শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

মানব ক্লোন অবৈধ ঘোষণা করার পেছনে কি ধর্ম বিশ্বাস না নৈতিকতা ?



বিজ্ঞান যখনই নতুন কিছু আবিষ্কার করে তখনই ধর্মান্ধরা দাবী করে এটা আমাদের ঐশ্বরিক কিতাবে অনেক আগেই লেখা ছিলো এবং সেখান থেকে রিসার্চ করে বিজ্ঞানীরা এখন এটা আবিষ্কার করেছে তারমানে এই আবিষ্কারের সব ক্রেডিট সেই ধর্মীও ঈশ্বরের, মানুষের না। এরকম ধারণা এখনও যে কত কোটি কোটি মানুষ তাদের মাথায় করে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তা কিন্তু আপনি, আমি চিন্তাও করতে পারবো না যদি বাস্তবে এরকম দুই একজনকে না দেখেন। কয়েকদিন আগে আমি আসিফ ভায়ের একটা লাইভ দেখছিলাম যেখানে এক ভদ্রলোক সৌদি আরব থেকে তার সাথে লাইভে কানেক্ট হয় এবং আলোচনা করতে থাকে। লাইভে ভিউয়ার্স মনে হয় ৬ থেকে ৭শ মতো ছিল এরকম সময়ে সেই ভদ্রলোক তার ইসলামিক কিছু জ্ঞানের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি জীবনে অনেক ইসলামিক বই পড়েছেন বলে দাবী করলেন এবং কিছু বই তিনি উপস্থিত সবাইকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেখালেন। এরকম একজন জানাবোঝা মানুষের মস্তিষ্কের অবস্থা দেখলাম শেষের দিকে তার কিছু ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা শুনে। সে দাবী করলো “মাছির এক পাখায় জীবানু আর এক পাখায় প্রতিষেধক আছে” এটা নাকি কোন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছে এবং একই কথা ইসলাম ধর্মের কোন এক হাদীসেও নাকি বলা আছে।

এরকম সময় আসিফ ভাই যখন তাকে প্রশ্ন করলো আপনি কি আমাকে সেই জার্নাল না রিসার্চ পেপারের নাম বলতে পারবেন যেখানে এই বিজ্ঞানী এটা প্রমান করেছে। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কি জানেন জার্নাল কাকে বলে সে বলেছিলো “না”। এরকম আরো অনেকেই আছে যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বিভিন্ন ধর্মের ঐশ্বরিক কিতাব আর মুখে মুখে প্রচলিত অনেক কথা বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। আজ ক্লোন নিয়ে কিছু কথা বলবো, তবে জানিনা এই ক্লোন নিয়ে কোন ধর্মীয় গ্রন্থে কিছু বলা আছে নাকি। আমি শুনেছি পৃথিবীতে এমন অনেক ধর্মীয় ঐশ্বরিক কিতাব আছে যাতে এই পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি ও সমস্ত আবিষ্কারের কথা লেখা আছে। ক্লোনিং এর মধ্যে বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু কারণে মানব ক্লোনিং করা নিষেধ করা আছে যা এখন অবৈধ। এখানে আগেই একটি কথা উল্লেখ করা দরকার সেটা হচ্ছে ক্লোন অর্থ হচ্ছে অনুরুপ বা প্রতিলিপি বা আমরা কপি বলতে পারি আর ক্লোনিং হচ্ছে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ক্লোন করা হয় তাকে ক্লোনিং বলা হয়। ক্লোনিং হলো অতি অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে একটা প্রাণীর ক্রোমোজোম বা ডিএনএ (কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত এক বিশেষ ধরনের জৈব অ্যাসিড যা একটি জীবের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে জন্ম, মৃত্যু, চেহারা, আকার-আকৃতি, আচার ব্যবহার, বেড়ে উঠা ইত্যাদি) ব্যবহার করে হুবহু সেই প্রাণীর অনুরূপ আরেকটি প্রাণী করা হয়,  যা জেনেটিক এবং ফিনোটাইপিক উভয় দিক থেকেই অনুরূপ হবে।  সোজা কথায় ক্লোনিং হল কোন জিনগত ভাবে কোন কিছুর হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করা।

পৃথিবীতে এই ক্লোনিং করার পক্ষে সর্বোপ্রথম বাধা আসে ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের কাছ থেকে। তারা দাবী করে এটা আমাদের সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি বহিঃভুত একটি কাজ। এই থেকে ধারনা করা যায়, মনে হচ্ছে এমন কোন আবিষ্কারের কথা মনে হয় কোন ধর্মের ঈশ্বর তাদেরকে বলেনি তাই তারা এই ক্লোনিং এর বিরোধীতা করেছিলো। শুধু তাই নয় ২০১৪ সালে যখন রাশিয়ার নিউরো সাইন্টিস্ট “দিমিত্রি” তার “আভাতার ২০৪৫” প্রজেক্টের কথা বলে তখন তারাও এটার বিরোধিতা করেছিলো। বিরোধীতা করার কারণ ছিলো “দিমিত্রি” বলেছিলো আমার প্রজেক্ট সাকসেস হলে আমি ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের অমরত্ব দিতে সক্ষম হবো। আর তাই যদি করে ফেলে তাহলে ধর্ম বিশ্বাসীদের ধারনা ঈশ্বর প্রদত্ত বানী “প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে” কথাটা ভুল প্রামণিত হয় আর তখনই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন জাগবে তাই তারা এটার বিরোধীতা করে। কিন্তু এই প্রজেক্ট খুব সুন্দর ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এখন। আর এই কথাটা মনে হয় ওয়াটার বিয়ার (Water bears) বা ট্রেডিগ্রেডস (tardigrades) এর জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ বিজ্ঞানীদের গবেষনায় দেখা গিয়েছে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা এই প্রানীর মৃত্যু নেই বললেই চলে। এরা পৃথিবীর যে কোন পরিস্থিতিতেই বেচেঁ থাকতে সক্ষম হোক সেটা পারমানবিক বোমায় ধ্বংস হওয়া কোন পরিস্থিতি।

