলেন যে তাদের ইসলাম ধর্মে এরকম কোন কথা কোথাও উল্লেখ নেই যে আদম হাওয়া কবে নাগাদ এই পৃথিবীতে এসেছেন। কিন্তু তারা এটা বলে যে আদম হাওয়া থেকে তাদের শেষ নবী ও প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর দুরত্ব ৮৫ টি প্রজন্ম বা মতান্তরে ৯০ টি প্রজন্ম যাদের মধ্যে এ পর্যন্ত এই পৃয়হিবীতে ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রাসূল এর আগমন ঘটেছে মতান্তরে ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রাসূলের আগমন ঘটেছে।


আধুনিক যুগে এসে আমরা জানতে পারি ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু হয়েছে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের ৪০ বছর পর থেকে বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নামক শহর থেকে ৬১০ খ্রিস্টব্দে আজ থেকে মাত্র ১৪০৭ বছর আগে। এর আগে মক্কা নামক সেই যায়গার আগের ইতিহাস আমরা বলতে গেলে তারা দাবী করে এর অনেক আগে থেকে মানে আদম থেকে এই ইসলাম এর সুত্রপাত। কিন্তু দেখুন আদমের পৃথিবীতে পদার্পন সম্পর্কে অন্যান্য ধর্ম কিছুটা স্পস্ট ধারনা দিলেও ইসলাম ধর্ম তা দেয়া না। তবে আমরা যে সহী বুখারী মতে ৯০ প্রজন্ম সেই মতে সামনে আগালে কি দেখতে পায় সেটা দেখার চেষ্টা করবো। এই যে ১ লক্ষ বা ২ লক্ষ ২৩ হাজার বা ২৪ হাজার নবী রাসূল এর আগমনের কথা আমরা শুনতে পায় সেসব নবী রাসুলদের মধ্যে আমরা ১০০ জনের নামও কোথাও খুজে পায় না। তবে প্রথম মানব আদমের নাম ঠিকই পায়। আমি এই আদম ও নবী রাসূলদের অনেক খোজ খবর করে এটা নিয়ে অনেক আলোচনা করে দেখেছি মাত্র ৯০ থেকে ১০০ জনের নাম জোগার করা সম্ভব। আদম থেকে নবী মুহাম্মদ সাঃ এ এসে নবী রাসুল প্রেরন করা বন্ধ করা হয়েছে। সেই মতে হিসেব করলেও আমারা বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট মানব এর ধারে কাছেও যায় না।


আমরা জানি আজকের এই সভ্য মানুষ বা তাদের পুর্ব পুরুষ হোমোস্যাপিয়েন্স রুপ লাভ করেছে আজ থেকে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার বছর আগে। এর আগে আমাদের পুর্বপুরুষদের একটি দল নেয়ান্ডারথাল গোত্র প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারনে যেকোন ভাবে সবই মারা পড়েছিলো। তবে বর্তমান ইথিওপিয়াতে আমরা আজ থেকে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার বছর আগের একটি হোমোস্যাপিয়েন্স গোত্রের মানুষের সন্ধান পেয়েছিলাম যারা মানুষের মতো দুই পায়ে ভর দিয়ে হাটতো। সেটা থেকেও আরো আগের বর্তমান সময় থেকে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার বছর আগের হোমোস্যাপিয়েন্স এর পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে বর্তমান সাউথ আফ্রিকাতে। এসবই আমাদের বারবার প্রমান দেয় যে কথিত আদম ও হাওয়ার যে গল্প বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের একটি ধর্ম মতে মানুষকে শোনানো হয় তা সম্পুর্ন অবিশ্বাস্ব একটি গল্প ও যা একেবারেই যুক্তিহীন। কারন তাদের কোন ধর্মীয় সূত্রই ৬ হাজার বছর থেকে ৯ হাজার বছরের বেশি চিন্তা করতে দেয় না। আর তাই আমি বলি যে বিবর্তনবাদ মানুষের যে আগমনের কথা আমাদের বলে তা (সভ্য মানুষ) ৫০ হাজার বছর আর (অসভ্য মানুষ) ১ লক্ষ ৮৫ হাজার বছর এর ধারে কাছেও ৬ হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে লড়তে যাওয়া যায়না।


এখন প্রায় শুনতে পাওয়া যায় বিবর্তনবাদ শুধুই একটি ধারনা যা প্রাপ্ত প্রানীর মৃত দেহের ফসিল থেকে অনুমান করা হয়। তাদের বলবো দেখুন এখন বিজ্ঞান অনেক উন্নত হয়েছে। এখন আর বিবর্তনবাদীদের প্রানীর মৃত দেহের ফসিল এর প্রয়োজন পড়ে না বিবর্তন প্রমান করতে। এক সময় মাটির তলে প্রাপ্ত ফসিল ছিল বিবর্তনবাদ তত্ত্ব প্রমানের একমাত্র উপায়,  কিন্তু বিগত কয়েক দশকে জেনেটিক্স বা বংশগতি বিদ্যার ব্যপক উন্নতির কারনে, বিবর্তনবাদ প্রমান করতে আর ফসিলের দরকার তেমন একটা নেই। গবেষণাগারে দুনিয়ার জীবকুলের জেনেটিক কোড বিশ্লেষণের মাধ্যমেই দ্ব্যর্থহীন ভাবেই প্রমান করা যাচ্ছে যে- দুনিয়ার সকল জীবের উত্থান ঘটেছে কোন এক সরল এককোষী জীব থেকে। তার অর্থ বিবর্তনবাদীদের তত্ত্ব মোতাবেক, পৃথিবীতেই সকল জীবের উদ্ভব ঘটেছে আর যা তারা বংশগতি বিদ্যা দ্বারা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান করে দিতে পেরেছেন।


এখন আসুন খুজে দেখি আমরা আদমের পরে কতজন নবী রাসুল এর নামের তালিকা ধর্ম গ্রন্থ ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে রিসার্চ করা গ্রস্থ গুলি থেকে আমরা পেয়ে থাকি নবী মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত। এখানে কথা আছে, এর বাইরে বা আগে পরে যদি অন্য কোণ নবী রাসুলের সন্ধান কেউ দিতে পারেন তো দিবেন সমস্যা নাই। কিন্তু এটাই হচ্ছে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দাবী করা আদম থেকে মুহাম্মদ এর ৯০ প্রজন্ম এর তালিকা।


হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ), তাঁহার পিতা আব্দুল্লাহ, তাঁহার পিতা আব্দুল মোত্তালিব, তাঁহার পিতা হাসিম, তাঁহার পিতা আব্দ মানাফ, তাঁহার পিতা কুছাই, তাঁহার পিতা কিলাব, তাঁহার পিতা মুরাহ, তাঁহার পিতা কা তাঁহার পিতা লুই, তাঁহার পিতা গালিব, তাঁহার পিতা ফাহর, তাঁহার পিতা মালিক, তাঁহার পিতা আননাদর, তাঁহার পিতা কিনান, তাঁহার পিতা খুজাইমা, তাঁহার পিতা মুদরাইকা, তাঁহার পিতা ইলাস, তাঁহার পিতা মুদার, তাঁহার পিতা নিজার, তাঁহার পিতা মা, তাঁহার পিতা আদনান, তাঁহার পিতা আওয়াদ, তাঁহার পিতা হুমাইসা, তাঁহার পিতা সালামান, তাঁহার পিতা আওয, তাঁহার পিতা বুয, তাঁহার পিতা কামওয়াল, তাঁহার পিতা ওবাই, তাঁহার পিতা আওয়ান, তাঁহার পিতা নাসিদ, তাঁহার পিতা হিযা, তাঁহার পিতা বালদাস, তাঁহার পিতা ইয়াদলাফ, তাঁহার পিতা তাবিখ, তাঁহার পিতা জাহিম, তাঁহার পিতা নাহিস, তাঁহার পিতা মাখি, তাঁহার পিতা আয়েফ তাঁহার পিতা আবকার, তাঁহার পিতা উবাইদ, তাঁহার পিতা আদ দাহা, তাঁহার পিতা হামদান, তাঁহার পিতা সানবার, তাঁহার পিতা ইয়াসরিবি, তাঁহার পিতা ইয়াহজিন, তাঁহার পিতা ইয়ালহান, তাঁহার পিতা ইরাওয়া, তাঁহার পিতা আইযি, তাঁহার পিতা যিশান, তাঁহার পিতা আইছার, তাঁহার পিতা আফনাদ, তাঁহার পিতা আইহাম, তাঁহার পিতা মুকাসির, তাঁহার পিতা নাহিস, তাঁহার পিতা যারিহ, তাঁহার পিতা সামি, তাঁহার পিতা মায্যি, তাঁহার পিতা ইওয়াদ, তাঁহার পিতা ইরাম, তাঁহার পিতা হিদার, তাঁহার পিতা হযরত ইসমাইল (আঃ), তাঁহার পিতা হযরত ইবরাহিম (আঃ), তাঁহার পিতা তারক তাঁহার পিতা নাহুর, তাঁহার পিতা সারুয, তাঁহার পিতা রা, তাঁহার পিতা ফাহিয, তাঁহার পিতা আবীর, তাঁহার পিতা আফরাহশাদ, তাঁহার পিতা সা, তাঁহার পিতা হযরত নূহ (আঃ), তাঁহার পিতা লামিক, তাঁহার পিতা মাতু সালিখ, তাঁহার পিতা হযরত ঈদ্রীস (আঃ), তাঁহার পিতা ইয়ারিদ, তাঁহার পিতা মালহালিল, তাঁহার পিতা কিনান, তাঁহার পিতা আনস, তাঁহার পিতা হযরত শীস (আঃ), তাঁহার পিতা হযরত আদম (আঃ) যার কোন পিতা নাই সে সরাসরি পৃথিবীতে এসেছেন বলে দাবি করা হয়।


