মূল বিষয়টি সত্যিই খুব দারুন ছিলো, এভাবে অনেকেই সব কিছু দেখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যদি এভাবেই চিন্তা করতে পারে তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে অনেক উন্নত যা প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না। গতকাল আমিও এই ছবি গুলোর থেকেই একটা ছবি দেখেছিলাম কারো পোস্ট করা ফেসবুক স্টাটাসে, যেখানে ছবির ছেলেটির চেহারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিলো। এই কারনে অনেকেই মন্তব্য করেছেন হয়তো নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে। আমার মনে হয়েছে সেটা করা ঠিক আছে। কারণ, প্রতীকি ছবি হোক আর কোন সন্তান গ্রাজুয়েট হবার পরে তার রিক্সাচালক বাবাকে তার গাউন পরিয়ে যদি ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়াতে দিয়েই থাকেন তাহলে তার চেহারা ঢেকে সেই ছবি শেয়ার করা ঠিক হয়নি। এতে করে একটা হীনমানসিকতার প্রকাশ দেখা যায়।
এখন কথা হচ্ছে, যারা না বুঝেই এটা নিয়ে নেতিবাচক স্টাটাস দিয়েছিলেন বা মন্তব্য করেছিলেন তারা মূল ঘটনা না জেনে না বুঝে করেছেন ঠিক আছে তারা সবাই বোকামী করেছেন। অতিরিক্ত আবেগ দেখাতে গিয়ে তারা বোকা হয়েছেন। আর যদি এই ছবির ব্যাক্তিটির কাছ থেকে বা ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে আসল ছবি নিয়ে কেউ ছেলেটির মুখ ঢেকে সেই ছবি আবার নতুন করে পাবলিশড করে থাকেন তাহলে যারা ছেলেটির চেহারা ঢাকার কাজটি করেছেন সেটা চরম অন্যায় করেছেন। এই কারণেই অন্যায় হয়েছে, ছবিটিতে সকল বাবাদেরকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে তাই। আর সর্বোপরি সেই ছবির আসল ব্যাক্তিটির (যদি হয়ে থাকে) নিচের পোস্টটি থেকে জানা যাচ্ছে সে নিজেই নাকি তার মুখটি ঢেকে সোস্যাল মিডিয়াতে তা শেয়ার করেছিলো।
এটা তার করা নিচের পোস্টে তার স্বীকারোক্তি এবং এই মুখ ঢাকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি তিনি এই স্টাটাসটি দিয়েই থাকেন তাহলে তার নতুন করে আবার এই কথাটি বলা কতটা যৌক্তিক ছিলো ? "দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে" নতুন করে এখানে যেই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আবার দেখছি সেটা কি (তার কথা মতে) “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড” মাথায় থাকা কোন ব্যাক্তির মনোভাব হতে পারে ? পাঠকদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন আসলে ভুলটি কার ছিলো ?
Liton Mustafiz
স্যালুট...
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে এ ছবির একটি বিশেষ অংশ গতকাল সামাজিক যোগাযোগের
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছবির ঐ অংশটি সম্ভবত বিভিন্ন গ্রুপ হয়ে ব্যক্তি থেকে আরম্ভ
করে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফটোগ্রাফার শাহরিয়ার সোহাগ গতকাল
অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে এ ছবিটি তোলেন। রিকশায় যিনি বসে আছেন তিনি আমাদের
গর্বিত একটি অংশ। মনেই হয়নি সে মুহূর্তে তিনি অন্য একটি অংশ। পৃথিবীর আর সব বাবার
মতো এ বাবার চোখেও আমি স্বপ্ন খুঁজে পাই। মোটেও মনে হয় নি তার গায়ের ঘাম লাগলে
দুর্গন্ধী হয়ে উঠবে আমার গাউন। এমন ঘামের চর্মশরীরে বেড়ে ওঠা আমার। আমি বিশ্বাস করি
পৃথিবীর চাকা এ 'পিতা'দের ঘামে ও দমে ঘোরে।
আমরা যখন খুব
আনন্দ করছিলাম তখন তিনি আনমনা নজরে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিষয়টি আমি বুঝে 'পিতা'কে ডাক দেয়। তিনি সাড়া দেন। আমি
আমার গাউন, হুড খুলে 'পিতা'কে পরিয়ে দেই। তারপর ছবি তোলা হয়।
একজন গর্বিত গ্রাজুয়েট মনে হচ্ছিলো তখন আমার। এঁদের রক্ত ঘামানো অর্থেই আমরা
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরেছি। এ 'পিতা'র পোশাক দেখে স্যালুট না করে পারি নি। এ ছবি তুলে রাতেই ফেইসবুকে
পোস্ট করেন ফটোগ্রাফার। ছবিটি ভাইরাল হলে দেখা যায় অনেকেই আমাকে ভুল বুঝছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিটি নিউজ হয়ে গেছে। দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও
বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের
মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি
ফটোগ্রাফারের হয়ে। এসব মানুষেরা আমাদের সত্যিকার বাবা-ই। কারণ আমি নিজেও কৃষকের
লাঙলের ফালা বেয়ে উঠে এসেছি...
-মৃত কালপুরুষ
০৪/১০/২০১৮