ক্লোনিং এর প্রথম বাধার পরেই মানুষ এই ক্লোনিং এর বেশ কিছু পদ্ধতির আবিষ্কার করে যাতে করে নির্দিষ্ট কিছু জটিলতা যাতে না থাকে একটা নতুন প্রান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা যেসমস্ত ক্লোনিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষনা করছেন সেগুলা হচ্ছে সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতি, রস্লিন পদ্ধতি, হনলুলু পদ্ধতি, মলিকিউলার ক্লোনিং, রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোনিং, থেরাপিউটিক ক্লোনিং এবং আরো অনেক পদ্ধতি। আমরা হয়তো সবাই একটি ক্লোন মেষ শাবক (ভেড়ার) কথা কমবেশি জানি যার নাম ছিলো “ডলি” এই ডলি ছিলো রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোনিং করা একটি ক্লোন মেষ শাবক। ডলিকে বলা হয় প্রথম ক্লোন কিন্তু এটা মোটেই ঠিক নয়, এর আগেও ক্লোন করা হয়েছে বরং সঠিকভাবে বললে ডলি ছিল পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে তৈরি করা প্রথম ক্লোন। আসলে ক্লোনিং বা ক্লোন নিয়ে এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গিয়েছে যার কারনে ক্লোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে মানব ক্লোন এর অনুমতি এখনও বিজ্ঞানীদের মেলেনি। এর মধ্যে প্রধান জটিলতা হিসাবে বলা যায় জেনেটিক কিছু অমিল থেকে যায় ক্লোনিং এর ক্ষেত্রে কারণ তৈরি করা প্রাণটি যে গর্ভে বেড়ে উঠছে সেই গর্ভের পরিবেশের উপরেও এই জেনেটিক বিষয় গুলা নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেওয়া (জমজ) ক্লোন এর ক্ষেত্রে এই সমস্যা থাকেনা।

এই সমস্ত নানা কারনে সর্বশেষ ২০১৫ সালে পৃথিবীর প্রায় ৭০ টি দেশ মানব ক্লোনিং কে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তাহলে কি মানব ক্লোন এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে হয়নি ? এখন পর্যন্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দাবী করেছে তারা সফল ভাবেই মানব ক্লোনিং করেছে। তবে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য যেটা সেটা হচ্ছে ২০০২ সালের ২৭ ডিসেম্বরে ক্লোনাইড নামের একটি প্রতিষ্ঠান দাবী করে তারা প্রথম মানব ক্লোনিং করেছে এবং সেই ক্লোন মানব কন্যার নাম “ইভ”। শুধু তাই নয় এই একই প্রতিষ্ঠান আবার ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারী দাবী করেন তারা আবারও আরেকটি মানব ক্লোন সফল ভাবেই করেছে। প্রথম ক্লো্নটি করে তারা ৩১ বছর বয়সী একজন নারীর কোষ থেকে এবং পরের ক্লোনটি করে তারা ২ বছর বয়সী এক শিশুর কোষ থেকে যে ২০০১ সালে জাপানে একটি রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়। এছাড়াও এর আগে আরো অনেকেই দাবী করে তারাও মানব ক্লোন করেছে। সর্বোপ্রথম এমন দাবী করা হয় ১৯৯৮ সালে যা ৫ দিনের মাথায় নষ্ট করে ফেলা হয়। সর্বোশেষ ২০০৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্টিমাজেন কর্পোরেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্যামুয়েল উড এবং অ্যান্ড্রিউ ফ্রেঞ্চ ঘোষণা দেন তারা থেরাপিউটিক ক্লোনিং এর লক্ষ্যে ৫ টি মানব ভ্রূণ তৈরি করেছে কিন্তু পরবর্তীতে তারা নৈতিকতার দিক বিবেচনা করে ভ্রুন ৫ টি নষ্ট করে ফেলে।