এখানে মুসলমান বলে দাবি করা নবী রাসূলদের ৯০ টি প্রজন্ম তথা আদম থেকে শুরু করে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত সকলের নাম আছে। বলা হয় ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রাসুলের আগমন ঘটেছিলো এই পৃথিবীতে কিন্তু এই নাম বাদে বাদ বাকী কারো কোন হদিস নেই। এই হিসাবে হিসাব করলেও প্রত্যেকের গড় আয়ু যদি আমরা ১০০ বছর করে ধরি তাহলে ৯ হাজার বছরের বেশি হচ্ছে না আদম এর পৃথিবীতে পদার্পন। আবার যদি ১ লক্ষ ২৩ হাজার নবী রাসুল এর হিসাব করি ১০০ বছর গড় আয়ু ধরে (যাদের কোন নাম ঠিকানা ইসলাম ধর্মের কোথাও নাই) তাহলে দেখা যাচ্ছে ১২ কোটি ৩ লক্ষ বছর আগে আদম এর আগমন ঘটেছে এই পৃথিবীতে। কিন্তু আমরা জানি ক্রিটেশিয়াস যুগের পরে আজ থেকে প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগের শুরু হয়েছিলো এই পৃথিবীতে যার শেষ হয়ে আজ থেকে প্রায় ৬ কোটি বছর আগে। তাহলে এই ১ লক্ষ ২৩ হাজার নবী রাসুলের হিসাবে গেলে দেখা যায় আদম এর আগমন ঘটেছিলো সেই জুরাসিক যুগে ডাইনোসরের সময় এটা কিভাবে সম্ভব সেটা কিন্তু আদম হাওয়া গল্প লেখকেরা বলে নাই।


তারপরও উদাহরন স্বরূপ- ডাইনোসর এর কথা ধরা যায় যারা প্রায় ৬ কোটি বছর আগে দুনিয়া থেকে চিরতরে অবলুপ্ত হয়ে যায় কোন এক অজানা কারনে। ওরা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো বলেই উষ্ণ রক্তবাহী স্তন্যপায়ী প্রানীর বিকাশ সম্ভব হয় পৃথিবীতে। ডাইনোসররা বিলুপ্ত না হলে হয়ত স্তন্যপায়ী প্রানীদের বিকাশই ঘটত না আর তাহলে আজকে মানুষের মত দুপেয়ে জন্তুগুলো দুনিয়াতে না দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা হতো অধিক। ডাইনোসরদের দাপটে স্তন্যপায়ী প্রানীদের টিকে থাকাই হতো দায়। সেক্ষেত্রে আমাদের মত কতিপয় মুক্তমনা সদস্যদের জন্য সেটা হতো দারুন দু:সংবাদ। পৃথিবীর রঙ্গ মঞ্চে মানুষের আবির্ভাব বলতে গেলে এই সেদিনের ব্যপার। এখন আমি এখানে সব কিছুই সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করেছি তারপরেও অনেক দীর্ঘ হয়ে গিয়েছে লেখা। আমার ভুল হতে পারে কিছু কিছু তথ্য তাই পাঠককে অনুরোধ করবো ভুল ধরিয়ে দিতে। তবে হ্যা পাব্লিক ব্লগে আমার লেখা যায় সেখানে আমি মাঝে মধ্যে গিয়ে দেখি খুবই নোংরা ভাষা ব্যাবহার করে এক শ্রেনীর মানুষ তাদের মতামত জানাচ্ছে। এটা আমার মতে লেখার পরিবেশ নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই না। তাই অনুরোধ থাকবে আপনার যুক্তিতর্ক করুন গঠন মুলক তবে সেটা সভ্য ভাষা ব্যাবহার করে।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ১২/১০/২০১৭
    
  

x

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭

প্রচলিত ধর্ম গুলি কি সবই সামাজিক ব্যাধি।


গতকাল মুফাসসিল ইসলাম স্যার এর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে  Moni Zaman এর একটি লেখা দেখলাম অনীশ্বরবাদী গ্রুপে। সেখানে ব্লগ এবং ব্লগার সম্পর্কে ইসলাম ধর্মাবলম্বী দুজন মাদ্রাসা ছাত্রদের ব্লগ সম্পর্কিত ধারনা তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টা এমন ছিলো যে, ২০১৩ সালে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে হত্যা করে খুনিরা পালিয়ে যাবার সময় তৃতীয় লিঙ্গের কাছে দুই জন মাদ্রাসার ছেলে ধরা পড়ার পর তাদের যখন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বলা হয়েছিল কেন তাকে খুন করা হলো ? এই প্রশ্নের উত্তরে মাদ্রাসা ছেলে দুটির কথা ছিল এমন ওয়াশিকুর রহমান বাবু একজন ব্লগার, আর যারা ব্লগে লিখে তারা নাস্তিক। নাস্তিক হত্যা বা ইসলাম অবমাননাকারীকে হত্যা করা জায়েজ এই শিক্ষা দিয়েছে তাদের মাদ্রাসার বড় হুজুর। অথচ যখন তাদের বলা হয়েছিল ব্লগ কি ? তারা কিন্তু ব্লগ কি তা জানেনা। তাহলে কি পরিমান মস্তিষ্ক ধুলাই করে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে খুন করতে উদ্বুধ করা হয়েছে তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন কেউ। এটা কি আমরা আমাদের দেশের জন্য একটি সামাজিক ব্যাধি বলতে পারি না। এমন কথা শুনে বিভিন্ন ধর্মের মডারেট ধর্মাবলম্বীরা আবার বলা শুরু করবেন আপনারা ভুল জানেন বা আপনাদের চোখ কান বন্ধ আছে , বা আপনারা কি একজনের সাথে সম্পুর্ন জাতিকে দোষী করতে চাচ্ছেন বা আপনারা নিশ্চয় কোন ষড়যন্ত্র করছেন মনে হচ্ছে। আর এসব একদম সত্য কথা। আমার একটি প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কিত লেখাতে মাত্র আমাকে একজন বলেছে যে আমি নাকি কোণ ষড়যন্ত্র করছি। কিন্তু তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে আর আমাকে উত্তর দিতে পারে নাই আমি কি ষড়যন্ত্র করছি।

এই যে সত্য কিছু ইতিহাস লেখার কারনে ষড়যন্ত্রকারী আক্ষা বা ব্লগার মানেই নাস্তিক আর তাকে হত্যা করা জায়েজ এটা কি কোন সামাজিক ব্যাধি যেমন ক্যান্সার বা অন্য কোন রোগের থেকে কোন অংশে কম। আসুন একটু ক্যান্সার নিয়েই জানি। ক্যান্সারকে আমরা একটি জীবন বিধ্বংসী ব্যাধী বলে থাকি। কিন্তু কেন ? কারন ক্যান্সার কোন একক রোগ নয় এটা অনেক গুলি রোগের একটি সমষ্টি বলতে পারি আমরা। এখানে বিভিন্ন কোষের কিছু অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি আর বিভাজন ঘটে থাকে। আর এই জাতীয় নিয়ন্ত্রনহীনতার কারনে কোষসমূহ তাদের আশেপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ কোষ গুলি ও টিস্যুকে ধ্বংশ করতে থাকে। এটাই হচ্ছে ক্যান্সারের মুল কারন সাথে আরো অনেক প্রসেস শেষ করে এই মরন ব্যাধি হয়ে থাকে যাকে আমারা জীবন বিধ্বংসী শারিরীক ব্যাধি বলে থাকি। এই ক্যান্সার সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি কারন এটা আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত ব্যাধি। কিন্তু আমরা কি এই যে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ধর্মের ব্যাধির খবর খুব একটা রাখি। আসুন তা নিয়ে আজ একটু জানার চেষ্টা করি কারন আমি যদি প্রাচীন ইতিহাস বা মিশরীয় সভতা, ও প্রাচীন আরব্য সভ্যতা নিয়ে লেখলে ষড়যন্ত্রকারী হয়ে থাকি তাহলে এই ব্যাধি নিয়ে আপনাদের আগে জানা উচিত বলে মনে করি।


বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মের ধার্মিক ও মডারেট ধার্মিক ভায়েদের কমন ডায়ালগ হলো ধর্মটি তাদের একান্ত নিজস্ব সম্পত্তি। এবং সেটা তাদের সমস্ত চিন্তা, ভাবনা, ধ্যান, ধারনা ও মননের সাথে অতপ্রত ভাবে জড়িয়ে আছে এবং তারা মনে করে যে তারা কারো কোন ক্ষতি করছে না তাদের এই ধর্ম পালনের মাধ্যমে। তাদের দাবী যারা এই জাতীয় কাজ করে থাকে অন্যের ক্ষতি করা, হত্যা করা, মারামারি, কাটিকাটি, চাপাতি, বোমা, জংগী, জিহাদী তারা কেউ সঠিকভাবে ধর্ম পালন করে না বা তারা কেউ প্রকৃত ধর্ম কি তা জানে না আর তাই তারা এগুলা করে থাকে। কিন্তু দেখুন আমরা যুক্তিবাদী সমাজে কিন্তু এই জাতীয় মনোভাব ব্যাক্ত করাকে বলে থাকি অযুক্তি বা কুযুক্তি যাকে বলা হয় “নো ট্রু স্কটসম্যান”। এখন কথা এমন দাড়াচ্ছে যে যতক্ষন না আমাদেরকে উপর থেকে (ধারনা করা হয় উপরে বা আকাশে কেউ থাকেন) গড, ঈশ্বর, ভগবান, আল্লাহ, জিউস, হুবাল, অসিরিস, আইসিস, সেথ, অহুর মাজদা, গাইয়া বা ইয়াহুয়ে এরকম কোন একজন নেমে এসে না জানাচ্ছেন যে আপনার সঠিক না বেঠিক আছেন ততক্ষন আমরা আসল সত্য জানতে পারছি না। আর ততক্ষন সমাজে যারা আমাদের মাঝে এমন যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন তাদের কথাই মেনে নিতে হচ্ছে। আবার এখানে কিন্তু দুইটি ভাগ তৈরি হচ্ছে দেখুন একদল যারা মডারেট ধর্মান্ধ তারা আর একদল হচ্ছে খাটি ধর্মান্ধ বা মৌলবাদীরা। তাদের একদল আমাদের বলছে অপেক্ষাকৃত উদার ধর্মচেতনার কথা আর একদল বলছে অতিরক্ষনশীল, অনুদার ও অসহিষ্ণু ধর্মচেতনার কথা।

এই যে উপরের দুটি ভাগের ধর্ম বিশ্বাসী মানুষদের আমরা আমাদের দেশের সমাজে দেখতে পাচ্ছি আসলে তাদের মধ্যে কে সঠিক আছে আর কে সঠিক নেই তা কিন্তু একজন সাধারন ধর্মপ্রান মানুষের পক্ষে নির্নয় করা খুবই কঠিন একটি ব্যাপার হবে। কারন সকল ধর্মই টিকে আছে একমাত্র যুক্তিহীন বিশ্বাসের উপরে। আর কেউ যদি তা বাছাই করে পালন করতে যায় তবে তাকে ধর্ম গুলির উপর থেকে বিশ্বাস হারাতে হচ্ছে। এই দুইটির কোনটা বেশী গ্রহনযোগ্য হবে সেটা নির্নয় করা একটু কঠিন কাজ। এখন ভেবে দেখবেন একবার এই দুইটিই কিন্তু চাচ্ছে মানুষের সর্বময় জীবনের উপরে কতৃত্ব চালাতে। পাশাপাশি সমাজকেও নিয়ন্ত্রন করতে। মানুষের জীবন যাপনে কিন্তু এই দুই ধরনের ধর্ম বিশ্বাসই কুপ্রভাব ফেলছে সমানভাবে। কারন দেখুন আমি কেন এই জাতীয় ধর্মগুলিকে একটি সামাজিক ব্যাধি বা ক্যান্সার এর সাথে তুলনা করছি। ধরুন একটি শিশু জন্ম নিলো এই শিশুটি কিন্তু কোন ধর্মের আওতায় পড়ে না। তাকে প্রথমেই কেউ বলতে পারবে না সে কোন ধর্মের মধ্যে পড়েছে। তাকে আস্তে আস্তে শেখানো হচ্ছে নানা ধর্মীয় আচার আচরন। বাধা দেওয়া হচ্ছে নানান জ্ঞান ও মুক্ত বুদ্ধির চর্চা করতে। তাকে জন্মের পর থেকেই বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে কথাবার্তায়, আকার ইঙ্গিতে, কাজে কর্মে তার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কোন একটি বিশেষ ধর্মের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে।


এই জাতীয় আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে একটি শিশুকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের বেড়াজালে আটক করা হচ্ছে। তাকে তার সুস্থ মস্তিষ্কে কৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মানুষের প্রতি ঘৃনা, জ্ঞান অর্জনের সীমাবদ্ধতা, ব্যালান্সড লাইফ লিড করার ক্ষমতা হরন করা ও মুক্তভাবে চিন্তা না করা। আর এর পর থেকেই শুরু হয় সেই ক্যান্সারের দ্বিতীয় ধাপের মতো এক কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে যাবার কাজ বা অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি এবং প্রসার। একটু গভীরে গিয়ে ভেবে দেখবেন ধর্ম বা ধর্মীয় অনুভূতি কিন্তু কখনই নিজের নিয়ন্ত্রনে থাকে না আর যদি কেউ বলে আমি ধর্ম পালন করি ও আমি আমার ধর্মীয় অনুভুতি ও ধর্মীয় আবেগ সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রন করে রাখতে পা্রি সেটা হবে চরম একটি ভুল কথা। এটা হবে ধর্মের প্রকৃতি বহিঃর্ভুত একটি কাজ। কোন মানুষের ধর্মচেতনা কোন ভাবেই সেই একজন মানুষের মস্তিস্কে সীমাবদ্ধ তাকতে পারেনা। একবার যদি ধর্মভাব মাথায় জাগে তাহলে সেটা অচিরেই ছড়িয়ে পড়ে এক মাথা থেকে আরেক মাথায়, মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে সমমনা ধার্মিকদের ভেতরে। সকল অনুভূতির মধ্যে সূক্ষ্ণভাবে ঢুকে স্বল্পসময়ের মধ্যেই তা মস্তিষ্কের সকল কার্যবলী নিয়ন্ত্রন করতে থাকে হাইয়ার নিউরাল ফাংশনের মাধ্যমে। যা একজন মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনার সমস্ত সরজা বন্ধ করে দেয়।

এসময় একজন ধার্মিক মানুষ তার সমস্ত বুদ্ধি, যুক্তি, বিবেচনা করার ক্ষমতা, অনৈতিকতা বা নৈতিকতা জ্ঞান এসমস্তই হারিয়ে ফেলে। সেই মানুষটির ভেতরে একটি উত্তেজনায় অনুভূত হতে থাকে তা হচ্ছে শুধুই উন্মাদনা। সেটা আবার এমন এক উন্নমাদনা যার নেই কোন যুক্তিযুক্ত ভিত্তি। যা শুধুই দাঁড়িয়ে আছে একটি অন্ধ বিশ্বাস এর উপরে। যেই বিশ্বাস এর পক্ষে কেউ দিতে পারবে না একটি যথাযথ যুক্তি। সবচেয়ে বিষাক্ত, ক্ষতিকারক, ছোয়াচে এই বিশ্বাসের উন্মাদনা মানেনা কোন যুক্তি, মানেনা কোন সাধারন বুদ্ধি, যা শুধুই বিশ্বাস করে কোন এক অদৃশ্য শক্তিকে বা অলীক, অনুপস্থিত কোন এক কল্পনাপ্রসূত ব্যাক্তি বা বস্তুকে। এরকম সময়ে একজন ধার্মিকের মাথায় একটি বিষয়ই শুধু ঘুরপাক খেতে থাকে আর তা হচ্ছে কোন একজন এই সমস্ত সৃষ্টির ইতিকথা একটি কয়েকশো পাতার বই বা কোন ধর্মীয় পুস্তকে লিখে গিয়েছেন যার বাইরে আর কোন কিছুই সত্য হতে পারে না। এই জাতীয় অযাচিত ঐশী বাক্য অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই হয়ে উঠে তাদের জন্য জীবনের প্রথম কাজ।


এটাই হচ্ছে সেই উন্মাদনা যার চেহারা আমরা মাঝে মধ্যেই আমাদের লেখার নিচের মন্তব্যকারীদের ভেতরে দেখতে পারি। আমার আজকের এই লেখটি ছিলো এমন কয়েক জনকে উদ্দেশ্য করেই যারা এই জাতীয় ব্যাধিকে ক্যান্সার এর সাথে তুলনা করতে অস্বীকৃতি জানায়। যারা নিজের অজান্তেই নিজেদের জীবনের সমস্ত নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা দিয়ে দেয় অন্য আরেকজনের হাতে যাদেরকে আমরা সমাজের ধর্মগুরু বলে থাকি। আর এই সব কথিত ধর্ম গুরুদের মুখের কথায় আগেপিছে চিন্তা না করেই তারা নেমে পড়ে যুক্তি-বুদ্ধিহীন ঘৃণ্য, জঘন্য, হীন ও পাশবিক আচরন করতে। আর এসব কাজে যোগদান করা খুবই সহজ একটি কাজ। কারন এখানে কাউকে নিজের কাজের দায়িত্ব বা রেস্পন্সিবিলিটি নিজেকে বহন করতে হয় না। যে কোন একটি ধর্মের ছায়াতলে থাকলেই চলে।