তথ্যসুত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Human_cloning

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০২/০২/২০১৮



বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

আবেগীয় সম্পর্কের কোন নির্ধারিত বয়স নেই।


স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভুত প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, যৌন সম্পর্ক বা এরকম কোন ঘনিষ্ট সম্পর্ককে বাংলাদেশ বা বিশ্বের কিছু স্বল্প শিক্ষিত দেশে খুবই নেতিবাচক একটি দিক বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই জাতীয় সম্পর্কের জন্য মানুষকে (নারী, পুরুষ) উভয়কেই শাস্তি পর্যন্ত ভোগ করতে হয়। বহু পূর্বে থেকেই ধারনা করা হয় সমাজে বা মানব সভ্যতায় যখন থেকেই বিবাহ প্রথার শুরু হয়েছিলো তখন থেকেই এই জাতীয় সম্পর্ককে একটি লঘু বা নেতিবাচক সম্পর্ক বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আসলে কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলে আমরা দেখতে পারি এটা শাস্তি যোগ্য কোন অপরাধ নয় যদিও এই জাতীয় সম্পর্ককে নেতিবাচক বলে গন্য করা হলেও এটি কখনই আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হয়না। তবে এধরনের সম্পর্কের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়ে থাকে তবে যার উপরে এমন অভিযোগ আসে তার বিবাহিত সঙ্গী তার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দেশ ভিত্তিক আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আবেদন করতে পারে এটুকুই।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে এধরনের সম্পর্কের কারনে সেই পরিবারের সন্তানদের উপরে এক ধরনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে যা সন্তানদের মানুষিক ও শারীরিক স্বাস্থের জন্য ভালো নয়। এধরনের সম্পর্কের কারনে সামাজিক যোগাযোগেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে তাছাড়াও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতিতে এটা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। এবার দেখুন অন্য কিছু দিক, যেমন আমরা যদি প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে থাকি তাহলে স্বাধীন মত প্রকাশ ও স্বাধীনভাবে সুখি হবার চেষ্টা করাকে অবশ্যয় ইতিবাচক ভাবেই দেখতে হবে। এতে করে প্রতিটি মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশকেও সমর্থন করা হবে। একটি মানুষ তার জীবনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে এসে নিজেকে সুখি করার জন্য যেকোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে। এই পদক্ষেপকে আপনি যদি সমর্থন করেন তাহলে আপনিও মত প্রকাশ করার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একজন মানুষ হবেন। তবে যদি সামাজিক নিয়ম কানুন আর ধর্মীয় রীতিনীতি যেমন, ইসলাম ধর্ম মতে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভুত প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, যৌন সম্পর্ক বা এরকম কোন ঘনিষ্ট সম্পর্কে কেউ যদি জড়িয়ে যায় এবং প্রামণিত হয় তবে তাকে বা তাদেরকে পাথর নিক্ষেপের ব্যবস্থা আছে এমন কিছুতে আপনি বিশ্বাসী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে কখনই প্রথাবিরোধী বা প্রগতিশীল একজন মানুষ বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

সম্প্রতি এই ধরনের সম্পর্ক নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন পোর্টালে দেখলাম প্রচুর আলোচনা চলছে যার হয়তো নির্দিষ্ট কোন কারণ থাকলেও থাকতে পারে। ধরুন একজন চল্লিশউর্ধো পুরুষ দুইটি সন্তানের পিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক এবং সে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবে তার ভালোবাসার পরিবারটিকে সবসময় সুখি রাখতে। মন না চাইলেও তার স্ত্রী সন্তানদের প্রতি আবেগীয় আচরন করবে। কিন্তু এমনও হতে পারে সেই ব্যাক্তির স্বাধীনভাবে একটু সুখ খোজার জন্য নতুন করে কাউকে আপন মনে করে খুবই ব্যাক্তিগত কিছু কথা ভাগাভাগি করতে পারে। আর এটা কিন্তু নতুন কিছুই না এরকম ঘটনা আমরা সচরাচর অনেক দেখে থাকি। ঠিক এরকম একটি পুরুষের ক্ষেত্রে ঘটলে একটি নারীর ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তবে যেহেতু তারা এই ধরনের সম্পর্কে সব কিছু জেনে বুঝে মেনেই জড়িয়েছে বা জড়াচ্ছে তাহলে এটাও বোঝা উচিত দেশ ভেদে এধরনের সম্পর্কের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। আর যদি প্রশ্ন উঠেই যায় তাহলে দুইজনের স্বার্থে তার প্রাইভেসি রক্ষা করা উচিত এবং তা দুইজনের পক্ষ থেকেই সমানভাবেই হতে হবে। কেউ প্রাইভেসি রক্ষা করতে ব্যার্থ হলে ধরে নিতে হবে এখানে কোন স্বার্থ কাজ করছে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৫/০১/২০১৮


বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৮

ধর্ম বিশ্বাসীদের ভাবনা ও ডারউইন তত্বের মিসিং লিংক।


লেখাটা একটি আলোচনায় কমেন্টস হিসেবে দিতে গিয়ে দেখলাম আলোচনাটা একটু দীর্ঘ হচ্ছে তাই এটাকেই একটি আর্টিকেল আকারে লেখা হলো। যদিও বিবর্তনবাদ নিয়ে এসব বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন “বন্যা আহমেদ” তার “বিবর্তনের পথ ধরে” বইতে বা এরকম অনেক আলোচনা অতীতে মুক্তমনাতে সহ আরো অনেক ব্লগ সাইটে করা হয়েছে তার পরেও আবার সেই বিষয়ে কিছু আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা পড়ায় এটা লেখা। সংশয়বাদ এবং আজ্ঞেয়বাদ প্রসঙ্গে একটি লেখার কিছু বিষয় বিবর্তনবাদ থেকে উদাহরন হিসেবে দেওয়ার কারনে আবার নতুন করে এই বিবর্তনবাদ প্রসঙ্গে কিছু কথা আলোচনার প্রয়োজন পড়লো। কারণ বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী সচেতন সমাজের দাবী ডারউইনের তত্ব বা বিবর্তনাবাদ নিয়ে অনেক মিসিং লিংক আছে ইউটিউবে (যদিও ইউটিউব কোন অথেন্টিক সোর্স নয়) তবে আমি সে বিতর্কে না গিয়ে একটু বিশ্লেষন করার চেষ্টা করেছি, জানিনা কতটুকু বোঝাতে পারবো