----------- মৃত কালপুরুষ
                ১১/১০/২০১৭    




সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৭

ব্লু হোয়েল গেমস ও কান নিয়েছে চিলে একই কথা।


গত কয়েকদিনে আমরা আবারও প্রমান করলাম আমরা হুজুগে বাংগালী এবং আমরা ভালো ভাবে যাচাই বাছাই না করেই যে কোন বিষয় নিয়ে প্রচুর পরিমানে লাফালাফি করতে খুবই ভালোবাসি। লাফাতে লাফাতে আমরা আরো দশজনকে সাথেও নিতে পছন্দ করি। সম্প্রতি ব্লু হোয়েল নামের একটি গেমস যার প্রমানআমি ভেবেছিলাম এই বিষয়ে কিছু লিখবো না কিন্তু অনেক জানাবোঝা মানুষও দেখলাম ভুল করে এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি করে ভরে ফেলেছে। আমি জানি আমার এই লেখাটি দেখার পরে তারা কিছুটা চিন্তিত হবেন বা কষ্ট পাবেন আসলে দেখুন আমি সবার কাছে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কিন্তু আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা খুব শক্ত এবং জোরালো ভাবেই বলছি কেউ আমার মতের বিপক্ষে দ্বিমত পোষন করতে পারেন কোন সমস্যা নাই। আজকেও আমার ইনবক্সে ৪ জন একই ম্যাসেজ পাঠিয়েছে এই ব্লু হোয়েল গেমস নিয়ে তাই বাধ্য হয়ে এই লেখাটি

বাংলাদেশে, ভারত ও অন্যান্য বেশ কিছু দেশের নাম করা সব ইলেকট্রনিক মিডিয়া যেখানে এই হুজুগের বাইরে নেই সেখানে আপনারা কিভাবে থাকবেন। আমাদের দেশের কয়েকটি মিডিয়ার নাম বলছি শুনে আপনিও অবাক হবেন এদের মতো মিডিয়া এই হুজুগে খবরটা ছড়াতে পারলো। যেমন ধরুন – প্রথম আলো, কালের কন্ঠ, চ্যানেল আই অনলাইন, বিবিসি বাংলা, জি লাইভ, নিউজ ২৪ সহ আরো অনেক নামীদামী ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া এমন খবর ছড়িয়ে বাবা মায়েদের সচেতন করার চেষ্টা করেছেন যে ,ব্লু হোয়েল নামের একটি অনলাইন গেমস এ আশক্ত হয়ে আপনার সন্তান আত্তহত্যা করতে পারে তাই এই ব্যাপারে আপনারা সচেতন হন। আপনার সন্তানকে বাচান। এটা আরো জোরালো ভাবে মিডিয়া গুলা প্রচার করা শুরু করে যখন শোনা গেলো বাংলাদেশেও একটি ১৪ বছর বয়সী মেয়ে যার নাম অপূর্বা বর্ধন আত্তহত্যা করার পর থেকে। আসুন আগে জেনে নেই কে এই অপুর্বা বর্ধন।

এই কিশোরির আত্তহত্যার পরে জানা যায় অপূর্বা বর্ধনের নিজের কোন স্মার্টফোন ছিল না। মায়ের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করত সে। সেই ফোনেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার ব্যবহার করতো ১৪ বছরের এই কিশোরী। স্মার্টফোনে এসব ব্যবহারের মাত্রাটা অপূর্বার মা সানি বর্ধনেরও নজর এড়ায়নি। স্কুল থেকে ফিরেই মেয়ের স্মার্টফোনে ঢুকে পড়ার প্রবণতা এবং প্রথম শ্রেণি থেকে প্রথম স্থান অধিকার করা মেয়েটি হঠাৎ পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ায় উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। মেয়ের আচরণে উদ্বিগ্ন ছিলেন জানিয়ে অপূর্বার মা সানি বর্ধন মিডিয়াকে বলেন, ‘ক্লাস সেভেনে ওঠার পর থেকে ওর রেজাল্ট কিছুটা খারাপ হওয়া শুরু করে। আমি এজন্য ওকে বুঝিয়ে বলেছিলাম। ফেসবুকে ওর একটা ফ্রেন্ড সার্কেল ছিল। তবে ওরা কারা আমরা সেটা জানি না। কারণ অপূর্বা মোবাইলফোনটি প্যাটার্ন লক দিয়ে রাখতো, ফেসবুক থেকে বের হয়ে লগআউট করতো। আমরা পাসওয়ার্ড জানতাম না। স্কুল থেকে ফিরেই জামা-কাপড় না বদলে, না খেয়েই মোবাইলটা নিয়ে বসে পড়তো। 
এরপর গত বৃহস্পতিবার তার কক্ষেই মেয়েকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান অপূর্বার মা। এরপর হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারেন দুই ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে ফুটফুটে মেয়েটির। মেয়ের এমন অকালমৃত্যুর একদিন পরে সানি বর্ধনের মোবাইল ফোনে অপূর্বার বন্ধু পরিচয়ে কয়েকজন কল করে। এদেরই একজন অপূর্বার বাবা-মাকে জানায়, মেয়েটি হয়তো আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা ব্লু হোয়েল গেমের শিকার হয়েছে। রাজধানীর নামী স্কুলে পড়ুয়া মেয়ের রহস্যময় মৃত্যুর পর কয়েকটি গণমাধ্যমকে অপূর্বার বাবা অ্যাডভোকেট সুব্রত বর্ধন জানান, ব্লু হোয়েল গেমটিকে সন্দেহ করছেন তারা। একটি তরুন প্রান ঝরে যাওয়ার শোকের মধ্যে এটা একটা হাস্যকর কথা আমার কাছে। কারন  দেখুন এই কথা গুলির সাথে কিন্তু ব্লু হোয়েল নামের কোন গেমস এর কোন সম্পর্ক নেই।

পুলিশ বলছে, এক রুশ তরুণের উদ্ভাবিত এই ব্লু হোয়েল গেমের ৫০টি ধাপের সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে আত্মহত্যা। চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার আগে নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে তিমি আঁকতে হয়। এরকম কোন কিছুই অপূর্বা বর্ধনের শরীরে পাওয়া যায়নি। এমনকি মায়ের যে ফোনটি সে ব্যবহার করতো সেটিও খতিয়ে দেখে কিছু পায়নি পুলিশ। তাই ফোনটিও অপূর্বার মা সানি বর্ধনের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাস এটুকুই হলো বাংলাদেশে ব্লু হোয়েল গেমস দারা আক্রান্ত এক কিশোরীর মৃত্যু ঘটনাএবার আসুন সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি এই ব্লু হোয়েল গেমস সম্মন্ধে মিডিয়া গুলা কি তামাশা করছে একটু দেখি। ব্লু হোয়েল গেম কী

বলা হচ্ছে এটি একটি অনলাইন গেমস। এতে সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে। আর ধাপগুলো খেলার জন্য ব্লু হোয়েল গেমস কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে। শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া হয়। যেমন, মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা। তবে ধাপ বাড়ার সাথে সাথে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার ৪৯ টি ধাপ শেষ করার পর ৫০ নাম্বার বা সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাৎ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে আত্মহত্যা করতে হবে। কিন্তু সেই গেমস এর নির্মাতা আর পরিচালক কিন্তু আজও আত্মহত্যা করে নাই মনে রাখতে হবে। আর বাংলাদেশ ভারত সহ যতগুলা দেশেই এই গেমস নিয়ে লেখালেখি হয়েছে সেখনে শুধু বলাই হয়েছে যে এই গেমস এ ৫০ টি ধাপ আছে কিন্তু এই ৩ টি ধাপের কথা ছাড়া আজ পর্যন্ত ৪র্থ ধাপের কোন আলামত কেউ কোথাও পাই নাই।

এই গেমস এর জন্ম কিভাবে হলো দেখুন। একটি মিথ ছড়িয়ে গিয়েছে যে, এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়। জন্মদাতা ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন নামের কেউ যার কোন সন্ধান নাই। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রথম সূত্রপাত। ২০১৫ সালে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তবে এহেন গর্হিত কাজের জন্য নিজেকে অপরাধী না বলে বরং সমাজ সংস্কারক বলে নিজেকে অভিহীত করে বুদেকিন। সে জানায়, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এ সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। এ গেম নিয়ে রীতিমত অবাক রাশিয়া পুলিশ। তদন্তের পর তারা জানায় অন্তত ১৬ জন কিশোরী এ গেমের কারণে আত্মহত্যা করেছে। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ জনের আত্মহত্যার জন্য এ গেম দায়ী। একটি গেমস কিভাবে তরুণ-তরুণীদের আত্মঘাতী করছে সে বিষয়ে চিন্তিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ব্রিটেন-আমেরিকায় এ গেম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতে এ গেমের ফলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও মিডিয়া গুলা ছড়াচ্ছে। শুরুতে তুলনামূলক সহজ এবং সাহস আছে কি না এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ায় তা যুবক-যুবতীদের কাছে আকৃষ্ট হয়। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। খেলার মাঝপথে বাদ দিতে চাইলে প্রতিযোগীকে ব্লাকমেইল করা হয়। এমনকি তার আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়। আর একবার মোবাইলে এই অ্যাপটি ব্যবহারের পর তা আর ডিলিট করা যায় না। কিন্তু এমন কাউকে পাওয়া যায় নাই যে এই জাতীয় কোন গেমস তার মোবাইল এ ইন্সটল করেছে।

এই হচ্ছে ব্লু হোয়েল গেমস এর ঘটনা। এবার আমি যা বলছি সেটা শুনুন আমি বলছি খুব শক্ত ভাবেই বলছি আমি এটা নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করে আসল তথ্য বের করার চেষ্টা করে এই তথ্য বের করেছি। আসলে ব্লু হোয়েল নামে কোন গেমস নেই হ্যা, আবারও শোনেন এই নামে ব্ল হোয়েল নামে কোন গেমস নেই এই নামে কোন গেমস অতীতেও ছিলো না এবং এখনও নেই। এবার আমার কথা পারলে কেউ ভুল প্রমান করেন। যারা আত্মহত্যা করেছে বা ব্লু হোয়েল নামের গেমস এর কারনে যাদের মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে তারা কেই এই জাতীয় কোন গেমস খেলে আত্মহত্যা করে নাই। কারো কাছে কোন প্রমান থাকলে তা সামনে আনুন। এখন কথা উঠতে পারে যারা আত্তহত্যা করলো তারা আত্তহত্যা কেন করলো। এর উত্তর হচ্ছে আগে জেনে আসুন ভালো করে আত্মহত্যা মানুষ কেনো করে। আর কাদের ভেতরে বেশি আত্মহত্যার প্রবনতা দেখা যায়। যে সব পিতা মাতাকে তাদের সন্তানদের সম্পর্কে সচেতন করতে গিয়ে এই বাংলার মিডিয়া গুলা ব্লু হোয়েল এর নাম করেছে সেই সব অভিভাবকদের বলবো আগে নিজেদের সন্তানের মনের কথা জানার চেষ্টা করুন এর বেশি কিছু না।


আত্মহত্যা মানুষ কেন আর কারা করে সে বিষয়ে বলতে গেলে এমনিতেই পাওয়া যায় তরুন ও কিশোর বয়সে এই আত্তহত্যার প্রবনতা বেশি দেখা যায়। তবে মধ্যবয়স্ক মানুষের ভেতরেও আত্মহত্যার কথা শোনা যায়। বিশেষ করে সাইক্রিয়াট্রিস্টরা নারীদের বা ওমেন সাইক্লোজিতে এই সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে দাবি করেন। টিন এজারদের চিন্তা ভাবনা ও কোন কিছু গ্রহন করার মাত্রা বা পরিধি একটু বেশি থাকে। তারা অল্পতেই খুব বেশি আবেগীয় ভাবে যে কোন বিষয় গ্রহন করে থাকে। তাদের মধ্যে বিবেকের চেয়ে আবেগের ব্যাবহার একটু বেশি দেখা যায়। এই মনোভাবের কারনে এদের মধ্যে এই আত্মহত্যার প্রবনতা বেশি দেখা যায়। চাহিদা মতো কোন কিছু না পাওয়া সেটা হোক একটা মোবাইল ফোন বা অন্য কিছু, প্রেম বা ভালোবাসা জনিত ঘটনা, প্রচন্ড হতাশা, মানুষিক চাপ সহ্য করতে না পারা, পারিপার্ষিকতা সহ আরো বেশ কয়েকটি কারনে আত্মহত্যা সংগঠিত হয়ে থাকে। এখানে যারা মনে করে যে ব্লু হোয়েল টাইপের কোন একটি গেমস দারা কেউ আত্মহত্যা করতে পারে তাদের আমি বলবো বোকা ছাড়া আর কিছুই না। দুঃখিত আমি আপনাদের এই কথা বলার জন্য। আমি জানি অনেকেই ভালোভাবে খোজ না নিয়ে এটা নিয়ে লেখালেখি করে ফেলেছেন।

আরেকটু তথ্য নিয়ে নিন। যেহেতু বলা হচ্ছে এটি একটি অনলাইন গেমস ও এটাতে নিয়মিত আপডেট নিয়ে খেলতে হয় তাই সবাই প্রথমেই জেনে রাখুন, তা হবে একদমই যুক্তুহীন একটি কথা যে এই জাতীয় গেমস যদি ১৭০ জন কিশোর কিশোরির মৃত্যুর জন্য দায়ীই হবে তা আজো কিভাবে অনলাইনে ওপেন থাকে। যেখানে কোন ফেক ফেসবুক ইউসার যদি ফেসবুকে একাউন্ট ওপেন করে চালাতে থাকে তাহলে কারো একটি রিপোর্টেই সেটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বা মিথ্যা অভিযোগ করলেও তা ব্লক করে রাখা হয় যতক্ষন পর্যন্ত সত্য প্রমান না হয়। মোবাইল ভার্সন বলতে গুগল প্লে স্টোরে এই নামে দুইটি গেমস আছে যা এই জাতীয় মিথ তৈরি হবার পরে কেউ হয়তো মজা করে আপলোড করেছে গেমস নাম দিয়ে আমি জানি না তা এখনও প্লে স্টোর এ আছে কিনা আমি বেশ কয়েক মাস আগে যখন ইউটিউবে এই ব্লু হোয়েল নিয়ে খুব মাতামাতি চলছিলো তখন দেখেছিলাম একবার। এবার শুনন কিছু অনলাইনের গোপন খবর। অনলাইনে তিন ধরনের ওয়েব সাইট থাকে। একটি হচ্ছে ওপেন সাইট একটি হচ্ছে ডিপ সাইট আরেকটি হচ্ছে ডার্ক সাইট। এখন এগুলা আবার কেমন ?

ওপেন সাইট, এই জাতীয় সাইট গুলা হচ্ছে সবসময় ওপেন থাকে যার এড্রেস শুরু হয়ে থাকে WWW দিয়ে। এই যে আমরা যত সাইট প্রতদিন ভিসিট করি অনলাইনে বা ইন্টারনেটে এসবই হচ্ছে ওপেন সাইট যেমন গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক, নেটফ্লিক্স, টুইটার এরকম যত অনলাইন সাইট আছে তা সবই ওপেন ওয়েবসাইট যেখানে আমরা নির্দিষ্ট কোন নাম লিখেই ঢুকে যেতে পারি। এবার দেখুন ডিপ সাইট কাকে বলে। এটা অচ্ছে এমন কিছু সাইট যা নির্দিষ্টি ইউসার ছাড়া কেউ সেখানে ধুকতে পারবে না। যেমন ধরুন গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স, বক্স, এরকম যত ক্লাউড স্টোরেজ আছে যা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা একাউন্ট এর মালিক ছাড়া সেখানে ধুকতেও পারবে না বা কিছু দেখতেও পারবে না এগুলাই হচ্ছে ডিপ সাইট নামে পরিচিত। আর ডার্ক সাইট বা অন্ধকার সাইট বলতে আমরা বুঝবো প্রচলিত কোন ব্রাউজার দিয়ে সেসব সাইটে আমরা ঢুকতে পারবো না বা গুগিল এর মতো কোন সার্চ ইঞ্জিন দিয়েও হাজার সার্চ করেও আমরা ডার্ক সাইটের একটি লিংক এর দেখাও পাবো না। কিন্তু সেখানেও অনেক লক্ষ লক্ষ ডার্ক ওয়েব সাইট আছে। যেমন ধরুন জঙ্গী সংগঠন গুলা এই সব সাইট ব্যবহার করে, কাউকে খুন করতে চাইলে আপনি এই ডার্ক সাইট থেকে কিলার ভাড়া করতে পারবেন, কোন দেশে কত টাকা লাগবে খুন করতে তা জানতে পারবেন, অস্ত্র কেনা বেচা করতে পারবেন, মাদক কেনাবেচা করতে পারবেন, বিভিন্ন দেশের মাফিয়াদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন, কোন সাইট হ্যাক করতে চাইলে হ্যাকার ভাড়া করতে পারবেন ইত্যাদি। চাইলে বিশ্বের যে কোন দেশের অরিজিনাল পাসপোর্ট বানিয়ে নিতে পারবেন এই সব ডার্ক সাইট থেকে। এই হচ্ছে সেই ইন্টারনেটের অন্ধকার জগত বা ডার্ক সাইট গুলার কাজ। কিন্তু এগুলা সর্বোসাধারনের জন্য উন্মুক্ত না সেখানকার কোন সাইটের এড্রেস WWW দিয়ে শুরু হয় না। সেখানে ঢুকতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ব্রাউজার কিছু নির্দিষ্ট সফটওয়ার ব্যাবহার করতে হবে। সেখানেও আজ পর্যন্ত কেউ কন গেমস এর সন্ধান পায় নাই যার নাম ব্লু হোয়েল। কেউ পেয়ে থাকলে আমাকে জানাবেন।