ধর্মবিশ্বাসী বা সৃষ্টিবাদীদের দাবী তারা সরাসরি না বললেও বারবার একই কথা বোঝাতে চাই বিবর্তনবাদ একটি ভুল তত্ব যার কোন ভিত্তি নাই এবং পক্ষান্তরে তারা এটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই যে বিবর্তনের থেকে আদম হাওয়া টাইপের কেচ্ছা বেশি গ্রহনযোগ্যতাদের জ্ঞাতার্থেয় মূলত বলা যে, বিবর্তনবাদ বর্তমানে এমন একটি প্রতিষ্ঠিত তত্ব যা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বের কোন উন্নত ও অথেন্টিক ম্যাগাজিন বা জার্নাল এখন আর কোন বিতর্ক প্রকাশ করেনা। এর একটিই কারণ আর তা হচ্ছে এই তত্বটি নিয়ে আর কারো কোন সন্ধেহ নেই। বর্তমান যুগ হচ্ছে স্কাই মিডিয়ার যুগ, হাতে হাতে ইণ্টারনেট এবং তথ্য প্রযুক্তির ছোয়া তাই এই বিবর্তনবাদ তত্ব নিয়ে কারো আর অজানাও কিছু নেই। উন্নত বিশ্বের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকেই এই বিবর্তনবাদ নিয়ে বেসিক ধারনা দেওয়া শুরু হয়ে থাকেপ্রতিটি উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীদের রেগুলার পাঠ্য বইতেও বিবর্তনবাদ নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে যার ছিটেফোটাও আমাদের দেশের মতো দক্ষিন এশিয়ার আরো অনেক নিম্ন শ্রেনীর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই। যে কারনেই আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বিবর্তনবাদ নিয়ে ধারণা একটু কম এবং তারা বিবর্তনবাদের সত্যতা যাচাই করার থেকে এই তত্বের মিসিং লিংক খুজে বের করতে বেশি আগ্রহ দেখিয়ে থাকে।

এমনকি কিছু মানুষের ধারনা যারা এই বিবর্তনবাদ নিয়ে বিশ্লেষনধর্মী লেখালেখি করে থাকে তাদের লেখার মধ্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কোন কৌশল আছে এবং তা নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এই বিবর্তনবাদ নিয়ে বর্তমানে যে একেবারেই বিতর্ক হয়না তা কিন্তু না। তবে যে ধরনের বিতর্ক হয়ে থাকে তা আসলে এই তত্বের মধ্যে থেকেই করা হয় যেমন কোন কোন প্রজাতি থেকে কোন কোন প্রজাতির বিবর্তন হয়েছে আর কোন কোন প্রাজাতি থেকে এই বিবর্তন কি কারণে হয়েছে এবং কেন হয়েছে তা নিয়ে নানা বিশ্লেষনধর্মী আলোচনা, বিতর্ক ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফীর মতো কিছু টিভি চ্যানেলের বিভিন্ন ডিকুমেন্টারিতেই আমরা দেখতে পায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যদি এই বিবর্তন তত্ব ভুল বা ভিত্তিহীনই হবে তাহলে এধরনের স্বাভাবিক আর সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য আলোচনা কেন হয়ে থাকে ? এছাড়াও আমার মনে হয় আরো একটি বিষয় এই সৃষ্টিবাদীরা ভুলে যায় যে বিজ্ঞান আসলে কখনই কোন একটি যায়গাতে এসে আটকে থাকেনা। যেমনটা আছে বিভিন্ন ধর্মের কথিত ঐশরিক গ্রন্থে। বিজ্ঞানের নতুন নতুন তত্ব প্রতিদিন পুরাতন ধারণা ভেঙে নতুন নতুন ধারনা দিয়েই চলেছে যেটা বিজ্ঞানের সব থেকে শক্তিশালী দিক যা এতো সহজে কোন ধর্মীয় মতবাদ দারা ভুল প্রমাণ করা সম্ভব নাআর যারা বিবর্তনবাদের বিপক্ষে কথা বলে তারাই বা তাদের প্রচেষ্টাই আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারেহোক তার কারণ স্বর্গ বা বেহেশতে যাবার টিকেট বা অন্য কিছু।

এখানে ছোট্ট একটি উদাহরন দিয়ে শেষ করবো। কিছু কিছু সৃষ্টিবাদীরা আসলে বুঝতে পারেন এই বিবর্তন তত্বটি তাদের ধর্মের জন্য হুমকি স্বরুপ একটি তত্ব যা একাই তাদের সকল ধর্মীয় মতবাদ ভুল প্রমাণ করে দিতে সক্ষম তাই তারা এটার বিরোধিতা করে। আর যারা তাদের আদর্শের মধ্যে থাকতে চায় যখন তারা দেখতে পারে এই বিবর্তন তত্ব সত্য ও মানব সভ্যতার অগ্রগতির কথা বলছে তখন তারা ধর্মীও মতবাদ থেকে বেরিয়ে আসে। পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকজন দার্শনিক আর বিজ্ঞানীকে পাওয়া যাবে যারা সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ আছে এমন মতবাদে বিশ্বাস করতেন। তবে তারা কেন তা করেছিলেন সে বিষয়ে আজকের এই দিনে আমাদের আর কারো জানতে বাকি থাকার কথা না। “নিকোলাস কোপার্নিকাস” আজ থেকে দু হাজার বছর আগে একটি তত্ব দিয়েছিলেন যে ‘পৃথিবী সুর্যের চারদিকে ঘোরে’ যেই কথা্টি তখন ছিলো সম্পুর্ণ খ্রিস্টান ধর্মের ঐশরিক গ্রন্থ বাইবেল বিরোধী তত্ব। কারণ বাইবেলে তখন বলা ছিলো ঠিক “নিকোলাস কোপার্নি্কাসের” বলা কথার উল্টোটা। বর্তমানে আমরা সবাই জানি সেসময় পৃথিবী আর সুর্যের এই তত্ব দিয়ে নিকালোস কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও আর ব্রুনোর উপরে কি পরিমানের নির্যাতন হয়েছিলো বেধর্মী আর ঈশ্বরের শত্রু বলে। এর কারনে ঈশ্বরের মুমিন বান্দারা তখন ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো ভুল মতবাদ প্রচার করার জন্য। কিন্তু দেখুন তারা কি সুর্যকে পৃথিবীর চারদিকে ঘোরাতে পারলো ? সুর্য কিন্তু ঠিকই আছে তার যাওগায় এবং এই পৃথিবী সেই সুর্যের চারপাশেই ঘুরে চলেছে মাঝখানে সত্য বলার জন্য, মানুষকে জ্ঞানের পথে আনার জন্য প্রাণ দিতে হলো ব্রুনোকে।

শুধু তাই নয়, এরকম অনেক অনেক প্রামাণ দেওয়া যাবে যাদের তত্ব ধর্মীয় মতবাদের বিপক্ষে যাবার কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো আর সেই হত্যা আর নির্যাতন থেকে রক্ষা পাবার জন্য অনেকেই হয়তো বলেছিলো “স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে বুঝতে জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, কিন্তু স্রষ্টার অস্তিত্ব নাই বুঝতে জ্ঞানের প্রয়োজন নাই” –ফ্রান্সিস বেকনের মতো এই ধরনের কথা যা আজকের দিনে ফেসবুকের যুগে ধর্ম বিশ্বাসীদের প্রধান হাতিয়ার তাদের ধর্মীও মতবাদকে যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার। তবে সচেতন মানুষেরা নিশ্চয় বুঝতে পারবে “ফ্রান্সিস বেকন” এর এই কথাটা কতটা যুক্তিযুক্ত। বিবর্তনবাদ নিয়ে “হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে” একসময় একটি তত্ব প্রকাশ করা হয়েছিলো যার নাম পাংচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম’ (Punctuated Equilibrium) যে মডেলটি প্রথম উপস্থাপন করেন হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক “স্টিফেন জ্যে গুল্ড”। তিনি এমন ভাবে তার এই মতবাদটি তখন উপস্থাপন করেছিলেন যাতে করে অনেকে মনে করে “স্টিফেন জ্যে গুল্ড” আসলে বিবর্তনবাদ একটি ভুল তত্ব প্রামাণ করতে চেয়েছিলেন। আর তার এই মডেলটি নিয়ে তখন সৃষ্টিবাদীরা বিভিন্ন জার্নালে লেখা শুরু করেন এই ভেবে যে ডারউনের বিবর্তন তত্ব মনে হয় এবার ভুল প্রমাণিত হলো।

সৃষ্টিবাদীদের অনেকেই তখন জানতো না “স্টিফেন জ্যে গুল্ড” তার সারা জীবনে বিবর্তনবাদের পক্ষেই প্রচার প্রচারনা চালিয়েছিলেন। একটা সময় তিনি মনে করলেন এখন সময় এসেছে এই তত্বকে আরেকটু কষ্টি পাথরে ঘষে দেখার তাই পাংচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম’ (Punctuated Equilibrium) মডেলটি তিনি প্রকাশ করেছিলেন। এই সময় যারা বিভিন্ন ধর্মীও মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিবর্তন তত্বের ভুল খুজে বের করতে ব্যস্ত ছিলেন তারা কিছু লেখালেখি ও কিছু মতবাদ রেখেছিলেন যাকে আজকের দিনের ফেসবুকার্স সৃষ্টিবাদীরা ডারউনের বিবর্তন তত্বের মিসিং লিংক বলে থাকে। এর কারণ হচ্ছে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক “স্টিফেন জ্যে গুল্ড” তার সেই মডেলে বিবর্তনের সঠিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন না তুলে তিনি কিছু প্রশ্ন করেছিলেন এবং বলেছিলেন বিবর্তন শুধুই যে একটি ধীর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে তা নই বর্ং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিবর্তনের কোন কোন পর্যায়ে ব্যাতিক্রমও ঘটতে পারে। আর এমন বিষয়কে পুজি করে অনেক সৃষ্টিবাদীরা যুক্তি দিতে থাকে ডারইনের মিসিং লিংক দেখুন ইউটিউবে তাহলে বুঝতে পারবেন বিবর্তনবাদ সত্য না মিথ্যা। আমার ধারণা তারা যে আসলে এই বিবর্তনবাদ নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন তা কিন্তু নয়, তারা এই তত্বের বিরোধীতা করে যার শুধুই একটি মাত্র কারণ এই তত্বটি তাদের ধর্মের জন্য হুমকি স্বরুপ।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ১২/০১/২০১৮         



সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৮

সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ভিত্তিহীন, তবে কেন আজ্ঞেয়বাদ আর সংশয়বাদ ?