ব্লু হোয়েল গেমস নিয়ে যারা খুবই মাতামাতি করছেন তাদের বলবো পারলে আগে একটা ব্লু হোয়েল গেমস এর লিংক খুজে বের করেন। কারন ওপেন সাইট গুলাতে তো দুরের কথা কোন ডিপ সাইটে এমনকি ডার্ক সাইটেও এই নামে কোন গেমস এর সন্ধান আজ পর্যন্ত খুজে পাওয়া যায় নাই। তাহলে কি এতো গুজব এই ব্লু হোয়েল গেমস নিয়ে ? আর কি সবই গুজব বা মিথ্যা ? আমি বলবো হ্যা এসবই মিথ্যা ও গুজব ছাড়া আর কিছুই না। অনেক বড় লেখা লিখে ফেলেছি পড়তে গিয়ে অনেকেই বিরক্ত হয়ে যাবেন। আমি একটি কথায় বলবো যারা এপর্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন তারা এই বিষয়টি নিয়ে আর মাথা ঘামাবেন না কারন সেটা হবে বোকামী। আর যারা এটা নিয়ে ফেসবুক সহ অনান্য অনলাইন মাধ্যম গুলাতে মাতামাতি করছে তাদেরকে এই বিষয়টি জানান।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০৯/১০/২০১৭


রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৭

ইসলাম ও খৃস্টান ধর্মে প্যাগান ধর্মের কিছু আলামত।


কয়েকদিন আগে প্রাক ইসলামী যুগের একটি ধর্ম প্যাগান ধর্মের প্রধান দেবতা হুবাল নিয়ে দুইটি পর্ব লিখেছিলাম যেখানে কিছু মন্তব্যের উপরে ভিত্তি করে আজকের এই লেখাটি। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দাবী ইহুদীদের খ্রিস্টান ধর্ম থেকে সংশোধিত হয়ে আজকের এই ইসলাম ধর্ম মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। আসলে ইসলাম এর মতো একেশ্বরবাদী চিন্তা ভাবনা তারও বহু আগেই ছিলো মিশরীও সভ্যতাতে সেটা আমরা আগে দেখার চেষ্টা করবো। মিশরে যুগে যুগে আজ থেকে ৫৫০০ বছর আগে শত শত দেব দেবীর সৃষ্টি হয়েছিলো যাদের ছিলো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষমতা আর ভিন্ন ভিন্ন নাম রুপ আর আকৃতি। যুগে যুগে মানুষের দ্বারাই এই জাতীয় দেব দেবী ও ঈশ্বর তৈরি হয়েছিলো এতে কোন সন্ধেহ নাই। জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতি করার সাথে সাথে মিশরের অনেক রাজারা তাদের ঈশ্বরে বিশ্বাস হারাতে থাকেন যাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন আমেন হোটেপদের একজন রাজা যে প্রথম এই মনুষ্য সৃষ্ট সকল ঈশ্বর এর চাল ধরতে পেরেছিলেন। তিনিই প্রথম নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করেছিলেন এবং মন্দির ও রাজ্যের সকল দেব দেবীদের মূর্তি ধ্বংশ করে তাদের পূজা করা বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি মানুষ গোপনে তখন তাদের পুর্বের দেব দেবীদের কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন এবং রাজার মৃত্যুর পর আবার সেইসব দেব দেবীদের মুর্তিরা রাদের স্ব স্ব স্থানে ও মন্দির গুলিতে ফিরে গিয়েছিলেন। এটা ছিলো একেশ্বরবাদের প্রথম ধারনা।


এর অনেক পরে প্রায় ৩০০০ বছর পরে বর্তমান আরবের মক্কা নগরীতে প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দেখা যায় অনেক দেব দেবীদের মধ্যে একজন দেবতাকে প্রধান মনে করার প্রথা। প্যাগানদের প্রধান দেবতা ছিলো একজন এবং সহ দেবতা বা তার থেকে একটু কম শক্তিশালী দেবতা ছিলো অনেক। ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু হবার আগে বর্তমান মক্কার কাবা ঘরে সর্বোমোট ৩৬০ টি মুর্তির শক্ত অবস্থান ছিলো। শুধুই যে প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের দেব দেবী এখানে ছিলো তা নয়। এখানে একত্রে বেশ কিছু ধর্মের মানুষ তাদের পূজা অর্চনা করতো। পরবর্তিতে যখন আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ইসলামের প্রধান প্রচারক নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এই প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করার মাধ্যমে একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রচার শুরু করলেন তখন খ্রস্টান বা ইহুদী ধর্মের কাহিনীর পাশাপাশি এই প্যাগান ও আরবের আদীবাসীদের ধর্মের দেবতা আর ঈশ্বরদের নাম সেই ধর্মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।


কিন্তু এখন দেখা যায় প্রতিমা, মূর্তি, সাকার ঈশ্বর বা এই জাতীয় পৌত্তলিক বিশ্বাস এই ব্যপার গুলি ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মে সম্পুর্ণ নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু কেন। আসলে বাস্তবতা বলে বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ৭০০ কোটি মানুষ আছে যার মধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ কোন না কোন ধর্মে বিশ্বাস করে এবং তা পালন করে থাকে। এর মধ্যে খ্রিস্টান, ইহুদী ও ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসী মানুষেরা প্রায় ৩০০ কোটি যারা এই জাতীয় মূর্তি পূজা, সাকার ঈশ্বর, প্রতিমা বা পৌত্তলিকতায় কোন ভাবেই বিশ্বাস করা না এবং এর চরম পরিপন্থি তারা। কিন্তু একটু পুরাতন ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় এদের সাথে মুর্তি পূজার এক চরম মিল আছে।


ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের প্রধান ঐশরিক কিতাব কোরানে লেখা আছে বেশ কিছু দেব দেবীর না যা শুধুই প্যাগান ধর্ম থেকেই আসেনি এসেছে অন্যন্য সভ্যতা থেকেও। এতে করে বোঝা যায় ইসলামের প্রধান প্রচারক ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন এই সব দেব দেবীর ভক্ত যেমন - কোরানে বেশ কিছু সূরার নামকরন করা হয়েছে প্যাগান দেব দেবীর নামানুশারে। যেমন “তারিকা” এটা তখনকার সময়ের আরবের একজন নক্ষত্র দেবতার নাম ছিলো। “নসর” এটা আরবের প্রাচীন অধিবাসী বা আরবের আদীবাসীদের একজন দেবতার নাম যা কোরানের শেষ সূরা্র নাম। “শামস” ইসলাম ধর্মের পুর্বে আরব সহ সমস্ত মধ্যপ্রাচের একজন জনপ্রিয় সৌর দেবীর নাম এটা। পবিত্র কোরানে এদের নাম চলে আশার কারন একসময় ইসলামের পুর্বে এই সব দেব দেবীরা মানুষের দ্বারা পূজিত হয়ে আসতো আর এটা হচ্ছে তার একটি জলজ্যান্ত প্রমান।


এই সমস্ত উদাহরনের মাধ্যমে প্রমানিত হয় ইসলামের প্রধান প্রচারক নবী মুহাম্মদ (সাঃ) নিজেও এই ধরনের সাকার দেব দেবী ও পৌত্তলিকতায় প্রভাবিত হতেন এবং তার মধ্যেও পৌত্তলিকতা বিরাজমান ছিলো। এখন দেখুন মুসলিম ধর্মাবলম্বিদের যে হজ্জ্বের প্রবর্তক বলা হয় সে কে ছিলো বা কোথা থেকে এই হজ্জ্ব এসেছিলো। বর্তমান কাবা শরীফকে হজ্জ্বের সময় ৭ বার প্রদক্ষিন করা এই নিয়ম নবী মুহাম্মদ (সাঃ) করেননি বরং এটা ছিলো প্যাগান ধর্মাবলম্বিদের একটি নিয়ম যা পরবর্তীতে ইসলাম এর মধ্যে ঢোকানো হয়েছে। পাথরে চুম্মন করা ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তি স্থানে মিনা নামক যায়গায় কিছু স্তম্ভকে শয়তান মনে করে ৭ টি করে মোট ২১ টি পাথর মারা এগুলো সবই টোটেম প্রথার রুপান্তর হয়ে ইসলাম ধর্মের প্রথা হয়েছে। এই যে হজ্জ্বে গিয়ে মাথার চুল ফেলে দেয় মুসলিমরা এটাও এসেছে সেই প্যাগান ধর্মের দেবতা হুবালের তিন কন্যার মধ্যে এক কন্যা লাত এর পুজা থেকে যার নামেও মক্কা থেকে দুরে এই কাবা ঘরের মতো আরেকটি কাবা ছিলো যা তার নামে উৎসর্গ করা ছিলো। এইসবই খাটি পৌত্তলিক নিয়ম কানুন ও অন্য কিছু ধর্মের প্রথা যা আজ মুসলিমরা পালন করে থাকে। এখানে ইসলাম ধর্ম যা কিছু তার নিজের বলে দাবী করে তার ১০% এর মত নিজের তৈরি কোন প্রথা ইসলাম ধর্মে নাই। এগুলা যদি তখন ইসলাম ধর্ম এই সব ধর্ম থেকে নিজের বলে না চালাতো তাহলে এই ধর্ম কখনই ইসলাম নামক রাজনৌতিক দল থেকে ইসলাম নামক ধর্মে রুপান্তরিত হতে পারতো না।


এবার খ্রিস্টান ধর্মের দিকে তাকালে দেখবেন তাদের যে দশটি আজ্ঞা আছে তার মধ্যে উন্নতম আজ্ঞা হলো কোন প্রকারের প্রতিমা তৈরি করা যাবে না বা কোন প্রকারের সাকার দেবতা তৈরি করে তাকে পূজা করা সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। এখন দেখুন বাস্তবে আমরা কি দেখি খ্রিস্টান ধর্মে মাসে মাসে মিশরে যে ক্যাথলিক খৃষ্টানদের উপরে উগ্র আর জিহাদী মুসলামান জাতির হামলার কথা শুনি সেই ক্যথলিকরা দাবী করেন যে তারাই একমাত্র সঠিক খৃস্টান তাছাড়া কোন খৃস্টান জাতি সঠিক নয়। একেবারেই মুসলমানদের শিয়া ও সুন্নি জাতির মতো কথা। এক কথায় ক্যাথলিকদের গোড়া খৃস্টান বা মূল ধারার খ্রিস্টান বলা হয়ে থাকে। এদের মধ্যেও আবার মতোভেদ দেখা যায় যেমন অনেকে তাদের ক্যাথলিক মানতে চায় না আর অনেকে নিজেকে খৃস্টান বলতে চাই না। কিন্তু সব ক্যাথলিক গির্জা ও মন্দিরে আবার যীশু, মেরী ও জোসেফের মুর্তি থাকা বাধ্যতা মূলক। এদের মধ্যে দেখা যায় নারী ও শিশুরা গির্জার মধ্যে রাখা মা মেরির মুর্তির পায়ে চুমু খাচ্ছে বা মুর্তির গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছে যা মূলত এসেছে এই জাতীয় টোটেম প্রথা থেকেই। খৃস্টানদের মধ্যে যদি কেউ বলে এই জাতীয় নিয়ম কানুন এসেছে সেই প্যাগান বা টোটেম প্রথা থেকে তাহলে তাকে সেই গির্জা থেকে বহিঃষ্কার করা হয়। আসলে গির্জার ফাদারেরা অনেক নিষেধ করেও ধর্ম বিশ্বাসীদের এই মুর্তির পায়ে চুমু খাওয়া থেকে থামাতে পারেনি কারন ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে কোন নিষেধ মানতে বাধ্য করেনা। পোকা মাকড়েরা যেমন আগুন দেখলে সেই আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে ঠিক তেমনই বলা চলে ধর্মান্ধদের।


এই ধরনের সকল ধর্মই এসেছে এক সময়কার পৌত্তলিক কিছু ধর্ম থেকে যেখানে তাদের ঈশ্বর ছিলো সাকার এবং কোন একজন বা বহুজন। আর তাইতো তখনকার সময়ে এই সমস্ত ঈশ্বর এর মূর্তি ছিলো খুবই নরমাল ব্যাপার। তার অনেক আগেই মিশরীও সভ্যতার রাজারা নিরাকার ঈশ্বর বা একজন ঈশ্বর এর প্রচার শুরু করেছিলো যেটা পরবর্তিতে সেই রাজার মৃত্যুর পরে আর স্থায়ী থাকেনি কিন্তু তার পরে সেই ধারনা থেকে ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মে একজন ঈশ্বর বা একজন নিরাকার ঈশ্বর এর ধারনা চলে আসে। আসলে এটা ছিল পরবর্তি প্রজন্মের মানুষদের আরো সহজে ধোকা দেবার জন্য একটি দারুন পন্থা বা কৌশল। কিন্তু তার পুর্ব থেকেই মানুষের মনে যে সাকার ঈশ্বর যায়গা করে ছিলেন তা সম্পুর্ন দূর করতে পারেনি ধর্ম প্রচারকেরা। তবে এটুকু বলতে হয় এই জতীয় প্রথা গুলো পরবর্তি সকল ধর্মেই খুব কৌশল অবলম্বন করে ঢোকানো হয়েছে। এটা তখনকার সময়ে এই ধর্ম গুলির উদ্ভাবকেরা প্রভাবিত হয়ে বা তাদের ধর্ম টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে ও মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য তাদের ধর্মে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

----------- মৃত কালপুরুষ
                ০৯/১০/২০১৭     


শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৭

প্রাচ্যের জ্ঞান ভান্ডার আলেজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি।


আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি নিয়ে অনেকের মতামত এমন যে আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে ধ্বংশ হয়ে যাওয়া একটি লাইব্রেরী নিয়ে আর জেনে কি করবো। কারন আছে, আমি কয়েকদিন ধরে একটি ধারাবাহিক লেখা লেখছিলাম হুবাল দেবতা ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে। একটি পাব্লিক ব্লগেও লেখাটি প্রকাশ করেছিলাম যেখানে ৫০% পজেটিভ আর ৫০% নেগেটিভ মন্তব্য এসেছে। এটা আমাদের প্রত্যাশিত ব্যাপার অবাক হবার কিছুই নেই। বিশ্বের সমস্ত তৃতীয় শ্রেনীর দেশগুলিতে এরকম হয়ে থাকে যার একমাত্র কারন কুসংস্কার, জ্ঞানের অভা্ব‌ ও ঈশ্বরে বিশ্বাস। অনেকের ধারনা আমি সেখানে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছি। অনেক তথ্য আমি দেইনি যা ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের পরে যে নতুন একটি ধর্ম তৈরি হয়েছিলো তার গুনগান করে। আসলে যদি তাদের এমন কোন কর্ম তখনকার সময়ে না পাওয়া যায় তাহলে কোথা থেকে লেখবো সেটা। বরং এমন কথা পাওয়া যায় যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে ও পরবর্তি প্রজন্মকে তাদের থেকে বেশি না জানতে দেবার জন্য হাজার বছরের সংগ্রহিত জ্ঞান ভান্ডার ধ্বংশ করেছিলো। আর সেটাই ছিলো আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরী।


এবার একটু কাছাকাছি সময়ের উদাহরন দেয়। আমরা সবাই আফগানিস্তান এর মুসলিম জঙ্গী বা জিহাদী গোষ্ঠি তালেবান এর নাম জানি নিশ্চয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার সময় ৭০ এর দশকে এদের জন্ম হয়েছিলো আফগানিস্তানে। এই সময় পর্যন্ত সেদেশের সাধারন মানুষ ও বিশেষ করে নারীরা অনেক স্বাধীন ছিলেন। তারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে পেরেছেন তখন, চাকুরী বাকুরীও করতেন অফিস আদালতে। এবার একটু চিন্তা করে দেখুন এটা বর্তমান সময়ে আফগানিস্তানে কি অসম্ভব না সম্ভব। তাদের অবস্থা এমন হয়েছিলো, একটা সময় পঞ্চম শ্রেনীর উপরে তাদের পড়াশোনা করা নিষিদ্ধ ছিলো। পোশাক বলতে তাদের বস্তা বন্দী করা হয়েছে যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান আছে। তালেবানরা ইসলামিক আইন ফলো করতো যেমন করে গিয়েছিলেন তাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তার পরবর্তী উত্তরসূরীরা যাদের একজনের হাতেই ধ্বংশ হয়েছে বলে জানা যায় এই আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি। তালেবান সহ মুসলিম জাতির ধারনা এই যে, তাদের প্রধান ঐশরিক কিতাব কোরান হচ্ছে একমাত্র জ্ঞানের বই যার সাথে পৃথিবীর অন্য কোন বই এর তূলনা করা চলে না। তাই কোরান বাদে অন্য কোন বই পড়া মানে কুপথে চলে যাওয়া এবং ইসলাম বহিঃভুত কাজ করা। এইধারনা থেকে তারা তৎকালীন আফগানিস্তান এর গ্রামে গ্রামে গিয়ে কোরান বাদে যত বই পেয়েছিলেন তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। তাদের কথা ছিলো কোরান বাদে আর যত কিতাব আছে তা সবই শয়তানী কিতাব তাই এগুলো জ্বালিয়ে দাও। ঠিক একই কথা ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে খলিফা ওমর রাঃ বলেছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি পোড়ানোর সময়।