     
বর্তমানে একশ্রেনীর মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম নয় যারা নিজেদের আজ্ঞেয়বাদী ও সংশয়বাদী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। এর কারণ হচ্ছে এই মানুষগুলির দাবী ঈশ্বর বলে কোন স্বত্বা আছে না নেই তার প্রমান আসলে কোন পক্ষই দিতে পারেনা তাই আমি যদি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকি তাহলেতো দোষের কিছু নেই। আসলেই তাই, এখানে দোষ বা গুনের কিছুই নেই আসলে এটা সম্পূর্ণ ব্যাক্তির স্বাধীন ইচ্ছার উপরে বর্তায়। প্রতিটি মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও মত প্রকাশ করার যেমন অধিকার আছে তেমনি প্রতিটি মানুষের বিশ্বাস অবিশ্বাস করারও স্বাধীনতা আছে। তবে বিশ্বাসী মানুষেরা সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা অন্যান্য মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তির মুল্যায়ন করেনা। তারা চাই তাদের ধর্মীয় নিয়ম কানুনের মধ্যে নিজেদের বেধে রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, জাতি ও সর্বোপরি রাষ্ট্রকেও সেই প্রচলিত নিয়মের মধ্যে বেধে রাখতে যা তাদের নিজেদের জন্য তো একটি বড় ধরনের হুমকি বোটেই পাশাপাশি অন্যান্য মানব সভ্যতার জন্যও হুমকি স্বরুপ যেটা তারা বুঝতে পারেনা।

আমি এর আগেও এধরনের একটি উদাহরণ দিয়েছিলাম যেমন ধরুন, কোন একটি প্রতিষ্ঠানের খাদ্য বা পন্য ব্যবহার করে যখন একজন মানুষ অসুস্থ হচ্ছে তাতে সমাজের আর দশ জনের কোন সমস্যা থাকার কথা নয়, যদি না সেই ব্যাক্তি বুঝে বা না বুঝে সেই প্রতিষ্ঠানের পন্য ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু যখন দেখা যায় সেই প্রতিষ্ঠানের পন্য ব্যবহার করে শুধু সেই একজন ব্যাক্তিই অসুস্থ হচ্ছে না পাশাপাশি তার পরিবার, সমাজ বা রাষ্টের অন্যান্য সুস্থ মানুষদের কামড় দিয়ে তাদেরকেও অসুস্থ বানাচ্ছে তখনতো সেই প্রতিষ্ঠনের ও সেই প্রতিষ্ঠানের পন্যের মান যাচাই বাছাই করা একজন সচেতন নাগরিকের অবশ্যয় কর্তব্য হয়ে পড়ে। যেহেতু বিভিন্ন ধর্মীও বিশ্বাস ও কুসংস্কার আর গোড়ামীকে বর্তমান যুগের সচেতন ও যুক্তিবাদী সমাজ এক প্রকারের ভাইরাসের মতই মনে করে থাকে। যেমন অতীতে সাপে কামড়ালে ঝাড় ফুক আর ঈশ্বরের কাছে প্রর্থনা করে ভুক্তভোগী ব্যাক্তির আরগ্য চাওয়া হতো যা এখন আর কেউ করেনা বরং তারা আধুনিক চিকিৎসার উপরে আস্থা রাখে। 

আজকের দিনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অবস্থা আমাদের বাংলাদেশের থেকে যে কত উন্নত আর কত আধুনিক তা কারো অজানা থাকার কথা নয়। আজ দেশের মানুষের হাতে হাতে ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তির ছোয়া আছে। কিন্তু কষ্ট লাগে তখন যখন একশ্রেনীর মানুষকে দেখি এতো এতো টেকনোলজি হাতে পেয়েও তারা হাজার হাজার বছর আগের কিছু অন্ধ বিশ্বাস সাথে নিয়ে একটি একটি দিন অতিবাহিত করছে। যেখানে চীনের রাস্তার একটি রিকশা চালকও (আমি এখানে কোন পেশাকে ছোট করছি না মান যাচাইয়ের জন্য বলছি) পাওয়া যাবেনা যারা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেনা শেখানে আমাদের দেশের বহুল প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসীদের দিকে একটু নজর দিয়ে দেখুন তারা কি বলে। এখানে আসলে কাদের দোষ তা খুজতে গেলেও আবার নানা তথ্য বেরিয়ে আসবে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিবর্তনবাদ নিয়ে কোন শিক্ষা দেওয়া হয় কিনা তা আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা ভালো বলতে পারবে। এই বিষয়ে গতকাল একজন ক্যামিস্ট্রির এক ছাত্রীর কাছে জানতে চাইলে সে আমাকে বলে আমাদের বইতে বিবর্তনবাদ নিয়ে মাত্র একটি অধ্যায় আছে কিন্তু শিক্ষকরা বলে এই অধ্যায়টি বেশি পড়ার দরকার নেই তাতে ঈমান নষ্ট হবে তাই আমরা সেই অধ্যায়টি আর বেশি পড়িনা।

আসলে এভাবেই আমাদের দেশের মানুষদের ও নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বিবর্তনবাদকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে এবং একটি শ্রেনী অনেক ধীর গতিতে হলেও এই বিবর্তনবাদ নিয়ে সকল প্রকারের শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে তুলে দিচ্ছে। আমাদের দেশে যেখানে বিবর্তনবাদ নিয়ে এখনও লুকোচুরি খেলা হচ্ছে শেখানে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা অজ্ঞেয়বাদী বা সংশয়বাদীদের যে মনোভাব, যেমন ঈশ্বর বলে কেউ বা কিছু আছে কি নেই অর্থাৎ ঈশ্বর, ভগবান, গড, আল্লাহ, যোহোবা, এটলাস, অসিরিস, আমেনহোটেপ, আনুবিস, আইসিস বলে যেসব কাল্পনিক চরিত্রের কথা পৃথিবীর ৫০০০ এর অধিক ধর্ম বিশ্বাসীরা বলে থাকে, তাদের কোন অস্তিত্ব আছে না নেই তা এখনও কোন পক্ষই প্রমাণ করতে পারেনি তাই আমি নিজেকে আজ্ঞেয়বাদী বা সংসময়বাদী বলে থাকি। তাদের এই ধারনাকেও আধুনিক বিজ্ঞান পাল্টে দিচ্ছে। যদিও কয়েকবছর আগেই বিজ্ঞানী ‘স্টিফেন হকিংস’ তার বহুল আলোচিত বই ‘গ্রান্ড ডিজাইনে’ আগেই জানিয়েছে যে মহাবিশ্ব একটি প্রাকৃতিক নিয়মেই তৈরি হয়েছে যা তৈরি করতে কোন কাল্পনিক ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই এবং তিনি তার এই বই এর মাধ্যেমে বিভিন্ন যুক্তিযুক্ত উপস্থাপনার মাধ্যমেও তা দেখিয়ে দিয়েছেন।

এসব বাদেও যখন কোন ধর্মের ঈশ্বর আসলে সত্য বা কোন ধর্মের ঈশ্বর আসলে মানুষের কথা শোনে এমন পরীক্ষা করে দেখা হয় তখনও এরকম কোন ঈশ্বরের সন্ধান আজ অবধি মানুষ খুজে পাইনি যারা সত্য অথবা যারা মানুষের কথা শোনে। যেমন ধরুন যদি এরকম একটি পরীক্ষার আয়োজন করা হয় যেখানে খৃস্টান, মুসলিম, হিন্দু ও ইহুদী ধর্মের চারজন অসুস্থ রোগীর জন্য তাদের সুস্থতা কামনা করে চারটি ধর্মের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থানা করা হলো। এদের মধ্যে যদি কোন নির্দিষ্ট ধর্মের কোন রোগী মানুষের প্রার্থনা শুনে আরগ্য লাভ করতে শুরু করে তাহলে বোঝা যেতো সেই ধর্মটি সত্য বা সেই ধর্মের ঈশ্বর আছে এবং সে মানুষের কথা শোনে। তবে দুঃখের বিষয় এমন কোন ঘটনা আসলে আজও ঘটেনি তাই এখানেও আজ্ঞেয়বাদী আর সংশয়বাদীদের মনোভাব ভুল প্রমানিত হচ্ছে।

এছাড়াও আরো অনেকভাবেই আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে ঈশ্বরসহ তথাকথিত যত অতিপ্রাকৃতিক ও কাল্পনিক গল্প বিভিন্ন ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব ও ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে তার আসলে কোন ভিত্তি নেই যা বিজ্ঞান যেকোন সময় ভুল প্রমাণ করতে পারে। যেমন বিবর্তনবাদ যখন প্রামাণিত হয়েছিলো তখন বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের এই পৃথিবীতে মানব আগমনের ইতিহাস পাল্টিয়ে গিয়েছিলো যা ছিলো সকল ধর্মের বানী বিজ্ঞান দ্বারা মিথ্যা প্রমাণ করার প্রথম ধাপ। যেমন এখানে একটি উদাহরণ দিতে গেলে, ধরুন খ্রিস্টান ধর্মের ‘বাইবেলে’র ওল্ড স্টেটমেন্ট এর প্রথম অধ্যায় ‘জেনেসিস’ যেখানে আমাদের সৃষ্টির কথা বলা আছে শেখানে পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবীর আগমন ৪০০৪ খ্রিস্টপুর্বাব্দতে এবং যাদের নাম ছিলো ‘এডাম’ ও ‘ইভ’ তাদের আগমন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অপরপক্ষে বিবর্তনবাদ আমাদের বলছে ‘বিগ ব্যাং’ সংগঠিত হবার পরে পৃথিবী তৈরি হয়েছে এবং আজ থেকে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর পূর্বে এককোষী প্রানের থেকেই আমরা আজকের আধুনিক মানুষে এসে দাড়িয়েছি। তাহলে এখনও কেন আজ্ঞেয়বাদ আর সংশয়বাদ ?  

---------- মৃত কালপুরুষ

              ০৮/০১/২০১৮    

শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৮

অনলাইন বুক সপ ও বইমেলা।


বইমেলা আসছে তাই চলছে লেখক ও পাঠকদের প্রস্তুতি। শেষ সময় পর্যন্ত সকলের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে, এই দেশের মানুষকে লেখকেরা একটু আলোকিত করতে। পূর্বে যারা আলোর মশাল জালিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলো একশ্রেনীর মানুষের রোষানলে পড়ে, তাদের সেই আলোর মশালকে আরেকটু উচু করে ধরতে যাতে করে সেই আলো আরেকিটু দূরে ছড়িয়ে পড়ে। যারা এখনও অন্ধকারের মধ্যে হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে এবং আশৈশব লালিত প্রথার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে নিজেদের ক্ষতবিক্ষত করছে তাদেরকে মুক্তি দেবার জন্য সেই আলোকিত মানুষগুলি তাদের সেরা লেখা গুলি নিয়ে বই মেলায় অংশগ্রহন করে। আমি শ্রদ্ধায় নত হয় বারবার সেই মানুষদের কাছে যারা নিজেদেরকে বিলিয়ে দিয়েছিলো এই দেশের সাধারণ মানুষদের একটু আলোর পথ দেখাতে। যারা সেই অন্ধকার বিশ্বাসের কক্ষে আটক থেকে দেওয়ালে দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে আহত হচ্ছে তাদেরকে প্রশ্নের পাথরে বিক্ষত হবার আহব্বান জানাতেই এই বইমেলা।