এটি ছিলো একটু কাছাকাছি সময়ের ছোট্ট নমুনা। এবার আসুন আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগের কিছু নমুনায় যাওয়া যাক। ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রাচারিত রাজনৈতিক দল ইসলামী সাংস্কৃতি আস্তে আস্তে ইসলাম ধর্মে বদল হতে থাকে এবং একটা সময় ৬৩০ খৃস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর তার এই ইসলাম ধর্ম আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে যার একটিই কারন ছিলো মৃত্যু পরবর্তীতে জান্নাত বা বেহেশত প্রাপ্তির আশা তার অনুসারীদের করে তুলতো আরো সাহসী ও মৃত্যু ভয়হীন যোদ্ধা। মুহাম্মদ সাঃ এর মৃত্যুর পরে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তার উত্তরাধীকারী হয় তার একজন সঙ্গী হযরত আবু বকর এবং পরবর্তিতে তার মৃত্যুর পরে আরেকজন সঙ্গী হযরত ওমর (রাঃ) তার উত্তরাধিকারী পান। আর এই খলিফা হজরত ওমরের নেতৃতে ধ্বংশ করা হয় সেই আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরী যার ক্ষতিপুরন আজো করা সম্ভব হয় নাই। আমি “মিশরীয় সভ্যতা ও ইসলাম ধর্ম” নামের একটি লেখাতে কিছুটা উপস্থাপন করেছিলাম।


এই যে লাইব্রেরী ধ্বংশ করা হয়েছিল তার একমাত্র কারন ছিলো পরবর্তি প্রজন্মের মানুষেরা যাতে প্রকৃত ইতিহাস আর জ্ঞান না নিতে পারে। ইসলাম ধর্ম জাতে বিতর্কিত না হতে পারে। তাহলে আজকের এই যুগে এসে কিভাবে আপনারা এই মন্তব্য করেন যে হুবাল দেবতা আর ইসলাম এর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। খুজে দেখলে পাওয়া যাবে মুসলমানেরাই এই জাতীয় ইতিহাস, স্থপনা আর জ্ঞান ভান্ডার, অতীতে তাদের সার্থে ধ্বংশ করেছে। আসলে ইসলাম ধর্মই কোনদিন চায়না মানুষ কোরান বাদে অন্য কিছু পড়ুক। প্রকৃত জ্ঞান খুজে দেখুক। ৬৩৮ থেকে ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই হযরত ওমর রাঃ ইসলামিক যোদ্ধাদের নিয়ে তৎকালীন সিরিয়া ও মিশর দখল করেছিলেন। আর ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রাচের এই জ্ঞান ভান্ডার আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির সমস্ত বই পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। বিভিন্ন হাদিসে বলা আছে তিনি (খলিফা ওমর রাঃ) বলেছিলেন “এই কিতাবগুলি যদি পবিত্র কোরানের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ না হয় তাহলে এগুলি অপ্রয়োজনীয়, আর যদি পবিত্র কোরানের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন না হয় তাহলে এগুলি ক্ষতিকর। আর তাই উভয় ক্ষেত্রেই এগুলি ধ্বংশ করা একান্ত প্রয়োজন” সিরিয়া দখল করতে তখন তাকে যুদ্ধ করতে হয়েছিলো কন্সটান্টিনেপোলির যোদ্ধাদের সাথে। কিন্তু মিশরের তৎকালীন রাজা হেরাক্লিয়াসের মৃত্যুর কারনে মিশর দখল করতে মুসলমানদের কোন যুদ্ধ করা লাগেনি।


আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির অবস্থান ছিলো বর্তমান মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়া শহরে আরবিالإسكندرية আল ইস্কান্দারিয়া) হল মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরেই মিশরের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। প্রাচীনকালে এই শহরটি বাতিঘর বা লাইট টাওয়ার (প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি) এবং গ্রন্থাগারের (প্রাচীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির) জন্য বিখ্যাত ছিল। সম্প্রতি আলেক্সান্দ্রিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক নৃবিজ্ঞান এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় (যা ১৯৯৪ সালে শুরু হয়েছিল) আলেক্সান্ডারের আগমনের পূর্বে যখন এই শহরের নাম ছিল রাকোটিস সেই সময় এবং টলেমীয় রাজত্বের সময়ের আলেকজান্দ্রিয়া নিয়ে নতুন অনেক তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে যা থেকে এই মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক অতীত ইতিহাস জানা যাচ্ছে।


প্রায় সব প্রাচীন গ্রন্থেই আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারকে প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলির একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই গ্রন্থাগারের বিবরণ ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিশ্রণই রয়ে গিয়েছে। এই গ্রন্থাগারের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রাচীন মিশরের ঐশ্বর্য প্রদর্শন। গবেষণা ছিল গৌণ উদ্দেশ্য। তবে গ্রন্থাগারের সঞ্চিত গ্রন্থগুলি মিশরের শাসকের কাজে লাগত। আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের দায়িত্ব ছিল সারা বিশ্বের জ্ঞান সংগ্রহ করা। গ্রন্থাগারের অধিকাংশ কর্মচারী প্যাপিরাসে বই অনুবাদের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। রোডস  এথেন্সের বইমেলায় ঘুরে রাজার অর্থে প্রচুর বই সংগ্রহ করে এই কাজ চলত। গালেনের মতে, বন্দরের কোনো জাহাজে কোনো বই পাওয়া গেলেই তা গ্রন্থাগারে নিয়ে আসা হত। এই বইগুলি "জাহাজের বই" নামে তালিকাভুক্ত করা হত। তারপর সরকারি লিপিকার সেই বইয়ের অনুলিপি করতেন। মূল বইটি গ্রন্থাগারে রেখে, অনুলিপিটি মালিককে ফেরত দেওয়া হত। অতীতকালের গ্রন্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এই গ্রন্থাগারে একদল আন্তর্জাতিক গবেষক সপরিবারে বাস করতেন। তাঁরা রাজার কাছ থেকে বৃত্তি পেতেন।


আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের আকার কেমন ছিল, তা সঠিক না জানা গেলেও প্রাচীন গ্রন্থগুলির বর্ণনা অনুসারে, এই গ্রন্থাগারে স্ক্রোলের বিশাল সংগ্রহ, আঁকাবাঁকা পায়ে চলার পথ, একত্র ভোজনের কক্ষ, পড়ার ঘর, সভাকক্ষ, বাগান ও বক্তৃতাকক্ষ ছিল। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষাপ্রাঙ্গণে এই ধরনের নকশা দেখা যায়। গ্রন্থাগারের একটি অধিগ্রহণ বিভাগ (সম্ভবত গ্রন্থভাণ্ডারের কাছে অবস্থিত ছিল বা বন্দরে জিনিসপত্র রাখার কাজে ব্যবহৃত হত) এবং একটি ক্যাটালগিং বিভাগ ছিল। একটি বড়ো ঘরে তাকে প্যাপিরাসের সংগ্রহ রাখা হত। এগুলিকে বলা হত "বিবলিওথেকাই"। জনশ্রুতি আছে, এই তাকগুলির উপর একটি ফলকে লেখা থাকত: "আত্মার চিকিৎসার স্থান"।


আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল মুসলিম খলিফা হযরত ওমর রাঃ এর নেতৃত্বে। যার ফলে বহু স্ক্রোল ও বই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগারের অগ্নিকাণ্ড তাই সাংস্কৃতিক জ্ঞান ধ্বংসের প্রতীক। আজ পর্যন্ত বিশ্বের জ্ঞানী ব্যাক্তি ও গবেষকেরা এর অভাব অনুভব করেন। প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে এই অগ্নিকাণ্ডের সময় নিয়ে বিতর্ক পাওয়া যায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতরে। তাদের ভাষ্য এটা মুসলমানেরা করেনি। কে এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছিলেন তা নিয়েও মতান্তর তৈরি করা হয়েছে। এই ধ্বংস নিয়ে একটি জনশ্রুতি হল, বহু বছর ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে এই গ্রন্থাগার বিনষ্ট হয়। সম্ভবত ৪৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজারের মিশর আক্রমণের সময় অথবা ২৭০ খ্রিস্টাব্দে আরেলিয়ান আক্রমণের সময়, ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে কপটিক পোপ থেওফিলাসের নির্দেশে এবং ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে সর্বোশেষ মিশরে মুসলমান আক্রমণের সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এর মধ্যে ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে কপটিক পোপ থেওলিফাস এর কথা কয়েক যায়গায় উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু সে লাইব্রেরি পুড়িয়েছিলো না। সে লাইব্রেরির পার্শবর্তি একটি মন্দিরে হামলা চালিয়েছিলো বলে উল্লেখ আছে। তবে এটাই সব চেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য যে, ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে মুসলমান খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর দ্বারা এই লাইব্রেরি ভস্মীভুত হয়।


---------- মৃত কালপুরুষ

               ০৭/১০/২০১৭