বাংলাদেশের অনলাইন সপ রকমারি ডট কমের কথা সবাই নিশ্চয় জানেন। রকমারি ডট কম এই দেশের মানুষের হাতে হাতে বই পৌছিয়ে দিয়ে এক অসধারণ ভূমিকা রাখছে তাতে কোন সন্ধেহ নেই। কারণ অনেকেই অনেক বই খুজে খুজে আশা ছেড়ে দিয়ে একটু অনলাইনে ঢু মেরে দেখি বইটা পাওয়া যায় কিনা এমন মনোভাব নিয়ে যখন এই সাইটটিতে গিয়ে বইটা পেয়ে যায়, তখন সেই মানুষটির মনোভাব কেমন থাকে বা হতে পারে তা আর কারো আজানা থাকার কথা না। কিন্তু আমি আজ অনলাইন বুক সপ রকমারি ডট কমের গুন গান করতে লেখিনি। কারন আমি ভুলিনি সেই সময়ের কথা যখন হুমকি পেয়ে রকমরির স্বত্বাধীকারী ‘মাহমুদুল হাসান সোহাগ’ ভাই তার এক স্টাটাসে জানিয়েছিলো সত্য এবং আলোর পথ প্রদর্শনকারী সকল বই যখন সেই সাইটে বিক্রয় করা নিষিদ্ধ করেছিলো সেই কথা। আপনাদেরও নিশ্চয় মনে আছে। তারপরও আমি চাই আরো একটিবার রকমারী ভেবে দেখুক, তখন নিজেদের মেরুদন্ড হীনতার পরিচয় তারা দিয়েছিলো না মানুষের কল্যানের জন্য তারা কাজ করেছিলো।

আমি জানি এবং আগেও বলেছি রকমারি ডট কমের এই জগতে অর্থাৎ মানুষের হাতে জ্ঞানের মশাল পৌছিয়ে দেবারা অবদান কম নয়। সেই জ্ঞনের মশাল দিয়ে আরো মানুষকে হয়তো আলোকিত করে চলেছে আমাদের দেশের অগনিত মুক্তচিন্তক ও যুক্তিবাদী সমাজ। সেই শ্রদ্ধা মাথায় রেখেই ২০১৪ সালের রকমারি ডট কমের মেরুদন্ডহীনতার কথা একটু মনে করাতে চাই। তখন সেই “ফারাবী”র তালিকা করা বই আর “ফারাবীর” হুমকি পেয়ে আপনারা যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বিজ্ঞান মনষ্ক, যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল সকল বই বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছিলেন আপনারা, সেটা আপনাদের মেরুদন্ডহীনতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। আর এমন ভাবার কোন কারণ নেই যে আমার মতো সাধারণ পাঠকরা সেই কথা এতো সহজেই ভুলে যাবে। আমার আশা এবং আস্থা আছে তারা সেই কথা এখনও ভোলেনি আর যেভাবে আমাদের মাঝে মুক্তচিন্তার চর্চা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আগামীতেও যে সেই কথা ভুলে যাবে তার নিশ্চয়তাও কম।

বর্তমানে দেখি রকমারি বিভিন্ন ধর্মের বৈজ্ঞানীক আর সেই মরিস বুকাইলির “বিজ্ঞানময় কোরান” বা “দ্যা বাইবেল দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স” এর বাংলা ভার্সনের লেখক ‘আজাদ’ আর কথিত ইসলাম ধর্মের অনুসারী ‘ভট্টাচার্য’ লেখক টাইপের লেখকদের বই এই সাইটে বিভিন্ন পাতায় ঝুলে থাকে। আমার উদ্দেশ্য আসলে এসব বলা না, আপনারা অপাঠ্য বই বিক্রয় ও মানুষের হাতে পৌছানো বন্ধ করুন। সব কোয়ালিটির বই আসলে থাকা দরকার আছে যা না হলে সাধারণ পাঠকরা মান যাচাই করতে পারবেনা। তবে যেই ভুল রকমারী ২০১৪ সালে করেছিলো একটু তাকিয়ে দেখবেন যাতে করে তা শুধরাবার সুযোগ আপনাদের তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে লেখকদের পাশাপাশি অনেক প্রকাশককেও এক শ্রেনীর বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষেরা একসময় হত্যা করেছে এবং এখনও করছে। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেও আপনার আপনাদের সাইটের মাধ্যমে যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনষ্ক ও প্রগতিশীল বই দেশের অন্ধকারে থাকা মানুষের হাতে আলোর মশাল রুপে পৌছিয়ে দিতে পারেন আসছে বইমেলা উপলক্ষে আমাদের মতো সাধারণ পাঠকদের এটাই দাবী।

---------- মৃত কালপুরুষ

              ০৬/০১/২০১৮